শনিবার, মে ১১, ২০১৯

টাঙ্গাইলে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে টাকা লাগে

‘সাংবাদিক কি হয় তোমার? সাংবাদিক কি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিবে না আমি দিব, তুমি আমার পেছনে ঘুরবা, সাংবাদিকের পেছনে ঘুর কেন। সাংবাদিক কি তোমার টাকা দিয়ে দিবে?

তোমাকে আসতে বলছি তুমি আসনা কেন। দেখা কর, স্যার, আমি তো এত টাকা দিতে পারবো না। কম হবে না? তাহলে তোমার লাইসেন্স লাগবে না। থাক তাহলে থাক।’

এটা কোনো গল্প না, এটা এক পুলিশ সদস্য এবং গাড়িচালকের কথোপকথন।

মৃদুল মিয়া একজন গাড়িচালক। সে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা পূর্বপাড়া গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য টাঙ্গাইল বিআরটিএতে পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। পরীক্ষায় কৃতকার্যও হয়েছেন। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার আগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয়। নিয়ম অনুযায়ী বিআরটিএ থেকে পুলিশের টাঙ্গাইল জেলা বিশেষ শাখার মাধ্যমে মৃদুলের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স চাওয়া হয়।

গত দুই সপ্তাহ আগে মির্জাপুর থানায় কর্মরত পুলিশের টাঙ্গাইল জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম মৃদুলকে মুঠোফোনে ফোন দিয়ে দেখা করতে বলেন। মৃদুল মির্জাপুরে তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম মৃদুলের কাছে ২ হাজার টাকা দাবি করেন। মৃদুল দরিদ্র পরিবারের সন্তান- এত টাকা দিতে পারবে না বলে জানান।

সাইফুল ইসলাম টাকা ছাড়া ক্লিয়ারেন্স হবে না জানালে মৃদুল প্রথমে ৫ শ টাকা দিতে রাজি হয়। ৫ শ টাকায় তিনি রাজি না হওয়ায় তার কাছে থাকা সব মিলিয়ে ৭ শ টাকা দিলেও সাইফুল নেননি। এ সময় পাকুল্যা এলাকার এক ব্যক্তির কাছে মুঠোফোনে ফোন দিয়ে জানতে বলেন তার ক্লিয়ারেন্স বাবদ কত টাকা দিয়েছে। মুঠোফোনে মৃদুলকে ১৫ শ টাকার কথা জানান ওই ব্যক্তি। সাইফুলও সর্বশেষ মৃদুলকে জানান ১৫ শ টাকা পেলে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হবে।

মৃদুল ১৫ শ টাকা ব্যবস্থা করতে না পেরে স্থানীয় এক সাংবাদিককে দিয়ে ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার জন্য সাইফুল ইসলামকে সুপারিশ করান। এতে সাইফুল ক্ষিপ্ত হয়ে মৃদুলকে মুঠোফোনে ফোন দিয়ে বলেন, সাংবাদিক কি হয় তোমার? সাংবাদিক কি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিবে না আমি দিব, তুমি আমার পেছনে ঘুরবা, সাংবাদিকের পেছনে ঘুর কেন? সাংবাদিক কি তোমার টাকা দিয়ে দিবে? তোমাকে আসতে বলছি তুমি আস না কেন। দেখা কর, স্যার, আমি তো এত টাকা দিতে পারবো না। কম হবে না? তাহলে তোমার লাইসেন্স লাগবে না। থাক তাহলে থাক এই বলে লাইন কেটে দেন সাইফুল।

মির্জাপুরে কর্তব্যরত কনস্টেবল সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ক্লিয়ারেন্স পেতে টাকা লাগে। কোথায় লাগে বলবেন কি? হ্যাঁ, টাঙ্গাইলে লাগে, টাঙ্গাইল যেয়ে দেখেন- এই বলে ফোন কেটে দেন।

টাঙ্গাইলের ডিআইওওয়ান (পরিদর্শক) হারেজ আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে টাঙ্গাইলে কোনো টাকা লাগে না। এ বিষয়টি মিথ্যে কথা। আমি সাইফুলকে এ বিষয়ে ডেকে আনব।

ঘাটাইলে ধীরগতিতে সড়ক উন্নয়ন কাজে নাকাল পৌরবাসী

নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে জামালপুর জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের উন্নয়নকাজ ধীরগতিতে চলছে। এ কারণে ঘাটাইল পৌরবাসী রোদে ধুলা, বৃষ্টিতে কাদা ও প্রাত্যহিক যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।

টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে জামালপুর সদর হয়ে সরিষাবাড়ী পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নকাজ চলছে। এর মধ্যে ঘাটাইল উপজেলা সদরের পৌর এলাকার হাসপাতাল মোড় থেকে বীরঘাটাইল পর্যন্ত অংশের এক কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলছে ঢালাইয়ের মাধ্যমে। এ কাজের ধীরগতির কারণে প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মাত্র এক কিলোমিটার রাস্তা পার হতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগছে।

পাশাপাশি রোদে ও ধুলার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী, পথচারী, স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে সামান্য বৃষ্টিতে কাদার সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে সড়কটি। সড়কের এক পাশ যান চলাচলের উপযোগী না করে অপরিকল্পিতভাবে অন্য অংশের কাজ শুরু করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

ঘাটাইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মোমেন বলেন, ‘মহাসড়ক ঘেঁষে আমাদের বিদ্যালয়টি। তাই ধুলাবালি, কাদা ও যানজট মাড়িয়েই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে।’ কাজটি দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তিনি।

ঘাটাইল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, সড়কের কাজের ধীরগতির কারণে ব্যবসায়ীরা চরম বেকায়দায় রয়েছে। ধুলা-কাদার মধ্যে ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারছে না তারা।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিমুল এহসান কাজের ধীরগতির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘কাজের গতি বাড়াতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।’

তবে এ বিষয়ে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের স্থানীয় পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হয়নি।

ঘাটাইলে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: ‘শিল্প বাঁচাও, শ্রমিক বাঁচাও’- এই শ্লোগান নিয়ে সাত দফা দাবি ও বিড়ি শিল্প রক্ষার্থে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আঞ্চলিক সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে টাঙ্গাইল বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন।

শনিবার (১১ মে) সকালে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আলহাজ্ব আতাউর রহমান খানের বাসার সামনে তারা এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।

এতে বক্তব্য রাখেন- টাঙ্গাইল বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বেল্লাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাসুম, রুবেল, জাহিদ, শাওন, নাজমুল প্রমুখ।

সে সময় বক্তারা বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প ঘোষনা, আরোপিত শুল্ককর প্রত্যাহারের, বিড়ি ভোক্তার উপর থেকে বিমাতাসুলভ আচরণ বন্ধ, পক্ষপাতিত্বমুলক শুষ্কনীতি বন্ধকরাসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে বিড়ি শ্রমিকরা স্থানীয় এমপি বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এমপির বাসার তত্ত্বাবধায়ক মো. বাবু মিয়া।