সোমবার, জুলাই ৩১, ২০১৭

ঘাটাইলে সড়ক দখল করে সীমানাপ্রাচীর

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দীঘলকান্দি গ্রামে ভাষাসৈনিক সোফিয়া খান সড়ক দখল করে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই গ্রামের শহীদুর রহমান সড়কটির কিছু অংশ দখল করে বাড়ির সীমানাপ্রাচীর তৈরি করেছেন। এতে সড়কটি বাঁকা হয়ে গেছে। এর প্রতিবাদ করায় ভাষাসৈনিকের ভাই মুক্তিযোদ্ধা বুলবুল খানের নামে আদালতে মামলা করেছেন শহীদুর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহায়তায় উপজেলা পরিষদ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোগলপাড়া থেকে দীঘলকান্দি তহশিল অফিস পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত ও পাকা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা ভাষাসৈনিক সোফিয়া খানের নামে সড়কটির নামকরণ করা হয়। সড়কটি প্রশস্তকরণের জন্য স্থানীয় লোকজন সড়কের পাশে জমি ছেড়ে দেন। তবে দীঘলকান্দি এলাকায় শহীদুর রহমান সড়কের জমি দখল করে বাড়ির সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেন। ঠিকাদার প্রাচীরের পাশ দিয়ে সড়কের কাজ করেন। এতে সড়কটি সেখানে বাঁকা হয়ে যায়।
বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে এ বছরের এপ্রিলে ঘাটাইল ও টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের জন্য ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে শহীদুর রহমান ঘাটাইলে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে রাস্তার দখল করা জায়গা ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তিনি সেটা না করে গত ২৮ মে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বুলবুল খানকে বিবাদী করে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তিনি (বুলবুল খান) লোকজন নিয়ে গত ১৮ মে তাঁর দেয়াল ভাঙতে গিয়েছিলেন।
বুলবুল খান বলেন, ওই দিন (১৮ মে) তিনি টাঙ্গাইল শহরে ছিলেন। লোকজন নিয়ে দেয়াল ভাঙার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। তিনিসহ এলাকার লোকজন রাস্তার জন্য জমি ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু একজন ব্যক্তি সড়কের জায়গা দখল করে নিয়েছেন।
গত শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, দীঘলকান্দি গ্রামের পুকুরপাড়ের কাছে ভাষাসৈনিক সোফিয়া খান সড়কের পাশে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। দেয়ালের খানিকটা দূর দিয়ে রাস্তাকে সরিয়ে বাঁকা করে তারপর পাকা করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় পাঁচজন বাসিন্দা বলেন, রাস্তাটি সোজা ছিল। দেয়ালের কারণে বাঁকা হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে শহীদুর রহমানের বাড়িতে গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে সাজ্জাদুর রহমান বলেন, তাঁরা কোনো জায়গা দখল করেননি। বাবা (শহীদুর রহমান) নিজের জায়গাতেই দেয়াল নির্মাণ করেছেন।
ইউএনও আবুল কাসেম মুহাম্মদ শাহীন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে দেখা গেছে, শহীদুর রহমান সড়কের জায়গা দখলকে প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। জায়গা ছেড়ে দিতে তাঁকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি একজনকে বিবাদী করে আদালতে মামলা করেছেন।
সূত্র: প্রথম আলো
আমাদের ঘাটাইল ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সবার আগে যেকোন সংবাদ জানতে আমাদের ঘাটাইল ডটকম পত্রিকাটি ভিজিট করুন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷