বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩০, ২০১৮

ঘাটাইলে গৃহবধূ মৃত্যুর পাঁচ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন


রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আলুপাকুটিয়া গ্রামে গত ২৮ মার্চ ‘ঝড়ে ছিঁড়ে পড়া’ বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে গৃহবধূ মৃত্যু ঘটনার পাঁচ মাস গতকাল কবর থেকে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে আদালতের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা আহম্মেদ এর উপস্থিতিতে আলুপাকুটিয়া গ্রামের কবর থেকে ওই গৃহবধূ ফুলজান বেগমের (৪৫)  লাশ উত্তোলন করা হয়। মৃত্যুর এ ঘটনার পর নিহতের ছেলে সুমন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ পত্র দায়ের করেন।

এ সময় উপজেলার দিগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন, ঘাটাইল থানার এসআই আব্দুল মান্নান সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

‘ঝড়ে ছিঁড়ে পড়া’ বিদ্যুতের তারে গৃহবধুর মৃত্যুর এ ঘটনায় ঘাটাইলডটকম, বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম সহ গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ফুলজান বেগমের মৃত্যুতে তার ছেলে সুমন ও মেয়ে খাদিজা আক্তার বিদ্যুৎ লাইন ত্রুটিপূর্ণ থাকায় এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন। এদিকে এ মৃত্যু ঘটনার প্রতিবাদ করায় গত ১৮ জুন (সোমবার) মেহেদী হাসান মঞ্জু (৩৪)  নামের এক ব্লগার  ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টকে পিটিয়ে আহত করে স্থানীয় কয়েকজন।

প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকার তিন দিন পর (২৮ মার্চ) ওই তারে জড়িয়ে মারা যান উপজেলার দিগর ইউনিয়নের আলুপাকুটিয়া গ্রামের আফাজ উদ্দিনের (৫০) স্ত্রী ফুলজান বেগম (৪৫)। এলাকাবাসীর অভিযোগ জানায়, “সিমেন্টের খুঁটিতে হালকাভাবে লাগিয়ে রাখা অত্যাধিক উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে পড়া এরকম একটা তারে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান ফুলজান বেগম। এই গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সময় নিয়ম অনুযায়ী তার ও খুঁটি না দিয়ে নিম্নমানের তার ও বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করার ফলে অল্প বাতাসে তার ছিঁড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।”

ফুলজান বেগমের মৃত্যুর পর তার ছেলে সুমন ও মেয়ে খাদিজা আক্তার বিদ্যুৎ লাইন ত্রুটিপূর্ণ বলায় স্থানীয় মোস্তফা ও আজমত তাদেরকে মারতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তখন  মোস্তফার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপানারা যা খুশি লেখেন, তাতে আমার কিছু করতে পারবেন না।”

এদিকে মেহেদির অভিযোগ, ঘটনার পরদিন মামলা করার জন্য তিনি এবং তার এক চাচাত ভাই ঘাটাইল থানায় যান। সেখানকার সেকেন্ড অফিসার এসআই ফরিদ হোসেনের কাছে গেলে তিনি বলেন, “মৃত ব্যক্তির দাফন হয়ে গেছে। এখন আর কিছু করা যাবে না। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আপনাদের বিপদ হবে।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই ফরিদ হোসেন বলেন, “কেউ এ রকম অভিযোগ নিয়ে এসেছে, আর আমি ফিরিয়ে দিয়েছি তা আমার মনে পড়ছে না। এই ঘটনায় তো সংশ্লিষ্টদের ‘নেগলিজেনসি’ আছে।

এ ঘটনায় ঘাটাইলডটকম, বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম সহ গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

এদিকে ফুলজান বেগম মৃত্যু ঘটনার প্রতিবাদ করায় গত গত ১৮ জুন (সোমবার) মেহেদী হাসান মঞ্জু (৩৪)  নামের এক ব্লগার  ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টকে পিটিয়ে আহত করেছে স্থানীয় কয়েকজন। আহত মেহেদী হাসান মঞ্জুর শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটলে তাকে কালিহাতী হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেহেদী ঈদের ছুটিতে (ইদুল ফিতর) নিজ বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গেলে সোমবার দুপুরে তাদের গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলে এবং ভাই-ভাতিজাসহ আরো অনেকে তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত পরে। এ ঘটনায় ঘটনার দিন বিকেলে মেহেদীর পিতা নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

দিগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন, ময়নাতদন্তর জন্য আদালতের নির্দেশে ওই কিশোরীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা আহম্মেদ জানান, ‘লাশ ময়না তদন্তের জন্য উত্তোলন করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে’।