রবিবার, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৬

ঘাটাইলের হামিদপুরে ১৪৪ ধারা জারি

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা নিজ এলাকায় এমপি সমর্থক ও লেবু সমর্থক পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছমা আরা বেগম। রবিবার দিগর ইউনিয়ন হামিদপুর বাসষ্টান্ড ও এর আশপাশের এলাকায় বিকাল ৩ থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এ অবস্থায় হামিদপুর বাসষ্টান্ড চত্বরে ও আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ।
ঘাটাইল থানা পুলিশ জানায়, টাঙ্গাইলে আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যার প্রতিবাদে এমপি রানা ও তার তিন ভাইকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবুর নেতৃত্বে উপজেলার হামিদপুর বাসষ্টান্ডে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। অপরদিকে এমপি রানার সমর্থনকারীরা একই স্থানে সমাবেশ ডাকায় গোলযোগ এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক লেবুর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল করতে চাইলে পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিক্ষোভ মিছিলটি ১৪৪ ধারা সীমানা পেরিয়ে কদমতলী বাসষ্টান্ড নামকস্থানে এসে লেবু সমর্থিত শতশত নেতাকর্মী ঢাকা-টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রায় এক ঘন্টা অবস্থান নেয়। এতে করে সড়কের দু’পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তা নিয়ন্ত্রন করে অবরোধটি তুলে দেয়। এ বিষয়ে সার্কেল অফিসার এএসপি জমির উদ্দিন বলেন, আইন-শৃঙ্খলা সার্বিক পরিস্থিতি ভাল রয়েছে এবং কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এখানে না ঘটে তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে এমপি বিরোধী ও এমপি সমর্থকদের মধ্যে গত বুধবারের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় র‌্যাবের হাতে আটক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নয়জন নেতাকর্মীকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে  জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে এমপি বিরোধী পক্ষের আটজন ও এমপি সমর্থক একজন। এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, নয়জনকে আটক করার পর গত শুক্রবার রাতে তাঁদের থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। এদের মধ্যে এমপি বিরোধী হিসেবে পরিচিত পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, ঘাটাইল ব্রাহ্মণশাসন গণ মহাবিদ্যালয় (জিবিজি কলেজ) ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবু সাইদ রুবেল, ছাত্রলীগ কর্মী আবিদ হোসেন, মঞ্জুরুল ইসলাম খান, রাজীব সরকার, বাবর আলী, রুবেল মিয়া ও মৃদুলকে এমপি রানা সমর্থক জামুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম হেস্টিংয়ের বাড়িতে হামলা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এমপির পক্ষের যুবলীগের কর্মী মনছুর আলীকে এমপি বিরোধী মজিবর রহমানের বাড়িতে হামলা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলে আলোচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহম্মেদ হত্যার অন্যতম আসামী টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাই কাকন, মুক্তি, বাপ্পাসহ ১৪ জনের নামে আদালতে চার্জশীট দেয়া হয়। এরপর থেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এমপি রানাকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃত্বে টানা তিন দিন ধরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবশে চলছে।

ঘাটাইলে এমপি রানাকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল


মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ খুনের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পালিয়ে থাকা টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের  গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ সমাবেশ করল ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
শনিবার বিকেলে ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ড চত্বর থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ। মিছিলটি ঘাটাইলের পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে স্থানীয় পারুল প্লাজার সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। সমাবেশে আগামী ৩ দিনের মধ্যে পলাতক এমপিকে খুঁজে বের করে  গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচী দেয়া হবে বলে আলটিমেটাম দেয়া হয়।
ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবুর সভাতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক মুজিবর রহমান, সিনিয়ন যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রহিম মিয়া (চেয়ারম্যান)সহ ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে এমপি রানার সমর্থকদের হামলা সংক্রান্ত থানায় ৩টি মামলার অভিযুক্ত আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।