প্রধান শিক্ষক আর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির অন্যায় আর দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে রোষানলে পড়েছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের এক যুবক শিহাব উদ্দিন। সে ঘাটাইলের সাধুটি নজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন দাতা সদস্য। সম্প্রতি টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে শিহাব ও তার বাবার উপর ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তার বাহমভুক্তদের বর্বরোচিত হামলার বর্ননা দেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে গিয়ে বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শিহাব।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্ল্যেখ করেন যে, বিগত ২০১৫ সালে ঘাটাইল উপজেলার জাহিদগঞ্জ গ্রামে সাধুটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিহাব একজন দাতা সদস্য মনোনীত হন। সে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী (সিভিল)। তিনি বিদ্যালয়টিকে একটি আদর্শ বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেন। তরুন বয়সী নীতিবান একজন দাতা সদস্য হিসেবে বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ শুরু করেন সদস্য মনোনীত হওয়ার পর থেকেই। এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের হিসাব ও পরিচালনা পর্ষদের ম্যানুয়াল বই দেখতে চাইলে তিনি উপর প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরাগ ভাজন হয়।
এক পর্যায়ে শিহাব জানতে পারে বিদ্যালয়ের সাধারন ব্যাংক হিসাব ও অডিট হিসাব তার পুর্বের দাতা সদস্য মোহাম্মদ লিয়াকত হোসেনের নামে। নতুন দাতা সদস্য হিসেবে শিহাব দায়িত্ব নেয়ার আগে সকল হিসাব বুঝিয়ে দিতেও বলেন তিনি। কিন্ত কোন হিসাব বুঝিয়ে দিতে অস্বীকার ও হিসাব দেখাতে অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রউফ। সরকারী বেতন ও ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে সব মিলিয়ে দুই বছরে প্রায় দুই কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। এত টাকার লেনদেন ও অডিট হিসাব ও সাধারন হিসাব এক ব্যক্তির নামে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সে জানতে পারে নিয়োগ বিধিমালার তোয়াক্কা না করে প্রধান শিক্ষকের পছন্দের প্রার্থীকে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে একজনকে ক্রিড়া শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। এছাড়াও নিয়ম বহির্ভুতভাবে বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে পুরাতন আটটি মেহগনি গাছ বিক্রি করে। যার আনুমানিক দাম এক লাখ পঁচাশি হাজার টাকা।
এ অবস্থায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও মিলাম মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের সভাপতি অনুপস্থিত থাকার কারনে শিহাব অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। এই নিয়ে পড়ের সভায় শিহাবকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে। এবং ওই সভাটিই ছিল সর্বশেষ সভা।
এরপর বিদ্যালয়ের আনোয়ার নামের এক সহকারী শিক্ষক এবং অফিস সহকারীকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করা হয়েছে শিহাবের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে তাকে সদস্য পদ থেকে বহিস্কারের চিঠি দেয়া হয়। যা সম্পুর্ন বেআইনী। এছাড়াও শিহাবকে বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে হুমকি দিতে থাকে তারা। সর্বশেষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারী বেলা আড়াইটার দিকে বিদ্যালয়ের একটি নতুন ভবন নির্মান করা হবে বলে শিহাবকে খবর পাঠান প্রধান শিক্ষক। শিহাব বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষককে জানান জেলা প্রশাসকের দেয়া সাধুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সীমানা নির্ধারনের চিঠি দেয়া হয়েছে। সীমানা নির্ধারণ না করে এ ব্যপারে মতামত দিতে অস্বীকৃতি জানান শিহাব। এ কথা শুনে সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ও তার শ্যলক আব্দুল কাদের ও দুই ছেলে আরিফ এবং আতিক ও ক্রীড়া শিক্ষক আনোয়ার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের প্রধান বাহামভুক্তরা শিহাবকে গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে কিল ঘুশি শুরু করে। দৌড়ে সে পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় আশ্রয় নেয়। এ খবর ছোট ভাই তার বাবা লিয়াকত হোসেনকে জানালে তিনি দৌড়ে আসেন ঘটনাস্থলে। তিনি সেখানে যাওয়া মাত্রই অভিযুক্তরা তার মাথায় লোহাড় রড দিয়ে আঘাত করে। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বাবাে বাঁচাতে এগিয়ে এলে শিহাবের মাথায় আঘাত করে তারা। স্থানীয়রা ছুটে এসে রক্তাক্ত আহত অবস্থায় পিতা ও পুত্রকে উদ্ধার করে ঘাটাইল থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা শিহাবের বাবার মাথায় ছয়টি সেলাই করে। এসময় শিহাবের মোবাইল ফোনে থানা থেকে একটি ফোন আসে। থানার এস আই কামাল হোসেন ফোন দিয়ে কোথায় আছে তা জানতে চায়। জানতে চাইলে এসআই বলেন আমি আপনার বাসায় রয়েছি। আপনার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক বাদি হয়ে মামলা করেছেন। সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের হাত ভাঙ্গার অভিযোগে এ মামলা করা হয় বলেও জানান এসআই। এরপর আহত অবস্থায় শিহাব হাসপাতাল ত্যাগ করে গ্রেফতার এড়াতে। অন্যত্র গিয়ে চিকিৎসা নেন। তার পরের দিন শিহাবের বাবা থানায় গিয়ে ছেলে ও তাকে মাথা ফাটানোর ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করতে যান। কিন্তু ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন আপনার ছেলেকে আগে ধরিয়ে দিন। এরপর তিনি জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ঘাটাইল থানা আমলী আদালতে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করে। এ মামলায় মোট আটজনকে আসামী করা হয়।
এ ব্যপারে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান শিহাব উদ্দিন এখন আর ম্যানেজিং কমিটির কেউ নন। সর্বসম্মতিক্রমে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি সটিক নয় বলে জানান প্রধান শিক্ষক।