উত্তর টাঙ্গাইলের পাঁচ উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিয়তি
মো. খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
ঘাটাইল সহ উত্তর টাঙ্গাইলের পাঁচ উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিয়তি। কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না লোডশেডিং ও বিদুৎ আসা যাওয়ার খেলা। দিনের পর দিন বিদুৎ বিভ্রাটের এ যন্ত্রণা বেড়েই চলেছে। লোডশেডিং বাড়ার পাশাপাশির গোঁদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে লোভোল্টেজ। ক্ষুদ্ধ গ্রাহকরা মিছিল মিটিং করে এবং সড়ক অবরোধ করেও কোন সুবিধা আদায় করতে পারছে না। ক্ষুদ্ধ গ্রাহকদের হামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ অভিনব প্রচারে নেমেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নিকট বিদ্যুৎ পরিস্থিতির নাজুক অবস্থায় ব্যাখ্যা দিয়ে গ্রাহকদের শান্ত করার নানা চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এতে কোন ফল আসেনি। তাই এবার তারা জুমার নামাজের আগে খুতবার বয়ানে লোডমেডিং নিয়ে মুসুল্লিদের উদ্দেশ্যে খতিবদের মাধ্যমে এলান জারির ব্যবস্থা করেছেন। গত ৭ অক্টোবর শুক্রবার মুধুপুর, গোপালপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা শহরের অধিকাংশ মসজিদে জুমার নামাযের আগে খতিবরা লোডশেডিং নিয়ে বক্তব্য রাখেন। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম বিদ্যুৎ সরবারহ সামাল দেয়ার অপারগতা প্রকাশ করে পাঠানো জরুরি এলান পাঠ করে শোনান মসজিদের খতিবরা। এতে মুসুল্লিরা বিস্মিত হন। ওই এলানে এটাও বলা হয়, জামালপুর শহরে ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কারখানা নির্মিত হচ্ছে। দুই এক মাসের মধ্যে সেটি উৎপাদনে গেলে জামালপুর-হাজরাবাড়ি৩৩কেভি লাইনে বাড়তি বিদ্যুৎ সাপ্লাই করা যাবে। তখন উত্তর টাঙ্গাইলের গোপালপুর, মধুপুর, ধনবাড়ি, ঘাটাইল ও ভ’ঞাপুর উপজেলার দুই লাখ পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক সন্তোষজনক হারে বিদ্যুৎ পাবে বলে এলানে আশ্বাস দেয়া হয়। এলানে আরো বলা হয়, পিডিবির টাঙ্গাইল গ্রিড সাবস্টেশন থেকে ঘাটাইল পর্যন্ত ন্যাশনাল গ্রিড লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের। আর তা নির্মিত হলে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ দূর হবে। এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎতের মধুপুর জোনাল অফিসের এজিএম নুরুজ্জামান নূর জানান, বিদ্যুৎ না পেয়ে গ্রাহকরা অতিষ্ঠ্ অনবরত হামলা, সড়ক অবরোধ ও অফিস ঘেরাও এর কর্মসূচি হচ্ছে। এজন্য জেনারেল ম্যানেজারের নির্দেশে জুমার দিন মসজিদে মুসুল্লিদের মধ্যে এ ধরনের এলান দেওয়া হচ্ছে যাতে, মুসুল্লিরা পরিস্থিতি সামলাতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করেন। তিনি আরো জানান, শুধুমাত্র মুধুপুর উপজেলার টেংরি সাবস্টেশনের আওতায় বিদ্যুৎ চাহিদা ১৭ মেগাওয়াট জামালপুর পিডিবি গ্রিড সাবস্টেশন থেকে সরবারাহ করে তিন থেকে সাড়ে তিন মেগাওয়াট। এ বিদ্যুতে একটি ফিডার চালানো মুশকিল। তাহলে অপর ৫টি ফিডার কিভাবে চলবে? একইভাবে ধনবাড়ীর হাজরাবাড়ি, গোপালপুরের আলমনগর এবং ঘাটাইলের শাহপুর সাবস্টেশনে চাহিদার এক ষষ্ঠাংশ বিদ্যুৎও সরবরাহ করছে না পিডিবি। ফলে কোন কোন গ্রামে সপ্তাহে দুই দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তাও আবার চব্বিশ ঘন্টার ২/৩ ঘন্টার বেশি নয়।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা, নগদাশিমলা, ঝাওয়াইল, হেমনগর এবং ধনবাড়ি উপজেলার মুশুদ্দী, বলিভদ্র ও পাইস্কা ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের মানুষ এক মাসে ১২ ঘন্টার পায় না।
বলিভদ্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুরুজ্জামান মিন্টু জানান, ১৯৮৯ সাল থেকে এ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়েছে। এরকম জঘন্য পরিস্থিতি আগে আর কখনো দেখ যায়নি।
হাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, মোবাইল চার্জ দেয়ার বিদ্যুৎও মানুষ পাচ্ছে না। হাট-বাজার চালে জেনারেটর লাইনে ভিড় জমিয়ে মানুষ মোবাইল চার্জ দিতে বাধ্য হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷