শুক্রবার, মার্চ ০১, ২০১৯

ঘাটাইলের সাবেক এমপি রানা আদালতে অসুস্থ, টাঙ্গাইল হাসপাতালে ভর্তি

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দুপুরে উচ্চ রক্তচাপ জনিত কারণে রানা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাকে ঢাকা অথবা অন্যত্র পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে টাঙ্গাইল আদালতের বিচারক মাকসুদা খানম আগামী ৪ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

ঘাটাইলের সাবেক এমপি রানাকে বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। এর আগে দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার বাদী পক্ষের আরো একজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। আমানুর রহমান খান রানার উপস্থিতিতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা হয়।

পরে আদালতের বিচারক মাকসুদা খানম আগামী ৪ এপ্রিল এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এরপর সাবেক এই সংসদ সদস্য অসুস্থতাবোধ করলে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৩১৩ নম্বর কেবিনে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানান, দুপুরে সাবেক এমপি রানাকে উচ্চ রক্তচাপ, বুক ব্যাথা আর ডায়াবেটিক সমস্যাজনিত কারণে পুলিশ হাসপাতালে আনে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ভিআইপি ক্যাবিনে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে ভর্তি করেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার রক্তচাপ ওঠানামা করছে। বুকে ব্যাথা ও ডায়াবেটিক সমস্যাটা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় হলে তাকে ঢাকা অথবা অন্যত্র পাঠানো হতে পারে বলেও জানান তিনি।

আদালত ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ‘সাবেক এমপি রানাকে অসুস্থতাজনিত কারণে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার অবস্থার উন্নতি হলে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হবে।’

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯

ঘাটাইলে ইয়াবাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ১২৬ পিচ ইয়াবা সহ আটক করেছে র‍্যাব-১২ এর সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ফোন এবং ৩টি সিম কার্ড উদ্ধার করেছে র‌্যাব। উপজেলার বাহ্মনশাসন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ঘাটাইল উপজেলার গুনদত্ত গ্রামের মৃত ইমান আলী ছেলে শুকুর মাহমুদ (২৫) ও একই উপজেলার গারট্র গ্রামের মৃত শাহজাহানের ছেলে রুবেল মিয়া (২০)।

বুধবার রাতে র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মো. হাসান আরাফাত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মো. হাসান আরাফাত বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল ঘাটাইল উপজেলার বাহ্মনশাসন এলাকার গ্রামীন ব্যাংকের সামনে অভিযান চালিয়ে ১২৬ পিচ ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যাবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তারা ঘাটাইল উপজেলার আশপাশ এলাকায় বিভিন্ন মাদক সেবীদের নিকট তাদের চাহিদা অনুযায়ী ইয়াবা সরবরাহ করে আসছিল।

ঘাটাইলে ৮ম শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষণ, রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অষ্টম শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রীকে প্রেমের ফাদেঁ ফেলে একাধিকবার ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে রিফাত নামে এক বখাটের বিরুদ্ধে। ধর্ষিতাকে রক্তাক্ত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল মডেল থানায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে রিফাতকে প্রধান আসামী করে দুইজনের নামে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করলেও আসামীকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

ধর্ষক রিফাত ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে।

ধর্ষিতা ও তার পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন মোবাইল ফোনে উতক্ত করার পর গত তিন মাস যাবৎ ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সুত্র ধরেই গত ২৫ তারিখ সোমবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষিতাকে কৌশলে রিফাত তার মামার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে একটি ঘড়ে নিয়ে তাকে জোর পূর্বক ধর্ষন করে।

এক পর্যায়ে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী রক্তাক্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পরলে রিফাত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে ধর্ষিতার মা সংবাদ পেয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

এঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে রিফাতকে প্রধান আসামী করে দুইজনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছে। এখনও আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, প্রেমের ফাদেঁ ফেলে ৮ম শ্রেনীর স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষন করেছে। তারা এঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

এব্যাপারে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, হাসপাতালে মেয়েটিকে ভর্তি করে তার শারিরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে। প্রথমিকভাবে ধর্ষনের আলামত পাওয়া গেছে। বর্তমানে মেয়েটি আশংকামূক্ত রয়েছে।

এদিকে টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সায়েদুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। আসামী ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘাটাইলে গাছ পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ভূইয়া বাড়ী মোড়ে হঠাৎ রাস্তার গাছ পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুর রহিম (৩০) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন ।

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল এগারটার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

আব্দুর রহিমের বাড়ী উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের বড় মেধার শরিসাআটা গ্রামে। তিনি উক্ত এলাকার ছামাদ শিকদার ও আছিয়া বেগম দম্পতির সন্তান।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে (৬) ও এক মেয়ে (৪) সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গিয়েছেন।

তিনি স্থানীয়ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয়রা জানান, আজ সকালের দিকে আব্দুর রহিম নিজ বাড়ী থেকে ধলাপাড়ার দিকে আসার সময় ভুঁইয়া বাড়ী মোড়ে এসে পৌঁছলে আকস্মিক রাস্তার পাশের একটি গাছের ডাল তার উপর ভেঙ্গে পড়ে। চলন্ত মোটরসাইকেলের উপর গাছের ডালটি ভেঙ্গে পড়ায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯

ঘাটাইলে তর্ণমূলের পছন্দের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম খান

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল): আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় তৃনমূলের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো.শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে জনগণ তাকেই বেছে নিবে এমনটি প্রত্যাশা করছেন আওয়ামী লীগের তৃনমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামছুর রহমান খানের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন। বর্তমানেও তিনি খান পরিবারের সুখ দুঃখের সারথী। শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ৩ নং জামুরিয়া মডেল ইউনিয়নের সফল চেয়ারম্যান ছিলেন। এসময় তিনি রাষ্ট্রীয় গোল্ডমেডেল এবং মাদক মুক্ত ইউনিয়নের স্বীকৃতি পান।

উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান উপজেলার সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিবেদিত প্রাণ, তৃনমূল নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক তিনি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি এলাকায় তার পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার শোভা পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখায় দলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। তার সাথে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে।

ঘাটাইলে সংরক্ষিত টিলা কেটে সাবার

বন উজারের পর এবার ধ্বংসের পথে ঘাটাইলে লাল মাটির টিলা পাহাড়। বনবিভাগের ধলাপাড়া রেঞ্জের চৌড়া, দেওপাড়া, ঝড়কা, বটতলি ও ধলাপাড়া সদর বিটের আওতায় সংরক্ষিত টিলা পাহাড় কেটে সাবার করা হচ্ছে।

প্রশাসনের নাকের ডগায় বনবিভাগের সংরক্ষিত এলাকায় চলছে টিলা ও লাল মাটির সুউচ্চ পাহাড় কাটা। বিরামহীনভাবে পাহাড় কাটায় একদিকে পরিবেশ ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে এখানকার জীববৈচিত্রে দেখা দিয়েছে মারাত্মক হুমকি। পাহাড় আর বনভূমি রক্ষায় রক্ষকরাই এখন রয়েছে ভক্ষকের ভূমিকায়। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বনবিভাগের ধলাপাড়া রেঞ্জের দেওপাড়া ইউনিয়নের চৌড়া বিট ও দেওপাড়া বিটের আওতায় ডেলুটিয়া, বারইপাড়া প্রভৃতি এলাকার সরকারী খাস উচু টিলা কেটে নিচু করে প্রায় অর্ধশত বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় জহুরুল হক বলেন, ফরেস্টের লোকদের ম্যানেজ করে টিলা কাটা কোনো ব্যাপারই না। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া এক কোদাল মাটিও কেউ নিতে পারবে না।

জানতে পারলে মামলা ঠুকে দেবে। এভাবে এলাকার শতশত লোক ফরেস্ট কর্মকর্তাদের অপকর্মের কথা তুলে ধরলেও মামলার ভয়ে কেউ নাম প্রকাশ করতে সাহস পাননি। কাছরা নামক স্থান থেকে বারই পাড়া হয়ে দেওপাড়াবাজার পর্যন্ত গেলে চোখে পড়ে পাহাড় কাটার দৃশ্য। সেখানে ৪০ থেকে ৬০ ফিট উচ্চতার টিলাগুলো কাটা হচ্ছে। আর মাটি নিয়ে ভরাট করা হচ্ছে স্থানীয় কাছরা গ্রামের সোনা মিয়ার পুকুর। সোনা মিয়া বলেন, আমি আমার পুকুর ভরাট করাতে ৪ লাখ টাকা চুক্তি দেই ছামনা গ্রামের সাইদকে। সেই এভাবে মাটি ভরাট করছে।

এ ব্যাপারে সাইদের বাড়ি ছামনা গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে তার সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করা হলে রিং বাজলেও রিসিভ করেননি। বৃহস্পতিবার বটতলা বিটের গৌরিস্বর মৌজার জানেরপাড় নামক স্থানে গেলে দেখা যায় শাল গজারি বনের সাথে বেক্যু দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, বন্দকুলিয়া গ্রামের জুয়েল ও বাইচাইলের সাইদ নামে দু’ব্যক্তি মাটি কেটে নিচ্ছে। ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আ. হামিদ বলেন, আমি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটিকাটা বন্ধ করে দিয়েছি।

কে প্রথম প্রেম নিবেদন করেছেন, জানালেন কারিনা

বলিউড অভিনেতা শহীদ কাপুরের সঙ্গে এক সময় প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সে সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়নি। অবশেষে বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খানের সঙ্গে প্রেমের পর সাতপাকে বাঁধা পড়েন অভিনেত্রী কারিনা কাপুর। তিনি সাইফ আলী খানের দ্বিতীয় পত্নী ও তৈমুর আলী খানের মা।

সম্প্রতি করণ জোহরের ‘কফি উইথ করণ’-শোতে বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে হাজির হয়েছিলে কারিনা। সেখানেই নিজের ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন এই অভিনেত্রী।

ভারতের শীর্ষস্থানীয় এক গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রথম স্ত্রী অমৃতার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মেয়ে সারার সঙ্গে সাইফের সম্পর্কে ঠিক কেমন? কারিনার সঙ্গেই বা সারার কেমন সম্পর্ক? এই সবকিছু নিয়েই অনেকেরই অনেক কৌতূহল রয়েছে। সম্প্রতি ‘কফি উইথ করণ’ এর শোতে কারিনা-প্রিয়াঙ্কার কথোপকথনে উঠে এসেছে নানা তথ্য।

এদিন সাইফের সঙ্গে তার সম্পর্কের শুরুর কথা বলতে গিয়ে কারিনা জানান, গ্রীসে সাইফ তাকে প্রথম প্রেম নিবেদন করেন। তিনি আরও জানান, ‘তশন’ ছবির ‘ছলিয়া ছলিয়া’ গানের শুটিংয়ের সময় সাইফ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

কারিনার কথায়, ‘একদিন সকালে উঠে হঠাৎই সাইফ বলল, চলো বিয়ে করে ফেলি। সাইফ বলে, চলো এখানকার কোনো চার্চে যাই আর বিয়ে করি। ও (সাইফ) বলে আমি কোনো কিছুকে তোয়াক্কা করি না, বাকি জীবনটা তোমার সঙ্গে কাটাতে চাই।’

সাইফ তাকে সারা ও ইব্রাহিমের কথাও জানিয়ে দেন বলে জানান কারিনা। তিনি জানান, ওরা ওর জীবনে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। পরে তিনিও সাইফকে তার প্রতি ভালোবাসার কথা জনিয়েছিলেন এবং তাকে বিয়ে করতে সমস্ত সমস্যা সম্মুখীন হতেও রাজি বলে জানিয়েছিলেন মন্তব্য করেন বেবো।

সাইফের প্রথম স্ত্রীর মেয়ে সারার সঙ্গে প্রথমবার দেখা প্রসঙ্গে কারিনা জানান, সারা সেদিন তার বিখ্যাত ‘পু’ চরিত্রের (কাভি খুশি কাভি গাম ছবিতে কারিনার চরিত্র) ‘ইউ আর মাই সোনিয়া’ গানের পোশাক পরে দেখা করতে পৌঁছেছিলেন। কারণ সারা কারিনার ভীষণ ভক্ত ছিলেন।

পাশাপাশি করিনা আরও জানান, তার সঙ্গে সাইফের প্রাক্তন স্ত্রী অমৃতার কোনোদিনই দেখা হয়নি।

সাইফের প্রাক্তন স্ত্রী অমৃতার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখো- করণের এমন প্রশ্নের জবাবে বেবো বলেন, ‘আমার সঙ্গে অমৃতার কোনোদিনই দেখা হয়নি, কথাও হয়নি। তবে আমি অমৃতাকে শ্রদ্ধা করি।’

কারিনা আরও জানান, ‘সাইফের সঙ্গে আমার আলাপ অমৃতার সঙ্গে তার বিচ্ছেদের বহু বছর পর। সাইফ সেসময় কারোর সঙ্গেই ছিল না, সিঙ্গল ছিল। 

কালিহাতীতে হর্ণ বাজিয়ে স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের বিরক্তি করায় আটক-১

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নরদহি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ও নরদহি বাজারের জনগণকে কিছু বখাটে বে-গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে বিকট শব্দে হর্ণ বাজিয়ে বিরক্তির প্রতিবাদ করায় নজরুল ইসলাম নামের এক সচেতন যুবকের উপর হামলা চালিয়েছে বখাটেরা।

এ ঘটনায় হামলার শিকার নজরুল ইসলামের চাচা লাল চাঁন মন্ডল বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করলে বখাটে জাহিদুল ইসলামকে আটক করে কালিহাতী থানা পুলিশ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার আনালিয়াবাড়ী গ্রামের লাভলু মিয়া(২০),মাজেদুল ইসলাম(২১), জাহিদুল ইসলাম(২০), সুজন মিয়া(২২), আসলাম(২০), সেলিম হোসেন(১৯), নাজমুল হোসেন(২০) ও আঃ ছালাম(২২) বিভিন্ন সময়ে বেগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে নরদহি বাজারে গিয়ে বিকট শব্দে হর্ণ বাজিয়ে স্থানীয় জনগণ ও বাজারের পাশে নরদহি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বিরক্তি করলে নরদহি পশ্চিমপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় সচেতন মহল প্রতিবাদ করলে বখাটেরা মারপিটের হুমকি দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে এলেঙ্গা থেকে নরদহি যাওয়ার পথে হাতিয়া নামক স্থানে পৌঁছালে ওই বখাটেরা নজরুল ইসলামের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে তার পকেটে থাকা নগদ এক লক্ষ টাকা, একটি স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায় বখাটেরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন নজরুল ইসলামকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় হামলার শিকার নজরুল ইসলামের চাচা লাল চাঁন মন্ডল বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামী করে কালিহাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং-১৭,তারিখ-২৫-০২-২০১৯ ইং।

এব্যাপারে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মোশারফ জানান, নজরুল ইসলামের চাচা লাল চাঁন মন্ডল বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করলে আসামী জাহিদুল ইসলামকে আটক করে ২৬ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯

ফাঁসি কার্যকরের আগে ‘হৃদয়বিদারক চিঠি’ ৯ তরুণের

গত ২০ ফেব্রুয়ারি মিশরে এক আইনজীবী হত্যার দায় চাপিয়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের ৯ তরুণের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। এরপর থেকেই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিরা এই দণ্ড কার্যকরে তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে।

এই ইস্যুতে মিশরের স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে রীতিমতো একহাত নিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ান ।

অ্যামনেস্টি বলেছে, ফাঁসি কার্যকরের আগে ওই তরুণদের কারাগারে দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় ধরে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়।

কোমল শরীরে লাগাতার শাস্তি প্রয়োগের পর ওইদিন ভোরের প্রথম তিন ঘণ্টার মধ্যেই তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এর মধ্যদিয়েই শেষ হয়ে যায় ৯ তরুণের জীবন-সফর। আর তারা একত্রে আরোহন করে বেদনার কফিনে, রেখে যায় কেনানার ভূমিতে মৃত্যুদণ্ডের জন্য প্রত্যয়িত ফতোয়া কর্তৃপক্ষ, রাজনীতি ও বিচার বিভাগের মুখে একটি বিশাল প্রশ্ন।





নিহত যুবকদের বসবাস ছিল মিশরের বিভিন্ন অঞ্চলে। এমনকি তাদের শিক্ষা অর্জনের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনও ছিল আলাদা। কিন্তু, শেষযাত্রা হলো একসঙ্গে, মিশরের গোরস্থানে। দেশটির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হিশাম বারাকাতকে হত্যার অভিযোগ আনা হয় এই ৯ তরুণের বিরুদ্ধে। সিসি সরকারের আজ্ঞাবহ এই অ্যাটর্নি জেনারেল ২০১৫ সালে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় এক গাড়িবহরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ হারান।

সিসির হীন আক্রোশের নির্মম শিকার নয় তরুণ হলেন— আহমাদ ত্বহা ওয়াহদান, আবুল কাসিম আহমাদ, আহমাদ জামাল হিজাযী, মাহমুদ আল-আহমাদী, আবু বকর আস-সাইয়্যেদ, আব্দুর রহমান সুলাইমান, আহমাদ মুহাম্মাদ আহমাদ মাহরুস সাইয়্যেদ ও ইসলাম মুহাম্মাদ।

এই নয়জন আরও সে সকল দশক সংখ্যার মধ্যে যুক্ত হলেন, সিসির পাঁচ বছরে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ১ হাজার ৫৬ জনের মধ্যে যাদের রায় কার্যকর করা হয়েছে। তারা রাবেয়া ও তাহরির স্কয়ারে নৃশংস গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া শতশত অভিযুক্ত নিরীহ মিশরীর পক্ষে তাদের জীবনের যাত্রা বন্ধ করার চূড়ান্ত বিচারে ১৯ জন বিচারপতির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।





মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার আগে তারা প্রত্যেকেই নিজের পরিবারের কাছে লিখেছেন নিজেদের অন্তিম অনুভূতির কথা। আল-জাজিরা সে চিঠিগুলো প্রকাশ করে, যা পড়ে হৃদয় ভিজে যেতে বাধ্য এবং প্রাণোদ্দীপক এসব চিঠি পড়ে কেঁদেছেন অসংখ্য মানুষ।

৯ তরুণের একজন আহমদ ত্বহা ওয়াহদান। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের গাইডেন্স ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ ত্বহা ওয়াহদানের ছেলে। তিনি মৃত্যুদণ্ডের আগ মুহূর্তে চিঠি লিখেছেন তার মেয়েকে উদ্দেশ্য করে।

তিনি লিখেছেন, ‘আম্মুজান, তুমি আমার ভালোবাসা, আমার কলিজার টুকরো। কখনো ভেব না যে, তোমার বাবা অপরাধ করেছেন। তোমার বাবা তোমার নিরাপত্তা চেয়েছেন। কেয়ার করে এমন রাষ্ট্র তৈরি করতে চেয়েছেন। বড় কারাগারে থাকেন, এটা চাননি। আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও মা।

পৃথিবী থেকে বিদায়ের আগে একবারের জন্যও তোমাকে বুকের মাঝখানটায় চেপে ধরতে পারলাম না। তোমার কোমল পবিত্র কপালে চুমু খেতে পারলাম না। তবে, জান্নাতের দরজায় সাক্ষাতের অপেক্ষায় থাকব, মামণি। সেখানে কোনো বিদায় ও বিচ্ছিন্নতা নেই। আম্মুজান, আমার ভালোবাসা সব সময় তোমার সঙ্গে থাকবে।’





অ্যাটর্নি জেনারেল হিশাম বারাকাত নিহত হওয়ার পর যখন ত্বহা বন্দি হন, তার স্ত্রী ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। তিনি কারান্তরীণ হবার এক মাস পর স্ত্রী একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কন্যার সঙ্গে এই ক’বছরে তার দেখা হয়েছে সাকুল্যে দু’বার। একবার কোর্টে বিচার চলাকালীন কন্যার মা কন্যাকে উঁচু করে দেখান। তিনি তখন কাঠগড়ায়।

আরেকবার কোর্টেই, মেয়ের যখন দাঁত গজাচ্ছে, স্ত্রী মেয়েকে দেখিয়ে ইশারায় বোঝান, মেয়ের দাঁত গজাচ্ছে।

আহমদ ত্বহা আনন্দিত হয়ে জেলের শিকের ভেতর থেকে হাত দিয়ে লাভ বানিয়ে দেখান। বন্দি থেকেও কী নিদারুণ আনন্দ তখন ঝরে পড়ছিল তার চেহারা থেকে, সাংবাদিকদের তোলা সেই ছবি দেখলেই বোঝা যায়।

৯ তরুণের প্রতিটা চিঠিই এমন হৃদয়বিদারক। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান সিসিকে অমানুষ হিসেবে অভিহিত করেছেন।





শনিবার সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘সিসির মতো অমানুষের সঙ্গে তিনি কখনোই আলোচনায় বসবেন না।’

ব্রাদারহুডের এই তরুণদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এরদোগান আরও বলেন, ‘মিশর সরকার-প্রধান হয়তো বলতে চাইবে আদালত তাদের (৯ তরুণ) সাজা দিয়েছে। কিন্তু, দেশটিতে আদালত, বিচারবিভাগ ও নির্বাচন সব অর্থহীন। একজনের হুকুমে চলে। দেশটিতে একনায়কতন্ত্র ও সর্বাত্মকবাদ চলছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সব রাজবন্দির মুক্তির দাবি জানাই।’

ঘাটাইলে সন্ত্রাসী কায়দায় তিন ছাত্রকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগে মামলা

কৌশলে ডেকে নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় নবম শ্রেণীর তিন ছাত্রকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগে থানায় মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পৌরসভার পশ্চিম পাড়া এলাকার ঝলক ইট ভাটায়।

জখম প্রাপ্তরা হচ্ছে- চান্দশী গ্রামের শহিদুল ইসলাম খানের ছেলে নাফিউল হাসান (১৪),ঘাটাইল পৌরসভার পশ্চিম পাড়ার শামছুল হুদা চৌধুরীর ছেলে জামাল (১৫), পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত মোতালেব হোসেনের ছেলে পিয়াস (১৪)। এদেরকে প্রথমে ঘাটাইল থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামালার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারী বিকেলে নাফিউল হাসান ও তার দুই বন্ধুকে পৌরসভা ফতের পাড়া ব্রীজপাড় থেকে ডেকে ঝলক ইটভাটায় নিযে যায়। ভাটার অফিস কক্ষে আটকিয়ে তিন বন্ধুকে বেধরক পিটানো হয়।

এ ঘটনায় নাফিউল হাসানে বাবা শহিদুল ইসলাম খান বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ ও আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামী করে গত ২১ ফেব্রুয়ারী ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আসামীরা হচ্ছে- দক্ষিণপাড়া গ্রামের আঃ সালেমের ছেলে মো.আতিক (২৪),সাবেক মেয়র আঃ রশিদ মিয়ার ছেলে মো.রফিক মিয়া, তার ছেলে আদিব হোসেন (১৯) এবং ফুলহারা গ্রামের নজরুল। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক মো.শাহিন মিয়া বলেন, মামলাটি তদন্তধীন আছে। আমাসী ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।