আগামী মার্চ মাস থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপজেলা নির্বাচন। সংসদের পর উপজেলা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সারাদেশে কোন প্রতিনিধি থাকলো না। মাত্র ৫ টি আসনে জয় পেয়েছে। সেখানে বিএনপি আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে কতটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিবে। বিএনপি কী করবে? জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপির সামনে নিজেদের প্রমাণ করার আরও একটি পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। তার জন্য বিএনপি কতটা প্রস্তুতি নিচ্ছে তা নিয়ে তৃনমূল নেতাকর্মীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে।
জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী আওয়ামী লীগের অবস্থান এবং বিএনপির নাজুক পরিস্থিতিতে তৃনমূল নেতারা অংশ নিতে চাচ্ছে না বলেই জানা যাচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে জোটের অধিকাংশ শীর্ষ নেতাও বর্জনের পক্ষে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই আনুষ্ঠানিক বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বিএনপি জোট। বিএনপির ঘনিষ্ঠসূত্রগুলো বলছে, জাতীয় নির্বাচন বিএনপিকে পুরোপুরি ভেঙ্গে দিয়েছে। বিএনপির এখন একটি নির্বাচন মোকাবেলা করার মত সামর্থ্য নেই বললেই চলে। কারা একটা সমাবেশ পর্যন্ত করতে ইচ্ছুক নয়।
সূত্র জানায়, দলের প্রার্থী ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা এখন ক্ষুব্ধ হাইকমান্ডের ওপর। নির্বাচনের আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলুর ফাঁস হওয়া ফোনালাপেও নির্বাচন বর্জনের কথা উঠে আসে। কিন্তু বর্জনের ঘোষণা আসেনি। শেষপর্যন্ত বিএনপির এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীও প্রকাশ্যেই হাইকমান্ডকে ভোট বর্জনের অনুরোধ করেন।
অপরদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন মার্চ থেকে উপজেলা নির্বাচন শুরুর ঘোষণা দেওয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নড়েচড়ে বসেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও এলাকায় তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। তবে বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা উপজেলা নির্বাচন নিয়ে নীরব।
বর্তমানে সারাদেশে ৪৯৪ উপজেলার মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের দেড় শতাধিক উপজেলা চেয়ারম্যান রয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন দুই শতাধিক। গত উপজেলা নির্বাচনে বেশিরভাগ এলাকাতে বিএনপি ও জামায়াত পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।
ইসি কর্মকর্তা ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, মার্চে উপজেলা নির্বাচন করতে হলে, জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকেই তফসিল ঘোষণা করতে হবে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পরই উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ছয় ধাপে ওই নির্বাচনের ভোট হয়। সে সময় ছয় ধাপে ৪৮৭টিরও বেশি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে গতবার নির্দলীয়ভাবে উপজেলার নির্বাচনে ভোট হলেও এবার হবে দলীয় প্রতীকে। যেসব উপজেলা পরিষদের মেয়াদ জুলাই মাসে শেষ হচ্ছে ওই সব উপজেলার নির্বাচন ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। জুলাইয়ের পরে যেসব উপজেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে সেগুলোর নির্বাচন পরে সুবিধাজনক সময়ে ঘোষণা করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷