রবিবার, জানুয়ারি ০৬, ২০১৯

বিতর্ক নেই, তবুও বাদ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার জন্য ৪৬ জনের নাম ঘোষণা করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্যে মন্ত্রী ২৪ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৯ জন ও উপমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন ৩ জন। এবারের মন্ত্রিসভায় পুরনো কয়েকজন মন্ত্রী যেমন দায়িত্ব পেয়েছেন তেমনি নতুন অনেক সদস্যও জায়গা করে নিয়েছেন। তবে কোনো বিতর্ক না থাকা সত্ত্বেও বাদ পড়েছেন বেশ কয়েকজন পুরনো মন্ত্রী।

বেগম মতিয়া চৌধুরী

এবারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে মতিয়া চৌধুরী কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। নিষ্ঠাবান এবং সৎ মন্ত্রী হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। কিন্তু তবুও তার বাদ পড়াটা এবার চমক হয়েই এসেছে।

আসাদুজ্জামান নূর

আসাদুজ্জমান নূর দশম জাতীয় সংসদে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয় এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মন্ত্রী হিসেবেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। কোনো বিতর্কে তার নাম না জড়ালেও এবারের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন তিনি।

মির্জা আজম

মির্জা আজম সর্বশেষ মন্ত্রিসভায় পাট মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বেশ বিচক্ষণতার সঙ্গেই তিনি তার কাজ সামলেছেন বলে জানা যায়। কিন্তু এবারের মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি তার।

ইসমত আরা সাদেক

দশম জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ইসমত আরা সাদেক। তিনিও বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকেই তার দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এবারের মন্ত্রিসভায় জায়গা হারিয়েছেন তিনি।

মেহের আফরোজ চুমকি

নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন মেহের আফরোজ চুমকি। তিনিও বেশ দক্ষতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক না থাকলেও এবারের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন তিনি।

শনিবার, জানুয়ারি ০৫, ২০১৯

অঝোরে কাঁদলেন সৈয়দ আশরাফের সহযোদ্ধারা

রাজনীতিতে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন তার অগ্রজ অভিভাবক, দীর্ঘদিনের সহকর্মী। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় প্রধান বা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আশরাফ যে দায়িত্ব সামলাতেন, সে দায়িত্বই এখন তার কাঁধে। মুক্তিযুদ্ধকালীন রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে আশরাফের সঙ্গে যে স্মৃতি জমেছিল, সেই স্মৃতি হৃদয়পটে ভেসে উঠতেই কেঁদে ফেললেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কাদেরের পাশাপাশি আশরাফের স্বজনদের কান্নায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের অন্য নেতাকর্মীরাও।

শনিবার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইট ‘মেঘদূত’যোগে ব্যাংকক থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ। তার মরদেহ নিতে মরহুমের স্বজন এবং মন্ত্রী-নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন কাদের।



মেঘদূত রানওয়েতে অবতরণ করার আগেই দলীয় নেতাকর্মী ও সৈয়দ আশরাফের স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে রানওয়ের পাশে এসে দাঁড়ান ওবায়দুল কাদের। বিমানের কার্গো ভোল্ট থেকে মরদেহ নামানোর পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অন্য সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সৈয়দ আশরাফের কফিন জাতীয় পতাকা মুড়ে দেন ওবায়দুল কাদের। এরপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এক পর্যায়ে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি। কেঁদে ফেলেন অঝোরে। পাশে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের সান্ত্বনাও থামাতে পারছিল না দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিভাবক হারানোর এই বেদনা।


বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে আসার পর সৈয়দ আশরাফ সম্পর্কে সাংবাদিকেরা মন্তব্য জানতে চাইলে প্রথমদিকে তাও বলেননি ওবায়দুল কাদের। বিষয়টিকে এড়িয়ে প্রতিবারই তিনি বলেছেন, এই কয়েকদিনে অনেকবার এই বিষয়ে কথা বলেছি। তার বিষয়ে কথা উঠলেই খারাপ লাগে। তাই আজ আর কিছু বলতে চাই না।

দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে গত ৩ জানুয়ারি ব্যাংককের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সৈয়দ আশরাফ। সেখান থেকে তার মরদেহ মেঘদূতযোগে ঢাকায় আনা হয়। বিমানবন্দর থেকে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার বেইলি রোডের বাসায়।

বাড়ির ভেতরের খোলা জায়গায় সামিয়ানা টাঙিয়ে অস্থায়ী মঞ্চ করে সেখানে সৈয়দ আশরাফের কফিন রাখা হয়। এরপর সারি ধরে দাঁড়িয়ে তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ, যাদের মধ্যে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা শ্রেণির পেশার মানুষ ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক প্রয়াত নেতার কফিনে ফুল দেন।

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান নওফেল, উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ, সংসদ সদস্য আসলামুল হক ও সাদেক খানসহ অনেক নেতাই উপস্থিত হন শ্রদ্ধা জানানোর মিছিলে।

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ এই নেতাদের অধিকাংশই বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন সৈয়দ আশরাফের মরদেহ গ্রহণের জন্যে।



আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফ জনপ্রশাসন মন্ত্রী ছিলেন। তার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক শ্রদ্ধা জানাতে এসে অশ্রুসজল হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আমি আশরাফ ভাইয়ের সঙ্গে যে কয় দিন কাজ করেছি দুজনের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না। আমার আর উনার মতামতে মিল ছিল সব সময়ই। তিনি একজন অমায়িক মানুষ ছিলেন। উনি এতই ভালো মানুষ ছিলেন যে, পূর্ণমন্ত্রী হয়ে আশরাফ ভাই মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার পর যতো দিন আমার নতুন অফিসে মালামাল গোছানো না হয়েছে ততো দিন তিনি নিজের রুমে বসেননি। আমি আমার কক্ষে বসার পর থেকে তিনি ওই কক্ষে বসতেন। উনার গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি অত্যন্ত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সাহসী মানুষ ছিলেন।

বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে নিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমাগারে রাখা হয়েছে আশরাফের মরদেহ। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে। এরপর হেলিকপ্টারে করে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তার জেলা কিশোরগঞ্জে। দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে সৈয়দ আশরাফের দ্বিতীয় জানাজা হবে।

এরপর তৃতীয় নামাজে জানাজা দুপুর ২টায় ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাঁ মাঠে সম্পন্ন হবে। সেখান থেকে মরদেহ ঢাকায় নিয়ে এসে বাদ আসর বনানী কবরস্থানে দাফন হবে সৈয়দ আশরাফকে।

যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের টরেন্সে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুলিতে আহত হয়েছেন আরো কমপক্ষে চারজন। শনিবার স্থানীয় সময় সকালের দিকে লস অ্যাঞ্জেলস পুলিশ বলছে, তারা সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, লস অ্যাঞ্জেলসের গ্যাবল হাউস বৌলে মারধরের এক ঘটনার পর গোলাগুলি হয়েছে।

টরেন্সের পুলিশ বিভাগ বলছে, ওই এলাকায় গুলিতে বেশ কয়েকজনের হতাহতের খবর টেলিফোনে পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। দু’জন অন্যত্র চিকিৎসা নিতে চাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে গুলিতে মারা গেছে তিনজন।

পুলিশ বলছে, গোলাগুলির ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তারা ফলো-আপ তদন্ত শুরু করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে কাজ করছেন তারা। গোলাগুলির আগে ওই প্রতিষ্ঠানে কথা কাটাকাটির জেরে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাচনে কী করবে বিএনপি?

আগামী মার্চ মাস থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপজেলা নির্বাচন। সংসদের পর উপজেলা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সারাদেশে কোন প্রতিনিধি থাকলো না। মাত্র ৫ টি আসনে জয় পেয়েছে। সেখানে বিএনপি আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে কতটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিবে। বিএনপি কী করবে? জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপির সামনে নিজেদের প্রমাণ করার আরও একটি পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। তার জন্য বিএনপি কতটা প্রস্তুতি নিচ্ছে তা নিয়ে তৃনমূল নেতাকর্মীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে। 

জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী আওয়ামী লীগের অবস্থান এবং বিএনপির নাজুক পরিস্থিতিতে তৃনমূল নেতারা অংশ নিতে চাচ্ছে না বলেই জানা যাচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে জোটের অধিকাংশ শীর্ষ নেতাও বর্জনের পক্ষে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই আনুষ্ঠানিক বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বিএনপি জোট। বিএনপির ঘনিষ্ঠসূত্রগুলো বলছে, জাতীয় নির্বাচন বিএনপিকে পুরোপুরি ভেঙ্গে দিয়েছে। বিএনপির এখন একটি নির্বাচন মোকাবেলা করার মত সামর্থ্য নেই বললেই চলে। কারা একটা সমাবেশ পর্যন্ত করতে ইচ্ছুক নয়।

সূত্র জানায়, দলের প্রার্থী ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা এখন ক্ষুব্ধ হাইকমান্ডের ওপর। নির্বাচনের আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলুর ফাঁস হওয়া ফোনালাপেও নির্বাচন বর্জনের কথা উঠে আসে। কিন্তু বর্জনের ঘোষণা আসেনি। শেষপর্যন্ত বিএনপির এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীও প্রকাশ্যেই হাইকমান্ডকে ভোট বর্জনের অনুরোধ করেন।

অপরদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন মার্চ থেকে উপজেলা নির্বাচন শুরুর ঘোষণা দেওয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নড়েচড়ে বসেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও এলাকায় তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। তবে বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা উপজেলা নির্বাচন নিয়ে নীরব।

বর্তমানে সারাদেশে ৪৯৪ উপজেলার মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের দেড় শতাধিক উপজেলা চেয়ারম্যান রয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন দুই শতাধিক। গত উপজেলা নির্বাচনে বেশিরভাগ এলাকাতে বিএনপি ও জামায়াত পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

ইসি কর্মকর্তা ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, মার্চে উপজেলা নির্বাচন করতে হলে, জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকেই তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পরই উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ছয় ধাপে ওই নির্বাচনের ভোট হয়। সে সময় ছয় ধাপে ৪৮৭টিরও বেশি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে গতবার নির্দলীয়ভাবে উপজেলার নির্বাচনে ভোট হলেও এবার হবে দলীয় প্রতীকে। যেসব উপজেলা পরিষদের মেয়াদ জুলাই মাসে শেষ হচ্ছে ওই সব উপজেলার নির্বাচন ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। জুলাইয়ের পরে যেসব উপজেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে সেগুলোর নির্বাচন পরে সুবিধাজনক সময়ে ঘোষণা করা হবে।

দেশে ফিরেছে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ


আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহ দেশে ফিরেছে।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় সৈয়দ আশরাফের মরদেহ বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা মরদেহ গ্রহণ করেন।

আগামীকাল দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহে দ্বিতীয় জানাজা এবং দুপুর ২টায় ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহে শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ বাদ আসর বনানী কবরস্থানে এই নেতাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

ঘাটাইলে আলোচনায় শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় প্রার্থী নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানান দিচ্ছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম কর্মী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অনেকেই আগাম শুভেচ্ছা ও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।


২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম খান সামু । তিনি এ উপজেলায় তিন বারের চেয়ারম্যান নির্বাচিত। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা তেমন ভাল নয়, তাই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে আগ্রহী নন বলে তিনি জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রায় ৫শ উপজেলায় নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশিন (ইসি)। ফেব্রুয়ারির প্রথমদিকে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার আগেই টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় নেতাদের নাম শোনা যাচ্ছে । এদের মধ্যে ঘাটাইল উপজেলা ছাত্রলীগ,ছাত্রলীগ থেকে যুবলীগ, যুবলীগ থেকে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা মো. শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস এর নাম সর্বাধিক আলোচনায় উঠে এসেছে। উপজেলা নির্বাচনে তিনিই চেয়ারম্যান হবেন এমনটি প্রত্যাশা করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শামছুর রহমান খানের রাজনীতি থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত খান পরিবারের ঘাটাইলের কান্ডারী শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি জামুরিয়া মডেল ইউনিয়নের সফল চেয়ারম্যান হিসেবে গত ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন।এসময় তিনি রাষ্ট্রীয় গোল্ডমেডেল এবং মাদক মুক্ত ইউনিয়নের স্বীকৃতি পান ।

এদিকে ফেসবুক স্ট্যাটাসে শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংসকে নিয়ে রীতিমত হইচৈই পড়েছে সারা ঘাটাইলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে । ফেসবুক স্ট্যাটাসে তারা উপজেলা পরিষদের আগামি চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে দেখতে চান।


ছাত্রজীবন থেকেই মো. শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী থেকে নেতার পরিচিতি লাভ করেছেন এবং খান পরিবারের রাজনীতির সাথে সক্রিয় ভাবে সম্পৃক্ত। দুদির্নেও তিনি হাল ছাড়েননি দল থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি। সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছেন। এবার তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হবেন এমনটিই প্রত্যাশা করেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ঘাটাইলস্থ আহবায়ক সিনিয়র সাংবাদিক সাইয়্যিফ মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মো. শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনমানুষের যে সাড়া পাচ্ছি তাতে দল যদি আমাকে প্রার্থী করেন তাহলে সহজেই জয় লাভ করতে পারব।

ঘাটাইলে সৈয়দ আশরাফ স্বরণে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল

রাজিবুল ইসলাম রিয়াজ, ঘাটাইল : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্মরণে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউয়িনয়ন ছাত্রলীগের উদ্যোগে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৪ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার লক্ষ্মীন্দর প্রাইমারী স্কুল মাঠে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আজ শুক্রবার ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে উপজেলা ও লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ বর্ণাঢ্য কর্মসূচী হাতে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় নির্দেশে সকল কর্মসূচী প্রত্যাহার করা হয়। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা পরিণত হয় শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে। এরই ধারাবাহিকতায় সকল কর্মসূচী স্থগিত শোক সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়।
শোক সভায় সৈয়দ আশরাফের স্মৃতি চারন করে তার জীবনী সম্পর্কিত আলোচনায় অংশ নেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন, ঘাটাইল উপজেলা শহীদ বাপ্পী স্মৃতি সংসদের সভাপতি আবু সোয়েব (ডন), লক্ষিন্দরের ইউপি চেয়ারম্যান একাব্বর আলী, সাগরদিঘী বনিক সমিতির সভাপতি জনাব এসকান্দর হক, আরমান, আবু হানিফ, হারুন, বাবুল খান, ডাঃ মতিয়ার রহমান, ছাত্রলীগ নেতা সজীব প্রমুখ।

এ সময় শোক সভায় ঘাটাইল উপজেলা ও লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দোয়া মাহফিল শেষে তবারক বিতরণের মাধ্যমে শোক সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

শুক্রবার, জানুয়ারি ০৪, ২০১৯

বাসাইলে টেলিভিশনই শিশুটির মৃত্যুর কারণ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে টেলিভিশনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জিহাদ (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বাসাইল পৌর এলাকার পূর্ব নয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিহাদ ওই এলাকার মহর আলীর ছেলে।

বাসাইল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহানুর রহমান জুয়েল জানান, টেলিভিশনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে শিশুটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এ ঘটনায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর চাচা কুরবান আলী জানান, জিহাদকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বাসাইল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়েছিল। এ অপমৃত্যুর কারণে তার আর বিদ্যালয়ে পড়া হলো না। নিহত শিশু জিহাদের ছোট প্রায় তিন বছর বয়সের আরেকটি ভাই আছে বলেও জানান তিনি।

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা নিহত

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় বাদল মিয়া (৪০) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নগর জলফই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বাদল মিয়া নগর জলফই এলাকার মৃত জহিরুল মাস্টারের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল পূর্বাঞ্চল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট রাজন দত্ত বলেন, শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহর থেকে বাদল মিয়া মোটরসাইকেলযোগে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তিনি নগর জলফই এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাদল নিহত হয় এবং একজন আহত হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে আহতকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে এবং নিহতের লাশ মর্গে পাঠায়। পুলিশ ঘাতক বাসটিকে জব্দ করলেও চালক পালিয়ে যায়।

রাজশাহীতে শৈত্যপ্রবাহে স্থবির জনজীবন

রাজশাহীর ওপর দিয়ে এখন বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ভোরে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও কম তাপমাত্রায় স্থবির হয়ে উঠছে জনজীবন। বেলা বাড়ার পরও সূর্য উত্তাপ না ছড়ানোর কারণে কমছে না শীত। আবহাওয়া অফিস বলছে, এমন অবস্থা বিরাজ করবে আরও কয়েকদিন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানান, রাজশাহীতে এখন দিনের তাপমাত্রা  ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে মধ্যে বিরাজ করছে।

শুক্রবার ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল।

কিন্তু এখন আবার তাপমাত্রা কমছেই। তবে এ মৌসুমে সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিসেম্বর।

এদিকে তাপমাত্রা কমতে থাকায় পদ্মাপাড়ের ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতের তীব্রতায় কাবু হয়ে পড়েছে। উত্তরের হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সকালে ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে ভোরের সূর্যের দেখা মিললেও থাকছে না উত্তাপ।

সন্ধ্যায় খোলা আকাশের নিচে থাকা শীতার্ত মানুষগুলোর শরীরে উষ্ণতা ছড়াতে খড়কুটো জ্বালাতে হচ্ছে।

শীতে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। তারা আক্রান্ত হচ্ছে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে। হাসপাতালে বাড়ছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নবজাতক শিশুর সংখ্যাও।

তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন অ্যাজমায় আক্রান্ত রোগীরা। ফলে শীতে অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে।

রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক আজিজুল হক জানান, শীত বেড়ে যাওয়ায় সব বয়সের মানুষ ঠাণ্ডা জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে ঠাণ্ডা জনিত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এসব রোগীর মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।

ঢাকা আবহাওয়া অফিসের বরাত দিয়ে রাজশাহীর পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, আগামী ৩-৪ দিন শেষে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত রাজশাহী অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। বয়ে যেতে পারে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। এ সময় দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।