শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৯

ঘাটাইলে দিন দুপুরে লুটতরাজ আহত ৩

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের হায়দার আলীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার মালামাল প্রকাশ্যে লুটতরাজ করে নিয়ে গেছে পার্শ্ববর্তী পাগারিয়া গ্রামের শাজাহান ওরফে নয়া শিকদার ও তার লোকজনেরা।

লুটতরাজে বাধা দিতে গিয়ে মালিক পক্ষের ৩ জন আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারী ক্ষতিগ্রস্থ হায়দর আলী বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৭/৮ জনকে আসামী করে ঘাটাইল থানায় একটি ভাংচুর ও লুটতরাজ মামরা দায়ের করেছেন। মামলা নং-২৩।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, জালালপুর গ্রামের ইউছুফ আলীর ছেলে হায়দর আলী তার নিজস্ব জমিতে গোডাউন তৈরী করে একতা ফুড প্রোডাক্ট মৃগেল স্পেশাল মুড়ি ও চিড়ার মিল ছাড়াও প্রাণ গ্রুপ সহ বড় বড় বিভিন্ন কোম্পানীর ডিলারসিপ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। ইউসুফ আলীর ছেলে কিসমত আলী জানায় হায়দর আলীর বড় ব্যবসাকে ভাল চোখে নেয়নী বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গবদ্ধ চক্রের সদস্য পাগারিয়া গ্রামের মৃত রুপা শিকদারের ছেলে শাহজাহান ওরফে নয়া শিকদার ও তার দলের লোকজনেরা।

তারা পরিকল্পিতভাবে মালামাল লুট করতে ১৯ ফেব্রুয়ারী ভোর বেলায় ২০/২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশিয় অস্ত্রে দা, কুড়াল, রামদা, চাপাতি, লোহার রড, শাবল, হাতুর নিয়ে মিলের টিনের দেয়াল ভেঙ্গে গাড়ী নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে এবং গোড়াউনের তালা ভেঙ্গে সিগারেটের কাটুন সহ দামী দামী মালামাল গাড়ীতে তুলতে থাকে।

এ সময় গোডাউনে থাকা ইউছুফ আলী ও তার ছেলে হাসমত আলী এবং হাসমতের স্ত্রী জরিনা বেগম লুটতরাজে বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাদের এলোপাথারি মাইরপিট করে রক্তাক্ত জখম করে এবং ইউছুফ আলীর পা ভেঙ্গে ও মাথা ফাটিয়ে আহত করে মালামাল লুট করে গাড়ীতে তুলে নেয়। এ সময় আহতদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসলে সন্ত্রাসীরা তাদের অস্ত্রের ভয় দেখাইয়া মালামাল সহ গাড়ী নিয়ে পালিয়ে যায়।

১৯ ও ২১ ফেব্রুয়ারী দুই দিনের অনুসন্ধান কালে মিলের পার্শ্ববর্তী জালালপুর গ্রামের নজ্জেশ আলী মুন্সীর ছেলে শামছুল হক, হায়েত আলীর ছেলে রহমত আলী ও ওসমান সুতারের ছেলে জয়েন উদ্দিন, আশরাফ আলীর স্ত্রী রুপিয়া বেগম, আইয়ুব আলীর স্ত্রী শেফালি বেগম সহ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও অনেকেই জানায় আসামীরা সকলেই বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গবন্ধ সক্রিয় সদস্য। এমন কোন অপরাধ নাই তারা না করে থাকেন।

এ বিষয়ে ঐ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও লুটতরাজ মামলার ৩নং আসামী শফি উদ্দিনের নিকট মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি এখন ব্যস্ত আছি- এ বিষয়ে আমি আপনাকে পরে জানাব বলে মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন।

দিনের বেলায় লুটতরাজের বিষয়ে সাগরদিঘী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেকমত সিকদারের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, দুইটা হাতই আমার তবে শাজাহানের নেতৃত্বে যে কাজটা হয়েছে তা মোটেই উচিত হয়নি। কারন হায়দর ও তার ভাইয়েরা অত্যন্ত ভাল মানুষ।

এ বিষয়ে সাগরদিঘী তদন্ত ফাঁড়ির এস/আই ফজলুল হক জানান দীর্ঘদিন যাবত জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ছিল, তবে সেদিনের ঘটনা ঘটানো মোটেও উচিত হয়নি।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরীর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷