আতিক সরকার, ঘাটাইল: শহীদ প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে, কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল বিএনপির আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (৩০ মে) বৃহস্পতিবার উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্দ্যোগে উপজেলা অডিটরিয়ামে উক্ত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
মোঃ রফিকুল ইসলাম বুলবুল ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্ঠা সাবেক এম পি ও মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ খ ম রেজাউল করিম, দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।
এ সময় উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, সহ বিএনপির অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের বিপুল সংখ্যাক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক।
উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় লুৎফর রহমান খান বলেন আজ আমরা এমন একটি রাষ্ট্রে বাস করছি যে রাষ্ট্রটি চোখেও দেখেনা কথা বলতে পারেনা। দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন বলতে কিছু নেই। এটা বর্তমানে যাদুঘরে আশ্রয় নিয়েছে। দেশে যদি গণতন্ত্র থাকতো তাহলে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনা প্রধানের স্ত্রীর আশ্রয় জেলখানায় হতো না, দেশে গণতন্ত্র থাকলে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গণতন্ত্রের অতন্দ্রপ্রহরী তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রি, একজন ৭৮ বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ, স্বামী সন্তান হারা অসহায় নারীকে জেলাখানার ভেতরে খাওয়া, দাওয়া ও নিন্দ্রাহীন চোখে থাকতে হতো না।
তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন ও সুশাসন নেই বলেই তিন বৎসরের শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষি বৃদ্ধা নারী ও শিশুরা ধর্ষন ও মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। একদিকে কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অপরদিকে পত্রিকায় বেরিয়েছে এবার ঈদে ৬ লক্ষের বেশি মানুষ ঈদ করতে বিদেশ যাচ্ছে। আমার প্রশ্ন বিদেশে ঈদ করতে যাচ্ছে এই লোকগুলো কারা? এরাই সেই ব্যক্তি যাহারা এ দেশের কৃষকের রক্ত সকাল/সন্ধ্যা চুষে খাচ্ছে-আর হারাম টাকার পাহাড় বানিয়ে দেশের বাহিরে গিয়ে ঈদ উদ্যাপন করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, ভাবতে অবাক লাগে, দুঃখ হয় আজ বাংলাদেশের মানুষের বুকে যে জগদ্দল পাথর চেপে বসে আছে, সেই অবৈধ পাথর আমাদের দেশের সহজ সরল, গরীব অসহায় মানুষগুলোকে বাঁচতে দিচ্ছে না।
আপনারা পেপার পত্রিকায় পড়বেন ও টেলিভিশন খুল্লেই দেখতে পাবেন বাবা তার অভাবের কারনে প্রিয় দুই সন্তানকে ঈদের পোষাক কিনে না দিতে পেরে নিজ হাতে সন্তানকে গলাটিপে হত্যা করছে, মা সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে পরে নিজেই আত্মহত্যা করছে। অথচ এ ব্যাপারে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রির কোন দায়িত্ব নেই, প্রশাসনের কোন গুরুত্ব নেই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এ দেশের জনগণ সরকারের কাছে বোঝা হয়ে গেছে। সরকার আমাদের বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াচ্ছে আর আমরা তা হজম করছি। মানুষ এ সব থেকে মুক্তি চায়, মানুষ স্বাধীনতা চায়, ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। সর্বোপরি এই অবৈধ সরকারের পতন চায়।
বক্তৃতায় তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে তার সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন ইতিহাস তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেন এবং তার আদর্শে জীবন গড়ার জন্য নেতা কর্মিদের পরামর্শ দেন।
এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সহ প্রিন্টি ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ইফতারের আগে দেশে ও দেশের মানুষের কল্যান কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা পরিষদ মসজিদের ঈমাম ও খতিব মাওলানা মোঃ জোবায়ের মাহমুদ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷