শনিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৮

ঘাটাইলের কৃষক আনিসুরের শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমানের বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই কৃষকের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জানা যায়, কুতুবপুর গ্রামের ওমর আলী মাস্টারের ৫ একর জমি দুই বছর মেয়াদে লীজ নিয়ে ঘাটাইল উপজেলার ফুলমালির চালা গ্রামের আনিসুর রহমান ৬ হাজার অমৃতসাগর জাতের কলার চাষ করেন। আর মাত্র কয়েকদিন পরই ওইসব কলাগাছে কলার ছড়ি ধরবে (ফলন হবে)।

শুক্রবার রাতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কুতুবপুর গ্রামের শাজাহান মিয়া (৫০), তার ছেলে লিটন মিয়া (২৮), মেয়ের জামাতা মজনু মিয়া (৩৫) এবং একই গ্রামের ফজলু মিয়া (৪০) মিলে ওই বাগানের শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলে।

বাগানে কর্মরত শ্রমিক মরিয়ম বেগম (৪৫) জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা বাগান পরিচর্যা করে বাড়ি চলে যাই। পরদিন শনিবার সকালে এসেই গাছগুলো কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি।

কলাবাগান মালিক আনিসুর রহমান কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ধারদেনা করে অন্যের জমি লীজ নিয়ে কলার বাগান করেছি । শাজাহান ও তার লোকজন মিলে রাতের আধারে আমার কলাগাছগুলো কেটে ফেলেছে।

ঘাটাইলে প্রতিবন্ধীদের মাঝে ইউএনও’র ঈদ সামগ্রী বিতরণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ইউএনও’র ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা আহম্মেদ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের ১০জন প্রতিবন্ধীর মাঝে সেমাই, চিনি, তৈল ও লুডুস বিতরণ করেন। তিনি বিকেলে প্রতিবন্ধীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন।
এসময় স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মেছের আলী, মহিলা কাউন্সিলর রাশেদা বেগম ও আনন্দ টিভি ও দৈনিক আমার সংবাদ প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইল পৌরসভার ভিজিএফ এর চাল বিতরণ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে ঘাটাইল পৌরসভার উদ্যোগে দুঃস্থ্য, অসহায় ও হতদরিদ্র ৪ হাজার ৬শত ৩২ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০ টায় পৌরসভা প্রাঙ্গণে ঘাটাইল পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান ভিপি শহীদ এ চাল বিরতণের উদ্বোধন করেন।

চাল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল পৌর সভার প্যানেল মেয়র লিটন সরকার, কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম, মহিলা কাউন্সিলর মোসা. রাশিদা বেগম প্রমুখ।

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ওজন করে কোরবানির পশুর বেচাকেনা

দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ওজন মেপে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। হাটের ঝক্কিঝামেলা এড়াতে এবং স্টেরয়েড বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশনমুক্ত অর্গানিক পশু কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছেন ওজনে বিক্রি হচ্ছে এমন গরুর ফার্মে। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ওজন করে পশু বেচাকেনায় কোনও বিধিনিষেধ নেই বলে জানিয়েছেন আলেমরা।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও দেলপাড়াসহ শহরের বেশ কয়েকটি গরুর খামারে ওজনে বেচাকেনা হচ্ছে কোরবানির পশু। গত বছর দুই-তিনটি ফার্মে এই পদ্ধতিতে গরু বেচাকেনা হয়েছিল। 

এ বছর আরও বেশ কয়েকটি ফার্মে এ পদ্ধতিতে গরু বেচাকেনা হচ্ছে। ৩৩০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বেচাকেনা হচ্ছে ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু। আবার বড় গরু বেচাকেনা হচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে। বিক্রেতাদের দাবি, এই পদ্ধতিতে মোট ওজনের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ গরুর মাংস পাওয়া যাবে। তারা জানান, প্রতিদিনই এসব গরুর খামারগুলোতে আগ্রহী ক্রেতারা তাদের স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আসছেন এবং ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন। গরু পছন্দ হলে ওজন স্কেলে উঠিয়ে পরিমাণ দেখে বায়না করে খামারেই গরু রেখে যাচ্ছেন। ঈদুল আজহার একদিন বা দুইদিন আগে গরু নিয়ে যাবেন।

দেলপাড়া দেশি অ্যাগ্রো গরুর ফার্মে কথা হয় দিল আহসান গালিব নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি জানান, ‘হাট থেকে গরু কিনতে গেলে ঝুঁকি থেকে যায়। কারণ, দূর-দূরান্ত থেকে আসা গরুকে স্টয়েরেড বা মোটাতাজাকরণ ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে কিনা এটা গরু দেখে বোঝার উপায় নেই। গত বছর হাট থেকে ইনজেশন পুশ করা গরু কিনে ধরা খেয়েছি। গরু জবাই করে মাংস ফ্রিজে রাখার পর তা পচে গিয়েছিল।’

নগরীর চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা আফজাল হোসেন পন্টি বলেন, ‘তিন বছর আগে হাট থেকে গরু নিয়ে কোরবানি দিয়েছিলাম। তিনটি গরুর মধ্যে একটি গরু ইনকেশন দেওয়া বা স্টেরয়েড খাওয়ানো ছিল। ঈদের এক সপ্তাহের মধ্যে ফ্রিজে রাখা সব মাংস পচে দুর্গন্ধ বের হয়ে যায়। এরপর গত বছর থেকে দেশীয় ফার্মের অর্গানিক গরু কোরবানি দেওয়া শুরু করেছি। দেশি অ্যাগ্রো থেকে গত বছর দুটি গরু ওজনে কিনে নিয়ে কোরবানি দিয়েছি। মাংস খুবই ভালো হয়েছে। তাই এবারও একই ফার্ম থেকে কোরবানি দেওয়ার জন্য তিনটি গরু নিয়েছি। ওজন স্কেলে গরু বেচাকেনা হওয়ায় সুবিধা আছে। আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুখিদের মধ্যে বিলানোর জন্য যে পরিমাণ মাংস প্রয়োজন তা বুঝে গরু নিয়েছি। এতে ঝুঁকি কম । মাংস ভালো পড়বে এটাও নিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, কোরবানির প্রথম শর্ত হচ্ছে সুস্থ-সবল পশু কোরবানি করা।’

পুরান বন্দরের সিকান্দার অ্যাগ্রো ফার্মে কথা হয় ক্রেতা আবু জাফরের সঙ্গে। তিনি জানান, ‘ওজন স্কেলে গরু মেপে বেচাকেনার কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে ঠকে যাওয়ার চিন্তা বা হারজিতের ভয়ের কোনও স্থান নেই। বেচাকেনায় দরদাম নিয়ে চেঁচামেচি করতে হচ্ছে না। আবার কোরবানিদাতা তার বাজেট অনুযায়ী সুস্থ-সবল পশু কিনতে পারছেন বলে তারাও খুশি। একজন ক্রেতা প্রয়োজন অনুযায়ী তার পছন্দের গরুটি কিনতে পারছেন।’

নারায়ণগঞ্জ পুরান বন্দর সিকান্দার অ্যাগ্রো’র স্বত্বাধিকারী সিকান্দার হোসেন জানান, ‘স্টেরয়েড ও মোটাতাজাকরণ ইনজেকশনমুক্ত পশু খামার থেকে খুব সহজে কিনতে পারছেন ক্রেতারা। গত বছর বন্দরের আমাদের এখান থেকে ওজনে ৯৫টি গরু বিক্রি করেছি। এবার আমার খামারে কোরবানির ঈদের জন্য ৪৮টি গুরু প্রস্তুত করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতাদের সাড়া বেশি পড়েছে। আমি মনে করি সুস্থ-সবল পশু কোরবানি করার জন্য অর্গানিক গরু সবচেয়ে উত্তম। তাই ক্রেতারা ফার্ম থেকে গরু নিচ্ছেন। এখানে ক্রেতা বিক্রেতাদের ঠকার কোনও চান্স নেই। কারণ, আমরা ধরেই নেই তাজা গরু ওজন স্কেলে ওঠানোর পর যা ওজন হবে, কোরবানি দেওয়ার পর সেখান থেকে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মাইনাস যাবে। ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ মাংস পাওয়া যাবে। এই হিসাব করেই এখানে গরু বেচাকেনা হচ্ছে।’


ফতুল্লার দেলপাড়া মিছির আলী কলেজের পাশে চার বন্ধু মিলে গড়ে তুলেছেন দেশি অ্যাগ্রো। এই খামারের অংশীদার আহসান হাবিব জানান, ‘গত বছর আমাদের ফার্ম থেকে ১৪টি গরু ওজনে বিক্রি করা হয়েছে। এবার ঈদে ২৮টি গরু প্রস্তুত করেছি। এরই মধ্যে বেশিরভাগ গরু ক্রেতারা কিনে নিয়েছেন। বাকি গরুও খামার থেকেই বেচাকেনা হবে বলে আমরা আশা করছি। এ বছর ওজনে গরু বেচাকেনায় ক্রেতাদের বেশ সাড়া পাচ্ছি। একসময় এই পদ্ধতিতে গরু বেচাকেনা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে। কারণ, বর্তমানে ক্রেতারা ঝক্কিঝামেলা মুক্ত এবং ফ্রেশ জিনিস চায়। এতে দুই-এক হাজার টাকা বেশি খরচ করতেও ক্রেতাদের বাধে না।’


নারায়ণগঞ্জের ফকিরটোলা মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ মুফতি সিরাজুল ইসলাম মনির জানান, ‘ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ওজন স্কেলে গরু মেপে বেচাকেনায় কোনও বিধিনিষেধ নেই। কারণ, হাট-বাজার থেকে মুরগি, মাছ, গরুর মাংস ওজনে মেপেই কেনাবেচা হচ্ছে। ২০ বছর আগে বাংলাদেশের কোনও হাট-বাজারে হাঁস, মুরগি, মাছ কেজি দরে বেচাকেনা হয়নি। কিন্তু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার কারণে এখন এসব কেজি দরে বেচাকেনা হচ্ছে। গরু ওজন করে বেচাকেনায় কেন বিধিনিষেধ হবে? ইসলামের শরিয়তে বলা আছে, কোরবানির পশু হতে হবে সুস্থ-সবল। মোটাতাজাকরণ ই‌নজেকশন পুশ করা স্টেরয়েডযুক্ত অসুস্থ পশু কোরবানি করলে তা ঠিক হবে না। এজন্য কোরবানিদাতাকে পশুর হাট বা খামার যেখান থেকেই কোরবানির পশু কেনা হোক না কেন, সেটি যেন সুস্থ-সবল হয় সেটি দেখে কেনা উচিত।’

বাস লঞ্চ ট্রেনে ঘরমুখী মানুষের স্রোত

শুক্রবার ঈদযাত্রার প্রথমদিনই ঘরমুখী মানুষের ভিড় ছিল উল্লেখ করার মতো। বাস ও রেল স্টেশনগুলোতে ছিল না তিল ধারণের ঠাঁই। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মঙ্গলবার থেকে মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করলেও শুক্রবার স্টেশনে স্টেশনে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

রাজধানীর কমলাপুর, বিমানবন্দর রেলস্টেশনসহ, মহাখালী, গাবতলী, সায়দাবাদ, শ্যামলী, কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড ও সদরঘাট লঞ্চঘাটে ঘরমুখী মানুষের যেন ছিল স্রোত। ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার পর্যন্ত এই ভিড় থাকবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

শুক্রবার সকাল থেকেই পরিবার- পরিজন নিয়ে বাস, ট্রেন ও লঞ্চের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কাউকে কাউকে আবার টিকিটের খোঁজও করতে দেখা গেছে। লঞ্চ, বাস ও ট্রেনের ছাদে চড়েও যেতে দেখা গেছে যাত্রীদের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। যাত্রীদের অভিযোগ, প্রতিটি ট্রেনই আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ছে। শুক্রবার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীদের প্রথম যাত্রা ছিল। এ দিন মধ্যরাত পর্যন্ত ৩৩টি আন্তঃনগর ট্রেনসহ ৯৬টি যাত্রীবাহী ট্রেন কমলাপুর ছেড়ে যায়। প্রতিটি ট্রেনই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যেতে দেখা যায়।

ট্রেনের ছাদ, ইঞ্জিন ও দরজায় ঝুলে যেতে দেখা যায় যাত্রীদের। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি। সূত্র বলছিল, যত সংখ্যক যাত্রীর টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করার কথা শুক্রবার থেকেই তার দ্বিগুণ যাত্রী ট্রেনে চড়ে বসেছে।

কথা হয় মহানগর প্রভাতি এক্সপ্রেসের যাত্রী শামসুল হকের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ভাই ১৯ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ৪টি টিকিট কেটেছিলাম। এবার যাত্রা করার পালা। ভালো লাগছে। একই ট্রেনের যাত্রী শামীম জানান, তারা ৫-৬ জন বন্ধু মিলে স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট কাটতে পারেননি। তাই বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে বিনা টিকিটে গ্রামের পথে ছুটতে হচ্ছে।

কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্ত্তী জানান, ঈদযাত্রার প্রথমদিন অধিকাংশ ট্রেনই সঠিক সময়ে কমলাপুর থেকে ছেড়ে গেছে। তবে একতা, দ্রুত যান ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ৪০ মিনিট থেকে সোয়া এক ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়ে গেছে। ভিড়ের কারণে কিছু ট্রেন কিছুটা বিলম্বে ছাড়ছে। একেকটি ট্রেন স্টেশনে পৌঁছামাত্রই হুড়মুড় করে যাত্রী ট্রেনে উঠে পড়ছেন। ট্রেনটি পরিষ্কার করারও সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, যাত্রার দিন শুধু যাত্রীদের অনুরোধের ভিক্তিতে ১০-১৫ শতাংশ আসনবিহীন টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত হলেও সবাই টিকিট কাটছেন না।

তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করে আমরা মাইকিং করছি যাতে কোনো অবস্থায়ই ট্রেনের ছাদে না ওঠেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা, ট্রেনের ছাদেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই।

রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদ উপলক্ষে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রায় ৪৭ হাজার টিকিটধারী যাত্রী কমলাপুর ছাড়ছেন। কিন্তু এর বিপরীতে প্রায় ৮০-৯০ হাজার যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণ করছেন। আসনবিহীন টিকিট কাটার একটা বিষয় থাকলেও ঈদের সময় অনেকেই বিনা টিকিটে ভ্রমণ করছেন।

ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াছিন ফারুকী জানান, ট্রেনের ছাদে ওঠা রোধ করা যাচ্ছে না। যাত্রীরা ট্রেনের ছাদ, ইঞ্জিনেও উঠে বসছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এক ট্রেনযাত্রী বলছিলেন, টিকিট নিয়ে ট্রেনে উঠতে পারলেও সিট পাইনি। ট্রেন স্টেশনে আসার পরপরই চলন্ত অবস্থায়ই অনেকে উঠে সিট দখল করে বসে যাচ্ছেন। এ নিয়ে রেল পুলিশের বক্তব্য- এত ভিড়ে আসলে কিছু করারও দেখছি না।

রাজধানীর বাসস্ট্যান্ডগুলোতেও ছিল ঘরমুখী মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। টিকিট পাওয়া, যানজট, গরম সব মিলিয়ে নানা ঝক্কি ও কষ্ট থাকলেও ঈদে বাড়ি যাওয়া নিয়ে অনেকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।

অনেক যাত্রী বলছিলেন, ঈদের ছুটির সঙ্গে রবি ও সোমবারের বাড়তি ছুটি মিলিয়ে বেশ লম্বা ছুটিই পাওয়া গেছে এবার। রোজার ঈদে যেতে পারিনি। কিন্তু কোরবানির ঈদ গ্রামের বাড়িতে না করলে হয় না। আমরা খুবই আনন্দিত। সড়কের অবস্থা ভালো নেই, শতকষ্টেও বাড়ি যাচ্ছি। বাড়ি পৌঁছতেই সব কষ্ট শেষ হয়ে যাবে বলে জানান বাসযাত্রীদের অনেকে।

রংপুরের যাত্রী বিল্লাল হোসেন জানান, ৭ বন্ধু মিলে গ্রামে যাচ্ছি। রাস্তায় অনেক ঝামেলা হবে এটা স্বীকার করেই যাত্রা করেছি।

শ্যামলী পরিবহনের মহাব্যবস্থাপক জীবন চক্রবর্তী জানান, উত্তরবঙ্গে এবার তেমন কষ্ট নেই। শুধু বঙ্গবন্ধু সেতুর পরে বগুড়া পর্যন্ত সড়ক খারাপ হওয়ায় ওই অংশে বাস ধীরগতিতে চলছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে ঘাটে প্রচণ্ড জট। স্রোত ও নাব্যতা সংকটে ফেরি চলাচলের সমস্যা হওয়ায় এ দুর্ভোগ।

এ ছাড়া আমিন বাজারে গরুর হাট বসায় দু-তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে ঢাকায় ঢুকতে। একই কারণে ঢাকা থেকে বাসগুলো ছেড়ে হাট এলাকা পার হতে বেশ সময় লাগছে। সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ডে গিয়েও যাত্রীদের ভিড় দেখা গেল। একের পর এক বাস ছেড়ে যাচ্ছে।

বাস মালিক সমিতির সদস্য জয়নাল আবেদিন জানান, এবার আগে থেকেই বাসে করে যাত্রীরা ঘরমুখী হচ্ছেন। শুক্রবার যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামনে ভিড় বাড়বে। তিনি বলেন, যাত্রীরা ছাদে চড়ছেন। যাত্রীদের অনুরোধেই এমনটা করতে হচ্ছে।

ঢাকা-বগুড়া-নওগাঁ রুটে চলাচলকারী একতা পরিবহনের কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা আওয়াল জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সব বাস সঠিক সময়েই গন্তব্যের উদ্দেশে টার্মিনাল ছেড়ে গেছে। যাত্রীরাও সময়মতো আসছেন। অন্যবারের চেয়ে এবার টার্মিনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভালো।

ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে চলাচলকারী তিতাস পরিবহনের যাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী রোকেয়া আক্তার বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার বাস ছাড়বে। গ্রামে বাবা-মা অপেক্ষা করছেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার অনুভূতিই আলাদা। সময়মতোই বাস ছাড়বে বলে আশা করছি।

লঞ্চঘাটেও ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে। সকাল থেকেই সদরঘাট থেকে লঞ্চগুলো সময় মেনে ছেড়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শতাধিক লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়।

কথা হয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. আলমগীর কবির জানান, এবারও আমরা শক্ত অবস্থানে রয়েছি। কোনো অবস্থায়ই লঞ্চের ছাদে লোক উঠতে দেয়া হচ্ছে না। অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানোর সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এবার ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সেই প্রতিবন্ধী সাইফুলের পাশে ঘাটাইলের ইউএনও দিলরুবা আহম্মেদ

আমার সংবাদ ডেস্ক:  অবশেষে শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুলকে ভাতা কার্ড করে দিলেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা আহম্মেদ।

সেই সাথে সাইফুলের থাকার জন্য ঘর ও তার চিকিৎসার আশ্বাস দেন ইউএনও। ২০ বছর ধরে শিকলে বন্দি সাইফুল শিরোনামে আমাদের ঘাটাইল ডটকম সহ কয়েকটি পিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় গত ১৪ আগস্ট একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি ইউএনও’র নজরে আসে। পরে ইউএনও দিলরুবা আহম্মেদ উপজেলা সামাজ সেবা অফিসার সানজিদা সুলতানা, স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর মোসা.রাশিদা বেগম সাইফুলের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি সাইফুলকে শিকলে বন্দি অবস্থায় দেখতে পান। পরে ইউএনও তাৎক্ষণিক সাইফুলকে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করেন। সেই সাথে সাইফুলের থাকার জন্য ঘর ও তার চিকিৎসার আশ্বাস দেন ইউএনও।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধারিয়াল গ্রামের মৃত বহর আলী মন্ডলের ছোট ছেলে সাইফুল শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাকে দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। মা রহিমা বেগম তার দেখাশোনা করে। গত ৩০ বছর আগে শারীরিক প্রতিবন্ধী এই সাইফুলের জন্ম হয়। বয়স বারার সাথে সাথে সাইফুলের পাগলামী বেড়ে যায়। 

একাধিকবার সে হারিয়েও যায়। এর পর ১০ বছর বয়সে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। প্রায় ২০ বছর হয়ে গেছে তার শিকলে বন্দি জীবন। এই ৩০ বছরে প্রতিবন্ধী সাইফুলের কপালে জোটেনি কোনও সরকারি ভাতা। সাইফুলের মা রহিমা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ, টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারিনি। চিকিৎসা করতে পারলে হয়তো আমার ছেলে ভালো হতো। তার ছেলের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করে দেয়ায় এবং সাইফুলের চিকিৎসার আশ্বাসে তিনি অত্যন্ত খুশি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহম্মেদ বলেন, পত্রিকায় সংবাদ পড়ে বিষয়টি জানতে পেরে সাইফুলের জন্য ভাতা কার্ড প্রদান করা হয়েছে। তার থাকার জন্য একটি ঘর ও তার চিকিৎসার ব্যাপারেও প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।