টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় একই ষ্টেশনে ২৫/৩০ বছর যাবত চাকুরী করে আসছে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা দেশের প্রচলিত আইন ও বদলীর পরিপত্রের নির্দেশ অমান্য করে বিধি বর্হিভূত ভাবে বদলী ফিরাইয়া বছরের পর বছর ঘাটাইলে থেকে যাচ্ছে। ফলে একদিকে ভেঙে পড়ছে ঐ দপ্তরের আইন কানুন। অপরদিকে একই স্টেশনে দীর্ঘদিন চাকুরী করায় অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে অনেকেই।
ভূক্তভোগী ও উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘাটাইলে চাকুরী করে আসছে, তাদের অনেকেই সময় মত অফিসে না আসা, কাজে মনোযোগী না হওয়া, মানুষকে অবমূল্যায়ন করা, প্রভাব খাটিয়ে কাজে সেবা না দেওয়া। অফিসকে নিজের বাড়ি ঘর মনে করে মনগড়া কাজ করা। তবে বেশিরভাগ কর্মকর্তা কর্মচারীরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হাত ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গাড়ীর ড্রাইভার মাসুক আহমেদ। তার বাড়ী ধনবাড়ী উপজেলার সদরে তিনি ১৯৮৭ সালে ঘাটাইলে যোগদান করেন বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা সরকারি বাড়ী ভাড়া ফাকি সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রভাব খাটাইয়া উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের নেতৃত্ব দিয়ে সাবেক ইউএনও আছমারা বেগমকে বদলী নিয়ে চলে যেতে বাধ্য করেন। তারপরেও তিনি আইনকে বোকা বানাইয়া টানা ৩২ বছর যাবত ঘাটাইলে চাকুরী করে আসছে (সূত্র যুগান্তর)।
এসব বিষয়ে ড্রাইভার মাসুক আহমেদ বলেন আপনারা যতই লেখালেখি করেন না কেন আমি ইচ্ছা করলে ৩২ বছরের জায়গায় সরকারকে ৮ বছর দেখাতে পারি। তিনি দাম্ভিকতা করে আরো বলে ১৯৯১ সালে আমাকে বাসাইল উপজেলায় বদলী করেছিল, আমি একদিনের জন্যও সেখানে যাই নাই। উল্টো বাড়ীতে ১৫ দিন ছুটি কাটিয়ে পুনরায় ঘাটাইলে যোগদান করেছি।
অপরজন উপজেলা মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী শামসুন্নাহার। তার গ্রামের বাড়ি একই উপজেলার আথাইলশিমুল গ্রামে। তিনি ১৯৯৪ সালে চাকুরী হওয়ার পর শেরপুর নকলা উপজেলায় যোগদান করলেও ০৩ মাসের মাথায় বদলী নিয়ে ঘাটাইল উপজেলায় চলে আসেন বলে তিনি জানান। তার বিরুদ্ধে পোন মাছ অবমুক্তি, টেন্ডার কেলেঙ্কারী, এফ.সি.ডি. প্রকল্পে পুকুর খনন বরাদ্দের টাকা লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাছাড়াও তিনি প্রকৃত মৎস্যজীবি বিহীন মধ্যস্বত্ব ভোগীদের নিকট বিভিন্ন জলমহাল বরাদ্দ, মাছের পোনা উন্মুক্তকরণ এবং জলমহাল সংস্কার বা খনন বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ায় তার মূল কাজ। এমন অভিযোগ জেলে সমিতি সহ আরো অনেকের। জানা যায়, তার নামে একাধিকবার বদলীর আদেশ থাকলেও জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে সুবিধা দিয়ে টানা ২৫ বছর যাবত ঘাটাইলে চাকুরী করে আসছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারী শামসুন্নাহার প্রশ্ন এড়িয়ে বলেন, কেউ নিজ উপজেলায় চাকুরী করতে চাইলে তাকে বদলীর করার কোন আইন নাই। আমি সেই আইন মেনেই চাকুরী করে আসছি। অথচ বদলীর পরিপত্রের ০৪.৫১০.৩৫.৪৩৭.২০১৫.১৯১ নং স্মারকে বলা আছে একই পদে তিনবছরের অধিককাল যাবত নিয়োজিত কর্মচারীকে বাস্তব অবস্থা ভেদে অবশ্যই অন্যত্র বদলী করতে হবে। দূর্গম বা প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পন্ন এলাকায় ০২ (দুই) বছর হলেও বদলী করা যেতে পারে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বদলীর পরিপত্রের আদেশ না মানায় ০৩ বছরের স্থলে কেউ কেউ ২০, ২৫, ২৮ ও ৩২ বছর যাবত একই স্টেশনে চাকুরী করে আসছে।
এসব বিষয়ে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার তামান্না বলেন, আমার নতুন চাকুরী তাছাড়া সবেমাত্র এই অফিসে যোগদান করেছি আমি অনেক কিছুই অবগত না।
অপরজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক নজরুল ইসলাম তার বাড়ি সরিষাবাড়ী উপজেলার দোয়ার ইউনিয়নে। তিনি মধুপুর পৌর এলাকায় বাসা বাড়ি তৈরি করে সেখানে বসবাস করছেন। তিনি ১৯৯১ সালে ঘাটাইলে যোগদান করে ১৯৯৫ সালে বদলী নিয়ে গোপালপুর চলে যান বলে তিনি জানান। পরে ১৯৯৬ সালে পুনঃরায় ঘাটাইলে যোগদান করে টানা ২৩ বছর যাবত ঘাটাইলে চাকুরী করে আসছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন-কেউ একটানা যুগ যুগ ধরে একই অফিসে থাকতে পারেনা। যারা আছে তারা নিজেদের স্বার্থে উপরমহলের সাথে আতাত করে দীর্ঘদিন যাবত রয়েছে। তবে এদের দ্রুত অন্যত্র বদলী করার জরুরী বলে জানান।
অপরজন একই অফিসের অফিস সহকারী কামরুল আহসান খান, তার বাড়ী ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের সাইটশৈলা গ্রামে। তিনি ১৯৯১ সালে ঘাটাইলে যোগদান করে কোনপ্রকার বদলী ছাড়াই টানা ২৮ বছর যাবত ঘাটাইলে চাকুরী করে আসছে। এদের উভয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষা বিভাগের ঘাটে ঘাটে নানা অনিম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ মানুষ গড়ার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত থাকলেও অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম ও কামরুল হাসান ঘাটাইলে দীর্ঘদিন যাবত চাকুরী করে শিক্ষা অফিসকে অনিয়মের নোঙর খানায় পরিণত করেছে। এদের কাছ থেকে একটা ফটোকপি নিলেও টাকা দিতে হয় বলে তারা জানান।
এসব বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুর রহমান বলেন, ২য় শ্রেণির কর্মচারীদের ০৩ বছর পর পর বদলী করার আইন আছে। তবে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়মাফিক বদলী করার আইন এখনো হয় নাই। তবে কারো বেলায় একজায়গায় বেশিদিন থাকা ঠিক না। কেউ অনিয়ম করলে অথবা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও অবশ্যই তাকে বদলী করা হয়ে থাকে।
এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, একই ষ্টেশনে দীর্ঘদিন চাকুরী করার আইন নাই। ঘাটাইলে কে কে আছে আমার জানা নাই। তবে আমার অফিসে এমন কেউ নাই।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷