রবিবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

ঘাটাইলে দুই ভাইয়ের লড়াই

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দুই ভাই। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার পিতা টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান। আর বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক প্রতি মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ। আসনটিতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী থাকলেও মূলত লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীককে ঘিরেই।



ঘাটাইল আসনে সংসদ সদস্য রানার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তার পিতা আতাউর রহমান আছেন অনেকটা শক্ত অবস্থানে, এমনটাই মনে করেন তার দলের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী প্রচারণায় বাঁধা দেওয়া, গায়েবী মামলা, হামলার ও পুলিশি হয়রানীর অভিযোগ জানাচ্ছেন টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে।



টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় ঘাটাইলের দুইবারের এমপি রানা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ঘাটাইলে রানার ব্যাপক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আসনটি ধরে রাখতে তৎপর আওয়ামী লীগ। প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়া আতাউর রহমান খানের বড় ভাই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠনক প্রয়াত শামছুর রহমান খান শাহজাহান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৭০, ১৯৭৩ ও ১৯৮৬ সালে এমপি নির্বাচিন হন।



অন্যদিকে, এখানে বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদেরও ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগে ঘাটাইল থানার ওসি মাকসুদুুল আলম ও ঘাটাইলের ধলাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিরুল ইসলামকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ। শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। এ আসনে লুৎফর রহমান খান আজাদ ধানের শীষ প্রতীকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শামসুর রহমান খান শাহজাহানকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন।



নির্বাচনী এলাকার শহর গ্রাম গঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকরা স্বতঃস্ফূর্ত নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই। আতাউর রহমান ঘাটাইলের দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করে আলাদা একটা ইমেজ তৈরি করতে সমর্থ হয়েছেন। অপরদিকে, ঘাটাইলে বিএনপি প্রার্থী নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন দ্বিধাবিভক্তি না থাকলেও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনা বিএনপি প্রার্থীকে বেশ বেকায়দায় ফেলেছে বলে মনে করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।



আগামীকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। এখন কার গলায় উঠবে বিজয়ের মালা তাই দেখার অপেক্ষায় শান্তিপ্রিয় রাজনৈতিক সচেতন ঘাটাইলবাসী।



এই আসন থেকে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী আবু হানিফ (ফুলের মালা) আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ ছাড়া এই আসনে আরো ৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। এরা হলেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী এসএম চাঁন মিয়া (আম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী রেজাউল করিম (হাত পাখা), জাকের পার্টির প্রার্থী খলিলুর রহমান (গোলাপ ফুল), বিএনএফ এর প্রার্থী আতাউর রহমান খান (টেলিভিশন)।



টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) অাসনে পৌরসভা ১টি, ইউনিয়ন ১৪টি, ভোট কেন্দ্র ১১৯টি, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৭ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৯ জন, মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৬ জন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷