সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০১৬

ঘাটাইলে গাছের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার নলছোপা গ্রামে, প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। শুধু অবৈধ নয়, বিদ্যুতের এই সংযোগগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যুতের খুঁটি নয়, গাছের সাথে বেঁধে এই সংযোগ দেয়া হয়েছে। অবশ্য ত্রুটিপূর্ণ এ সংযোগ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


গাছের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ by dailyamaderghatail

টাঙ্গাইলের নলছোপা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ৩ বছর আগে স্থানীয় দালাল ও বিদ্যুৎ অফিসের নির্ধারিত ঠিকাদার, গ্রামের ১২০ জনের কাছ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে কয়েক লাখ টাকা নেয়। পরে গাছের সাথে তার টেনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়।
গত ৩ বছরে ঝড় বৃষ্টিতে বিদ্যুতের তারগুলো দুর্বল হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারাও গেছেন। এ অবস্থায়, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ সংস্কারের দাবি গ্রামবাসীর।

ত্রুটিপূর্ণ এ সংযোগের কথা স্বীকার করে, দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেন টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিচালন ও সংরক্ষণ) মৃণাল কান্তি সেন।

আর টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন জানান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের নলছোপা গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় ৩ হাজার, এর প্রায় শতভাগ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ।

ঘাটাইল বিএনপির পাল্টাপাল্টি কমিটি নিয়ে উত্তেজনা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির নয়া-কমিটি নিয়ে দু’গ্রুপের জোর লবিং চলছে। এতে কোন্দল আরো ঘনিভুত হয়েছে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকাও করছেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। 

জানা গেছে, জেলা সংগঠনের কাছে পাল্টাপাল্টি কমিটির তালিকা দিয়েছে বিবাদমান ঘাটাইল উপজেলা ও পৌর বিএনপি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির একাংশের সভাপতি মো. সিরাজুল হক ছানা ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত ১০১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন-কমিটির অনুমোদন চেয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি তালিকা জমা দেয় জেলায়।

অপর গ্রুপের উপজেলা সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. লুৎফর রহমান খান আজাদ পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মুঞ্জুরুল ইসলাম মুঞ্জু স্বাক্ষরিত ১০১ সদস্য বিশিষ্ট আলাদা কমিটির অনুমোদন চেয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির কাছে তালিকা জমা দিয়েছেন। তবে লুৎফর রহমান খান ১/১১’র সময় সংস্কারপন্থি ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তাকে নিয়ে দলের মধ্যে ব্যাপক বিরোধীতা রয়েছে। 

গ্রুপিং প্রসঙ্গে সিরাজুল হক ছানা জানান, উপজেলা ও পৌর বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ রেখে নিজেই সভাপতি সেজে তার মনগড়া লোক নিয়ে গঠনতন্ত্রের বহির্ভুত কমিটি অনুমোদনের জন্য পায়তারা চালাচ্ছে লুৎফর। এতে ঘাটাইল বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ নেতা কর্মীরা মো. লুৎফর রহমান খান আজাদের সভাপতিত্ব মেনে নিতে পারছেন না। তারা চাচ্ছেন- উভয় গ্রুপের কোন্দল মিটিয়ে বর্তমান সভাপতি সিরাজুল হক ছানাকে সভাপতি ঠিক রেখে উপজেলা বিএনপিকে শক্তিশালি করে পুনঃগঠন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিকাংশ নেতাকর্মীর দাবি, লুৎফর রহমান খান আজাদ সংস্কারপন্থি হিসেবে দলের মধ্যে একজন অবাঞ্চিত নেতা। আজাদের অনৈতিক ও দলের নিয়ম বহির্ভূত কার্যকলাপে ইতিপূর্বে ঘাটাইল পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র আব্দুর রশিদ মিয়াসহ অনেক ত্যাগী নেতা অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। 

সূত্র বলছে, গ্রুপিং থাকায় প্রতিমন্ত্রীর গ্রুপ ঘাটাইল সদরে সম্মেলন করতে না পেরে উপজেলার ২০ কি.মি. দূরে গারো বাজার এলাকার ছলিং বাজার সংলগ্ন এসডিএস এলাকায় সম্মেলন করে ১০১ সদস্য কমিটি প্রস্তুত করেছে। 

অপরদিকে মো. মাইনুল ইসলামের গ্রুপ ঘাটাইল সদরে গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন একটি মাঠে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সিরাজুল হক ছানার সভাপতিত্বে সম্মেলন করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি প্রস্তুত করে জেলা বিএনপি বরাবরে জমা দিয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ, কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আমান বিল্ডার্স লিমিটেড’র চেয়ারম্যান মো. মাইনুল ইসলাম জানান, ঘাটাইল বিএনপিতে গ্রুপিং’র প্রধান হোতা মো. লুৎফর রহমান খান আজাদ। ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে আমার দাবি থাকবে, যাতে ঘাটাইল বিএনপি একটি শক্তিশালি সংগঠন হয়। এজন্য যেখানে যা প্রয়োজন, সে পদক্ষেপ কামনা করছি। 

একই কথা বলেছেন- সাবেক এমপি মো. সায়েদুর রহমান খান মহনসহ অনেকেই। 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মো. শামছুল আলম তোফা  জানান, ঘাটাইলের দু’গ্রুপ কর্তৃক বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটি জেলায় জমা পড়েছে। তা কোনটিই এখনও অনুমোদন হয়নি। ঘাটাইল বিএনপির গ্রুপিং নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চেষ্টা চালাচ্ছি।

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৬

ঘাটাইল উপজেলা ও পৌর বিএনপির নয়া কমিটি অনুমোদনের অপেক্ষায়!

টাঙ্গাইলের বহুল আলোচিত ঘাটাইল উপজেলা ও পৌর বিএনপির নয়া কার্যকরী কমিটি জেলা বিএনপির কাছে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল হক ছানা ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত নব-নির্বাচিত দুটি কমিটি অনুমোদনের জন্য গত ২০ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির কাছে আবেদন করা হয়।
জেলা বিএনপির কাছে উপস্থাপন করা উপজেলা বিএনপির কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মো. সিরাজুল হক ছানা ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. ফিরোজুর রহমান সহ ১০১ সদস্যের নির্বাহী কমিটি এবং পৌর বিএনপির কমিটিতে সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান ও সাধঅরণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক সহ ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। এছাড়া উভয় কমিটির ১১ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটিও উপস্থাপন করা হয়েছে।
আবেদন সূত্রে প্রকাশ, ঘাটাইল উপজেলা সদরে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সকল ডেলিগেটদের উপস্থিতিতে ওই কমিটি দুটি গঠন করা হয়।

ঘাটাইলে ইউপি সচিবদের অবস্থান ধর্মঘট পালন

রবিবার সারাদেশের ন্যায় টাংগাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা তিন দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে ঘাটাইল ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা দুই দিনের কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন।

সচিব সমিতি (বাপসা) ডাকে ইউপি সচিবরা এ কর্মসূচি পালন করে।

ইউপি সচিবদের দশম গ্রেডে বেতন প্রদান,সরকারি কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন ও পারিবারিক পেনশন সুবিধা প্রদানের দাবীতে তারা এ আন্দোলন করছে। বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সচি সমিতি (বাপসা) ঘাটাইল শাখার সভাপতি মহি উদ্দিন জানান, কর্মসূচির অংশ হিসাবে তারা সোমবার জেলা প্রশাসক কার্য্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করবে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের সচিবরা তাদের সকল প্রকার দাপ্তরিক কাজ বন্ধ রেখে কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করে।

সমিতির সাধারন সম্পাদক আঃ হালিম জানান, তাদের ন্যায্য দাবী মেনে না নিলে ৮ মার্চ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে ইউপি সচিরা।

ঘাটাইলের প্রশ্নপত্র না থাকায় ১ ঘণ্টা পর এসএসসি পরীক্ষা শুরু

প্রশ্নপত্র না থাকায় ১ ঘণ্টা পর পরীক্ষায় অংশ নিল ঘাটাইলের একটি কেন্দ্রের উচ্চতর গনিত বিষয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। উপজেলার সাগরদিঘী এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে গতকাল রোববার এ ঘটনা ঘটে। আজ রবিবার সকালে উচ্চতর গনিত সহ বিভিন্ন বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষা ছিল। সাগরদিঘী কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬৬০ জন। উচ্চতর গনিত বিষয়ে পরীক্ষার্থী ছিল ১০৩ জন। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে এসে উপস্থিত হন। নিয়ম অনুযায়ী এ বছর  নৈবিত্তিক বিষয়ে আগে পরীক্ষা  হওয়ার কথা। কিন্তু পরীক্ষা শুরু করতে গিয়েই বিপত্তি দেখা দেয়। অন্যান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের নৈবিত্তিক বিষয়ের প্রশ্ন থাকলেও উচ্চতর গনিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নৈবিত্তিক বিষয়ের প্রশ্ন না থাকায় এ বিপত্তি দেখা দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর শুরু হয় উচ্চতর গনিত বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা। এখানেই শেষ নয় রচনামূলক বিষয়ে পরীক্ষা সময় হয়ে যাওয়ায় উচ্চতর গনিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নৈবিত্তিক বিষয়ের পরীক্ষা না নিয়ে রচনামূলক বিষয়ে তাদের পরীক্ষা শুরু করানো হয়। এ রকম হ-য-ব-র-ল অবস্থায় শেষ হয় ঘাটাইলের সাগরদিঘী কেন্দ্রের এসএসসি পরীক্ষা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছমা আরা বেগম জানান, বিষয়টি আমি ১০টা ৫ মিনিটে অবগত হই। পরে আমি তাৎক্ষণিক বিশেষ ব্যাবস্থায় নৈবিত্তিক বিষয়ের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে ১০টা ৫০ মিনিটে কেন্দ্রে উপস্থিত হই। তখন রচনামূলক বিষয়ের পরীক্ষার সময় হওয়ায় জেলা প্রশাসক ও বোর্ডের উধ্বর্তন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে রচনামূলক অংশের পরীক্ষা শুরু করা হয়। পরে নৈবিত্তিক বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া হয়। তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কেন্দ্র সচিব সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়েরর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রহমত উল্লাহকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে এবং কেন্দ্রের তদারকি কর্মকতা উপ সহকারী প্রকৌশলী (শিক্ষা) শহিদুল ইসলামকে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তের জন্য সহকাররি কমিশনার (ভূমি) প্রভাংশু সোম মহানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঘাটাইলের শুকুর মাহমুদ আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, আমাদের ঘাটাইল: ঢাকাস্থ টাঙ্গাইল জেলা সমিতির আজীবন সদস্য, সাবেক ফুটবলার ও আ্যাথলেট নাজিম উদ্দিনের বাবা বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলহাজ শুকুর মাহমুদ বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন(ইন্নালিল্লাহি…..রাজিউন)। রোববার(২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের গকুল নগর গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৯ বছর। তিনি তিন ছেলে, চার মেয়ে, নাতি-নাতনি ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
রোববার(২৮ ফেব্রুয়ারি) বাদ আছর গকুলনগর গ্রামে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মরহুমের জানাযা নামাজে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুধীজনসহ সহ¯্রাধিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৬

ঘাটাইলে ছিনতাইকৃত চাউল বোঝাই ট্রাক উদ্ধার:আটক ১

উত্তম আর্য্য, নিজস্ব প্রতিবেদক: 
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সাধুরপাড়া গলগন্ডা গ্রামের মুরগির খামার থেকে ট্রাক বোঝাই চাউল উদ্ধার করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ। 
এ সময় সুমন (৩০) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। তার বাবার নাম মৃত শামছুল হক, বাড়ি গলগন্ডা গ্রামে।

ঘাটাইল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামাল হোসেন জানান, চলতি মাসের ২০ তারিখে দিনাজপুর আশিয়া অটো রাইস মিল থেকে ৩০০ বস্তা চাউল বোঝাই ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-৭৫১৬ নম্বরের একটি ট্রাক নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে কালিয়াকৈর পৌছালে ট্রাকটি বেরিগেড দিয়ে চাউল সহ ছিনতাই করে। এ ব্যাপারের চাউলের মালিক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী দিয়ে একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন। অনেক খোজাখুজির পর ট্রাক বোঝাই চাউল পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের সাধুরপাড়া গলগন্ডা গ্রামে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুমন মিয়া (৩০) এর মুরগীর ফার্ম থেকে ছিনতাইকৃত চাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এস/আই) আবুল কাশেম জানান, চাউল বোঝাই ট্রাকটি কালিয়াকৈর থেকে ছিনতাই হলে ঐ থানাতে মামলা হওয়ার পর আমরা জানতে পারি। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চাউল উদ্ধার করে একজন আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬

মুক্তিযুদ্ধের জননী ভাষা আন্দোলন….ভাষা সৈনিক একামত আলী

মহান ভাষা আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে তৎকালিন সরকারের জারি করা ১৪৪ প্রথম ভঙ্গকারী টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আলহাজ একামত আলী তালুকদার মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের জননী হচ্ছে ভাষা আন্দোলন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন না হলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না। বাংলাদেশ নামে কোন রাষ্ট্রের জন্ম হতো না। অথচ যে ২-১ জন ভাষা সৈনিক জীবিত আছেন তাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হচ্ছেনা।
বর্তমানে বয়সের ভারে ন্যুব্জ আলহাজ একামত আলী তালুকদার স্মৃতির পাতা থেকে বায়ান্নর উত্তাল সেই সব দিনগুলোর স্মরণ করতে গিয়ে বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের ছাত্ররা সক্রিয় ছিল। আন্দোলনের সুতিকাগার ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলা। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আন্দোলন তুুঙ্গে ছিল। ২১ ফেব্রুয়ারি আমরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করলাম। সর্ব প্রথম আমি উন্মাদের মত দৌড় দিলাম ১৪৪ ধারা ভাঙ্গতে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলাম। আমার পিছে পিছে যারা এসেছিল সবাই গ্রেপ্তার হলো। আমাদের একটি গাড়িতে করে তেজগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়া হলো। ঢাকার অন্য এলাকা থেকেও ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে আমাদের সাথে রাখা হলো। সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২১ জনকে বন্দি করা হলো তেজগাঁও থানায়। ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে আমাদের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। ২ দিন আমরা গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম সহপাঠীদের খবর জানার জন্য। কারণ আমাদের মনে আশংকা ছিল কেউ মারা গেল কিনা? পাখির মতো ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালানোর সংবাদ পাওয়া গেল। অনেক ছাত্র নিহত ও আহত হয়েছেন। অবশেষে কারাগারে গায়েবানা জানাজা পড়া হলো। ২১ দিন পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলাম। জেল থেকে বের হওয়ার পর শুনলাম যে সব পরিবারে ছেলে-মেয়েরা উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেলে পড়তে গিয়েছিলেন তাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা কান্নাকাটি করছে। ভাষা আন্দোলন নিয়ে কি হয়েছে তখনও আমার পুরোপুরি ধারণা নেই। এ অবস্থায় বাড়ি চলে এলাম। বাড়ি এসে শুনি ভাষা আন্দোলনে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে সারা দেশ ঐক্যবদ্ধ। শুনলাম আমাদের শিয়ালকোল হাট থেকেও এলাকার সচেতন মানুষ চাঁদা তুলেছে বন্দি ভাষা সৈনিকদের মুক্ত করার জন্য এবং কারাগারে তাদের জন্য খাদ্য পাঠাতে। জানতে পারলাম আমাদের এলাকায়ও স্লোগান হয়েছে, ‘ছাত্র হত্যার বিচার চাই, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ আনন্দে বুকটা ভরে উঠলো।
স্মৃতি হাতরে তিনি বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় অনুষ্ঠিত ভাষা আন্দোলনের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি ছিল ২১ফেব্রুয়ারি সকল ছাত্র মিলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করার পরার্মশ সভা। সভায় উপস্থিত ২-১জন ১৪৪ ধারা ভঙ্গের বিপক্ষে মত দিলেও বাকি সবাই ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার পক্ষে ছিল। কিন্তু ২-১ জনের দ্বি-মতের কারণে ওইদিন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরের দিন ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে আবার আমতলায় ভাষা সৈনিক গাজিউল হক গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ছাত্রদের এক সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত এবং ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা মোতাবেক সকল ছাত্র একত্রিত হলে তিনি(একামত আলী তালুকদার) সর্বপ্রথম পুলিশের বাধা অতিক্রম করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া গ্রামের এক জোতদ্দার কৃষক পরিবারে জন্ম ভঅষা সৈনিক একামত আলী তালুকদারের। তার বাবার নাম আহম্মদ আলী তালুকদার। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়েই তার প্রথম পড়ালেখায় হাতে খড়ি। এরপর ৫ম ও ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর মাইনর স্কুলে পড়া লেখা করেন। পরে ভর্তি হন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল মহারাণী হেমন্ত কুমারী ইংলিশ হাই স্কুলে। সেখান থেকে ১৯৪৮ সালে মেট্রিক পাস করেন তিনি। ১৯৫১ সালে জামালপুর এএম কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। তারপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভাষা আন্দোলনের প্রায় পুরো সময়টাই কাটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ পাস করেন। পড়ালেখা শেষে নারায়নগঞ্জ বার একাডেমি স্কুলে শিক্ষকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে চার বছর শিক্ষকতা করেন। তিনি ভিলেইজ এইজড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের পিআরও হিসেবে ৩ বছর কর্মরত ছিলেন। এই ভাষা সৈনিকের জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন শিক্ষকতায়। ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ৩৪ বৎসর শিক্ষকতা করেছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। তিনি লোকেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের রিলিফ ও উন্নয়ন কর্মকান্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন।

ঘাটাইলে মহান শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

উত্তম আর্য্য,ঘাটাইল  ঃ
রবিবার সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সারা বিশ্বের ন্যায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও  আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে মধ্য রাতে ঘাটাইল কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, এক মিনিটি নিরবতা পালন ও  শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া পড়েন  উপজেলা পরিষদ,  আ’লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন, বিনএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন সহ সরকারি বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান । সকাল ৬ টায় প্রভাত ফেরীর মাধ্যমে  উপজেলা প্রশাসন, মুকুল একাডেমী কেজি স্কুল, বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেন ও স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা দলে দলে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, কালো ব্যাচ ধারন করা হয়।
পরে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ইউএনও আছমা আরা বেগম এর সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিবিজি কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম মণি, অধ্যাপক মতিউর রহমান, ব্রাহ্মণশাসন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফুন নেছা, সাবেক পৌর মেয়র মোঃ হাসান আলী মিয়া, জিবিজি কলেজের সাবেক ভিপি শহিদুজ্জামান খান প্রমুখ। আলোচনা শেষে উপজেলা চত্বরে বইবেলা উদ্ভোধন করেন অতিথিবৃন্দ।

শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৬

ঘাটাইলে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আজ সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগতিা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ আয়োজিত, মুকুল একাডেমি কিন্ডার গার্টেন শ্রেণিকক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় আয়োজন করা হয়। আয়োজনে অংশগ্রহন করেন-মুকুল একাডেমির কিন্ডার গার্টেন স্কুল, উত্তরা প্রি ক্যাডেট এন্ড কিন্ডার গার্টেন, সানমুন কিন্ডার গার্টেন, ঘাটাইল দক্ষিণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, অন্বেষা একাডেমী, বৈলতৈল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু, নার্সারি, ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির ৬৭ জন শিক্ষার্থীরা।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন-উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ, মুকুল একাডেমি কিন্ডার গার্টেন এর অধ্যক্ষ এস.এম. মুজিবর রহমান, শিক্ষক জাহানার বেগম, আকলিমা বেগম, রোকসানা খাতুন, সাজেদুর রহমান, ফজিলা আক্তার, ঝুমুর দাস প্রমুখ।

ঘাটাইল এখন বেকুর শহর

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা এখন এস্কিউভিউটর (বেকুর) শহর নামে পরিচিত সর্বমহলে। বাংলাদেশের যতগুলি উপজেলা আছে বর্তমানে অত্র উপজেলায় বেশি বেকুর ভাড়ায় পাওয়া যায়। পৌর এলাকার পুরাতন বিদ্যুৎ অফিসের এর সামনে থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যক্তিমালিকানায় এ যন্ত্রটি ভাড়া দেওয়া হয়।

বেকুর মালিক আঃ ছাত্তার জানান, টাংগাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ২০০০ সাল থেকে মুনসুর, খালিদ সামস ও শাপলা ইটভাটার মালিক  শাহজাহান সরকার প্রথম এ ব্যবসা শুরু করে। ইহা দ্বারা ইটভাটার মাটি কাটা, খাল খনন, মাটি ভরাট, পুকুর কাটা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কালক্রমে  বিভিন্ন লোক এই ব্যবসাটির সাথে ওতপ্রতভাবে জড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে ঘাটাইল উপজেলা বেকুর জন্য বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে।

বর্তমানে এই উপজেলায় ৩০০শ উপরে বেকুর আছে। ৬০০-৬৫০ প্রতিঘণ্টা হিসেবে দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের লোক এসে ভাড়া নিয়ে যায়। বৎসরে তিনমাস এই ব্যবসা থাকে বলে বেকুর ব্যবসায়ী আঃ ছাত্তার জানান। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল যেমন-রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, ভেড়ামারা, আশুলিয়া, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুরে মাটিকাটার জন্য বেকুর মালিকরা ভাড়া দেন। ফিলিপাইন, চায়না, ইন্ডিয়ান, ইতালি, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া মাধ্যমে নান্নু কর্পোরেশন, পান্না কর্পোরেশন, এস.কে. বিল্ডার্স, আমদানি করে  চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদের কাছে বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন নামে কোম্পানি তৈরি করে থাকে-আই.এস.আই, হিটাসি, কোবিলকো, কাটু, সুমোটো, কামারশু, ক্যাট, সুরোকাওয়া, ইউনিক, তাইও বিভিন্ন নামে বা ব্র্যান্ডের বেকুর বাজারে পরিচিত। একটি বেকুর ১৫-২৫ লক্ষ টাকা দরে কিনি আনে ক্রেতারা।

আল্লাহরদান মটরস্ এর মালিক শাহিন জানান, যে সমস্ত এস্কিউভিউটর (বেকুর) বাইরের দেশে ৩ হাজার ঘণ্টা চালানো শেষে বিভিন্ন নামে কোম্পানি বাংলাদেশে আমদানি করে সেগুলো বিক্রি করা হয়।

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৬

শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাসে আর্মি মেডিকেল কোরের চতুর্থ পুনর্মিলনী

টাঙ্গাইল শহীদ সালাহ উদ্দিন সেনানিবাসে আর্মি মেডিকেল কোর সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের ৪র্থ এএমসি পুনর্মিলনী ও বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকালে ঘাটাইল সেনানিবাসের এমএমসি প্যারেড গ্রাইন্ডে এই উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্যারেডে সালাম গ্রহণ করেন আর্মি মেডিকেল কোরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. রবিউল হোসেন। 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য মজিবর রহমান ফকির, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল ফিরোজ হাসান, বিভিন্ন কোরের উদ্ধর্তন সামরিক কর্মকর্তা, সৈনিকসহ অনেকে। 
প্যারেডে জাতীয় পতাকাবাহী দলসহ চারটি কন্টিনজেন্ট অংশগ্রহণ করেন। তাদের আকর্ষণীয় মার্চপাস্ট অনুষ্ঠানকে আরো প্রাণবন্ত করে। পরে প্রধান অতিথি চা-চক্রে অংশগ্রহণ করেন।

ঘাটাইলে আন্তঃ প্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা


জাতীয় ভাবে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মেধা ও শারিরীক যোগ্যতা যাচাইয়ের লক্ষে ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নে গৌরিশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আন্তঃ প্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ ফেব্র“য়ারি সোমবার অনুষ্ঠিত ক্রীড়া প্রতিযোগীতার উদ্ভোধন করেন লোকেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হায়দার আলী তালুকদার। লোকেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোছাঃ রুনা লায়লার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মনিং সান কিন্ডার গার্ডেন এর পরিচালক ও গৌরিশ্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খাইরুজ্জামান ভূঞা, আথাইল শিমুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হুমায়ুন কবির, পাঁচটিকড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বাবলু মিয়া প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন লোকেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী সিনিয়র শিক্ষক খুরুম খান। প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠানে ১১টি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ গ্রহণ করে। এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সদস্য, স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৬

স্যার আপনাদের কাছে টাকা চাইনা আমার মাইয়াডারে বাঁচাইয়া দেন

উত্তম অর্য্য, স্টাফ রিপোর্টার, আমাদের ঘাটাইল :
স্যার আপনাদের কাছে টাকা চাইনা, কেউ যদি আমার মাইয়াডারে চিকিৎসা করানোর দায়িত্ব নিত তাহলে আমার নয়নমণিরে পরান ভইরা সারাজীবন জীবিত অবস্থায় দেখতাম। সহায় সম্বলহীন আফরোজার মা মোর্শদা অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলতে থাকেন। টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের শাপলা গ্রামের ভ্যানচালক আব্বাস আলীর স্ত্রী ও অসুস্থ আফরোজার মা মোর্শেদা বেগম জানান তার স্বামী দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন রোগে শয্যাসায়ী অবস্থায় আছেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে সহ চারজনের সংসারে সামান্য দর্জির কাজ করে রোগজার করে যা আসে তাই সবাই মিলে কোনভাবে খেয়ে পড়ে থাকেন।
 আফরোজা গারোবাজার এন প্রি পি ক্যাডেট ল্যাব স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী গত ৪ বৎসর পূর্বে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে ময়মনসিং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা: আনোয়ার হোসেন পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর জানান যে, জন্ম থেকে আফরোজা ঘাতক ব্যধি থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। প্রতিমাসে তার শরীরে রক্ত না বদলালে নিশ্চিত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে। তাইতো তার রক্ত বদলানোর আর ঔষধ পত্র বাবদ প্রতিমাসে ৬ হাজার করে টাকার প্রয়োজন। সহায় সম্বলহীন এই পরিবারের পক্ষে মেয়ের চিকিৎসা করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এরই মধ্যে তাদের ১৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে চিকিৎসার কাজে ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমানে আফরোজা ও তার পরিবারের সবাই মিলে অন্যের বাড়িতে বসবাস করেন। সমাজের বৃত্তবানদের কাছে আফরোজা মা মোর্শেদার আকুল আর্তনাদ যে আপনাদের কাছে আমি টাকা পয়সা চাইনা আমার মাইডারে চিকিৎসা করাইয়া দেন। আমি আমার নয়নমনিকে সারাজীবন জীবিত অবস্থায় দেখতে চাই।


আফরোজার চিকিৎসার জন্য সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা 
মোর্শেদা
সোনালী ব্যাংক
সঞ্চয়ী হিসাব নং-৩৪০০৯২৯৬
গারোবাজার, টাংগাইল।
মোবাঃ ০১৭৬২১৯৫৬৯৮

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৬

ঘাটাইলে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন

টাঙ্গাইল প্রথম বিভাগ ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের শুভ উদ্বোধন হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম মাঠে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও ক্রিকেট উপ-পরিষদ আয়োজিত এ খেলার প্রধান অতিথি সাবেক সাংসদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক এর শুভ উদ্বোধন করেন। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোঃ মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়র আলহাজ্ব জামিলুর রহমান মিরন। এ সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থা কর্মকর্তা আব্দুর রৌফ খান রোকন, জহুরুল ইসলাম সম্রাট, মঈনুল ইসলাম লিন্টু, তাসফিক আলম সফিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী খেলায় অংশ গ্রহণ করে থানাপাড়া ক্লাব বনাম আকুর টাকুর যুব সংঘ। থানাপাড়া ক্লাবের পক্ষে খেলায় অংশ গ্রহণ করেন সিবু (ক্যাপ্টেন), কাঞ্চন, ইমন, ইমরান, সাদ্দাম, মিলন, রাজিব, দিপ্র, শাহীন, তুষার, রাসেল। অতিরিক্ত ছিলেন মিলন, নাজেল, হাসান ও হোসেন। অপর দিকে আকুর টাকুর যুব সংঘের পক্ষে মাঠে নামেন শফি (ক্যাপ্টেন), রাশেদ, শাওন, শামীম, শাকিল, রানা,, শিশির, রিফাত, মাসুম, রিফাত, (২) আরিফ। অতিরিক্ত ছিলেন বিজয়, শরিফ, শহিদুল ও রাব্বি। খেলায় থানাপাড়া ক্লাব টসে জিতে আকুর টাকার যুব সংঘকে ব্যাট করতে আমন্ত্রণ জানায়। নির্ধারিত ৫০ ওভারের মধ্যে মাত্র ৩৩ ওভার খেলে আকুর টাকার যুব সংঘের সংগ্রহ ১০৪ রান। রিফাত দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান করে। থানাপাড়া ক্লাবের পক্ষে ৩ উইকেট নেয় সিবু। ১০৪ রানের বিরুদ্ধে ব্যাট করতে নেমে থানাপাড়া ক্লাব কোন উইকেট না হারিয়ে মাত্র ১৪ ওভার খেলে ১০৫ রান সংগ্রহ করে তাদের বিজয় নিশ্চিত করে। দলের পক্ষে অপরাজিত থেকে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করে ইমন।

মুসলিম নগর দরবার শরীফের ওরস ১৭ ও ১৮৮ ফেব্র“য়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে মুসলিম নগর দরবার শরীফের মহা পবিত্র উরস আগামী ১৭ ও ১৮ ফেব্র“য়ারী সাধুরপাড়া মুসলিম নগর দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হবে। 
দুই দিনব্যাপী ওরস উপলে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ভক্তের পদভারে মুখরিত হবে বিশ্ব মুসলিম নগর দরবার শরীফ। রাসুল (সা.) এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আল্লাহর নৈকট্যলাভের আশায় ইবাদত বন্দেগিতে খাদেমুল খাজা বাবা শাহ আছির উদ্দিনের লাখো ভক্তের মিলনমেলা বসবে।
হজ্ব ও বিশ্ব ইজতেমার পরে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এ ধর্মীয় মহাসম্মিলনকে সফল করতে আশেকান ও জাকেরানরা সমবেত হন দরবার শরীফে। এ মহা মিলনমেলায় সত্য ইসলামের উদার নৈতিক মানবিক মূল্যবোধের আদর্শে উজ্জীবিত হন সমবেত ভক্তরা। প্রতি বছরের মতো হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা ক্যাম্প থাকবে।
ওরস চলাকালে ওয়াক্তিয়া নামাজের সঙ্গে নফল ইবাদত বন্দেগি, কোরআন তেলাওয়াত, মোরাকাবা মোশাহেদা, জেকের আসকার, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মুনাজাত, রাসুলে পাক (সা.) ও ওলি-আউলিয়াদের আদর্শের ওপর ওয়াজ নসিহত অনুষ্ঠিত হয়।
শাহানশাহে তরিকত হযরত মাওলানা খাদেমুল খাজা বাবা শাহ আছির উদ্দিন খন্দকারের ছেলে হযরত মাওলানা কারী মুসা খন্দকার আগতদের সাাৎ ও নসিহত দান করেন। বিশ্বওলির পবিত্র রওজা জিয়ারত ও দেশ ও মুসলিম উম্মাহের শান্তি কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এ মহা মিলনমেলা ভাঙ্গে।
পীরজাদা হযরত মাওলানা কারী মুসা খন্দকার বলেন, বিশ্বব্যাপী ঘনায়মান মানবিক সংকটের প্রোপটে বিশ্বওলি কেবলাজানের এবারের বিশ্ব ওরস শরীফ অত্যন্ত গুরুত্ববহ। আল্লাহতায়ালার অফুরন্ত নেয়ামতে পরিপূর্ণ এ মহা মিলনমেলা বিশ্বব্যাপী শান্তি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের মর্মবাণীই ছড়াবে। হিংসা, হানাহানি, দ্বন্দ্ব, সংঘাতের বিপরীতে শুভ জ্ঞান, শুভ বুদ্ধি ও শুভ চেতনাকে জাগ্রত করে সকলকে শ্বাশ্বত শান্তির ছায়াতলে সমবেত হওয়ার পথ দেখাবে।

মুসলিম নগর দরবার শরীফের ওরস ১৭ ও ১৮৮ ফেব্র“য়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে মুসলিম নগর দরবার শরীফের মহা পবিত্র উরস আগামী ১৭ ও ১৮ ফেব্র“য়ারী সাধুরপাড়া মুসলিম নগর দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হবে। 
দুই দিনব্যাপী ওরস উপলে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ভক্তের পদভারে মুখরিত হবে বিশ্ব মুসলিম নগর দরবার শরীফ। রাসুল (সা.) এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আল্লাহর নৈকট্যলাভের আশায় ইবাদত বন্দেগিতে খাদেমুল খাজা বাবা শাহ আছির উদ্দিনের লাখো ভক্তের মিলনমেলা বসবে।
হজ্ব ও বিশ্ব ইজতেমার পরে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এ ধর্মীয় মহাসম্মিলনকে সফল করতে আশেকান ও জাকেরানরা সমবেত হন দরবার শরীফে। এ মহা মিলনমেলায় সত্য ইসলামের উদার নৈতিক মানবিক মূল্যবোধের আদর্শে উজ্জীবিত হন সমবেত ভক্তরা। প্রতি বছরের মতো হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা ক্যাম্প থাকবে।
ওরস চলাকালে ওয়াক্তিয়া নামাজের সঙ্গে নফল ইবাদত বন্দেগি, কোরআন তেলাওয়াত, মোরাকাবা মোশাহেদা, জেকের আসকার, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মুনাজাত, রাসুলে পাক (সা.) ও ওলি-আউলিয়াদের আদর্শের ওপর ওয়াজ নসিহত অনুষ্ঠিত হয়।
শাহানশাহে তরিকত হযরত মাওলানা খাদেমুল খাজা বাবা শাহ আছির উদ্দিন খন্দকারের ছেলে হযরত মাওলানা কারী মুসা খন্দকার আগতদের সাাৎ ও নসিহত দান করেন। বিশ্বওলির পবিত্র রওজা জিয়ারত ও দেশ ও মুসলিম উম্মাহের শান্তি কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এ মহা মিলনমেলা ভাঙ্গে।
পীরজাদা হযরত মাওলানা কারী মুসা খন্দকার বলেন, বিশ্বব্যাপী ঘনায়মান মানবিক সংকটের প্রোপটে বিশ্বওলি কেবলাজানের এবারের বিশ্ব ওরস শরীফ অত্যন্ত গুরুত্ববহ। আল্লাহতায়ালার অফুরন্ত নেয়ামতে পরিপূর্ণ এ মহা মিলনমেলা বিশ্বব্যাপী শান্তি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের মর্মবাণীই ছড়াবে। হিংসা, হানাহানি, দ্বন্দ্ব, সংঘাতের বিপরীতে শুভ জ্ঞান, শুভ বুদ্ধি ও শুভ চেতনাকে জাগ্রত করে সকলকে শ্বাশ্বত শান্তির ছায়াতলে সমবেত হওয়ার পথ দেখাবে।

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৬

ঘাটাইলে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার নতুন অডিটরিয়ামের সামনে রবিবার দিন ব্যাপি  পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত পিঠা উৎসব অনুষ্ঠানে কান্দুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, বীরখাগিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁনতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পিঠা উৎসবে অংশগ্রহন করে উৎসবে তেলের পিঠা, পাটি সাপটা, নারিকেল পিঠা, মিঠা পিঠা, ভাপা পিঠা, খেজুর পিঠা, সেমাই পিঠা সহ ৪১ রকমের পিঠা প্রদর্শন করা হয়।

শেষে ইউএনও আছমা আরা বেগমের সভাপতিত্বে নতুন অডিটরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পিঠা উৎসবে অংশগ্রহনকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামুসহ উপজেলা প্রশাসনের অফিসারবৃন্দ।

ঘাটাইলের লোকেরপাড়ায় ১ সপ্তাহে ৫ বাড়িতে দুবৃত্তের আগুন জনমনে আতঙ্ক

ঘাটাইল উপজেলার পশ্চিম অঞ্চল লোকেরপাড়া গ্রামে গত ১ সপ্তাহে ৫টি বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে গোখাদ্য খড়ের পালা। আর এজন্য এলাকায় সাধারন মানুষের মনে আতঙ্কের ঝড় উঠেছে।
জানা যায়, লোকের পাড়া গ্রামে ১ দিন পর পর ১সপ্তাহে ৫ বাড়িতে খড়ের পালায় আগুন দিয়ে আসছে একটি চক্র। প্রথমে আব্দুল খাঁনের বাড়িতে আগুন দিলে এলাকার লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। পরে পর্যায়ক্রমে একই গ্রামের সাহেব আলী তালুকদার, মোশারফ তালুকদার, ফরিদ তালুকদার ও আব্দুল আলিম ভুইয়ার বাড়ির খড়ের পালায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিস ও গ্রামের লোকজনের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়। খড়ের পালায় আগুন দেয়ায় একদিকে যেমন গরুর খাদ্যের সংকট দেখা দিচ্ছে অপর দিকে জনমনের আতঙ্কও বিরাজ করছে। এতে করে সাধারন কৃষকের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
এব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য বলেন, এটা উঠতি বয়সের ছেলেদের দুষ্টামি ছাড়া আর কিছুনা। কিন্তু এলাকাবাসী এই বিষয়টিকে দুষ্টুমি বলে মানতে নারাজ। তাদের ধারনা দুর্বৃত্তরা বড় ধরনের কোন নাশকাত করার প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে পারে।
এব্যাপারে ঘাটাইল থানার ওসি বলেন, আমাকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানানো হয়েছে লিখিত কোন অভিযোগ এখনো পাইনি। পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

ঘাটাইলের মেয়ে মিতুর এশিয়া গেমসের সাফল্য

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল: প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে যে সাফল্যে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে গিয়েছে যা মানুষ কখনো ভাবেনি তাই এটা এখন ভাবনা নয় সত্যি সত্যি বাস্তবে পরিণত হয়েছে।

৩ ফেব্রুয়ারি সাউথ এশিয়া অলম্পিক কাউন্সিল আয়োজিত ভারতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া গেমস প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার ৩নং জামুরিয়া ইউনিয়নের সাধুরপাড়া গলগান্ডা নিভৃত পল্লীর মেয়ে ফারজানা শারমিন মিতু কুস্তি খেলায় এশিয়া গেমসে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে রৌপ্য পদক এনে দিয়ে বাংলাদেশকে সম্মানিত করেছেন। স্কুল জীবন থেকে খেলাধুলার প্রতি সর্বদাই ঝোঁক ছিল এবং প্রায় প্রতি খেলায় তিনি প্রথম স্থান অধিকারী হতেন।

বাবা মোঃ আনোয়ার হোসেন মা মোছাঃ রেহেনা আক্তার এর অনুপ্রেরনায় তিনি দেশের মাটি থেকে বিদেশের মাটিতে গিয়ে ছিনিয়ে এনেছে এ সাফল্য।

ঘাটাইল ইউসুফ জাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি ও জি.বি.জি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করে ২০০৯ সালে আনসার বাহিনীতে চাকুরীতে যোগদান করেন। তার পর থেকেই খেলাধুলায় আরও মনোনিবেশ করেন। জুডো, চাইনিজ মার্শাল আর্ট, রেসলিং, বক্সিং ও কাবাটি খেলায় অংশগ্রহন করেন।

২০১০ সালে প্রথম রেসলিং প্রতিযোগিতায় খুব একটা ভালো ফলাফল করতে না পারলেও থেমে যায়নি সেখানে। তাইতো অদম্য মনোবল নিয়ে  ২০১০ সালে উশু ৬৫ কেজিতে খেলে স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ২০১০ সালে জুডোতে রৌপ্য, ২০১১ সালে স্বাধীনতা কাপ জুড়োতে স্বর্ণপদক লাভ করে তার জীবনের মোড় কে আরো গতিশীল করে তোলে। ২০১২ সালে ওয়াল্টন চতুর্থ জাতীয় সিনিয়র প্রতিযোগিতায় ৬৩ কেজিতে স্বর্ণ পদক, ২০১২ সালে জাতীয় উশু প্রতিযোগীতায় ৬৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্বর্ণপদক, ২০১২ সালে ইন্দোবাংলা গেমসে ভারত গিয়ে ৬৭ কেজি ওজন শ্রেণিতে রেসলিংয়ে রৌপ্য পদক লাভ করে তারই ফলশ্রুতিতে আনসার বাহিনী পদক লাভ করায় ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি আনসার পদক সেবা প্রদান করে, ২০১৩ ঢাকায় অষ্টম গেমসে তৃতীয় খেলায় অংশগ্রহন করে ৬০ কেজি বক্সিংয়ে স্বর্ণপদক, ৬৩ কেজি রেসলিংয়ে স্বর্ণপদক ও ৬৫ কেজি উসুতে স্বর্ণপদক ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

তার সাফল্যের ধারাবাহিকতায় অষ্টম বাংলাদেশ গেমস এর পরপরই সেনাবাহিনীতে প্রথম নারী খেলোয়াড় সৈনিক হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। সেখানে ২০১৪ সালে ২৬ জানুয়ারি সৈয়দপুর ই.এম.স্টোর এন্ড স্কুলে এক বৎসরের ট্রেনিং চলাকালীন অবস্থাতেই ঢাকাতে ২০১৪ সালে সিনিয়র জাতীয় কুস্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে ৬৩ কেজিতে স্বর্ণ পদক লাভ করে। ৫ম সার্ভিসেস প্রতিযোগিতায় রেসলিংয়ে ৬৩ কেজিতে স্বর্ণপদক লাভ করে পরে ঘাটাইল সেনানিবাসে পোষ্টিং হয়।

পরে ১২তম এশিয়ান গেমস ২০১৫ সালে বাছাই পর্বে রেসলিংয়ে বাংলাদেশ টিমে খেলার সুযোগ পাই। কোচ নায়েক সুবেদার আশরাফ আলী এবং কালাম হোসেন ৮টি ওজন শ্রেণিতে রেসলিং এর উপরে কঠোর প্রশিক্ষণ দিয়ে ২০১৬ সালের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহন করে।

শ্রীলংকা, নেপাল ও ভারতের সাথে অত্যান্ত সাহসিকতার সাথে বিজয়ী হয়ে ফাইনালে উঠে। প্রতিপক্ষ ভারতের শিল্পীর কাছে হেরে রৌপ্য পদক লাভ করে। তার এই সাফল্যের কথা জিজ্ঞাসা করলে জানান আমার সাফল্যের পিছনে আমার স্বামী মোঃ আরশেদ আলী শুরু থেকেই অনুপ্রেরনা যুগিয়েছে যদিও তিনি শেরপুর জেলায় গ্রামীণ ব্যাংকে চাকুরীরত অবস্থায় আছে তারপরও আমার অনুপ্রেরনায় সেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচেছন।    

শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৬

ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নজরুল ইসলাম,ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)/এ: দীর্ঘ ছয় বছর পর শনিবার ঘাটাইল উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার গারোবাজার খামার বাড়িতে এ যৌথ দ্বিবার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করবেন বিএনপির কেন্দীয় কমিটির আন্তরর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ । সম্মেলনে প্রধান অতিথী ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আহমেদ আজম খান, তিনি বলেন, হামল মামলা জুলুম নির্যাতন করে বিএনপিকে দ্বংস করা যাবে না। বিএনপি হল গণ মানুষের দল। তৃনমূলের নেতাকর্মীরাই হল এ দলের প্রানশক্তি। গন আন্দোলনের মাধ্যমেই এই অবৈধ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তাই  তিনি ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতন ঘটাতে এবং জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের ঐক্যবন্ধভাবে আগামী আন্দোলন সংগ্রামে শরিক হওয়ার আহবান জানান।
ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম ভ’ইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন , টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সম্পাদক কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দীয় নির্বাহী  কমিটির সদস্য এডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, কেন্দীয় নির্বাহী  কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা যুবদলের সভাপতি আশরাফ পাহেলী,উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আ.খ.ম রেজাউল করিম পৌর বিএনপির সভাপতি ও ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র মজ্ঞুরুল হক, সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা প্রমূখ। সম্মেলনে কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতি সিদ্ধান্তে উপজেলা বিএনপির  সভাপতি নির্বাচিত হন সাবেক প্রতিমন্ত্রী  লুৎফর রহমান খান আজাদ। সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন আ.খ.ম রেজাউল করিম। এদিকে ঘাটাইল পৌরসভার সভাপতি হন ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র মজ্ঞুরুল হক সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন ফারুক হোসেন ধলা ।

ঘাটাইল সেনানিবাসে দুইদিন ব্যাপী গলফ কাপ টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত

ঘাটাইল শহীদ সালাহ উদ্দিন সেনানিবাসের গলফ ক্লাবে দুইদিন ব্যাপী দ্বিতীয় দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ গলফ কাপ টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকালে টুর্ণামেন্টের সমাপনী দিনের খেলা উদ্বোধন করেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার ও ঘাটাইল শহীদ সালাহ উদ্দিন সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল ফিরোজ হাসান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) আবু জাফর চৌধুরী।
টুর্ণামেন্টে সাব জুনিয়ার, জুনিয়ার, লেডি এবং নিয়মিত গলফারসহ সর্বমোট ৯০ জন গলফার অংশ গ্রহন করেন।
শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার ও ঘাটাইল শহীদ সালাহ উদ্দিন সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল ফিরোজ হাসান।

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৬

ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সম্মেলন আহ্বান

মোঃ খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) : 
টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির দুগ্র“প এখন মুখোমুখি। আগামীকাল ১৩ ফেব্রুয়ারী (শনিবার) দুই গ্রুপই আহ্বান করেছে পাল্টাপাল্টি সম্মেলন। ওই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। যে কোনো মুহূর্তে রক্তয়ী সংর্ঘষের আশংকা দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি মাইনুল ইসলাম একাংশের নেতৃত্বে রয়েছেন। অপর অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজাদ খান। আগামীকাল ১৩ ফেব্র“য়ারী সম্মেলন আহবান করে পোস্টারিং ও চিঠি, লিফলেট বিতরণ করছে দুই পই। দুই গ্র“পের এক গ্র“প গারোবাজার (সোলিং বাজার), ঘাটইল ও অপর গ্র“প খামার বাড়ী, গারোবাজার (সোলিং বাজার) পাশাপাশি স্থানে সম্মেলনের আয়োজন করেছে। উভয় গ্র“প জেলা নেতাদের নাম সংবলিত পোস্টার বিভিন্ন স্থানে সেঁটে দিয়েছে। দুই গ্র“পরই দাবি নেতাদের অনুমতি নিয়েই সম্মেলনের দিন ধার্য করেছেন তারা।

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৬

ঘাটাইল উপজেলা ও পৌর বিএনপির সম্মেলন ১৩ ফেব্রুয়ারী

দীর্ঘ ছয় বছর পর আগামী ১৩ ফ্রেব্রুয়ারী শনিবার ঘাটাইল উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ সম্মেলন। উপজেলার গারোবাজার খামার বাড়িতে এ যৌথ সম্মেলন  অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন বিএনপির কেন্দীয় কমিটির আন্তরর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা থাকবেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আহমেদ আজম খান, বিশেষ অতিথী থাকবেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সম্পাদক কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দীয় নির্বাহী  কমিটির সদস্য এডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, কেন্দীয় নির্বাহী  কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আলম স্বপন, সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, সমম্মেলন সম্পর্কে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ.খ.ম রেজাউল করিম জানান, আন্দেলন সংগ্রামে যারা ভূমিকা রেখেছে জেল জুলুম ভোগ করেছে এবং দলের ১৯ দফার প্রতি যারা অনুগত সম্মেলনের মাধ্যমে এমন নেতৃত্ব বেড়িয়ে আসবে বলে আশা করছি। পৌর বিএনপির সভাপতি ও ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র মজ্ঞুরুল হক বলেন  আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে তৃনমূল কর্মীরা সঠিক নেতৃত্ব বেছে নিবে বলে আশা করছি।
উল্লেখ্য যে, গত ২০০৯ সালে যৌথ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘাটাইল উপজেলা ও পৌর শাখার কমিটি গঠিত হয়েছিল।

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৬

ঘাটাইলে এমপি রানার ফাঁসি ও বহিস্কার দাবীত সমাবেশ ও মিছিল

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যার মামলার আসামী টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানাসহ বাকী পলাতকদের গ্রেফতারের দাবিতে মঙ্গলবার পথসভা করেছে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ। এবার খুনের মামলা মাথায় নিয়ে পলাতক থাকা ঘাটাইলের এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ভাইদের আওয়ামী লীগ থেকে প্রাথমিক সদস্য পদ বাতিল করা সহ বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবী জানালো ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত পথসভায় এ দাবী জানানো হয়। ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবুর সভাপতিত্বে পথ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়হেরুল ইসলাম জোয়াহের। ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ড চত্বরে অনুষ্ঠিত পথ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা জামিলুর রহমান মিরণ, জার্মান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনির, টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর সাইফুজ্জামান সোহেল, ভূঞাপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বাদল, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রহিম মিয়া, ধলাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিদকার, দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল যুব আইনজীবী পরিষদের সভাপতি এডভোকেট শাহানশাহ সিদ্দিকী মিন্টু, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান মারুফসহ স্থানীয় ছাত্রলীগ,  যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। ফারুক হত্যা মামলার চার্জশীট দেয়ার পর এই প্রথম ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাথে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ একাতœতা ঘোষনা করে ঘাটাইলের এমপি রানার গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানালো।
উল্লেখ্য গত ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারী শহরের কলেজ পাড়া নিজ বাসার সামনে থেকে টাঙ্গাইলের জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল থানা পুলিশ। পরে তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল থানায় অজ্ঞাত অসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ তিন বছর সুক্ষ তদন্তের পর পরিকল্পিত এ হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাই জড়িত থাকার বিষয়টি পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। পরে গত ৪ ফেব্রুয়ারী টাঙ্গাইল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারপর থেকেই এমপি রানাসহ পলাতক আসামীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি নিয়ে মাঠে নামে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সর্বস্তরের মানুষ। তারই ধারাবাহিকতায় পঞ্চম দিনের মতো ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানায় ঘাটাইল উপজেলার শান্তিপ্রিয় মানুষ।

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৬

ঘাটাইলে শিক্ষা মেলা

মানসম্মত শিক্ষা, জাতির প্রতিজ্ঞা এই শ্লোগানকে প্রতিপাদ্য রেখে রবিবার সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে দিন ব্যাপি শিক্ষা মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মেলায় সাতটি স্টল বরাদ্দ করা হয়। উপজেলা শিক্ষা অফিস আয়োজিত উপজেলা চত্বরে শিক্ষা মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলা উদ্ভোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু, অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সদস্য সচিব উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিমা আক্তার, উপজেলা সমবায় অফিসার মোছাঃ শামছুন্নাহার, উপজেলা স্বাস্থ্য (পঃ পঃ) কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্র সাহা, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ঘাটাইল উপজেলা শাখার সভাপতি আখতারুজ্জামান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক সুজাত আলী খান, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৬

ঘাটাইলের হামিদপুরে ১৪৪ ধারা জারি

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা নিজ এলাকায় এমপি সমর্থক ও লেবু সমর্থক পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছমা আরা বেগম। রবিবার দিগর ইউনিয়ন হামিদপুর বাসষ্টান্ড ও এর আশপাশের এলাকায় বিকাল ৩ থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এ অবস্থায় হামিদপুর বাসষ্টান্ড চত্বরে ও আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ।
ঘাটাইল থানা পুলিশ জানায়, টাঙ্গাইলে আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যার প্রতিবাদে এমপি রানা ও তার তিন ভাইকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবুর নেতৃত্বে উপজেলার হামিদপুর বাসষ্টান্ডে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। অপরদিকে এমপি রানার সমর্থনকারীরা একই স্থানে সমাবেশ ডাকায় গোলযোগ এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক লেবুর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল করতে চাইলে পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিক্ষোভ মিছিলটি ১৪৪ ধারা সীমানা পেরিয়ে কদমতলী বাসষ্টান্ড নামকস্থানে এসে লেবু সমর্থিত শতশত নেতাকর্মী ঢাকা-টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রায় এক ঘন্টা অবস্থান নেয়। এতে করে সড়কের দু’পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তা নিয়ন্ত্রন করে অবরোধটি তুলে দেয়। এ বিষয়ে সার্কেল অফিসার এএসপি জমির উদ্দিন বলেন, আইন-শৃঙ্খলা সার্বিক পরিস্থিতি ভাল রয়েছে এবং কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এখানে না ঘটে তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে এমপি বিরোধী ও এমপি সমর্থকদের মধ্যে গত বুধবারের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় র‌্যাবের হাতে আটক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নয়জন নেতাকর্মীকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে  জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে এমপি বিরোধী পক্ষের আটজন ও এমপি সমর্থক একজন। এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, নয়জনকে আটক করার পর গত শুক্রবার রাতে তাঁদের থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। এদের মধ্যে এমপি বিরোধী হিসেবে পরিচিত পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, ঘাটাইল ব্রাহ্মণশাসন গণ মহাবিদ্যালয় (জিবিজি কলেজ) ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবু সাইদ রুবেল, ছাত্রলীগ কর্মী আবিদ হোসেন, মঞ্জুরুল ইসলাম খান, রাজীব সরকার, বাবর আলী, রুবেল মিয়া ও মৃদুলকে এমপি রানা সমর্থক জামুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম হেস্টিংয়ের বাড়িতে হামলা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এমপির পক্ষের যুবলীগের কর্মী মনছুর আলীকে এমপি বিরোধী মজিবর রহমানের বাড়িতে হামলা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলে আলোচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহম্মেদ হত্যার অন্যতম আসামী টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাই কাকন, মুক্তি, বাপ্পাসহ ১৪ জনের নামে আদালতে চার্জশীট দেয়া হয়। এরপর থেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এমপি রানাকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃত্বে টানা তিন দিন ধরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবশে চলছে।

ঘাটাইলে এমপি রানাকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল


মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ খুনের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পালিয়ে থাকা টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের  গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ সমাবেশ করল ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
শনিবার বিকেলে ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ড চত্বর থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ। মিছিলটি ঘাটাইলের পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে স্থানীয় পারুল প্লাজার সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। সমাবেশে আগামী ৩ দিনের মধ্যে পলাতক এমপিকে খুঁজে বের করে  গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচী দেয়া হবে বলে আলটিমেটাম দেয়া হয়।
ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবুর সভাতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক মুজিবর রহমান, সিনিয়ন যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রহিম মিয়া (চেয়ারম্যান)সহ ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে এমপি রানার সমর্থকদের হামলা সংক্রান্ত থানায় ৩টি মামলার অভিযুক্ত আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

শনিবার, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৬

এমপি রানার নেতাকর্মীরা বাড়ি ছাড়া

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানার সমর্থনকারী শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ঘাটাইল থানায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা সূত্রে এমপি আমানুর রহমান খান রানা সমর্থিত পৌর কাউন্সিলর মুনছুর আলীতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু সমর্থিত কর্মী শফিকুল ইসলাম (৩৮), মজিবর রহমান (৫৫), দেওয়ান নিজাম (৪০) শুক্রবার(৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘাটাইল থানায় দায়েরকৃত মামলা ৩টিতে বাড়িঘর ভাংচুর, বেআইনী জনতাবদ্ধে অনাধিকার প্রবেশ, চুরি, ক্ষতিসাধন, হুমকি ও হুকুম দানের অভিযোগ আনা হয়েছে। শতাধিক নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করায় এমপি রানা সমর্থিতরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা উপজেলায় বিভিন্ন আত্মীয়য়দের বাড়িতে আত্মগোপণে রয়েছে। কেউ কেউ উপজেলা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) কামাল হোসেন জানান, এমপি রানার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়াকে কেন্দ্র করে আ’লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম লেবু সমর্থিত নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করেছেন লেবু সমর্থক তিন কর্মী। মামলার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে, ৩নং জামুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (এমপি রানা সমর্থিত) শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস বাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে শহিদুল ইসলাম লেবু সমর্থিত ২২জন নেতাকর্মীর নামে ঘাটাইল থানায় শুক্রবার(৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গন্য না করায় শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস-এর নেতৃত্বে শতাধিক মহিলা শুক্রবার দুপুরে থানা ঘেরাও করলে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহন করা হয়। উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩(ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়াকে কেন্দ্র করে ঘাটাইলে এমপি সমর্থিত ও লেবু সমর্থিতদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘাটাইলে আ’লীগের দু’গ্রুপের ভাংচুরের ঘটনায় চার মামলা গ্রেপ্তার ১০ জন

টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানাসহ চার ভাইয়ের  বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করাকে কেন্দ্র করে আ’লীগের দুই পক্ষের ভাঙচুরের ঘটনায় ঘাটাইল থানায় পাল্টাপাল্টি চারটি মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোর পর্যন্ত মামলার এজহার ভূক্ত দুই পক্ষের ১০ আসামীকে র‌্যাব-১২ টাঙ্গাইল গ্রেপ্তার করে ঘাটাইল থানায় হস্তান্তর করেছে। পুলিশ দুপুরেই তাদের টাঙ্গাইল জেল হাজতে প্রেরন করেছে।
ঘাটাইল থানার পুলিশ জানায়, আ’লীগের দুই পক্ষের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি চারটি মামলার হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা আবিদের বাবা মজিবর রহমান, তমালের বাবা নাজিম উদ্দিন এবং সৃষ্টি মেমোরিয়ার কিন্ডার গার্টেনের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে পৃথকভাবে মামলা তিনটি দায়ের করেছেন। তিনটি মামলাতেই শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিং ও পৌর কাউন্সিলর মনসুর আলী সহ ১৭ জনকে আসামী করেছেন মামলার বাদীরা।  এদিকে জামুরিয়া মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস বাদী হয়ে তার বাসাবাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম আহবায়ক ভিপি শহিদ সহ ২২ জনকে আসামী করা হয়েছে।
গতকাল পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি চার মামলার এজহার ভূক্ত দুই পক্ষের ১০ আসামীকে র‌্যাব-১২ টাঙ্গাইল গ্রেপ্তার করেছে। র‌্যাব গতকাল শনিবার ভোরে তাদের ঘাটাইল থানায় হস্তান্তর করে। প্রেপ্তারকৃতরা হল আবু সাইদ রুবেল, আবিদ, রুবেল মিয়া, রানা, সোহেল, রাজীব, মৃদুল, বাবর ও মজ্ঞু । এরা সকলেই ছাত্রলীগ কর্মী এবং শহিদুল ইসলাম লেবুর অনুসারি। অপরজন হল এমপি রানার অনুসারী ঘাটাইল পৌরসভার কাউন্সিলর মনছুর আলী। পুলিশ দুপুরেই তাদের ১০ জনকেই টাঙ্গাইল জেল হাজতে প্রেরন করেছে।
ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু জানান, এমপি রানার অনুসারীরা গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়  বিলবোর্ড ও নেতা কর্মীদের বাসাবাড়িতে ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থরা জামুরিয়া মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংসহ ১৭ জনকে আসামী করে ঘাটাইল থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে
এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায়  পাল্টাপাল্টি চারটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী  ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়ার নিজ বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফারুক আহমেদের লাশ উদ্ধার হয়। ফারুক আহমেদ হত্যাকা-র প্রায় ২০ মাস পর গ্রেপ্তার হওয়া আনিসুর রহমান রাজা ও মোহাম্মদ আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। উভয় আসামীর জবানবন্দিতে এই হত্যাকা-ে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ছোট ভাই সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। এ হত্যাকা-ের পরিকল্পনার সঙ্গে আমানুর রহমান খান রানার অপর ভাই সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও জাহিদুর রহমান খান কাকন যুক্ত বলে মোহাম্মদ আলী তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
সূত্রঃ ভাসানীর কথা

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৬

ঘাটাইলে চেয়ারম্যান এর বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

রাজন চন্দ্র বসু, ঘাটাইল(টাঙ্গাইল), ০৫ ফেব্রুয়ারী, আমাদের ঘাটাইল:
 শুক্রবার সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের আ’লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস এর বাড়িতে প্রতিপক্ষের হামলার করার পরও থানায় মামলা না নেওয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঐ ইউনিয়নের বিক্ষুদ্ধ মহিলারা। পরে থানার সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাধ্য হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহন করেন।


অভিযুক্তরা হলেন-১। শহিদুজ্জামান খান শহিদ, (৪৫) ২। আবু সাইদ রুবেল (২৬), ৩। আবির (২১), ৪। রনি তালুকদার (২৮), ৫। রানা (২৭), ৬। মমিন (২৭), ৭। রঞ্জু (২৫), ৮। মিতুল তালুকদার (২৪) ৯। মঞ্জু খান (২৫), ১০। রাজিব সরকার (২৫) ১১। সোহেল সরকার (২৫), ১২। বাবর আলী (৩০),  ১৩। রুবেল হোসেন (২৪), ১৪। সোহেল (২১), ১৫। অলিক (২৪), ১৬। ইয়েন (২২), ১৭। সাগর (২৫), ১৮। জাহাঙ্গীর (৫০), ১৯। জনি (২১), ২০। সজল সিদ্দিকী (২৬), ২১। হৃদয় (২১) ২২। রাজন মিয়া (২২)

মামলার লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, বুধবার গভীররাতে টাঙ্গাইল ঘাটাইল উপজেলার পৌর এলাকার বাজাররোডস্থ অবস্থিত জামুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর বাসায় জিবিজি কলেজের সাবেক ভিপি ও উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম আহবায়ক শহিদুজ্জামান খান এর নেতৃত্বে ২০-২২ জন লোক দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। এতে সে অস্বীকৃতি জানালে তার উপরে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। পরে ঘরে ঢুকে মূলবান জিনিসপত্র ভাংচুর করে এতে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকায় ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ থেকে জানা যায়।  শুক্রবার সকালে ঐ ইউনিয়নের অধিবাসী চেয়ারম্যানের সহধর্মিনী নাজমা বেগম এর নেতৃত্বে শতাধিক মহিলার বিক্ষোভ মিছিল পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে থানার সামনে গিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।

এ বিষয়ে জামুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান-আমার কাছে তারা কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা তাদেরকে দিতে হবে বলে জানান এবং ইতিমধ্যে আমি তাদেরকে কিছু টাকা দিয়েছি তারপরেও আমার বাড়িতে ওরা গভীর রাতে টাকার জন্য হামলা চালিয়েছে। 

এ বিষয়ে জিবিজি কলেজের সাবেক ভিপি ও উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম আহবায়ক শহিদুজ্জামান খান এর সাথে মুঠোফোনে থানায় অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান বিগত ০৬ মাসের মধ্যে উনার সাথে (চেয়ারম্যান) আমার কোন যোগাযোগ হয় নাই। আর চাঁদা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। 

এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামাল হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশঃ ০৫ ফ্রব্রুয়ারী ২০১৬, ০৪:০২:০০ অপরাহ্ন