বন উজারের পর এবার ধ্বংসের পথে ঘাটাইলে লাল মাটির টিলা পাহাড়। বনবিভাগের ধলাপাড়া রেঞ্জের চৌড়া, দেওপাড়া, ঝড়কা, বটতলি ও ধলাপাড়া সদর বিটের আওতায় সংরক্ষিত টিলা পাহাড় কেটে সাবার করা হচ্ছে।
প্রশাসনের নাকের ডগায় বনবিভাগের সংরক্ষিত এলাকায় চলছে টিলা ও লাল মাটির সুউচ্চ পাহাড় কাটা। বিরামহীনভাবে পাহাড় কাটায় একদিকে পরিবেশ ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে এখানকার জীববৈচিত্রে দেখা দিয়েছে মারাত্মক হুমকি। পাহাড় আর বনভূমি রক্ষায় রক্ষকরাই এখন রয়েছে ভক্ষকের ভূমিকায়। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বনবিভাগের ধলাপাড়া রেঞ্জের দেওপাড়া ইউনিয়নের চৌড়া বিট ও দেওপাড়া বিটের আওতায় ডেলুটিয়া, বারইপাড়া প্রভৃতি এলাকার সরকারী খাস উচু টিলা কেটে নিচু করে প্রায় অর্ধশত বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় জহুরুল হক বলেন, ফরেস্টের লোকদের ম্যানেজ করে টিলা কাটা কোনো ব্যাপারই না। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া এক কোদাল মাটিও কেউ নিতে পারবে না।
জানতে পারলে মামলা ঠুকে দেবে। এভাবে এলাকার শতশত লোক ফরেস্ট কর্মকর্তাদের অপকর্মের কথা তুলে ধরলেও মামলার ভয়ে কেউ নাম প্রকাশ করতে সাহস পাননি। কাছরা নামক স্থান থেকে বারই পাড়া হয়ে দেওপাড়াবাজার পর্যন্ত গেলে চোখে পড়ে পাহাড় কাটার দৃশ্য। সেখানে ৪০ থেকে ৬০ ফিট উচ্চতার টিলাগুলো কাটা হচ্ছে। আর মাটি নিয়ে ভরাট করা হচ্ছে স্থানীয় কাছরা গ্রামের সোনা মিয়ার পুকুর। সোনা মিয়া বলেন, আমি আমার পুকুর ভরাট করাতে ৪ লাখ টাকা চুক্তি দেই ছামনা গ্রামের সাইদকে। সেই এভাবে মাটি ভরাট করছে।
এ ব্যাপারে সাইদের বাড়ি ছামনা গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে তার সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করা হলে রিং বাজলেও রিসিভ করেননি। বৃহস্পতিবার বটতলা বিটের গৌরিস্বর মৌজার জানেরপাড় নামক স্থানে গেলে দেখা যায় শাল গজারি বনের সাথে বেক্যু দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, বন্দকুলিয়া গ্রামের জুয়েল ও বাইচাইলের সাইদ নামে দু’ব্যক্তি মাটি কেটে নিচ্ছে। ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আ. হামিদ বলেন, আমি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটিকাটা বন্ধ করে দিয়েছি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷