বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৩১, ২০১৯

ঘাটাইলে শিশু মাসুদ হত্যার বিচার চায় পরিবার, মামলা তুলে নিতে আসামিদের হুমকি

টাঙ্গাইলে শিশু মাসুদ রানা (৮) হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ করেছেন নানি মাজেদা বেগম। বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ঘাটাইলের রামপুর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন তার নাতি মাসুদ রানা শয়নকে অপহরণ করেন। অপহরণের পর ২ অক্টোবর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে জাহাঙ্গীর হোসেন। মুক্তিপণ বাবদ দুই লাখ টাকা দেওয়ার পরেও মাসুদ রানাকে হত্যা করে মধুপুরের টেংরী কবরস্থানের পাশে মাটিতে পুঁতে রাখেন জাহাঙ্গীর।

পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে ঘাটাইলের রামপুর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন, ভূঞাপুর উপজেলার রুহুলী চরপাড়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে মো. সোহেল, গোপালপুর উপজেলার কামাক্ষাবাড়ি গ্রামের হিরালাল আর্য্য-এর ছেলে গৌতম চন্দ্র আর্য্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ নিহত মাসুদ রানার কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। আসামি হত্যার সঙ্গে জড়িত ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নারী ও শিশু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

কয়েক মাস জেলহাজতে থাকার পর আসামি জামিনে মুক্তি পান। জামিনে বের হওয়ার পর আসামিরা মাজেদা বেগম ও নিহত মাসুদের মা মাসুদা বেগমকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি-ধামকি দেন। পরবর্তীতে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ভূঞাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মাসুদের নানি।

মাজেদা বেগম বলেন, আমার নাতিকে চিরতরে হারিয়েছি। তার পরও আসামিরা আমাদের স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে দিচ্ছে না। একের পর এক হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে।

আমরাওতো মানুষ, আমাদেরও তো সমাজে স্বাভাবিকভাবে জীবন করার অধিকার আছে। এখন আমাদের নিরাপত্তা চাই। সাংবাদিকদের মাধ্যমে এ ঘটনা প্রধানমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে আমাদের নিরাপত্তা ও আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি।

এ সময় নিহতের মা মাসুদা বেগম, এলাকাবাসী আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘আমাদের ঘাটাইল’ এ সংগৃহিত তথ্যগুলোর স্বত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের এবং আমাদের সংগৃহীত প্রতিটা নিউজে সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংকসহ কৃতজ্ঞতা উদ্ধৃত আছে। আমাদের কোনো স্বত্ব বা কপিরাইট নাই। আমাদের ঘাটাইল এ প্রকাশিত সকল কন্টেন্ট সকলের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত।

ঘাটাইলে শিক্ষকের মৃত্যুবরণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ভবনদত্ত গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মওলানা সিরাজুল ইসলাম মাস্টার বার্ধক্যজনিত কারণে বৃহস্পতিবার (৩১জানোয়ারী) সকাল নয় ঘটিকার সময় তার নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তিনি তিন ছেলে সহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঘাটাইলের ভবনদত্ত গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কাছড়া সামাজিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মরহুমের জানাজা নামাজে এলাকার বিশিষ্ট ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং কাছড়া গ্রাম সহ আশেপাশের কয়েক গ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশ নেয়।

বুধবার, জানুয়ারি ৩০, ২০১৯

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের নির্বাচন কাল

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল (ডিএসইসি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সকাল ১০টায় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শুরু হবে। এরপর দুপুর ১টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

গত ১০ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিএসইসির নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি ডিএসইসির বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।


এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়ছেন তিনজন। তারা হলেন- নয়া দিগন্তের ইদ্রিস মাদ্রাজি, সমকালের জাকির হোসেন ইমন এবং যুগান্তরের মামুন ফরাজি। সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেইলি অবজারভারের মো. বশির হোসেন মিয়া এবং দৈনিক বাংলাদেশ সময়ের আনজুমান আরা শিল্পী। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন তিনজন। তারা হলেন- বাংলাভিশনের নাসরীন গীতি, ডিবিসির মুক্তাদির অনিক এবং দৈনিক আমাদের সময়ের আবুল হাসান হৃদয়। যুগ্ম সম্পাদক পদে লড়ছেন একাত্তর টেলিভিশনের সুরাইয়া ইয়াসমিন অনু এবং দৈনিক ভোরের পাতার জাওহার ইকবাল খান। কোষাধ্যক্ষ পদে মো. আফজাল হোসেন, আবু কাউছার খোকন ও আবদুর রহমান খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাংগঠিনক সম্পাদক পদে মো. আনোয়ার সাদাত সবুজ, মুজাহিদুল ইসলাম সাকিফ ও শামসুল আলম সেতু নির্বাচন করছেন। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মীম ওয়ালীউল্লাহ, মো. মোজাম্মেল হক ও জাকিয়া সুলতানা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দফতর সম্পাদক পদে লড়ছেন শরীফ মোহাম্মদ মাসুম, মিসবাহ পাটোয়ারী ও জামান সৈয়দী। এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৪ জন।

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯

ঘাটাইলে ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী সজীব সরকারের মতবিনিময়

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রনেতা সজীব সরকার। আজ মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি)  সন্ধ্যায় সজীব সরকার ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেদ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. খোরশেদ আলম, কেদ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেস রায়, পৌর আহবায়ক মো. রাসেল সিকদার, যুগ্ম আহবায়ক ইমরান হোসেন মিঠুন, জাতীয় শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব মো. দুলাল মিয়া, যুগ্ন আহবায়ক বজলুর রহমান, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

মতবিনিময় কালে সজীব সরকার বলেন, “আমি যদি উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হতে পারি ঘাটাইলকে মাদক মুক্ত এবং বাল্য বিবাহ রোধ করবো। এছাড়া ঘাটাইলকে একটি মডেল টাউন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালাব। এ জন্য আমি উপজেলারবাসীর কাছে দোয়া এবং সার্বিক সহযোগীতা কামনা করছি। সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে সর্বদা নিজেকে নিবেদিত রাখব এবং উন্নয়নের পাশে থাকব।”

ঘাটাইলে সাবেক এমপি রানার মুক্তি দাবিতে সড়ক অবরোধ

মাসুম মিয়া, ঘাটাইল: টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার মুক্তির দাবিতে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় এক ঘন্টা অবরোধ করে রাখে রানা মুক্তি পরিষদের নেতাকর্মীরা। আজ মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রানা মুক্তি পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল ইসলাম খান হেষ্টিংস এর নেতৃত্বে ঘাটাইল কলেজ মোড় চত্বরে এ কর্মসুচী পালন করা হয়।

এমপি রানার নেতা-কর্মীরা মহাসড়কে সমবেত হয়ে তার মুক্তির দাবিতে মিছিল করে। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে কমপক্ষে ১০ কি.মি. দীর্ঘ যানযটের সৃষ্টি হয়। ফলে দূর-পাল্লার যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘাটাইল থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেয় নেতাকর্মীরা।

অবরোধ কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন- পৌর আ’লীগের আহবায়ক খলিলুর রহমান তালুকদার, যুবলীগের সাবেক সভাপতি সুলতান মাহমুদ তালুকদার সুজন, ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ রানা মুক্তি পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে, সাবেক এমপি রানা টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার আসামী হয়ে প্রায় তিন বছর ধরে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।

সোমবার, জানুয়ারি ২৮, ২০১৯

‘পুলিশ সেবা সপ্তাহ’ উপলক্ষে নানা কার্যক্রম ঘাটাইল থানা পুলিশের

পুলিশি সেবা প্রাপ্তি সহজ করার লক্ষ্যে গতকাল রোববার (২৭ জানুয়ারি) থেকে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানা সহ সারা দেশব্যাপী সকল পুলিশ ইউনিটে পালিত হচ্ছে ‘পুলিশ সেবা সপ্তাহ’।

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত এ সেবা সপ্তাহর কার্যক্রম চলবে। এ উপলক্ষে ঘাটাইল থানা পুলিশ পুলিশি সেবা গ্রহণ ও সেসব বিষয়ে সাধারণ জনগণকে অবহিতকরণ এবং উদ্বুদ্ধকরণ সম্পর্কিত নানা রকমের কার্যক্রম পরিচালনা করবে সপ্তাহব্যাপী।

পুলিশ সেবা সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-

প্রত্যেক পুলিশ ইউনিটে র‌্যালি আয়োজন
পুলিশের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কিত প্রচারণা
পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট বিতরণ
বাংলাদেশ পুলিশের বিগত বছরগুলোতে অর্জিত সাফল্য ও পুলিশি সেবা কার্যক্রম প্রদর্শন
বাংলাদেশ পুলিশ হেল্প লাইন ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সেবা প্রাপ্তি, আইজিপি কমপ্লেইন সেল, নারী ও শিশুবান্ধব পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং ইত্যাদি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা।
জনবান্ধব পুলিশি সেবা প্রদানের জন্য ওপেন হাউজ-ডে আয়োজন
ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে প্রদত্ত সেবা সম্পর্কে প্রচারণা
অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা প্রদান
ইমিগ্রেশন পুলিশের আধুনিকায়ন এবং এর কার্যক্রমের ওপর প্রদর্শনী আয়োজন
সিটিটিসি, সোয়াট, সিডিএমএস এবং মাদক নির্মূল ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম, ট্রাফিক পুলিশের ‘ই-প্রসিকিউশন’ সম্পর্কে জনগণকে অবহিতকরণ
সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ট্রাফিক নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস, জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ
ট্রাফিক সচেতনতা বাড়াতে বাস/লঞ্চ টার্মিনাল, বাস স্টপেজ ও বাজার এলাকায় ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ এবং লিফলেট বিতরণ করা
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সাংবাদিক, সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে সভা-সেমিনারের মাধ্যমে এলাকায় ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা
নদী বেষ্টিত এলাকায় নৌ আইন সম্পর্কিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো
পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্টদের নিরাপত্তা প্রদানে পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করা এবং রক্তদান, শীতবস্ত্র বিতরণ, মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ইত্যাদি জনসেবামূলক কর্মসূচি গ্রহণ
পুলিশকে সহায়তা এবং পুলিশের সেবা গ্রহণের জন্য নাগরিকদেরকে প্রতি ঘাটাইল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

(সোর্স : ঘাটাইল ডটকম)

ঘাটাইলে উপজেলা চেয়ারম্যার প্রার্থী আরিফের মোটর শোভাযাত্রা

সবুজ সরকার সৌরভ, ঘাটাইল: ঘাটাইলে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মুহাম্মদ আরিফ হোসেনের বিশাল মটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ আজ সোমবার (২৮ জানুয়ারী) শতশত মটরসাইকেল নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে৷

আরিফ হোসেনের মটরসাইকেল শোভাযাত্রায় ঢোলবাদ্যযন্ত্র সহকারে যোগ দেয় ঘাটাইলের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো মানুষ৷

ঘাটাইলের সর্বসাধারনের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে পুর্ব ঘাটাইলের প্রার্থীকে বিজয়ী করেন পুর্ব ঘাটাইলের ভোটারেরা৷ আরিফ হোসেনের বাড়ি পুর্ব ঘাটাইলে হওয়ায় তার কর্মি সমর্থকদের দাবি তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন৷

মুহাম্মদ আরিফ হোসেন ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড এবং মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের ঘাটাইল উপজেলা শাখার বর্তমান সভাপতি, বাংলাদেশ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এসোসিয়েশন এর সাধারন সম্পাদক, উপজেলার বর্তমান সফল ভাইস চেয়ারম্যান সবার আস্থাভাজন ব্যক্তি।

তিনি তরুন প্রজন্মের একজন জনপ্রিয় লোক। ইতোমধ্যে তিনি রাত দিন ভোটারদের কাছে গিয়ে সমর্থন আদায়ে জোর চেষ্টা চালচ্ছেন।

মনোনয়নয় পাওয়ার বিষয়ে আরিফ হোসেন বলেন, আমি জীবনের বিশটি বছর রাজপথে মুজিব আদর্শের ঝান্ডা হাতে নিয়ে মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। আর আমি যদি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাই তাহলে ঘাটাইল জনগনকে নেশামুক্ত সমাজ, সন্ত্র্সামুক্ত ঘাটাইল ও নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠির স্বার্থের দিকে নজর দিয়ে তাদের হয়ে কাজ করবো।

ঘাটাইলে পৌরসভা ১টি, ইউনিয়ন ১৪টি, ভোট কেন্দ্র ১১৯টি। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৭ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৯ জন, মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৬ জন।

ঘাটাইলে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরজাহান সিদ্দিকার মতবিনিময়

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বত্রই আলোচনা হচ্ছে চেয়ারম্যান ও ভাইস- চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে। নির্বাচনে কে হচ্ছেন এ উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী- এটাই হচ্ছে এখন ঘাটাইলের প্রধান আলোচিত বিষয়। সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আজ সোমবার সকালে ঘাটাইল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীতা ঘোষনা করেছেন ঘাটাইল উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক নূরজাহান সিদ্দিকা।

প্রতিদিনই চলছে প্রার্থীতা ঘোষনা। পোস্টার ব্যানার ও সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থীতার কথা জানান দিচ্ছেন প্রার্থীরা। বসে নেই সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। নূরজাহান সিদ্দিকা টাঙ্গাইল জেলা মহিলা আওয়ামী লীগেরও সদস্য। বর্তমানে তিনি জাতীয় মহিলা সংস্থা ঘাটাইল শাখার চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে প্রতিদ্বন্দীতাও করেছেন তিনি। নারী
আন্দোলন ও মানবাধিকার রক্ষায় তিনি সব সময়ই নির্যাতিতদের পাশে দাড়িয়েছেন।

আগামী নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ও ঘাটাইলবাসীর সমর্থন চান।

সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে তিনি বলেন, তার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির
সাথে জড়িত । আওয়ামী লীগের সকল আন্দোলন সংগ্রামে তার পরিবার সব সময়ই সক্রিয় ভুমিকা পালন করেছে। আশা করি দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।

ঘাটাইলে ভবনদত্ত গণ উচ্চ বিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল

ঘাটাইল উপজেলার এতিহ্যবাহী ভবনদত্ত গণ উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক দোয়া মহিফিল, নবীন বরণ ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় চত্তরে এ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর নবীন ছাত্রছাত্রীদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। দ্বিতীয় পর্বে বিদায়ী
পরিক্ষার্থীদের জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় ৷

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও টাংগাইল জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ বিষয়ক সম্পাদক আ ন ম বজলুর রহীম (রিপন)।

এতে উপস্থিত ছিলেন কালিহাতি অার এস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর  রহমান, সাবেক প্রধান শিক্ষক হায়দায় আলী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলতাব হোসেন, দাতা ‍সদস্য আক্তার হোসেন কিছলু, ভাবনদও সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন, ইউপি সদস্য কামাল হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য মজিবর রহমান, হাজী আঃ গফুর, কমল সিদ্দিকী, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য চান মামুদ, সদস্য আক্তার হোসেন, সদস্য আঃ লতিফ, সদস্য রোস্তাম আলী, আঃবাছেদ, হাজী আরফান আলী, সিনিয়র শিক্ষক ছুফিয়া খাতুন, বিপ্লব সরকার, নাজিম উদ্দিন, সোহরাব উদ্দিন, মিজানুর রহমান মিন্টু, রহমান আল আমিন প্রমুখ।

এ ‍সময় ‍সকল অভিভাবক সদস্যবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র ভৌমিক ও  বাছির উদ্দিন।

ঘাটাইলে গাছের হাসপাতালটি কিভাবে কাজ করছে?

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: ঘাটাইলে গাছের অভিনব হাসপাতাল চালু হয়েছে গত ১৩ জানুয়ারি (রবিবার)। হাসপাতালটি কৃষি ও কৃষকদের মাঝে ইতোমধ্যে দারুণ অবদান রেখে চলছে। এই হাসপাতালে শুধু উদ্ভিদ ও ফসলের বিভিন্ন রোগ বালাইলের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালের নাম দেয়া হয়েছে গাছের হাসপাতাল আর হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে গ্রীণ কেয়ার ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। হাসপাতালটি স্থাপন করা হয়েছে ঘাটাইল শহীদ সালাহ উদ্দীন সেনানিবাস সংলগ্ন শাহপুর নামক স্থানে।

তিন কৃষিবিদ বন্ধু রকিবুল হাসান উজ্জল, গনেশ কর্মকার ও জাহাঙ্গীর হোসেন মিলে স্থাপন করেছেন এই হাসপাতালটি। এটির উদ্বোধন করেন ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মতিন বিশ্বাস।

সরেজমিনে গতকাল রোববার (২৭ জানুয়ারি) গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটিতে একটি অফিস কক্ষ রয়েছে। সেখানে বসেই গাছের রোগ বালাই সম্পর্কে পরামর্শ এবং ব্যবস্থাপত্র দেয়া হচ্ছে। সামনে একটি ছোট নার্সারীও রয়েছে। কয়েকজন কৃষক পরামর্শ নিতে এসেছেন। কেউ আবার রোগাক্রান্ত ফসলও নিয়ে এসেছেন। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্রসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন গাছের হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা রকিবুল হাসান উজ্জল। গাছের বিভিন্ন সমস্যা ও রোগ বালাই সম্পর্কে জানতে আসা চাষী ও ব্যাক্তিদের গাছ ও ফসলের বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি এবং কীটনাশক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

গাছের হাসপাতালে আসা উপজেলার বাইচাইল গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর তার আম গাছে সমস্যা হয়েছিল আম ঝড়ে যেত এবং ফেটে যেত। এবার আম গাছে মুকুল ধরার সাথে সাথে অগ্রিম পরামর্শ নিতে গাছের হাসপাতালে এসেছেন। তার কথা শুনে হাসপাতাল কতৃপক্ষের নিয়োজিত পরামর্শক দল তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

শাহপুর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, আগে গাছ বা ফসলের কোনো সমস্যা হলে আমরা কীটনাশক ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে কীটনাশক ও রাসায়নিক এনে নিজেদের ইচ্ছেমত গাছ বা ফসলে ব্যবহার করতাম। ব্যবহার বিধি জানা না থাকায় অনেক সময় আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হতাম। গাছের হাসপাতাল চালু হওয়ায় এখন আমরা রোগ বালাই ধমনে সঠিক পরামর্শ ও সেবা পাব।

হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা কৃষিবিদ রকিবুল হাসান জানান, গাছের সেবা ও পরিচর্যার কার্যক্রম মানুষের বিনা মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা নিদিষ্ট স্থানে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রতি সপ্তাহে একদিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ হাসপাতালে এসে চাষীদের গাছ ও ফসলের রোগ বালাই সম্পর্কে পরামর্শক সভা করে চাষীদের ফসলের রোগ বালাই প্রতিরোধ সম্পর্কে আগাম ধারনা প্রদান করেন।

প্রতিষ্ঠাতাদের আরেকজন কৃষিবিদ গনেশ কর্মকার জানান, অল্প কয়েকদিন হল আমরা হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করেছি। সাড়াও পাচ্ছি ভাল। আমরা শক্তিশালী কৃষি নেটওয়ার্ক তৈরি করে সবুজ বাংলাদেশ গড়তে চাই। কীটনাশক ও রাসায়নিক মুক্ত ফল ও সবজি উৎপাদনে চাষীদের সহায়তা ও সকল ধরনের গাছ ও ফসলের নতুন নতুন জাত মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারনে কাজ করতে চাই।

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, ব্যাক্তি উদ্যোগে বেসরকারিভাবে এটি ভাল একটি উদ্যোগ। এর ফলে কৃষকরা যে কোন সময় হাসপাতালে গিয়ে সহজে কৃষি বিষয়ে পরামর্শ পাবে । এবিষয়ে আয়োজক কতৃপক্ষ কোন প্রশিক্ষণ মূলক পরামর্শ চাইলে আমারা তা প্রদান করব।

ঘাটাইলের এই গাছের হাসপাতালে গাছের চিকিৎসা ও যেকোন পরামর্শের জন্য ০১৩১৮-৪৯৯২৮৫ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

রবিবার, জানুয়ারি ২৭, ২০১৯

ঘাটাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী রিপনের গণসংযোগ

আসন্ন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে কোমড় বেঁধে মাঠে নেমেছেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক আ ন ম বজলুর রহীম রিপন।

দলীয় হাইকমান্ডে জোরালো তদবির করার পাশাপাশি ইতিমধ্যেই তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী এলাকা ঘাটাইলের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন।

ঘাটাইল ১টি পৌর এলাকাসহ ১৪ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সাধারণ ভোটারদের সাথে তিনি কুশল বিনিময় করছেন এবং সমর্থন আরও জোরালো করতে সর্বসাধারণের মধ্যে এলাকার উন্নয়নের চিত্র, চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার পত্র বিলি, সবার সমর্থন, দোয়া, ভালোবাসা ও সার্বিক সহযোগীতা করছেন।

গণসংযোগকালে তিনি মাদক, সন্ত্রাস, দূর্নীতিমুক্ত উপজেলা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে ঘাটাইল উপজেলাকে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলবো’।

ঘাটাইলে বিনামুল্যে ব্লাডগ্রুপিং করাবে আলোক হেলথকেয়ার

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীকে বিনামুল্যে ব্লাডগ্রুপিং করাবে আলোক হেলথকেয়ার। উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে দু’মাস ব্যাপি এ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে আজ রোববার (২৭ জানুয়ারি) সকালে কর্মসুচীর উদ্বোধন করেন স্থানীয় ইউএনও দিলরুবা আহমেদ।

ঘাটাইল সরকারী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম শামসুল হক, আলোক হেলথ কেয়ার এন্ড হাসপাতাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লোকমান হোসেন।

উদ্বোধনী দিনে ঘাটাইল সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দু’শতাধিক শিক্ষার্থীকে ব্লাড গ্রুপ নির্নয় করা হয়।

শনিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০১৯

ঘাটাইলে হামিদপুর ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ শনিবার (২৬ জানুয়ারি) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান।

পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে অত্র মাদ্রাসার সুপার জনাব আ স ম ফয়জুল্লাহ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, গভর্নিং বডির সহ সভাপতি সুলতান মাহমুদ, ৬নং দিঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম, ৭নং দিগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান বলেন, ‘তোমরা যারা পরীক্ষা দিবে কোন অবস্থাতেই অসদুপায় অবলম্বন করবে না। আমার সাধ্যমতো এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য যা যা করনীয়, তাই করবো ইনশাআল্লাহ।’

এ সময় বিদায়ী সকল পরীক্ষার্থী, শিক্ষক মন্ডলী, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এবার হামিদপুর ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও সমমানের পরিক্ষায় অংশ নিচ্ছেন মোট ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী।

কালের কণ্ঠের “শুভসংঘ” ঘাটাইল উপজেলা শাখার কমিটি গঠন

 শুভকাজে সবার পাশে এই শ্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কালের কণ্ঠের“শুভসংঘ” ঘাটাইল উপজেলা শাখার যাত্রা শুরু হয়েছে। শুভসংঘের কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে সকল শ্রেনি পেশার মানুষের সমন্বময়ে একসভা গত ২৫ জানুয়ারী অনন্য শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উইজডম ভ্যালিতে অনুষ্ঠিত হয়।

উইজডম ভ্যালির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পরিচালনা করেন কালের কণ্ঠের ঘাটাইল প্রতিনিধি মো. নজরুল ইসলাম। সভায় আলোচনান্তে চার সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদসহ ২৯ সদস্য বিশিষ্ট “শুভসংঘ” ঘাটাইল উপজেলা শাখার কার্যকরি কমিটি গঠন করা হয়। বিশিষ্ট ঠিকাদার কাজী মাহমুদ হাসান জাহানকে সভাপতি এবং কাজী রেজাউল হক সিজারকে কমিটির সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

কমিটির প্রধান উপদেষ্টা করা হয় বিশিষ্ট সমাজসেবক ডাঃ এম এ ছাত্তারকে। উপদেষ্টা পরিষদের অপর তিনজন হলেন, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলাম ও কালের কণ্ঠের ঘাটাইল প্রতিনিধি মো. নজরুল ইসলাম।

কমিটির অন্যানরা হলেন, সহ-সভাপতি সিনিয়র শিক্ষক মোমেন আকন্দ ও প্রভাষক জাহাঙ্গীর হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক এনামুল হক তালুকদার ও মোঃ রজব আলী, সাংগাঠনিক সম্পাদক গোলাম মওলা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রকেট, কোষাধ্যক্ষ আমিনুর রহমান খান বিপ্লব, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাইয়ান  রাহাত, সমাজকল্যান সম্পাদক  মোঃ জাহিদ হাসান রনি, ক্রীড়া স¤পাদক আলী আহম্মেদ, নারী বিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা কার্যকরী সদস্য দুরুল হুদা, ব্যাংক কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন, শহিদুল ইসলাম, মেহেরুন্নাহার বাবলী, শারমিন সুলতানা সম্পা , মো. আবু তাহের, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, রুমানা রশিদ রনি, নিলুফার ইয়াসমিন, রাজিয়া সুলতানা মুন্নি, নুসরাত জাহান নিপুন, মাফিয়া মল্লিক, হাসান আহম্মেদ তুলা, আরিফ আহম্মেদ। নবগঠিত কমিটি আগামী একুশে ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ঘাটাইল পৌর এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়,কিন্ডার গার্টেনে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাসহ দিনব্যাপি কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।

শুক্রবার, জানুয়ারি ২৫, ২০১৯

এক জাহিদই গুঁড়িয়ে দিলেন মোহামেডানকে

মোহামেডানের সঙ্গে অতীত অভিজ্ঞতাটা ভালো নয় জাহিদ হোসেনের। ২০১৫ সালে বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোহামেডানকে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছিলেন এ কুশলি মিডফিল্ডার। তারপর থেকেই মোহামেডানের বিরুদ্ধে খেলতে নামলেই জ্বলে ওঠার চেষ্টা করেন জাহিদ।

শুক্রবার ময়নমনসিংহের রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের উপর জাহিদ নিলেন নিষ্ঠুর প্রতিশোধ। আরামবাগের জার্সি গায়ে জাহিদ হ্যাটট্রিক করলেন পুরোনো ক্লাবের বিরুদ্ধে। মোহামেডান হারলো ৪-১ গোলে।

বিজেএমসির বিরুদ্ধে ২-১ গোলের জয়ে লিগ শুরু করা মোহামেডান দ্বিতীয় ম্যাচেই বিধ্বস্ত। এক জাহিদই গুঁড়িয়ে দিলেন সাদাকালোদের। নিজেদের ভেন্যুতে রাসেলের কাছে হার দিয়ে লিগ শুরু করেছিল। ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচটি তাদের স্মরণীয় করে রাখলেন জাহিদ।

১২ মিনিটে প্রথম গোল, ৬৬ মিনিটে দ্বিতীয়টি জাহিদের। মাঝে ৫৯ মিনিটে মোহামেডানের কায়সার রাব্বি গোল করে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফিরিয়ে আনার আভাস দিয়েছিলেন। ৭৭ মিনিটে আরামবাগের তৃতীয় গোল করেন চিনেদু। জাহিদ ৮৩ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। বড় করেন জয়ের ব্যবধানও।

দুই ম্যাচ শেষে দুই দলেরই পয়েন্ট ৩ করে।

ঘাটাইলে অর্থের বিনিময়ে পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ দেয়ার অভিযোগ

রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস ও প্রেস ক্লাব বরাবর উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের সলিং বাজার ২নং ওয়ার্ডের দুলালিয়া গ্রামবাসীর পক্ষে দায়ের করেছেন আবু হানিফ।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জোনাল অফিসের ব্যাবস্থাপক সুশান্ত রায় এবং লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুতের অফিস নিয়ম অনুযায়ী নতুন আবাসিক সংযোগে ৪৫০ টাকা ও বানিজ্যিক লাইনে নতুন সংযোগ নিতে ৮৫০ টাকা দিতে হয়। পল্লী বিদ্যুতের অফিস নিয়ম ও নীতির তোয়াক্কা না করে ঘাটাইলের দুলালিয়া গ্রামের ২নং ওয়ার্ডে শামছুল মুন্সির ছেলে মিন্টু, মৃত ছাবেদ আলীর ছেলে নিয়ামুদ্দিন, মৃত হাসেন আলীর ছেলে আব্দুল খালেক, আমির শেখ, মিষ্টার আলী, জামাল হোসেন, আজিজুল, মজনু মিয়াসহ ১০৫টি পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৮০০০ থেকে ১০০০০ হাজার নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে টাকা আদায়কারী ঘাটাইলের দুলালিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা কথা। আমরা সংযোগ দিতে কোন প্রকার আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত নই।

অভিযোগ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস ঘাটাইল ব্যাবস্থাপক সুশান্ত রায় জানান, কেউ যদি অফিসের নিয়মের বাইরে কোন টাকা নেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯

ঘাটাইলে বিআরডিবি নির্বাচন স্থগিত

বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লি: (বিআরডিবি) এর ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন অনিবার্য কারনবশত: স্থগিত করেছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম শামসুল হক এর গতকাল ২৩ জানুয়ারি সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

এই নির্বাচন পরবর্তীতে কবে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু জানানো হয়নি।

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী ঘাটাইল ইউসিসিএ লিমিটেডের কার্যালয়ে এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল। প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ থেকে শুরু করে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। আকস্মিক নির্বাচন বাতিলের এই সিদ্ধান্ত আসলো।

৩১ মার্চ ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের ভোট গ্রহণ হবে চতুর্থ ধাপে আগামি ৩১ মার্চ রোববার। এছাড়া এই উপজেলার নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ হবে ৩০ এপ্রিল এবং প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে ৮ মে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রদত্ত একটি খসড়া তালিকা থেকে ভোট গ্রহণের এই সম্ভাব্য তারিখ পাওয়া গেছে।
এছাড়া টাঙ্গাইলের অন্যান্য উপজেলার ভোট গ্রহণের তারিখও উক্ত তালিকা থেকে প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে।
এবারের পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট ধাপে ধাপে করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার পাঁচ ধাপে হবে এই নির্বাচন। গত মঙ্গলবার কমিশনের ৪৩তম সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ তথ্য জানান।
ইসি সূত্রের খবর, প্রথম ধাপে ৮ বা ৯ মার্চ, দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ এবং চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ ভোট হবে। বাকি উপজেলাগুলোতে ঈদুল ফিতরের পর হবে ভোট।
জানা গেছে, দেশে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হতে যাওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি কমিশন সভায় নির্ধারণ করা হবে। এতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) সদর উপজেলাগুলোর ভোট করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ এর ১৭(১)(গ) ধারা অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরিষদের প্রথম বৈঠক (সভা) থেকে মেয়াদ গণনা শুরু হয়।
১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে প্রথমবার, ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বার ও ২০০৯ সালে তৃতীয়বার মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছর একই দিনে ৪৭৫টি উপজেলায় এই নির্বাচন হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালে মোট ছয় ধাপে উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়।
ইসির তালিকা অনুযায়ী টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের ভোট গ্রহণ হবে আগামি ১৫ মার্চ, মধুপুরে ২৩ মার্চ, গোপালপুরে ৩১ মার্চ, ভুঞাপুরে ২৩ মার্চ, কালিহাতীতে ২৩ মার্চ, টাঙ্গাইল সদরে ৩১ মার্চ, দেলদুয়ারে ১৫ মার্চ, নাগরপুরে ২৩ মার্চ, মির্জাপুরে ৩১ মার্চ, বাসাইলে ১৯ মে এবং সখীপুরে ৫ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

ঘাটাইলের এমপি আতাউর রহমানকে সোনালী ব্যাংকের উদ্যোগে সংবর্ধনা

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ডিজিএম আতাউর রহমান খানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সোনালী ব্যাংক টাঙ্গাইল অঞ্চলের উদ্যোগে ব্যাংকের কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

টাঙ্গাইল প্রধান কার্যালয়ের ডেপুটি ম্যানেজার মো. মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আতোয়ার রহমান খান।

এতে বক্তব্য রাখেন সোনালী ব্যাংক ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার মো. সবুর উদ্দিন, গাজীপুর কার্যালয়ের ডেপুটি ম্যানেজার আব্দুল মুত্তালিব, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাবেক জেনারেল ম্যানেজর একেএম ফজলুল হক, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার মো. শহিদুর রহমান সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল অঞ্চলের সাবেক এজিএম জীবন কৃষ্ণ ভৌমিক, টাঙ্গাইল ভিক্টোরিয়া রোড শাখার ম্যানেজার খন্দকার রাইসুল আমিন প্রমুখ।

ঘাটাইলে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী এস.এম. শোয়েব রানা

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল :  জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আলোচনা সমালোচনা শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ।

ঘাটাইলেও  এর ব্যতিক্রম নয় । চেয়ারম্যান ও ভাইসচেয়ারম্যান কে হবে তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা ও কল্পনা।  এস. এম. সোয়েব রানা একজন পরিচিত মুখ। তিনি  আসন্ন উপজেলা পরিষদ  নির্বাচনে   ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচিত প্রার্থী। ইতিমধ্যে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, পাড়া মহল্লায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। একজন শিক্ষিত সাংস্কৃতি বান্ধব পরিবারের সদস্য এস এম সোয়েব রানা। স্কুল জীবন থেকেই ছাত্রলীগ রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। স্কুল ছাত্রলীগ,ইউনিয়ন ছাত্রলীগ,উপজেলা ও জেলা  ছাত্রলীগের নেতৃত্বের সাথে জড়িত ছিলেন দীর্ঘদিন। পরবর্তীতে যুবলীগ করে বর্তমানে উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও জেলা কৃষকলীগের সদস্য । স্কুল এবং কলেজ জীবনে আবৃত্তি,উপস্থিত বক্তৃতা এবং বির্তক প্রতিযোগীতায় অসখ্য  পুরুষ্কার জিতেছেন । ঘাটাইল থেকে প্রকাশ করেছেন সাহিত্য পত্রিকা।  

পড়ালেখা মেধাবী এই সাবেক ছাত্রনেতা স্কুলজীবনে একাধিক স্কলারশীপ পেয়েছেন । রাজনীতির কারনে পড়ালেখা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও তিনি একটি নামকরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ৯০ পরবর্তী প্রতিটি প্রগতিশীল রাজনৈতিক,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহনকারী শোয়েব রানার রাজনীতির মাঠেযেমন রয়েছে অনন্য সাধারণ মনোযোগ তেমনি ঘাটাইলের রাজনীতির মাঠ এবং তার চেনাগন্ডির মধ্যে রয়েছে তার সর্বজন গ্রহন যোগ্যতা।  রাজনীতি,সাংস্কৃতি ও একজন সমাজকর্মী হিসেবে ঘাটাইলের মানুষের কাছে সমধিক পরিচিতি এসএম শোয়েব রানা একই প্রথম কোন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছে। উত্তর টাঙ্গাইলের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারী জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এক শিক্ষক বলেন,রানার মতো শিক্ষিত বিনয়ী গ্রহণযোগ্য লোক ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেলে এটা একটা আনন্দদায়ক বিষয় হবে আমাদের জন্য। ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য প্রবীণ ব্যক্তি ওসমান গণি শোয়েব রানা প্রার্থী হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন এই রকম প্রার্থীই আমরা চাই। 

এস.এম. শোয়েব রানা বলেন, আমি ঘাটাইলকে একটি আধুনিক ঘাটাইল হিসেবে গড়ে তুলব। ঘাটাইলকে  সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও  মাদকমুক্ত ঘাটাইল গড়ে তুলতে চাই। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ১২ অক্টোবর বি.এন.পি সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলাম । সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি। ১৯৯৪ সালে সারের দাবিতে পুলিশের গুলিতে আতিক নিহত হলে ঘাটাইল যে,দুর্বার আন্দোলনের সূচনা হয়,সেখানে  বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করি এবং আওয়ামীলীগের তৎকালীন অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য,জননেতা আব্দুল মান্নান,তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামছুর রহমান খানের উপস্থিতিতে আতিক হত্যার প্রতিবাদয়েযে বিশাল প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় তার সঞ্জালক ছিলাম । 

বুধবার, জানুয়ারি ২৩, ২০১৯

ঘাটাইল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মতবিনিময় সভা

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের এক মতবিনিময় সভা বুধবার (২৩ জানুয়ারি) বিআরডিবি হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মো. আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য আশিক বাবু, উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেল রানা, পৌর শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলী (মেম্বার), সাধারণ সম্পাদক মো. আকরাম হোসেন, সদর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. আব্দুল হাকিম, সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী, দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. গোলাম রাব্বানী, ধলাপাড়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. ফজলুল হক, লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মিয়া, দিগড় ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল হোসেন, দিঘলকান্দি ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক আহসান তাকভীম আছাদ, সন্ধানপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. আনছার আলী, দেওপাড়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. রুকন তালুকদার প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে দেওপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নারীনেত্রী মরিয়ম আক্তারকে পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেন এবং তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার জন্য দলীয় হাইকমান্ডের প্রতি অনুরোধ করেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মোহাম্মদ আরিফ হোসেন

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল:  টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা ৪৫০.৭১ বর্গ কিঃমিঃ আয়তন, ৪২৪৯০৫ জন জনসংখ্যা, ৪২৬টি গ্রাম নিয়ে গঠিত।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন না যেতেই শুরু হয়ে গেছে উপজেলা নির্বাচনের আলোচনা কে হবে এই গুরত্বপুর্ন জনপদেও অধিপতি। সে ক্ষেত্রে শুরু হয়ে গেছে আগে কে ভোটারের কাছে পরিচিত হবে তার প্রার্থীতা জানান দিতে। এরই ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেস বুক থেকে শুরু করে ঘাটাইল উপজেলার রাস্তার দুই পাশে শোভা পাচ্ছে শুভেচ্ছা সম্মলিত বিলবোর্ড, ধর্মীয় উৎসব  থেকে শুরু করে বিভিন্ন চায়ের দোকানে, ১৪টি ইউনিয়নে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে।

সে দিক থেকে আওয়ামীলীগের রাজানীতিতে পরিচ্ছন্ন ব্যাক্তি হিসেবে পরিচিত বিনয়ী স্বভাব আচরন মোহাম্মদ আরিফ হোসেন একজন যোগ্য প্রাথী হিসেবে ঘাটাইলের জনগন মনে করেন। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে  মক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, বর্তমান সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ, বাংলাদেশ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এসোসিয়েশন এর সাধারন সম্পাদক উপজেলা বর্তমান সফল ভাইস চেয়ারম্যান সবার আস্থাভাজন ব্যাক্তি।

তিনি তরুন প্রজন্মের  জনপ্রিয় লোক তাইতো তিনি রাত দিন ভোটারদের কাছে গিয়ে সমর্থন আদায়ে জোর চেষ্টা চালচ্ছে। মনোনয়নয় পাওয়ার ব্যাপারে বলে আমি জীবনের বিশটি বছর রাজপথে মুজিব আদর্শের ঝান্ডা হাতে নিয়ে মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। আর আমি যদি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাই তাহলে ঘাটাইল জনগনকে নেশামুক্ত সমাজ, সন্ত্র্সামুক্ত ঘাটাইল ও নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠির স্বার্থের দিকে নজর দিয়ে তাদের হয়ে কাজ করবো। ঘাটাইল উপজেলার  ২০১১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী ৩,১৮,৫৪৬ ভোটার এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা১,৫৮৭৭৭জন মহিলা ভোটার সংখ্যা ১,৫৯,৭৬৯ জন।

ঘাটাইলে সাবেক এমপি রানার মুক্তি দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

মাসুম মিয়া, ঘাটাইল: টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে রানা-মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ। আজ বুধবার সন্ধ্যায় ঘাটাইল প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রানা-মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও জামুরিয়া মডেল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস।

জানাকীর্ন সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘাটাইলের গন মানুষের জনপ্রিয় নেতা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারান্তরিন সাবেক এমপি রানার দ্রুত মুক্তি কামনা করেন।

এ সময় অন্যান্য বক্তারা এমপি রানার মুক্তির পাশাপাশি ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবী জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুব লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইয়াবা বাণিজ্য: আত্মসমর্পণ না করে ‘সমন্বয়কের’ ভূমিকায় বদি!

ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারের চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত কক্সবাজারের শতাধিক ইয়াবা চোরাকারবারি আত্মসমর্পণ করতে পারেন জানা গেছে।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সব কটি তালিকায় ‘পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে চিহ্নিত টেকনাফের সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি আত্মসমর্পণ করছেন না।
সরকারের তালিকাভুক্ত অন্য ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ায় তিনি অনেকটা ‘সমন্বয়কের’ কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে এলাকায় প্রচার ছিল সাবেক সাংসদ বদিও আত্মসমর্পণ করবেন। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে- তিনি আত্মসমর্পণ করবেন না। ফলে আত্মসমর্পণকে ঘিরে ভীতি তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া আত্মসমর্পণকারীদের তিন থেকে ছয় মাস জেল খাটার পর মাফ করে দিতে পারেন এমন প্রচারও আছে এলাকায়।
কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সর্বশেষ করা ইয়াবা ব্যবসায়ীর এক হাজার ১৫১ জনের তালিকায় ৭৩ প্রভাবশালী ইয়াবাকারবারিকে (গডফাদার) চিহ্নিত করা হয়েছে।
ওই তালিকায় সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদিসহ ৩৪ সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি এবং বদির ৫ ভাই, ১ বোনসহ ২৬ জন নিকটাত্মীয়ের নাম রয়েছে।
এ ব্যাপারে আবদুর রহমান বদির দাবি, প্রধানমন্ত্রীর দফতর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে তিনি নিরপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ইয়াবা সিন্ডিকেট মোটা টাকা ঢেলে প্রশাসনের বিভিন্ন তালিকায় অন্যায়ভাবে আমার নাম ঢুকিয়েছিল। আমি ইয়াবা ব্যবসা করি না। যারা অপরাধী, তারাই এখন আত্মসমর্পণ করবেন।
আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনের কথা অস্বীকার করে বদি বলেন, আমি শুধু নির্বাচনের পর তাদের রিকোয়েস্ট (অনুরোধ) করেছি। আমি বললাম, চোখের সামনে মানুষ মারা যাচ্ছে। স্ত্রী স্বামীহারা হচ্ছে, সন্তান বাবাকে হারাচ্ছে, সব জায়গায় ক্রন্দনের সুর। তোমরা আর কতদিন এভাবে চলবা? তোমরা আত্মসমর্পণ করার চেষ্টা করো। আমি এ কথাটুকু বলেছি। তারা স্বেচ্ছায় যোগাযোগ করে ঢুকে গেছে।
ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় স্থান পাওয়া তার আত্মীয়স্বজনরা আত্মসমর্পণে রাজি হয়েছেন জানিয়ে বদি বলেন, তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, ভাইবোন-ভাগ্নে যাদের নাম এসে পড়ছে, আমি বলছি- তোমরা আইনের আশ্রয় নাও। জড়িত আছে কি নেই, সেটি এখন বলব না। আদালতে গিয়ে প্রমাণ করতে হবে।
এদিকে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের কোনো একদিন আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিকতা হতে পারে।
এতে শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করতে পারেন বলে তিনি জানান।
জানা গেছে, চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত ইয়াবা চোরাকারবারিদের মধ্যে প্রথম দফায় ৮০ জন আত্মসমর্পণ করতে পারেন। তাদের কক্সবাজারে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় থাকা গডফাদারদের ৭৩ জনের ৬৬ জনই টেকনাফের বাসিন্দা। গত বছরের ৪ মে থেকে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়।
এর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ২৪৩ দিনে ২৮৬ জন নিহত হন।
প্রসঙ্গত, দুই মেয়াদের সংসদ সদস্য বদির বিরুদ্ধে ইয়াবাকারবারিদের মদদ দেয়ার বহু অভিযোগ রয়েছে। ইয়াবা পাচারের ‘হোতা’ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকায় নাম এসেছিল তার।
এসব কারণে সমালোচিত হওয়ায় বদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। তার পরিবর্তে স্ত্রী শাহিন আকতার চৌধুরী নৌকার প্রার্থী হিসেবে কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ-উখিয়া) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হলেও আবদুর রহমান বদিকে ধরেনি পুলিশ। তখন সরকারের তালিকাভুক্ত এই ‘পৃষ্ঠপোষক’কে নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি হয়। তবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের একটি মামলায় তিনি এক মাসের মতো জেল খাটেন।

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২২, ২০১৯

ঘাটাইলে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মরিয়ম আক্তারের দিনভর গণসংযোগ

ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী দেওপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম আক্তার মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) দিনভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন।

সৎ, নিষ্ঠাবান, হাস্যোজ্জল নারীনেত্রী মরিয়ম আক্তার মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঘাটাইল পৌরসভা, হামিদপুর, কদমতলী, মাকরাই, ধলাপাড়া, দেওপাড়া, দিগর, দেলুটিয়া, দেওনাপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। গণসংযোগকালে তিনি স্ব স্ব স্থানীয় আওয়ামীলীগ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নানা বয়সী মানুষের সাথে কথা বলেন।

এ সময় তার সাথে ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আবু সাইদ, সহ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য আশিক বাবু, দেওপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি রোকন তালুকদার সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ।

নারীনেত্রী মরিয়ম আক্তার বলেন, পশ্চাদপদ নারী জনগোষ্ঠীর অধিকার সমুন্নত রাখতে তিনি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন-২০৪১ সফল করতে ইতোমধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় কর্মকান্ডে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত লড়াই-সংগ্রাম করে চলেছি।

তারই ধারাবাহিকতায় আগামি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, আশাকরি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।

ঘাটাইল সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া মাহফিল

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সরকারী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের এক বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়টির উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক আনন্দঘন পরিবেশের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু, ঘাটাইল পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান শহীদ, সাবেক মেয়র হাসান আলী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ সুজন, পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক মো. খলিলুর রহমান খলিল, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: খলিলুর রহমান মিয়া, উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ন আহ্বায়ক এস এম শোয়েব রানা প্রমুখ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে অভিভাবক ও স্কুলের সুনাম বয়ে আনার আহ্বান জানান বক্তারা।

পরীক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনায় অনুষ্ঠান শেষে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। দোয়া ও মাহফিল পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আলহাজ্ব হযরত মওলানা মো. আইন উদ্দিন।

এবার ঘাটাইল সরকারী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংশ নিচ্ছে মোট ৪২৫ জন পরীক্ষার্থী। এতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৭৭ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ১০৩ জন, ব্যবসায়ী শিক্ষা শাখা থেকে ৮৪ জন এবং কারিগরি শাখা থেকে ৬১ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরিক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

সোমবার, জানুয়ারি ২১, ২০১৯

ঘাটাইলে প্রাণিসম্পদ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৬০ জন সিআইজি (গাভী পালন কমন ইন্টারেস্ট গ্রুপ) সদস্যদের নিয়ে উন্নত ও আধুনিক প্রাণিসম্পদ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের কোচপাড়া, তালতলা এলাকায় উপজেলা প্রানীসম্পদ দপ্তর আয়োজিত এনএটিপি সহযোগিতায় দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসুচীতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রানীসম্পদ অফিসার (ইউএলও) আব্দুল মান্নান, ভেটেরিনারী সার্জন বাহাউদ্দিন সরোয়ার রিজবী, উপজেলা প্রাণী সম্পদ সম্প্রসারণ অফিসার অমিত সাহা প্রমুখ।

ঘাটাইলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শাহজাহান আকন্দ ফাউন্ডেশনের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান

নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল : ঘাটাইলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে শাহজাহান আকন্দ ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বৃত্তি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী ছিলেন উপজেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। 

অনুষ্ঠানে শাহজাহান আকন্দ ফাউন্ডেশন কতৃক আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মাঝ থেকে বৃত্তি প্রাপ্ত  সপ্তম শ্রেনির ২৫ জন শিক্ষার্থী অর্থ বৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া পিএসসি ও জেএসসিতে  জিপিএ ৫ জন প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে এবং স্থানীয় নাগবাড়ি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেনিতে প্রথম থেকে তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীকে অর্থ বৃত্তি প্রদান করা হয় ।

মোঃ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শাহজাহান আকন্দ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ শামীম মিয়া, সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন, দেউলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম. মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি খন্দকার তাহাজ্জত হোসেন সহ সভাপতি হাসান আলী. শিক্ষানুরাগী খলিলুর রহমান খোকন, আসাদুজ্জামান শাহীন প্রমূখ। 

ঘাটাইলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল ঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা মোট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জমির মাঠপর্চা, খাজনা দাখিলা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই জালিয়াতী চক্র গোপনে দাতা সেজে একজনের জমি অন্যজনের নিকট বিক্রি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পৌর এলাকার বানিয়াপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমান বাদী হয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে ১৭ জানুয়ারি জেলা রেজিস্ট্রার ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। 
  
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঘাটাইল সাব-রেজিস্ট্রার এ কে এম রফিকুল ইসলাম এর সহযোগীতায় জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া গত ৩রা ডিসেম্বর ৯০৮৭ নং ক্রমিকে ৯০৮২/১ নং দলিল সম্পাদন করা হয় । এ দলিলের ১১০টি দাগে ৭২ শতাংশ জমির বিপরীতে ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারন করে দলিল সম্পাদন করে। এ দলিল গ্রহিতা হলেন মোছাঃ নূরজাহান, দিলরুবা ইয়াসমিন ও বিনা খাতুন এবং দাতা মোস্তাফিজুর রহমান, মিজানুর রহমান ও আতিকুর রহমান খান।  ১৬৯, ১৭০, ১৭১ নং খতিয়ানের জমি বিভিন্ন রেজিস্ট্রি দলিল মূলে প্রাপ্ত হইয়া স্বত্ববান দখল থাকাবস্থায় হাল জরিপে রেকর্ড প্রাপ্ত হয়ে জমির প্রকৃত মালিক বানিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আঃ লতিফ, লুৎফর রহমান ও লোকমান হোসেন। কিন্তু ৯০৮২/১ নং দলিল দাতা মোস্তাফিজুর রহমান গংরা দলিল লেখক আজম আলী, ভেন্ডার নজরুল ইসলাম ও অফিস স্টাফ মুক্তার হোসেনের সহযোগীতায় জাল কাগজ তৈরী করে ভূয়া দাতা সেজে দলিল সম্পাদন করে দেয়। 

বাদী লুৎফর রহমান জানায় সাবরেজিস্ট্রার এ কে এম রফিকুল ইসলামও তার প্রধান সহযোগী রাইটার আজমা আলী এবং চিনা সাক্ষী ভেন্ডার নজরুল ইসলাম ও মুক্তার হোসেন লোভের বশবর্তী হয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একজনের জমি অন্য জনের নিকট বিক্রি করে দেয়। জানা যায় ঘাটাইল মৌজার ৯নং খতিয়ানের ১১১ নং দাগের পোনে ১২ শতাংশ জমি ১৯৯৬ সনের ১১ আগষ্ট ৬৫৪৮ নং দলিলের ক্রয়সূত্রে মালিক রৌহা গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন। সেই জমিতে ২২ বছর পূর্বে বাসা বাড়ী তৈরী করে অন্য লোক বসবাস করে আসছে। ক্রয়সূত্রে মালিকের সাথে ৯০৮২/১নং দলিলের দাতা-গ্রহিতার কোন প্রকার সর্ম্পক নাই বলে জানা গেছে। অথচ সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকের যোগসাজশে দাতা মোস্তাফিজুর রহমান গংরা জাল কাগজ তৈরী করে সেই জমি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়। তাছাড়াও ঘাটাইল মৌজার ১৬২নং খতিয়ানের হাল ৬১০নং দাগের ৬ শতাংশ (বাড়ী) মালিক সাবেক কমিশনার আঃ করিম অথচ ৯০৮২/১ নং দলিলের দাতা মোস্তাফিজুর রহমান খান ও তার দুই ভাই জাল কাগজ তৈরী করে সেই ৬ শতাংশ বাড়ী অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়। 

এ বিষয়ে দলিল লেখক আজমের কিনট জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন দলিল দাতা মোস্তাফিজুর রহমান যেসব কাগজ দিয়েছে আমি সেই অনুসারে দলিল লিখে দিয়েছি। তবে কাগজপত্র জাল থাকায় দলিল লেখা ভুল হয়েছে।   

জাল কাগজের বিষয়ে ঘাটাইল সাব রেজিস্ট্রার এ কে এম রফিকুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দলিল লেখক ও ভেন্ডার নজরুলের কারনে আমার ভুল হয়ে গেছে। তবে জেলা রেজিস্ট্রারের সাথে আমি কথা বলেছি তার অনুমতি পেলে দলিল বাতিল করন সহ দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

রবিবার, জানুয়ারি ২০, ২০১৯

জনতার হাতে পুলিশের এসআই ধরা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ডাকাতি চেষ্টার অভিযোগে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল কদ্দুছসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের গেড়ামারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ২টার দিকে সাদা পোশাকে মির্জাপুর থানা পুলিশের এসআই সোহেল কদ্দুছের নেতৃত্বে ৭/৮ জন যুবক বহুরিয়া ইউনিয়নের গেড়ামারা গ্রামের আলমাছ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দরজায় আঘাত করে। আলমাছ দরজা না খুলে তাদের পরিচয় জানতে চান। বাহির থেকে তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে একাধিকবার দরজা খুলতে বলেন। এতে আলমাছের সন্দেহ হলে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করেন। চিৎকার শুনে গ্রামের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের আটক করেন। এ সময় সেখান থেকে দুই যুবক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে রাত ৪টার দিকে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।


আলমাছ মিয়া জানান, তিনি সাড়ে পাঁচ মাস আগে সিঙ্গাপুর থেকে বাড়িতে এসেছেন। গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে দরজায় আঘাত করার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পুলিশ পরিচয় দিলেও তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। পরে তিনিসহ পরিবারের লোকজন চিৎকার করলে গ্রামবাসী এসে তাদের আটক করেন।

এসআই সোহেল কদ্দুছ ছাড়াও আটকরা হলেন- রংপুরের শহিদুর রহমান ও সাইদুল ইসলাম, মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কোর্ট বহুরিয়া গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন, গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মিয়া। পালিয়ে যাওয়া দুই যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক বলেন, এ ঘটনায় এসআই সোহেল কদ্দুছের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাছাড়া পালিয়ে যাওয়াদের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এস এম এরশাদ/আরএআর/জেআইএম/এসজি

ঘাটাইলে পালন হল না জিয়ার জন্মদিন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল বিএনপি বর্তমানে সময়ের সবচেয়ে কঠিন ও খারাপ সময় পার করছে। উপজেলা কমিটিতে থাকা কয়েকজন নেতা দল ত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগদান করায় হতাশ সাধারণ কর্মীরা। ঘর ভাড়া করে পরিচালিত দলীয় কার্যালয়টির আসবাবপত্র এমন পরিস্থিতিতে মালিক পক্ষ নামিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘ ২১ বছর পর দলীয় কার্যালয়হীন ঘাটাইল উপজেলা বিএনপি। সাংগঠনিকভাবে দুর্বল থাকায় পালন করা হয়নি জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী।

একটা সময় এ উপজেলা বিএনপি’র দূর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। নানাবিধ কারনে এ দূর্গে দেখা দিয়েছে ফাঁটল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তা রূপ নিয়েছে ভাঙ্গনে। নেতাকর্মীরা আজ দলছুট।

আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং পরে প্রায় হাজার খানিক বিএনপি’র নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। এলাদশ নির্বাচনী মহাযজ্ঞে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া পাঁচ ইউপি চেয়ারম্যান যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগে। এসবের কারনে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে অতীতের যে কোন সময়ের থেকে দুর্বল অবস্থায় পতিত হয়েছে।

দলটির নেতাকর্মীদের দলছুটের বিষয়টি নতুন নয়। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় কোন্দলে পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও পৌর মেয়র আ. রশিদ মিয়া যোগ দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে। নব্বইদশকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজমল হোসেনের নেতৃত্বে বেশ গোছালো ছিল দলটি। কোন গুরুতর কারণ ছাড়াই তৎকালীন মন্ত্রী ও বর্তমানে বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ তাকে বাদ দিয়ে দলের সভাপতি করেন শামছুল আলমকে। আজমল যোগ দিলেন আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগ তাকে সাদরে গ্রহণ করে বানালেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। শামছুল আলম বেশী দিন সভাপতির আসন ধরে রাখতে পারলেন না। নতুুন সভাপতি বানানো হল ঘাটাইল বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক সানাকে।

এর মধ্যে ২০১২ সালে এ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ডাঃ মতিউর রহমানের মৃত্যুতে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে বিএনপি’র কেন্দ্রিয়ভাবে প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল না। নৌকা প্রতীকে শহিদুল ইসলাম লেবু ও আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করেন লুৎফর রহমান খান আজাদের ভাতিজা আমানুর রহমান খান রানা। উপ-নির্বাচন এবং সে সময়কার যুবদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সভাপতি সানা এবং আজাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে।

সিরাজুল হক সানা বলেন, আমার এবং আজাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার কারণ হল আজাদ শুরুতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নৌকার পক্ষে কাজ করতে বলেন, কিন্তু কিছুদিন পরেই আবার তার ভাতিজা রানার পক্ষে কাজ করতে বলেন। যা ঐ সময় বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ পায়। এতে করে নেতাকর্মীরা দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। বিএনপি’র সেই দু’টি ভাগ এখনো বিদ্যমান। যার ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল না বিএনপি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিনে কোন কর্মসূচি না থাকার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ. খ. ম রেজাউল করিম বলেন, আজ (১৯ জানুয়ারি) আমাদের কোন কর্মসূচি ছিল না। আমরা সাংগঠনিকভাবে একটু দুর্বল হয়ে পরেছি।

সোর্স : ঘাটাইল ডটকম।

শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮, ২০১৯

ঘাটাইল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সুমন খান বাবু’র গণসংযোগ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সুমন খান বাবু। তিনি উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক ও ৯০ দশকের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা। তিনি ইতোমধ্যে তার নির্বাচনী এলাকায় দিনরাত গণসংযোগ এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে জোর লবিং শুরু করেছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেই ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে গুঞ্জন, আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘাটাইল আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানান দিচ্ছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম কর্মী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অনেকেই আগাম শুভেচ্ছা ও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সুমন খান বাবু ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

সুমন খান বাবু এবারের উপজেলা পরিষদের নির্বাচন দলীয় প্রতিকে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে পারবো।

তিনি আরোও বলেন, জনগনের ভোটে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ঘাটাইল উপজেলাকে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলবো। মাদক, সন্ত্রাস, দূর্নীতিমুক্ত উপজেলা গড়াই আমার প্রধান লক্ষ্য নির্ধারিত হবে। আশা করি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ঘাটাইলবাসীর ভোটে আমি নির্বাচিত হবো।

সুমন খান বাবু ঘাটাইলের খান পরিবারের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। দুর্দিনেও তিনি হাল ছাড়েননি, দলীয় নীতি আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছেন। এবার তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হবেন এমনটিই প্রত্যাশা করেন ঘাটাইলের আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মী সমর্থকরা এবং স্থানীয় আপামর জনসাধারণ।

সোর্স : রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল।

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭, ২০১৯

ঘাটাইলে বিআরডিবি’র চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমীন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিআরডিবি’র চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আজমল হোসেনের বড় সন্তান মোহাম্মদ রুহুল আমীন।

তিনি বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম শামসুল হকের নিকট থেকে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী ঘাটাইল ইউসিসিএ লিমিটেডের কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মোহাম্মদ রুহুল আমীন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারী সাদত কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক, টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও তিনি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড ঘাটাইল উপজেলা শাখার সভাপতি এবং ঘাটাইল উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

ঘাটাইলে নবনির্বাচিত সাংসদের মতবিনিমিয় সভা অনুষ্ঠিত

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল:  বৃহস্পতিবার সকালে ১৩২ টাঙ্গাইল(৩) ঘাটাইল আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ আতাউর রহমান খান এর সাথে উপজেলা প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ইউএনও দিলরুবা আহমেদের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে পরিচিতি ও মতবিনিমিয় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান,উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক,শহিদুল ইসলাম লেবু, বেগম পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান খান, সাবেক পৌর মেয়র হাসান আলী, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কানিজ ফাতেমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাম্মৎ নূর নাহার ঘাটাইল থানা অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মাকছুদুল আলম ছাড়াও উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ,ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার, জানুয়ারি ১৬, ২০১৯

ঘাটাইলে বিনা সরিষা-৪ এর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের ছুনটিয়া ব্লকের কোনাবাড়ী গ্রামের মাঠে কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তর ঘাটাইল এর আয়োজনে “স্বল্প মেয়াদী ও অধিক ফলনশীল বিনা সরিষা-৪ উৎপাদন” সম্প্রসারণের ল্েয ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের রাজস্ব প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী বুধবার বিকেল ৪টায় এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভোজ্য তেলের ঘাটতি ও আমদানী নির্ভরতা কমানোর লক্ষে স্বল্প মেয়াদী, অধিক উৎপাদনশীল বিনা -৪ সরিষার বহুল প্রচার ও চাষীদের মাঝে এর আবাদ কৌশল জনপ্রিয় করাই ছিল এই মাঠ দিবসের মূল উদ্দেশ্য। আশপাশের গ্রামের কয়েকশত চাষীকে মাঠ দিবসের মাধ্যমে একত্র করে প্রর্দশনী প্লটের এই সরিষার চাষাবাদ কৌশল,আন্তঃ পরিচর্যা,ফসলের বাস্তব অবস্থা ইত্যাদি সরেজমিনে দেখানোর মাধ্যমে কৃষকদেরকে এই সরিষার সমস্ত লাভজনক দিক প্রত্য করানো হয়। এজন্য চাষিরা খুশি হয় এবং চাষকরার উৎসাহ বোধ করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.আব্দুল মতিন বিশ্বাস সভাপতিত্বে মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত উপ পরিচালক উদ্ভিদ আবু আদনান । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,টাঙ্গাইল অতিরিক্ত উপরিচালন শস্য রওশন আলম। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,কৃষি সম্পাসারন কর্মকর্তা শামীমা আক্তার,উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা মোছাম্মদ আমেনা,লুফর রহমান খান,নজরুল ইসলাম,সোহেল রানা প্রমুখ।


এই মাঠ দিবসের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত চাষী সমাবেশে বক্তৃতায় বক্তারা বলেন, ভোজ্য তেলের আমদানী নির্ভরতা কমানোর জন্য বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত বিনা সরিষা-৪ চাষীদের মধ্যে আবাদের জন্য সরকার ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করেছেন। জেলার প্রত্যেক উপজেলায় এই সরিষার জাত সমূহ আবাদের জন্য চাষীদের মধ্যে প্রর্দশনী প্লটের মাধ্যমে এর বিস্তার ঘটানোর প্রচেষ্টা চলছে।

প্রচলিত দেশী জাতের চেয়ে এই জাতগুলি স্বল্প মেয়াদী, অধিক ফলনশীল এবং এই জাতে তেলের হারও বেশী। সরকারের সুদ নেতৃত্বে, যথাযথ পদেেপ, কৃষি বিভাগের নিরস্তর পরামর্শে এবং আপনাদের অকান্ত পরিশ্রমি দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন। সরকারী ভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে তেল, ডাল এবং মসলা জাতীয় ফসলে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জন করা ।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ গ্রহণ করে অধিক উৎপাদনশীল জাত সমূহ যথাসময়ে যথাযথভাবে আবাদের মাধ্যমে আমাদের ভাগ্য আমাদেরকেই পরিবর্তন করতে হবে। বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট নিত্য নতুন ফসলের বিভিন্ন জাত এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে চলেছে যা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ তৃণমূল পর্যায়ে কৃষকদের কাছে পৌছানোর জন্য সর্ববিধ চেষ্টা করছে। চাষীদেরকে নতুন জাত প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপকৃত হওয়া এবং দেশের তেল খাদ্য আমদানী করা থেকে রা করে রপ্তানী মুখী করার উদাত্ত আহ্বান জানান ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ছুনটিয়া প্লটের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন তিনি বলেন, বিনা-৪ সরিষা স্বল্প মেয়াদী যার জীবনকাল ৮৫ দিন (স্থানীয় জাতের সমান জীবনকাল) কিন্তু ফলন বেশি, বিনা-৪ সরিষা চাষ করে কৃষক অত্যন্ত খুশি, বিনা-৪ জাতের সরিষা আরো ব্যাপক প্রচার প্রসার করার জন্য আমরা কৃষি অফিসের মাধ্যমে এই মাঠ দিবসে আয়োজন করি এবং আগামী বছর আরো ব্যাপক আকারে কৃষক বিনা-৪ জাতের সরিষা চাষ করবে বলে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

ঘাটাইলের চাপরা বিলে অতিথি পাখির কলরব

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল: প্রতিবছর শীতকাল এলেই জলাশয়, বিল, হাওড়, পুকুর ভরে যায় নানা রং বেরঙের নাম না জানা পাখিতে। আদর করে আমরা সেগুলোকে বলি অতিথি পাখি। নাম অতিথি হলেও এই পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে আমাদের দেশে হাজির হয় নিজেদের জীবন বাঁচাতে।

পৃথিবীতে প্রায় ৫ লাখ প্রজাতির পাখি আছে। এসব পাখিদের মধ্যে অনেক প্রজাতিই বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় অন্য দেশে চলে যায়। শুধু ইউরোপ আর এশিয়ায় আছে প্রায় ৬০০ প্রজাতির পাখি। কিছু কিছু পাখি তাই প্রতিবছর ২২ হাজার মাইল পথ অনায়াসে পাড়ি দিয়ে চলে যায় দূর দেশে। উত্তর মেরু অঞ্চলের এক জাতীয় সামুদ্রিক শঙ্খচিল প্রতিবছর এই দূরত্ব অতিক্রম করে দক্ষিণ দিকে চলে আসে। আমাদের দেশে অতিথি পাখিরা অতটা পথ পাড়ি না দিলেও তারাও অনেক দূর থেকেই আসে। বরফ শুভ্র হিমালয় এবং হিমালয়ের ওপাশ থেকেই বেশির ভাগ অতিথি পাখির আগমন ঘটে। প্রকৃতির অপার লীলায় প্রতি বছর টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অতিথি হয়ে আসে ভিনদেশি পাখিরা।

ঘাটাইল শহরের অদূরেই ধলাপাড়ার চাপড়া বিলে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখিরা। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে চাপড়া বিল। দর্শনার্থীরাও ভিড় করছেন এই পাখিদের দেখতে। দিনের ক্লান্তি শেষে কাজের ফাঁকে অনেকেই ঘুরতে আসছে ঘাটাইলের চাপড়া বিলে।

বৈরি পরিবেশ থেকে টিকে থাকার জন্য হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ঘুরতে আসে এই অতিথি পাখিরা। ঘাটাইলের বেশ কিছু জায়গায় অতিথি পাখির আগমনে কলকল শব্দে ভরে উঠে জলাশয়গুলো।

ঘাটাইলের চাপড়া বিল এবং নেদার বিল নামক দুটি বড় জলাশয়ে প্রতি বছর কয়েকশ অতিথি পাখি আসতে দেখা যায়। এসব পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে ঝাঁক বেঁধে এক সঙ্গে আকাশে উড়ার দৃশ্য বিমোহিত করে দর্শনার্থীদের।

তবে গতবারের তুলনায় এবার অতিথি পাখির আগমন কম। কারণ হিসেবে দর্শনার্থীরা জানান, এ বিলে মানুষের আনাগোনা অনেক বেশি। তার ওপর এখানে ভাড়ায় চালিত শ্যালো মেশিন চলার কারণে পাখিরা ভয়ে আসতে চায় না।

সরেজমিনে চাপড়াবিল এবং নেদারবিলে গিয়ে চোখে পড়ে এমনই দৃশ্য। প্রায় বেশিরভাগ জায়গায় ধান চাষের জন্য জমি তৈরি করছেন স্থানীয় কৃষকরা। পাখিগুলো বসার জন্য তেমন কোন সুযোগ না পাওয়ায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উড়ে বেড়াচ্ছে।

চাপরা বিলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সাজিদুল হাসান সিহাব এবং সুজন বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর এখানে বেশ কয়েকবার ঘুরতে আসি। বিশেষ করে শীতের সময়টা অনেক ভালো লাগে। অতিথি পাখিরা আসে, তাদের কিচিরমিচির শব্দ একটা সুরের পরিবেশ সৃষ্টি করে। তবে এবার গত কয়েক বছরের তুলনায় একটু কম পাখি দেখা যাচ্ছে।’

জহিরুল ইসলাম নামের স্থানীয় একজন জানায়, ‘আমাদের এখানে গত কয়েক বছর ধরে অনেক অতিথী পাখি আসে। আমরা পাখিগুলোকে কোনো রকম বিরক্ত করি না। এ গুলো বিলে থাকলে দেখতেও ভালো লাগে।’

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মান্নান মিয়া সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আসলে অতিথি পাখিরা শীতের সময় অনেক দূরদূরান্ত থেকে আসে। প্রতি বছর তারা ঘাটাইলের বিভিন্ন ছোট বড় জলাশয়ে বিশেষ করে ধলাপাড়ার নেদার বিল এবং চাপড়া বিলে আসে এটা আমরা দেখেছি। তবে শ্যালো মেশিনের শব্দে খুব একটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না।

তিনি আরও বলেন, তবে বেশি শব্দ হলে পাখিরা ভয়ে নাও আসতে পারে। অতিথি পাখিরা যেখানে তাদের খাবারের সুবিধা বেশি পাবে, নিরাপদ আশ্রয়স্থল পাবে সেখানেই যাবে।

আমাদের উচিত পাখিগুলোকে কোন প্রকার অত্যাচার না করে নিরাপদ পরিবেশ তৈরী করে দেওয়া।