বৃহস্পতিবার, আগস্ট ০২, ২০১৮

সাবোটাজ হতে পারে ঘরে ফিরে যাও: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল সাবোটাজ ও দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার রাতে ধানমন্ডিতে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে এই অনুরোধ করেন মন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের বোঝানোর জন্য মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের প্রতিও আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত রবিবার রাজধানীর এমইএসে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার ঘটনায় গত চার দিন ধরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই সহপাঠী হারিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যে প্রতিবাদ জানিয়েছে তা যৌক্তিক। কিন্তু এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।  

পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে সাবোটাজ ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে আশঙ্কা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন নিয়ে সুবিধাবাদীরা ষড়যন্ত্র করতে পারে। যদি কিছু ঘটে তবে নিরাপত্তা বাহিনী এর দায় নিয়ে পারবে না। কেননা তারা দূরে দূরে থাকছে। এ কারণে কোনো একটা কিছু ঘটলে তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে না।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সড়কে যে কাজ করছে সেটা তাদের কাজ নয়। তারা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এটা করছে। তোমাদের কাছে অনুরোধ করব, যথেষ্ট হয়েছে, এখন ফিরে যাও। যার যে কাজ তাকে সেই কাজ করতে দাও।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে রাজধানীতে পরিবহনে অচলাবস্থার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘ফলে মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ চলছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ যেহেতু দাবি মানা হয়েছে এবং কিছু দাবি মানার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে তাই তোমরা ক্লাসে ফিরে যাও।’

মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আবারও সতর্ক করে বলেন, ‘তোমাদের এই আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা হতে পারে, সাবোটাজ হতে পারে।’ পুলিশ চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সড়ক পরিবহন আইনে সম্মতি দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়


অবশেষে সড়ক পরিবহন আইনে ভেটিং (সম্মতি) সম্পন্ন করেছে আইন মন্ত্রণালয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বুধবার এ আইনে ভেটিং সম্পর্কিত নথিতে অনুমোদন দেন। এরপর নথিটি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

নথিতে অনুমোদনের বিষয়ে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় যে শাস্তি হওয়া উচিত, তার সর্বোচ্চটাই থাকছে সড়ক পরিবহন আইনে।

১৯৯১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিজের স্ত্রীকে হারিয়েছেন উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি জানি স্বজন হারানোর কষ্ট কী। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলেন, বছরখানেক ধরে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, সড়কে অনেক রকম সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখার চেষ্টা করেছি। জানার চেষ্টা করেছি কী কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে রাস্তার কারণে, গাড়ির কারণে, মানুষ চলাচলের কারণে, দুর্ঘটনা হতে পারে। এসব কারণের ব্যাপারে পর্যাপ্ত প্রভিশন করা হয়েছে কী না, সেগুলো (একই ঘটনা) যাতে না ঘটে, সে জন্য পর্যাপ্ত প্রভিশনের মধ্যে আছে কী না এবং সেখানে আইনের কোনও ফাঁকফোকর আছে কী না, সেসব দেখে এটা (সড়ক পরিবহন আইন) প্রস্তুত করা হয়েছে।

দুজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণে তড়িঘড়ি করে আইনটি প্রস্তুত হলো কিনা এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, এটা কাকতালীয় ঘটনা। এটা নিয়ে অনেক দিন ধরেই কাজ চলছিল। আর এরই মধ্যে এ রকম একটা দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এ রকম ঘটনা যেন আর না ঘটে সে জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পক্ষ থেকে যা যা উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার সবই করা হবে। প্রধানমন্ত্রী চান আইনটি দ্রুত পাস হোক এবং অপরাধীরা শাস্তি পাক।

গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর বাসচাপায় মৃত্যুর ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় যে মামলা হয়েছে সেই মামলার বিচার যাতে দ্রুত হয় সেদিকে আমি খেয়াল রাখব। প্রয়োজনে আমি প্রসিকিউশনকে বলব, দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার যেন দ্রুত করা হয়।

আইনে কী কী বিধান আছে, শাস্তির বিধান কী- জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এটা অত্যন্ত আধুনিক একটা আইন হয়েছে। আইনটিতে ত্বরিত গতিতে বিচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং কোনও অপরাধী ফাঁকফোকর দিয়ে বের হতে পারবে না। কেউ বড় অপরাধ করে কম শাস্তি পাবে না। আবার ছোট অপরাধ করে বড় শাস্তি পাবে না।

তিনি বলেন, এছাড়া আইনে ১২টি পয়েন্ট রাখা হয়েছে, ড্রাইভারের নানা ভুলের শাস্তি হিসেবে ব্যবহার হবে এই পয়েন্টগুলো। বিদেশেও চালকের ভুল হলে পয়েন্ট ধরে শাস্তি হয়। এই আইনেও যে ১২টি পয়েন্ট রাখা হয়েছে তার থেকে কারো পুরো ১২ পয়েন্ট কেটে যায় তাহলে তিনি আর কোনো দিনই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবে না। তিন পয়েন্ট কাটা গেলে কি হবে সেটাও আইনে বলা আছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, এখন এই আইনটা মন্ত্রিপরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। আইনটা অনুমোদন হলে সব পক্ষই ন্যায়বিচার পাবেন। মানুষ মেরে কেউ কম শাস্তি নিয়ে চলে যাবেন এটা তো হবে না। সব কিছু অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখা হয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে যে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে সেটা চূড়ান্ত বলে জানান মন্ত্রী। সড়ক ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে যেসব জিনিস রাখা উচিত সবই রাখা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও আইনে রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৭ মার্চ এই আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। আইন মন্ত্রণালয় থেকে সড়ক পরিবহনে পাঠানো আইনটির খসড়া এখন চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে মন্ত্রিসভা। ওই অনুমোদনের পর তা পাস করতে সংসদে তোলা হবে।

অান্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে আছেন প্রধানমন্ত্রী



নিরাপদ সড়ক এবং সহপাঠীদের হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ আইনের খসড়ায় সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। রাখা হয়েছে ত্বড়িৎ গতিতে বিচারেরও ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রী নিজেও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ আইনের দ্রুত বাস্তবায়ন চান। বুধবার ( ১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বরাত এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।

জানা যায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইতিমধ্যে জাবালে নূরের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এসমস্ত যতো পরিবহন আছে যাদের রুট পারমিট নেই তাদের সকলের লাইসেন্স আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাতিল করা হবে। এছাড়া যেসব ড্রাইভারদের লাইসেন্সে সমস্যা রয়েছে উক্ত সকল সমস্যা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।



এর আগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, সড়কপথে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি শৃঙ্খলা ফেরাতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, নতুন এ আইনে ১২টি পয়েন্ট রাখা হয়েছে। লাইসেন্স বাতিলসহ পরিবহন শ্রমিকদের বিভিন্ন ভুলের জন্য যথাযথ শাস্তির বিধান রয়েছে। বড় অপরাধের জন্য বড় শাস্তি এবং ছোট অপরাধের জন্য ছোট শাস্তি পেতে হবে জড়িতদের। কেউ আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবেন- তা হবে না।

এছাড়া রাজপথে নেমে আসা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশকে কোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগ না করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। জনদুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বলেছেন তিনি। এ লক্ষ্যে পুলিশের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বাঙালির শোকের মাস শুরু

আজ ১ আগস্ট। শুরু হলো বাঙালির শোকের মাস। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে নেতৃত্বশূন্য করা হয়েছিল বাঙালি জাতিকে। রুদ্ধ করা হয়েছিল তার ঘাতকদের বিচারের পথও। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের পরও থেমে থাকেনি পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে স্বাধীনতার স্থপতিকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কুচক্রী মহল। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ভোরে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। থমকে যায় বাংলাদেশ। এদিন সেনাবাহিনীর একদল চক্রান্তকারী ও উচ্চাভিলাষী সদস্যের নির্মম বুলেটের আঘাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আরো প্রাণ হারান তার প্রিয় সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিন ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, সেনা কর্মকর্তা শেখ জামাল, ১০ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল এবং নবপরিণিতা দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। প্রবাসে থাকায় জীবন রক্ষা পান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। নির্মম সেই হত্যাযজ্ঞে আরো নিহত হন বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, শিশু পৌত্র সুকান্ত বাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, নিকটাত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত, আবদুল নঈম খান রিন্টু এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা-কর্মচারী। জাতি শোকের মাসে গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে এ শহীদদেরও। শুধু তাই নয়, ইতিহাসের নির্মম সেই হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ বন্ধ করতে ইনডেমনিটি বিলও পাস করা হয় সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। চলে ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র। বাবা নিহত হওয়ার ছয় বছর পর বাংলাদেশে ফিরে এসে দলের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। বাবার মতো তাকেও হত্যার ষড়যন্ত্র হতে থাকে। কিন্তু থেমে যাননি বঙ্গবন্ধু কন্যা। তারই নেতৃত্বে প্রাণ পেয়েছে গণতন্ত্র। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কলঙ্কিত সেই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল ও জাতির পিতা হত্যার বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া ও নানা ক‚টকৌশলের জাল ছিন্ন করে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের চূড়ান্ত রায় এবং পাঁচ ঘাতকের ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা হয়েছে। তবে পুরো জাতি এখনো প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে বঙ্গবন্ধুর বাকি ছয় পলাতক খুনির ফাঁসি কার্যকরের মাহেন্দ্রক্ষণের। বিদেশে পালিয়ে থাকা এই খুনিদের অনুসন্ধান করে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর এখনো সম্ভব হয়নি। আগস্ট মাসটি আওয়ামী লীগের জন্য ঘটনাবহুল, বিয়োগান্তক। এই আগস্টেই ঘটে জাতির ইতিহাসের আরো একটি বিয়োগান্তক ঘটনা। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয় ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলা। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো ওই গ্রেনেড হামলা থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও ঝরে যায় মহিলা আওয়ামী লীগ নেতা আইভি রহমানসহ ২৪টি তাজা প্রাণ। মাসজুড়ে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ঘৃণা জানাবে জাতি। আজ বুধবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ কৃষক লীগের আয়োজনে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এ ছাড়া সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, চিত্র প্রদর্শনীসহ বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে পালন করা হবে নানা কর্মসূচি।

স্কুল বন্ধ, ইউনিফরম পরে রাজপথে শিক্ষার্থীরা


শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও স্কুল ও কলেজর ইউনিফরম পরে পঞ্চম দিনের মতো রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। সড়কগুলোতে শিক্ষার্থীরা যানবাহনের লাইসেন্স চেক করা ছাড়াও নয় দফা দাবি আদায়ে নানা ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর ফার্মগেট, গুলশান ২ নাম্বার, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, রামপুরা, বাড্ডা, ধানমন্ডি, মিরপুর-১০ গোলচত্বর, উত্তরা জসীম উদ্দীন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। এতে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

সকাল ১১টার দিকে ফার্মগেট থেকে মিছিল করতে করতে শাহবাগ মোড়ের দিকে যেতে দেখা গেছে অনেক শিক্ষার্থীকে। যাদের গায়ে ছিল স্কুলের ড্রেস। এছাড়া ফার্মগেটের দুই পাশের সড়কেই অবস্থান নিয়েছেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজ ও আশে-পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

মোহাম্মদপুরে শিক্ষার্থীরা সকাল নয়টার দিকে মিছিল বের করেছেন। মিরপুরে কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছেন রাজপথে।

গেলো রোববার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে ঝরে যায় দুই শিক্ষার্থীর প্রাণ। তারা হলেন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া আক্তার মীম ও আব্দুল করিম। এরপর তার সহপাঠীরা আন্দোলনে নামেন। ধীরে ধীরে এ আন্দোলন পুরো রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনে প্রায় কয়েক শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর হয়। পাশাপাশি কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

রাজধানীতে সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তোপে তীব্র পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। সকালের দিকে দুই-একটি বাস চলতে দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে পরিবহন শূন্য হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে রাস্তায় যানবাহন নামাচ্ছেন না পরিবহন মালিকরা। রাজধানীতে প্রতিদিন ৫ হাজার বাস চলে। কিন্তু ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় বাস নামাচ্ছেন না মালিকরা। ফলে রাস্তায় পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে।

এর আগে বুধবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

তিনি বলেন, ঢাকায় কোনও ফিটনেসবিহীন, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চলাচল করতে দেয়া হবে না। আগামীকাল থেকে সব সমস্যা সমাধান হবে। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সব দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেয়া হবে এবং চালকদের সচেতন করতে ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে বৈঠকের পরপরই শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া শাহবাগেও অবস্থান নেবেন তারা। যদি দুপুর ১২টার মধ্যে আমাদের দাবি না মানা হয় তবে পুরো ঢাকা অচল করে দেয়া হবে। বাংলাদেশের সড়ক নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।