তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় তলা থেকে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন নডরডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র আজমাল মাহমুদ। শিক্ষক সুশান্তের চরম অপমানে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে পুলিশকে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে নডরডেম কলেজ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) আজমাল মাহমুদের জ্ঞান ফিরলে লিখিত জবানবন্দি দেন তিনি। তবে তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নয়।
জবানবন্দিতে তিনি লেখেন, ফান করতে গিয়ে ভুলবশত ফ্রেন্ড নীলের মুখে বোতল লেগে ঠোঁট ফুলে যায়। তাকে আমি নিজেই গাইডেন্সের অনুমতি নিয়ে মেডিকেলে নিয়ে যাই। নীলের তেমন কিছু না হলেও আমি তাকে জোর করেই মেডিকেলের যাই। বিষয়টি ক্লাস ক্যাপ্টেন ওয়াফি দেখে ফেলার পর সে ক্লাস রুমে যেতে বলে। নীলকে গাইডেন্সে দিয়ে ক্লাসে গেলে পরে সেখান থেকে আমাকে ডেকে নেয় হয় গাইডেন্সে।
আমাকে ডুকতে দেখেই ফাদার সুশান্ত বহিষ্কারের হুমকি দেয়। নীল আমার কোন দোষ নেই বললেও তিনি তাতে কর্ণপাত না করে আমাকে গালাগাল দিতে থাকে। অন্য আরও গার্ডিয়ান, স্টুডেন্ট আর স্টাফদের সামনে আমাকে চরম অপমান করে।
এসময় ফাদার সুশান্ত বলেন, ‘চুপ করো ফাজিল ছেলে। সাধু সাজার চেষ্টা করো না। তুমি যে কে, কেমন ছেলে সেটা তোমাকে দেখেই বুঝেছি আমি। এই কলেজ তোমার জন্য না। এইসব গুন্ডাবাজি, মারামারি অন্য কলেজে গিয়ে করো করবা।’
সাবেক স্কুল সেন্ট যোসেফ হওয়ায় তিনি বলেন, সেন্ট যোসেফের ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ভালো। ১ শতাংশ খারাপ, আর সেইটা হলো তুমি।
জবানবন্দিতে তিনি আরও লেখেন, প্রেম করি না জানতে পেরে ফাদার হাসতে হাসতে বলেন, তোমার মতো ছেলেদের মানুষ হিসেবে গণ্য করা যায় না। জন্তুর মতো তুমি। আনকালচারাল, বেয়াদব আর স্বার্থপর। তোমার মতো ছেলেরাই সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তোমার বেঁচে থাকা, তোমার পরিবারের লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এতো কিছু শুনে ঠিক থাকতে পারিনি। মাথা ঘুরে চোখে চারদিক ঝাপসা দেখছিলাম। স্টাফের একটি কথার উত্তরে ফাদার হাসতে হাসতে বলেন, মরতে হলে বা অজ্ঞান হলে এমনিতেই হতো। যারা এমন নাটক করে তারা আসলে কিছু করে না। ওদের সাহস নেই। পরের দিন গার্ডিয়ান নিয়ে দেখা করতে বলে। মায়ের অপমান দেখা আমার পক্ষে সম্ভব না। তখন বারান্দার রেলিং টপকে ঝাপ দেই।
আজমাল মাহমুদের পিতা টিটু বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমার ছেলে সেন্ট যোসেফে ভদ্রতার জন্য পুরষ্কারও পেয়েছে। তাকে ভদ্রতার সনদও দিয়েছে। সে সেন্ট যোসেফের ফার্স্ট বয় ছিল। এরপরও এতো ছোট একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফাদাররা এমন না বলতেও পারতেন।
তিনি আরও বলেন, এ কলেজে শিক্ষকদের অপমান সহ্য করতে না পেরে আগেও শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করেছে। তারা নানাভাবে শিক্ষার্থীদের অপমান করে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরাই সহ্য করে থাকে অনেকেই সহ্য করে থাকতে পারে না বলে অনেকই আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেয়। আমার ছেলেকে ফাদার সুশান্ত আত্মহত্যা জন্য উসকানি দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই। এ ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকটা খেয়াল রাখা উচিত।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে মতিঝিল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, এখানে শিক্ষক ছাত্রকে একটু কড়া ভাষায় কথা বলায় ঘৃনায় ছাত্র আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এর বেশি কিছু নয়। তারপরও বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব। যতটুকু সম্ভব আইনি সেবা দেয়ার চেষ্টা করব।
এ বিষয়ে নটরডেম কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷