ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ
চা পাতার নির্যাস ছাড়াই ঔষধী বৃক্ষের বাকল ও ফল দিয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে তৈরি করে যাচ্ছেন ঔষধী চা ।পুরো নাম জাহাঙ্গীর আলম খান(৪৮)। টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের বগা গ্রামের তার বাস । নিজ বসত ঘরের একাংশে তার চায়ের দোকান। পিতার অভাবের সংসারে বেশী দুর লেখাপড়া করতে না পারলেও বহু প্রতিভাবান জাহাঙ্গাীর একাধারে কাঠ মিস্ত্রী ,রাজমিস্ত্রী,কুঁটির শিল্পী এবং বাউল শিল্পী। তার ঘরে রয়েছে দেশীয় সব ধরনের বাধ্যযন্ত্র একতার ,দোতারা, সরোজ, হামোনিয়াম,ঢোল, তবলা সহ বিভিন্ন ধরনের বাদ্যযন্ত্র।প্রায় সব ধরনের দেশীয় বাদ্যযন্ত্র বাজাতে সক্ষমও সে। এ সব কাজের মাঝেও সারা দিন ধরে রাত অবধি জ্বলে তার চায়ের চুলা । দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ চলে আসে তার ঔষধী চা পান করতে। চা পাতার নির্যাস ছাড়া উপাদান হিসাবে ব্যাবহার করেন বিভিন্ন ঔষধী বৃক্ষের বাকল ও ফল যেমন কুরুজ গাছের বাকল, অর্জুন গাছের বাকল,আমের বাকল , কালোমেঘ ও ছোট বেলের শুকনো কুঁচি। এ চায়ের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর বলেন, আমারা সবাই এসব বৃক্ষের উপকারিতা সম্পর্কে জানি আমাশয়,পেটব্যাথা ,পেটেগ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি রোগের ভাল কাজ করে। চার সন্তানের জনক জাহাঙ্গীরের সংসারের ভালো একটা অর্থিৈনতক যোগান আসে চা বিক্রি থেকে। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ সহ সংসারের অনেক চাহিদা মিঠে তার নিজের উদ্ভাবিত ঔষধী চা থেকে। প্রতি কাপ চার টাকা ,সাধারন চায়ের চেয়ে এ চায়ের দাম কম হওয়ায় ও ঔষধীগুন থাকায় চাহিদা ও বিক্রি দুটোই বেশী।
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, ঔষধী গাছের সম্বন্বয়ে তৈরি চা অব্যশই স্বাস্থ্যকর। এসব ঔষধী গাছের বাকল ও ফল আমাশয়, পেটব্যাথা , পেটেগ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য উপসম করে।

