উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মা হাসপাতাল মালিকের অবহেলায় আজ শনিবার (২৫ আগস্ট) রাত ৮টার সময় মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী (৭০)এর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, পৌর এলাকার ঝরকা বাজারে হাতেম আলী হঠাৎ মাথা ঘুরে পরে গেলে তাকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার এর কাছে নেওয়া হয়। তিনি হাসপাতালে ইসিজি অপারেটর না থাকায় বাহির থেকে ইসিজি করতে বলেন। নিহতের স্বজনরা তাকে মা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার ব্যাবস্থাপক ইসিজি মেশিন বিকল বলে জানিয়ে পার্শ্ববর্তী ক্লিনিক থেকে আরেকটি ইসিজি মেশিন আনেন এবং সেটাও বিকল পাওয়া যায়। এতে করে সময়ক্ষেপণে একসময় মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলীর মৃত্যু ঘটে।
তার বাড়ি ঘাটাইল পৌর এলাকার কিসমত কাতরা গ্রামে।
নিহত হাতেম আলীর ভাতিজা রোমেল জানায়, “শনিবার সন্ধায় পৌর এলাকার ঝরকা বাজারে হাতেম আলী (৭০) হঠাৎ মাথা ঘুরে পরে গেলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ ইসরাত জাহান এর কাছে নেওয়া হলে তিনি হাসপাতালে ইসিজি অপারেটর না থাকার কারনে বাহির থেকে রোগীর ইসিজি করতে বলেন। নিহতের স্বজনরা রোগীকে মা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার ব্যাবস্থাপক মোঃ ফারুককে ইসিজি করার কথা বললে তিনি রোগির স্বজনদের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরন করেন। তাদেরকে ইসিজি করে দেবেন না বলে জানিয়ে সেখান থেকে রোগিকে অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন। পরে ক্লিনিকের মালিক মোঃ আসিফ তাদের ইসিজি মেশিন বিকল বলে জানায়, এবং পার্শ্ববর্তী ক্লিনিক থেকে আরেকটি ইসিজি মেশিন আনলে সেটাও বিকল পাওয়া যায়।”
ক্লিনিক মালিকের (মা হাসপাতাল) অবহেলার কারনে সেখানে রোগির (মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী) মৃত্যু হয়েছে বলে রোগির সাথে থাকা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার শাহনেওয়াজ জানান।
মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলীর মৃত্যুর কারন সম্পর্কে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ ইসরাত জাহান ঘাটাইল ডট কমকে মুঠোফোনে জানান, ” মূলত রোগির পালস পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই তিনি জীবিত আছে কিনা সেটা জানার জন্য বাহির থেকে ইসিজি করতে বলি।”
মা হাসপাতালের মালিক মোঃ আসিফ জানান, “আমার হাসপাতালের ইসিজি মেশিন খারাপ থাকায় পাশের একটি ক্লিনিক থেকে ইসিজি মেশিন চেয়ে আনি, সেটাও খারাপ (বিকল) থাকার কারনে সময়মত ইসিজি করতে পারিনি।”
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাকসুদুল আলম জানান, “আমার কাছে এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে মুল ঘটনা জানা যাবে।”
