বৃহস্পতিবার, মার্চ ৩০, ২০১৭

ঘাটাইলে অবৈধভাবে চলছে অর্ধ শতাধিক ইটভাটা ॥ পরিবেশ অধিদপ্তর নিরব

ভূমি উন্নয়ন কর দেয়া হয় না পুরো ভূমির। পরিবেশের ছাড়পত্রও নেই, নেই লাইসেন্সও। বিধি নিষেধ রয়েছে বন বিভাগের ৩ কি. মি. আর বসত ভিটা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে ইটভাটা স্থাপনের। সেই সাথে তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন দন্ডনীয়। পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি হয় এমন স্থানে ইটভাটা করা যাবে না। ইটভাটা আইনের এমন বিধান থাকলেও সকল বিধি নিষেধকে অমান্য করে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে কমপক্ষে ৬০ টির বেশী ইটভাটা।
আইন থাকলেও প্রয়োগ না হওয়ায় এ ভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ইট ভাটার কার্যক্রম। সেই সাথে প্রতি বছরই স্থাপন করা হচ্ছে নতুন নতুন ইটভাটা। এতে করে একদিকে ফসলি জমি কমছে। অপরদিকে ভাটার কালো ধোয়ায় এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে। আর এর বিরুপ প্রভাবে বিস্তৃর্ন এলাকার ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী ঘাটাইলে ইটভাটা রয়েছে ৬০টির মতো। এর মধ্যে বিভিন্ন অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী হাতে গোনা ৩/৪ টি ইট ভাটা বাদে সবগুলোই অবৈধ। সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর ধলাপাড়া থেকে চাপড়ি পর্যন্ত ১০/১২ টি ভাটা স্থাপন করা হয়েছে। এ ভাটাগুলো স্থাপনে তিন ফসলি আবাদী ভূমির পুরোটাই চলে গেছে ইট ভাটায়। স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঘাটাইলে আবাদী ভূমির পরিমাণ ৩০ হাজার ১৫০ হেক্টর। ৬০টির মতো ইটভাটা স্থাপনেই চলে গেছে কমপক্ষে ৪শ’ একর আবাদী ভূমি। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোন ভাটারই পুরোপুরি ভূমি উন্নয়ন কর দেয়া হয় না। এলাকাবাসী টিনিউজকে জানায়, এক সময় এ এলাকায় বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন হতো। এখন আর আবাদ করা যায় না। যে ভূমি ফাকা রয়েছে সেগুলোর উপরিভাগের মাটি চলে গেছে ইটভাটার গর্ভে। সন্ধানপুর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় মেসার্স ফরিদ নামের একটি ভাটা স্থাপন করা হয়েছে এ বছর। যেখানে ভোগা ও তিন ফসলি জমির উপর রয়েছে এ ভাটা। কোন বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এ ভাটা স্থাপন করা হয়েছে। এভাবে ঘাটাইলের বেলদহ ও মোঘলপাড়ায় আরো দুটি নতুন ইটভাটা স্থাপন করা হচ্ছে। এ দুটি ভাটা প্রতিষ্ঠা হলে অত্র এলাকার কৃষি ভূমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। ইতিমধ্যে ঐ দুটি ভাটার কার্যক্রম বন্ধের দাবি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও করা হয়েছে। অবৈধভাবে ঐ দুটি ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর অভিযোগে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভাটার মালিক পক্ষের একজনকে আটক করেন। পরে সরকারের অনুমতি ব্যতিত  ইটভাটার কাজ করবেন না বলে মোচলেকা দিয়ে মুক্তি পান।
অবৈধভাবে ইট প্রস্তুত করছেন এমন ভাটাগুলো হচ্ছে- কোনাবাড়ি বিলজলঙ্গীর ‘সোনার বাংলা’ ‘ভাই ভাই’ ‘সাথী’ ‘বংশাই’। উত্তর ধলাপাড়া মেধার ‘রুপসা’ ‘জনতা, বড় বেধার ‘পদ্মা’। দিঘড়ের ‘বলাকা’ ‘আদর্শ’ ব্রাক্ষনশাসনের ‘স্বদেশ’ চানতারা ‘মৌ’-১ ও ‘মৌ’-২, পদ্মা, ‘নাঈম’ হরিপূরের ‘নবযুগ’ নন্দনগাতীর ‘এস কে’ ‘এস আর’ ও ‘এশিয়া’ খিলগাতীর ‘এম এস বি’-৩, এস আর এন, পাকুটিয়া ‘এম এস বি’-২, মিতালী, দেউলাবাড়ীর ‘এম এস বি’-১, ‘আর এস এম’, ছয়ানী বকশিয়া ‘কনক’ গানজানার এমআরটি, এসএসবি প্রভূতি। নীতিমালা অনুযায়ী একটি ভাটার আওতায় এক ফসলী ২ একরের বেশি জমি রাখা যাবে না। অথচ ঘাটাইলের কোন ভাটার দখলে ৫/৭ একরের নিচে জমি নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোন ভাটারই পুরোপুরি ভূমি উন্নয়ন কর দেয়া হয় না।
ইট ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা টিনিউজকে বলেন, ধলাপাড়ার কোনাবাড়ীর ‘স্বর্ণা ব্রিক্স’ ঘোনার দেউলির ‘আকাশ’ বন্ধকুলিয়া ‘সচল’ লাউয়াগ্রামের ‘লিটন’ দিগড়ের ‘বলাকা’ ‘নাঈম’ ‘কে এস বি’ নামে ভাটা গুলোর বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া এ ভাটাগুলো কিভাবে চলছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি টিনিউজকে বলেন, অনেকেই উচ্চ আদালতে রিট করে ভাটা পরিচালনা করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছরের পর বছর অবৈধভাবে এ ভাটাগুলো পরিচালিত হলেও অজ্ঞাত কারণে এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জায়গাটি ভাটা স্থাপনের উপযোগী কিনা তারজন্য প্রথমে স্থানীয় চেয়ারম্যান অনাপত্তি পত্র দেন। পরে অনাবাদী ও পতিত হিসেবে ইট ভাটা স্থাপনের অনুমতিপত্র প্রদান করে থাকে কৃষি অফিস। এগুলো হয়ে থাকে বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে। ফলে তিন ফসলি ভূমিকে অনাবাদী হিসেবে প্রত্যয়ন করতে দ্বিধাবোধ করে না তারা। ‘বাংলা’ ভাটার মালিক হোসেন আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি টিনিউজকে বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ রক্ষার জন্য প্রত্যেক ভাটার মালিক সমিতিকে টাকা দিয়ে থাকি। আবার আমরা নিজেরাও যোগাযোগ করি। তাছাড়া কোন ভাটারই সঠিক কাগজপত্র নাই বলে তিনি স্বীকার করেন। ঘাটাইলে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মিজানুর রহমান আকন্দ টিনিউজকে বলেন, ইট তৈরীর জন্য উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ফসলী জমির উপরিভাগের উর্ভর মাটি কেটে আনায় ফসল উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে এবং পাড়ারী বনাঞ্চলের টিলার মাটি কেটে ইট ভাটায় নিয়ে যাওয়ায় বন ধ্বংস হচ্ছে সেই সাথে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হুমকীর মধ্যে পড়েছে। তিনি আরও টিনিউজকে বলেন, অর্থের বিনিময়ে ইট ভাটার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট করে এ কাজগুলো করা হয়। এতে করে পরিবেশ বিনষ্টসহ কোন কোন এলাকায় কৃষি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
এসব বিষয়ে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম খানের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইলে বারবার রিং বাজলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ঘাটাইলে মাদকের রমরমা বাণিজ্য ॥ এতে ভয়াবহ চুরি বৃদ্ধি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় মাদকের রমরমা বানিজ্য চলছে। উপজেলার গুনগ্রামের স্বষিবাড়ির মদ, লাউয়াগ্রামের গাঁজা, হামিদপুর কদমতলীর হেরোইন, পাঞ্জেনার ইয়াবা কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছেনা। শহরের অলিগলিতে ও গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজের পিছনের এলাকা, নদী ও খালের পারের নির্জন এলাকাগুলো সন্ধারপর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থাকে মাদক সেবীদের দখলে। প্রতিদিন বাংলামদ, ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও ড্যান্ডি জাতীয় মরণ নেশা মাদক উঠতি বয়সের যুবকদের কাছে নিয়মিত বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে ধংস্ব হচ্ছে যুব সমাজ। ভেঙ্গে যাচ্ছে অনেক কষ্টে গড়ে সংসার। বিপদগামী হচ্ছে তরুন-তরুনীরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্যান্য উপজেলার তুলনায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় মাদকের বিচরণ অনেকগুন বেশি। উপজেলারি প্রায় প্রতিটা গ্রামেই মাদক বিক্রেতা ও একাধিক সেবনকারী রয়েছে। কোন কোন এলাকায় এর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। যার ফলে থানার আশে পাশেই বিভিন্ন স্পটে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। পুলিশ এইসব মাদক বিক্রেতা ও সেবন কারীকে আটক করেছে। পুনরায় টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছে। এভাবে আটক করা ও ছেড়ে দেয়ার ফাঁকে ফাঁকে ২/১ জনকে চালান করলেও আইনের ধারা দুর্বল থাকায় অল্প দিনেই জামিনে এসে পুনরায় মাদক বিক্রি করছে এসব মাদক বিক্রেতারা। পুলিশের এমন প্রশ্নবিদ্ধ আইনের ফাঁকে মাদকের বড় বড় ডিলাররা কোন প্রকার ঝড়-ঝান্টা ছাড়াই প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার মাদক বিক্রি করে আসছেন। ফলে মাদক বিক্রি ও সেবনকারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায়, উঠতি বয়সের যুবকেরা অতি সহজেই মাদকদ্রব্য পেয়ে নেশার জগতে হাড়িয়ে যাচ্ছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা নেশার  টাকা যোগার করতে নিজের সংসার ধ্বংস করে অন্যত্র চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি করতেও দ্বিধা করছেনা। স্কুলের ফ্যান, মসজিদের মাইক, টিউবয়েলের মাথা, হাতের মোবাইল, ঘরের মূল্যবান সামগ্রী সুযোগ বুঝে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এই চুরি থেকে বাদ পড়েনি উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।
মাদক সেবীরা রাস্তা ঘাটের গরু-ছাগল তুলে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছে। বীর ঘাটাইল, গ্রনগ্রাম, কর্ণা, লউয়াগ্রাম, বানিয়াপাড়া, ধোপজানি, ব্রাহ্মনশাসন থেকে দিনের বেলায় শতাধিক ছাগল চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২ বছরে ঘাটাইল সদর থেকে শতাধিক মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। এই চুরি থেকে বাদ পড়েনি উপজেলা কর্মরত সাংবাদিকরাও। গত বছরের ১৫ অক্টোবর ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সম্মুখ থেকে মানবজমিন প্রতিনিধি নজরুল ইসলামের গাড়ি চুরি হয়েছে। এ রকম চুরির ঘটনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন সংগঠিত হলেও কেউ প্রতিবাদ করলে মাদক সেবী বা বিক্রেতারা তাকে মারতেও উদ্বুত্ব হচ্ছে। শুধু তাই নয়- প্রতিবাদকারীকে প্রাননাশের হুমকি দিচ্ছে। যার ফলে চোখের সামনে মাদক বিক্রি ও সেবন করলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনা।
জানা যায়, উপজেলার লাউয়াগ্রাম, পাঞ্জেনা, ঘাটাইল, গারোবাজার, হাতীমারা, নাটশালা, বৈলতৈল, পাকুটিয়া, লোকেরপাড়া, সাগরদিঘী, সিংহেরচালা, দেওপাড়া, মোনতলা, ঝড়কা এলাকায় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এইসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় শতাধিক পাইকার প্রতিদিন মাদক ক্রয় করে নিদিষ্ট পয়েন্টে মোবাইলের মাধ্যমে মাদক সেবীদের কাছে বিক্রি করছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি সিরাজগঞ্জ হিলিবন্দর ও ঢাকা থেকে মাদক নিয়ে আসছে। পুলিশ ২/১ জন খুচরা বিক্রেতা ও সেবনকারীদের গ্রেফতার করলেও বড় বড় মাদক সম্রাটরা থাকছেন ধরাছোয়ার বাইরে।
জানা যায়, এইসব মাদক স¤্রাটরা দিনের পর দিন মাদক বিক্রি করে কেউ কেউ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। কেউ ছিল ভ্যান চালক আবার কেউ ছিল ছিটকে চোর, কেউ পোনা মাছের ব্যবসায়ী। কেউ ছিল বেকার খুচরা নেতা। তারা আজ মাদকের ব্যবসা করে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অনেকে বাস গাড়ী, ট্রাক, হাইট্রেলিক ও বড় বড় ট্রাকট্ররের মালিক হয়েছেন। কেউ একাধিক ক্লিনিক ও রাইসমিলসহ পাঁকা বাসা-বাড়ির মালিক হয়েছেন। একথা উপজেলার ১২ বছরের কিশোর থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই জানলেও পুলিশ কেন তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করেনা। একথা ঘাটাইলের সাড়ে চার লক্ষ লোকের কাছে পুরাটাই অজানা রয়ে গেছে।
মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক একাধিক এসআই টিনিউজকে জানান, বড় বড় লোকেরাই মাদক ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত বলে পুরোপরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হয় না। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছে। তার আইনের ফাঁক গলে বেড়িয়ে আসে।

বিলুপ্তির পথে বজ্রপাত প্রতিরোধক তালগাছ


ঘাটাইল ( টাংগাইল) সংবাদদাতা:
“তালগাছ এক পায়ে দাড়িয়ে,সব গাছ ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে”। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার মতো বহুবিধ গুণে গুনান্বিত তাল গাছের কথাই বলছি। কে জানত এ প্রাচীন বৃক্ষটি এদেশের মানুষের জানমালের রক্ষাকবচ। হয়তো মহাজ্ঞানীরাই বুঝতে পেরেছিল। তাইতো তালগাছ নিয়ে কবি গুরু লিখেছিলেন,মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তালের টুপি পড়েছেন।
হাত পাখার শীতল বাতাস থেকে শুরু করে বজ্রপাত জনিত মৃত্যুর হার কমানোর প্রধান সহায়ক হল তালগাছ। থাইল্যান্ডের মতো বাংলাদেশেও ৬৪ জেলায় তাল গাছ রোপন করে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। দুই দশক আগে বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের আনাচে কানাচে শোভাপেত অসংখ্য তালগাছ। জনশ্র“তি আছে তালগাছে বজ্রপাত হয় বলে নিধন হতে হতে এখন বিলুপ্তপ্রায়।
২০১৬ সালে বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছের উপকারিতা উপলব্ধি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। চৈত্রের প্রচন্ড খরতাপে তালের কচিশাস,তালগাছের পাতায় ঝুলে থাকা কারিগর পাখি বাবুইয়ের বাসা,তালপাতার হাত পাকার শীতল বাতাস,ভাদ্রমাসের তালের পিঠা এখন প্রায় অতীত।
টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন স্থানে নিজ উদ্যোগে তালগাছ লাগিয়ে পুরনো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রকৃতি বিজ্ঞানী চাষা আব্দুল আজিজ কোম্পানি। মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাথায় তালের শাঁসের টুপি ব্যবহার দেখে উদ্ভুদ্ধ হয়ে আজিজ তালগাছ নিয়ে ভাবতে থাকেন। আজিজ বলেন,১৯৯০ সালের প্রথম দিকে আমার মাথায় এ ভাবনা আসে। আমি নিজে তালের শাঁসের টুপি পড়ে দেখলাম এ টুপি পচুর পরিমানে তাপ শোষণ কওে মাথা ঠান্ডা রাখে। শুধু তাই নয় তাল গাছের কোন কিছুই ফেলনা নয়। তালগাছ অনেক দিন বাঁচে,অন্য ফসলের কোন ক্ষতি করে না,মাটির ক্ষয়রোধ করে,তালগাছ ঘর তৈরির উত্তম কাঠ,গাছের ডালের গোড়ার অংশ সেদ্ধ করে যে আঁশ পাওয়া যায় তা অত্যন্ত উন্নতমানের তন্তু,জালানি হিসাবে এর চাহিদা অনেক,স্ত্রী ও পুরুষ জাতীয় তালগাছ একটানা ৯০ থেকে ১২০ দিন পর্যন্ত ২৪ঘন্টায় ১২ থেকে ১৫কেজি রস দেয়,যার পাঁচ কেজি রস থেকে এক কেজি উন্নতমানের গুড় তৈরি হয়। তালের রসের কাথ উচ্চমানের মাছ ও গরুর খাবার। তালের আটির উপরি অংশে সুতা খোসা মোজাইক পাথরের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়,তা ছাড়া তালের রস উচ্চ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ সু-স্বাদু খাবার।
আজিজ বলেন,বসতভিটা থেকে নিরাপদ দুরত্বে প্রতি বিঘা জমিতে ৪টি করে তালগাছ রোপন করলে বজ্রপাতসহ নানা দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব। বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলে কাঁটাতারের বেড়া না দিয়ে ছয় ফুট দুরত্বে আড়াআড়ি তিনসারি করে তালগাছ রোপন করলে যেমন সীমানা প্রাচীর হবে অপর দিকে যুদ্ধগাড়ি ট্যাংকসহ ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। তাছাড়া বন্যহাতির অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব। যেহেতু তালগাছ লবনাক্ত পানিতে মরেনা,তাই সমুদ্র তীরবর্তী ভুমিতে ঘুর্ণিঝড়,জলোচ্ছাস ও মাটিক্ষয় রোধে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারে। আজিজ তার নিজ বসতভিটার ৮ একর জমিকে বাংলাদেশ কল্পনা করে চারিদিকে তালগাছের বেষ্ঠনি দিয়ে সাজিয়ে দেখিয়েছেন। ইতোমধ্যেই নিজ খরচে ঘাটইল,মধুপুর,ফুলবাড়িয়া,জামালপুরের কিছু অংশের রাস্তারমোড়,নদী বা বিলের পাড়,খালের ধার,বীজের দুইপাশে গত ২০বছরে এক লক্ষাধিক তালের আটি রোপন করেছেন। আজিজের গ্রাম শালিয়াবহ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী প্রয় অর্ধশত গ্রামের রাস্তার মোড়ে,খালের পাড়ে,ব্রীজের দুই পাশে সাড়ি সাড়ি তালগাছ শোভা পাচ্ছে। আজিজের কাজে প্রেরণা পেয়ে সিলেটের সুনামগঞ্জের  জিল্লুর রহমান নিজের ২০ একর জমিতে তালগাছের বেষ্ঠনী দিয়েছেন। প্রকৃতি প্রেমী আজিজের এ কর্মের স্বীকৃতি হিসাবে ২০০৮ সালে জেলা পরিষদ কতৃক সাদা মনের মানুষ এবং ২০১০ সালে চ্যানেল আই সেরা কৃষি পদক  পুরস্কারে ভুষিত হন।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বজ্রপাতে ৬৯১ জন মৃত্যুবরণ করেছে। ২০১৬ সালে ১২ মে ২৪ ঘন্টায় সারাদেশে বজ্রপাতে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঐ সময় সরকার বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগের অর্ন্তভূক্ত করেন। বিগত বছর বজ্রপাতে প্রায় ২০০ জন মানুস মারা গেছে। এ সময় প্রচুর গবাদিপশু ও মারা যায়।
বজ্রপাতে মানুষের মুত্যু কমানোর তাগিদে সরকার দেশব্যাপী১০লাখ তালগাছ লাগিয়ে মৃত’্র ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আসাদুল হকের মতে, বজ্রপাত যেহেতু উচু যায়গায় আঘাত কওে, সে হিসাবে তাল গাছ মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে সহায়ক হবে।
চাষা আব্দুল আজিজ কোম্পানি মনে করেন,সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে কাজটি সহজ হবে এবং অতি তাড়াতাড়ি সফলতা আসবে।

ঘাটাইলে স্টুডেন্টস কেভিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
সারা দেশের ন্যায়  টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় বিভিন্ন  মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উৎসব মুখর পরিবেশে স্টুডেন্টস কেভিনেট নির্বাচন-২০১৭ শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হয়। আজ সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত বিরতীহীনভাবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঘাটাইল পৌর সভাধীন ঘাটাইল গণ মডেল ,ঘাটাইল এস.ই.বালিকা  ও মুকুল একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠনের শিক্ষার্থীদের স্বঃষ্ফূর্ত ভাবে  এ  নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে দেখা যায়। এমনকি বিদ্যালয়ের আঙিনায়  হাতের লেখা পোষ্টার কাগজে প্রার্থীদের প্রচারণাও শোভা পায়।   দেশের বিদ্যমান অন্যান্য নির্বাচনের ন্যায় স্টুডেন্টস কেবিনেট  নির্বাচনেও সকল প্রক্রিয়া যথাযথ ভাবে সম্পন্ন করা হয় ।প্রধান নির্বাচন ও সহকারী নির্বাচন কমিশনার ,প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার  দায়িত্ব শিক্ষার্থীরাই পালন করেন। শিক্ষক মন্ডলীরা শুধু তাদের কাজে সহযোগিতা করেছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম শামসুল হক ও একাডেমিক সুপারভাইজার  মোছাঃ মাসুমা সুলতানা সকাল থেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার জন্য পরিদর্শনে যান। নির্বাচনের উৎসব মুখর হওয়াতে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, গণতন্ত্র চর্চা , সহিঞ্চুত,া তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব গঠন,বিদ্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে  তাদেরকে সম্পৃক্ততা করা এবং বিদ্যালয়ের সহশিক্ষাক্রমিক কাজে তাদের সক্রিয় ভ’মিকা পালন করাই হচ্ছে এ নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য।

ঘাটাইলে চোরাই গরু সহ আটক ৩

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
বৃহস্পতিবার ভোরে ঘাটাইল উপজেলায় তিন গরু চোর আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার কাশতলা গ্রাম থেকে একটি ট্রাক তিনটি চোরাই গরু সহ তাদের আটক করা হয়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবসী জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে মধুপুর উপজেলার ট্রাক শ্রমিকের লোকজন (ঢাকা-মেট্রো-ন-১৮-৭৩৭৭) নম্বরের একটি মিনি ট্রাকে গরু নিয়ে টাঙ্গাইলের দিকে যাওয়ার সময় তাদের সন্দেহ করে। এ সময় তারা বাধা দিলে ট্রাকটি তাদের এক শ্রমিকে আহত করে পালিয়ে আসে। তাৎক্ষনিক শ্রমিকরা অপর একটি গাড়ি নিয়ে ট্রাকটির পিছু ধাওয়া করে এবং ঘাটাইল থানার পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ও জনতার ধাওয়া খেয়ে গরু চোরের দল গরু সহ ট্রাকটি ঘাটাইল উপজেলার কাশতলা গ্রামে রেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় জনতা তিন চোরকে আটক করে গন পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। অপর দুই চোর দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তিনটি গরু ও ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, চোরাই গরু গুলি জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার সানারকৈড় গ্রামের ফারুক হোসেনের। ধৃত তিন গরু চোর হল, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার রপসি গ্রামের রাজু আহম্মেদের ছেলে সুলতান মাহমুদ (৪৮), বাসাইল উপজেলার নাহালী গ্রামের আলম (৩২) এবং জামালপুরের চরশী গ্রামের মিন্টু মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া(২৮)।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে এবং তাদেরকে  জেলা হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।