বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৮

আবারো এমপি রানার জামি না-মঞ্জুর; সাক্ষ্য গ্রহণ ২২ নভেম্বর

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় এমপি রানার জামিনের আবেদন আবারো না-মঞ্জুর করেছে আদালত। আগামী ২২ নভেম্বর এ মামলার পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন বিচারক।

বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার আসামি এমপি রানাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে টাঙ্গাইল বিচারিক আদালতে আনা হয়। এরপর টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মাকসুদা খানম এ চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলার সাক্ষী ফারুক হাসান ভূইঞা, সোলয়মান ও আনোয়ার হোসেন সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য হাজিরা প্রদান করে। পরে এই ৩ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য ও জেরা দুপুর ১ টায় সমাপ্ত ঘোষণা হয়।

এ সময় আসামিপক্ষ টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার জামিনের বিষয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে অংশ নেন টাঙ্গাইলের সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল বাকী মিয়া, আরফান আলী মোল্লাসহ অনান্য আইনজীবীরা।

অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধীতা করেন অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট মনিরুল ইসলাম খান। তাকে সহায়তা করেন এডভোকেট রফিকুল ইসলামসহ তার সহযোগি আইনজীবীরা। এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাদির স্বাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যদিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলার স্বাক্ষ্যগ্রহন শুরু হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার ৩ দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় এমপি রানা ও তার ভাইদের নাম বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলায় এমপি রানা ছাড়াও তার ৩ ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জন আসামি রয়েছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নাটের গুরু আ.লীগ : রিজভী

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নাটের গুরু আওয়ামী লীগ এমন মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপির অন্যান্য নেতারা জড়িত নয়। তাই রায় বাতিল করে পুনঃতদন্ত করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবি করছি।’

বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিশ্চিহ্ন করার রায় ২১ আগস্টের রায়। এই নিশ্চিহ্ন প্রক্রিয়ার অন্যতম টার্গেট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাই কোনো রকম সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আক্রোশমূলক এই রায়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির অন্যতম অগ্রনায়ক তারেক রহমানকে প্রহসনের বিচারে সাজা দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা এই রায়ের মাধ্যমে মূল দুটি লক্ষ্য পূরণ করতে চাচ্ছেন- এক. শেখ হাসিনার শাসনামলে চারিদিকে যে নৈরাশ্যের ছবি মানুষ অবলোকন করছে সেখান থেকে দৃষ্টি ফেরানো এবং দুই. তারেক রহমানের ওপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করে জিয়া পরিবারকে হেয় করা।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সংসদ নির্বাচনের তফসিল

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।


হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘প্রতিনিধি দল ফ্রি, ফেয়ার, ইনক্লুসিভ, পার্টিসিপেট নির্বাচন চেয়েছেন। কমিশন থেকে বলা হয়েছে, আইনের মধ্যে থেকে সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তারা কোনো কিছু জানতে চেয়েছেন কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘ইভিএম, পর্যবেক্ষক, জনবল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রবাসীদের ভোট দেয়ার প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।’

এর আগে বেলা ১১টার দিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার কার্যালয়ে বৈঠক করে। বৈঠকে সাতটি দেশের রাষ্ট্রদূত ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পীরা হঠাৎ চলে যায় অভিমান বুকে বেঁধে

‘শিল্পীদের ভালো থাকার কথা নয়, যদি মন বিষণ্ণ হয়। সত্যিই ভালো থাকার কথা নয়, যদি সারাক্ষণ হৃদয়জুড়ে রক্তক্ষরণ হয়! ভালো থাকার কথা নয়, যদি শিল্পী হতে চাওয়াটা কষ্টের হয়! ভালো থাকার কথা নয়, শিল্পী হয়ে বেঁচে থাকাটা যদি সম্মানের না হয়।


আসলেই পৃথিবীতে শিল্পীরা ঝাঁকে ঝাঁকে জন্মায় না! বারবার আসে না। যারাই আসে, মানুষকে ভালোবাসে, নিজেকে উজাড় করে। সবশেষে যে’কটা দিন বেঁচে থাকার বেঁচে থেকে, হঠাৎ করে চলে যায় অভিমান বুকে বেঁধে। শিল্পী কোনো মিল ফ্যাক্টরিতে বানানো যায় না।’

কথাগুলো বলেছেন কিংবদন্তি ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু। না, কথাগুলো তিনি আজ কিংবা গতকাল বলেননি। বলেছিলেন গত বছরের আগস্টে। ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে অভিমানের সুরে কথাগুলো বলেছিলেন তিনি।

ভিডিও চিত্রে আমাদের ঘাটাইল

ব্রিজে সংযোগ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগে ঘাটাইল ও মধুপুরের লক্ষাধিক মানুষ


নজরুল ইসলাম, মধুপুর: টাঙ্গাইলের মধুপুরে সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার ব্রিজ কাজে আসছে না। উপজেলার মহিষমারা (দক্ষিণপাড়া) আঠারচূড়া খালের উপর দুই বছর আগে এই ব্রিজটি নির্মাণ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস। ব্রিজের পশ্চিম পাশের রাস্তা জেলার ঘাটাইল উপজেলার এবং পূর্বপাশের রাস্তা মধুপুরের। ব্রিজের দুইপাড়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক না থাকায় এটা উদ্বোধন করা যাচ্ছে না। আর ব্রিজের সংযোগ সড়কের অভাবে রসুলপুর, মোমিনপুর, গারোবাজার, মোমিনপুর, লালমাটি, গড়ানচালা, মহিষমারা গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
গতকাল (১৬ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লালমাটি থেকে গারোবাজার পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের মাঝপথের মহিষমারা গ্রামের আঠারচূড়া খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ কাজ দুই বছর আগে শেষ হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কেউ ব্রিজে উঠতে পারেনি।
ব্রিজের জমিদাতা মো. গনি মিয়া (৪৮) বলেন, এলাকার মানুষজনের উন্নয়নে ব্রিজের জন্য জমি দিয়েছিলাম। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় আমাদের সে আশা পূরণ হয়নি। তিনি দ্রুত সংযোগ সড়ক করার দাবি জানান।
সংযোগ সড়কের জন্য জমি দানকারী মহিষমারা গ্রামের মোছা. মমিরন বেগম (৮০) জানান, ছোটকাল থেকে দেখে আসছি, এখান দিয়ে কোনো রাস্তা ছিল না। তিনি জানান, ব্রিজ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখনো রাস্তা হয়নি।
গড়ানচালা গ্রামের আ. সালাম (৩৮) জানান, ব্রিজ দিয়ে পারাপার করতে হলে পশ্চিমে ৩ কি.মি. এবং পূর্বে ১ কি.মি রাস্তা নির্মাণ করতে হবে।
মহিষমারা ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবদুল মোতালেব জানান, ব্রিজের পশ্চিম পাশের রাস্তা ঘাটাইল উপজেলার এবং পূর্বপাশের রাস্তা মধুপুরের। তিনি জানান, ঘাটাইলের রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদ সরকারের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্প এনে উভয় পাশের রাস্তা করা হবে।
মধুপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আল রানা জানান, ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে ব্রিজের সংযোগ সড়ক করা হবে। তিনি আরো জানান, সংযোগ সড়কের জন্য বড় বরাদ্দের প্রয়োজন, তাই আপাতত একপাশের সড়ক নির্মাণ করা হবে।