খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে সাগরদীঘির গুপ্তবৃন্দাবন পর্যন্ত সওজের ৩২ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই বেহালদশায় পতিত হয়েছে এবং ভাঙাচোরা আর স্থানে স্থানে গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলের একেবারে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কিন্তু সড়কটি উন্নয়নের জন্য ৩-৪ মাস আগে টেন্ডার হয়ে ঠিকাদারও প্রায় সিলেকটেড হয়ে গিয়েছিল, তারা কাজ শুরু করতে বিলম্ব করায় দরপত্রটি বাতিল হয়ে রিটেন্ডার হয়েছে। এখন ঘাটাইল থেকে সাগরদীঘি পর্যন্ত দুই ভাগে দু’জন ঠিকাদার কাজ পেয়েছে, প্রথম অংশের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্বিতীয় অংশের ঠিকাদারও নিয়োগ হয়েছে দ্রুত কাজ শুরু হবে।
সাগরদীঘি এলাকাটি ঘাটাইলের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম ব্যবসায় কেন্দ্র হওয়ায় জনগুরুত্ব সম্পন্ন সড়ক এটি। তাছাড়াও সড়কটি ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ভরাডোবা পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করায় গুরত্ব আরও বেড়ে গেছে। এ সড়কে প্রতিনিয়ত শত শত যানবাহন চলাচল করে থাকে। ফলে বেহাল অবস্থার মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।
সরেজমিন দেখা যায়, ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে ধলাপাড়া বাজার হয়ে সাগরদীঘির গুপ্তবৃন্দাবন পর্যন্ত ৩২ কিমি. সড়কে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও থেমে নেই যান চলাচল। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন যানবাহন চলাচল করছে।
জানা যায়, ঘাটাইল সাগরদীঘি সড়কে দীর্ঘদিন যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রীদের বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাহিন্দ্রা, সিএনজি ও অটোরিকশায় চলাচল করতে হচ্ছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত পাহাড়ি এলাকার মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘাটাইলের পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলকার ৭টি ইউনিয়নের একসময়ের স্বপ্নের সড়ক এখন দুঃস্বপ্নের সড়কে পরিণত ।
সাগরদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার জানান, বর্তমানে ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়ি এলাকা পোলটি শিল্পের জোন হিসেবে পরিচিত। এখানে রয়েছে সিপি ও নারিশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির মুরগির খামার। তাছাড়া এ এলাকার উৎপাদিত কলা, আনারস, কাঁঠাল, কৃষি ফসলাদিসহ অন্যান্য উৎপাদিত পণ্য সাগরদীঘি-গুপ্তবৃন্দাবন-ভরাডোবা সড়ক ব্যবহার করেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। কিন্তু যোগাযোগের ব্যবস্থা খারাপ থাকায় সঠিক সময়ে তা সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। ফলে খামারি এবং কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্যমূল্য থেকে।
টাঙ্গাইলের সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিমুল এহসান বলেন, প্রথমত, এটা ৩-৪ মাস আগে টেন্ডার হয়ে ঠিকাদারও প্রায় সিলেকটেড হয়ে গিয়েছিল। তারা কাজ শুরু করতে বিলম্ব করায় দরপত্রটি বাতিল হয়ে রিটেন্ডার হল।
তিনি জানান, ঘাটাইল থেকে সাগরদীঘি পর্যন্ত দুই ভাগে দু’জন ঠিকাদার কাজ পেয়েছে। ১ম অংশের কাজ শুরু হয়েছে অলরেডি। ২য় অংশের ঠিকাদারও নিয়োগ হয়েছে। তিনি এখনও মাঠে নামেনি। তবে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷