বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নে এক ব্যক্তি খুন

মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন,নিজেস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইল ঘাটাইল উপজেলার  লক্ষীন্দর উইনিয়নের  সানবান্দা বাজারের উত্তর পাশে আলু ক্ষেতের ভিতরে এলাকাবাসী একব্যক্তির লাশ দেখতে পেলে সাগরদিঘী পুলিশ ফাঁড়িতে খবর পাঠায় পরে দুপুর দুইটার দিকে পুলিশ এসে লাশ  উদ্ধার করে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, খুন হওয়া ব্যক্তি মধুপুর উপজেলার মহিষমারা  গ্রামে আতুয়ার । তার পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে প্রতিদিনের মতোই গতকাল বুধবার সকাল দশটার দিকে বাড়ি থেকে বেন গাড়ি চালানোর জন্য বের হয়ে আসে

আজকে সকাল পর্যন্ত যখন বাড়িতে ফিরেনি আতুয়ার মিয়া তখন তার পরিবারের লোকজন খুঁজাখুঁজি করে দশটার দিকে জানতে পারে তাঁকে খুন করে ফেলে রাখা হয়েছে,  পরে পরিবারের লোক ঘটনাস্থলে গিয়ে নিশ্চিত হন।

 ঘাটাইল থানা পুলিশ  লাশ মর্গে পাঠিয়েছে।

ঘাটাইলে বাসযোগ্য এলাকায় ইটের ভাটা, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ৫ লাখ মানুষ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা এখন ইটভাটার নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৫ লাখ মানুষের বসবাসকারী এ এলাকাতে গড়ে উঠেছে ২২টি ইটের ভাটা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গড়ে উঠা এসব ইটভাটা স্ব-মহিমায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসব ভাটার কালো বিষাক্ত ধোয়ায় স্বাস্থ্য ঝুকিতে উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ। বেড়ে চলেছে বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ, শ্বাস কষ্ট ও ক্যান্সারের মত মহামারি ব্যাধি। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গর্ভধারণ, বাধাগ্রস্থ হচ্ছে শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে উঠা। মানুষের পাশাপাশি রোগাক্রান্ত হচ্ছে গৃহপালিত পশু-পাখি।

এছাড়া অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন মৌসুমী ফল। অথচ উপজেলার শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল।

এলাকার প্রায় প্রতিটি পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ধান, গম, পাট ও অন্যান্য রবি শস্য। এছাড়া অনেকেই বরই ,আম ও বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ইটের ভাটার প্রধান কাঁচা মাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় মাটি। ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেঁটে ইটের ভাটায় বিক্রি করছে এক শ্রেণীর অসাধু মাটি ব্যবসায়ী।

ভাটার কাঁচামালের যোগান দিতে ফসলি জমির টপ সয়েল বা উর্বর মাটি কেটে ফেলায় চাষাবাদের জমি অনুর্বর হয়ে পড়ছে। আর এ মাটি পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে ট্রলি বা ট্রাক্টর। অনুমোদনহীন এ সব ট্রাক্টরের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা। তাছাড়া এ সকল ভাটায় কয়লা পোড়ানোর নিয়ম থাকলেও তারা আইনের তোয়াক্কা না করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে কাঠ। ফলে উজার হচ্ছে বনভূমি।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী বারবার অভিযোগ করেলেও থামেনি নতুন ইটভাটা নির্মাণ কাজ। প্রতি বছরই ভাটা তৈরী করছে এলাকার একশ্রেণীর প্রভাবশালী ইটভাটা ব্যবসায়ী। যে যত প্রভাবশালী তার ইটের ভাটার পরিমাণ তত বেশী। ঘাটাইলবাসী নীরব মৃত্যু নিয়ে এ খেলার অবসান চায়।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য গভেষকগন বলেন, ইটভাটার কালো ধোয়ার ফলে মানুষের এজমা, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট সহ ক্যানসারের মত রোগ হতে পারে। --- ঘাটাইল ডট কম।

বিএনপির সবাইকে জেলে ভরে রাখা উচিত: জয়

নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর পর চালানো তাণ্ডবের ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের জেলে ভরে রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি–বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

বুধবার (১৪ নভেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের ওই ঘটনার একটি সংবাদ শেয়ার করে নিজের ভেরিফাইড পেজে এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জয় লিখেছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হতে না হতেই বিএনপির সহিংসতাও শুরু হয়ে গেছে। ঠিক যেভাবে তারা ২০১৩ ও ২০১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের জীবন্ত পুড়িয়েছিল।

তিনি বলেন, বিএনপিকে কোনোদিক থেকেই আর রাজনৈতিক দল বলা যায় না, তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। কানাডিয়ান ফেডারেল আদালতও একই কথা বলেছে একাধিকবার। তাদের সবাইকে জেলে ভরে রাখা উচিত।

নির্বাচনী আমেজের মধ্যে হঠাৎ করেই বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। দুপুর ১টা থেকে শুরু হওয়া ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে নয়াপল্টন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এতে আহত হয়েছেন পুলিশ, সাংবাদিক, বিএনপি নেতাকর্মীসহ অর্ধশতাধিক। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ভাংচুর করা হয় আরও কয়েকটি যানবাহন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে।

জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের ভাবনা কী?

বাংলাদেশের আসছে সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের সাথে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা নির্বাচনে কীভাবে অংশ নেবেন সেটি বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে। কারণ বিএনপি সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামের নতুন জোটের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি পুরনো ২০ দলীয় জোটও রয়েছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি বাংলা।

সমীকরণ জটিল হওয়ায় আরেকটি কারণ হচ্ছে, বিএনপি ছাড়া জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের অন্য শরীক দলগুলোর জামায়াতে ইসলামী বিরোধী অবস্থান রয়েছে।

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।

মি: আহমদ জানান, বিএনপির মধ্যে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে দুই ধরণের মতামত আছে। একটি অংশ মনে করছে যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচন করলে কোন ক্ষতি নেই। আরেকটি অংশ মনে করে, ধানের শীষ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের নির্বাচন না করাই ভালো। আসন ভাগাভাগির বিষয় নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান এবং মির্জা আব্বাস এ কমিটির সদস্য।আসন ভাগাভাগির প্রশ্নে তারা বিভিন্ন দলের সাথে কথা বলবেন। এরপর সে কমিটি একটি খসড়া তৈরি করে স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠাবে। বিএনপি মনে করছে ১০ শতাংশ নিয়ে জোটের শরীক দলগুলোর সাথে জোরালো দরকষাকষি হতে পারে।

মি: আহমদ বলেন, "যেখানে আমাদের ভালো প্রার্থী আছে সেটাকে আমরা চাইবো না যে বিসর্জন দিতে। একটা বিষয়ে সবাই একমত যে আমাদের এমন প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া উচিত যার জেতার সম্ভাবনা আছে।"
এদিকে আজ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান গত বুধবার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তারা জোটের ভিত্তিতেই নির্বাচনে অংশ নেবেন। জামায়াতের এই নেতা বিবিসি বাংলাকে ধারণা দিয়েছেন যে তাদের ৫০-৬০ জন এবারের নির্বাচনে অংশ নেবেন।

ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সময় বিএনপি'র সাথে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আপত্তি তোলে ঐক্যফ্রন্টের কয়েকজন নেতা। বিএনপি যেন জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা ত্যাগ করে - এমন পরামর্শও দেয়া হয় তাদের।

এরকম পরিস্থিতিতেও কোনো একটি আসনে ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা কাজ করবেন বলে নিশ্চিত করেন মি. রহমান। "একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্যকে যদি সফল করতে হয় তাহলে সবাইকে বড় মনের পরিচয় দিতে হবে", বলেন মি. রহমান।

একইভাবে যেসব আসনে জামায়াতের নেতারা প্রার্থিতা করবেন, সেসব আসনে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের কোন ভাবনা নেই বলে উল্লেখ করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা এবং গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী।

এখানে জামায়াতে ইসলামী আসার কোন সুযোগ বা সম্ভাবনা আছে বলে আমরা মনে করছি না। জামায়াতে ইসলামীর দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও তাদের নেতারা নিবন্ধিত দলের প্রতীক কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারবেন।

যেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা প্রার্থী হবে সেখানে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী দেবে কি না? এমন প্রশ্নে সুব্রত চৌধুরী বলেন, "জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যেখানে প্রার্থী দেবে সেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী থাকার কোন প্রশ্নই আসেনা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ৩০০ আসনে সর্বসম্মতভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে।"

মানুষের মনের কথাই বলবে আমাদের ঘাটাইল

নতুন মাত্রায়, নতুন যাত্রায় আরেকটি বছর শুরু হলো। প্রিয় পাঠক, চতুর্থ বর্ষে আজ পা রাখছে আপনাদের প্রিয় পত্রিকা আমাদের ঘাটাইল ডট কম। দেখতে দেখতে তিনটি বছর চলে গেল। ৩ বছর একটি পত্রিকার জন্য অনেক বেশি সময় নয়। আবার কমও নয়। আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, তিন বছরে টাঙ্গাইলের সংবাদপত্রের ইতিহাসে আমাদের ঘাটাইল নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। ইতিহাস সৃষ্টির শুভক্ষণে আপনাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজ থেকে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েই হাজারো মানুষের অনলাইনটির আরও বড় পরিসরের পথচলার দিন।

আমাদের প্রিয় তারুণ্যকে ধ্বংস করে দিচ্ছে সমাজের দুষ্ট চক্র। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি গ্রাস করছে চারপাশ। মানুষের মানবিক মূল্যবোধের জায়গাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। অনিয়মই এখন নিয়ম। অস্বাভাবিকতাকে আমরা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে নিচ্ছি। এখন ভালোকে ভালো বলা যায় না। নষ্টামি, ভণ্ডামি অনেক বেশি প্রাধান্য পায়। মানুষ প্রভাবশালীদের কাছে জিম্মি। তারপরও কারও কিছু বলার নেই। প্রতিবাদ করা এখন অস্বাভাবিকতা। সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বালাই নেই। জীবনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগুলো পঙ্গু হয়ে গেছে। অন্যায়কে এখন আর কেউ অন্যায় মনে করে না। সব কিছুই সবাই সয়ে নিচ্ছেন। প্রযুক্তি মানুষের আবেগ কেড়ে নিচ্ছে। বৈষম্য বাড়ছে মানুষে মানুষে। এই পরিবেশে একটি মিডিয়াকে সামনে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হলেও আমরা সচেষ্ট থাকব কাঠিন্যকে মোকাবিলার জন্য। সমাজের সব অন্যায়-অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সব সময় থাকবে বলিষ্ঠ। আমাদের ঘাটাইল গণমানুষের কথা বলবে, ঘাটাইল উপজেলাবাসীর কথা বলবে। বঞ্চিত মানুষের পাশে থাকবে।

মিডিয়া কখনই কাউকে খুশি করতে পারে না। রবীন্দ্রনাথ কঠিনকে ভালোবেসে ছিলেন। আর লেখনীর জগতে সবচেয়ে প্রতিবাদী মানুষটির নাম নজরুল। কেউ কেউ নজরুলকে এখনো অতি মুসলিম বানানোর চেষ্টা করেন। বাস্তবে কবি নজরুলের চেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ আর নেই। নজরুল লিখেছেন— ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান/মুসলিম তাহার নয়নমণি হিন্দু তাহার প্রাণ।’ এই লেখার পর রক্ষণশীল মুসলিম পত্রিকা নজরুলকে বললেন, ‘কাফের’। আর গোঁড়া হিন্দুরা তাকে বর্জনের ডাক দেন। সত্য শুনতে কারোরই ভালো লাগে না। এই কারণে নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা ধূমকেতু নিষিদ্ধ করেছিল শাসকরা। এখানেই শেষ নয়, তাকে কারারুদ্ধ করে। কিন্তু কারাগারেও নজরুলের কলম থামেনি। তিনি লিখলেন— শিকল পরা গান, সৃষ্টি সুখের উল্লাসের মতো কবিতা। নজরুলকে দিয়েই বোঝা যায় কাজ করতে চাইলে যে কোনো পরিবেশেই করা যায়। আক্ষেপ নেই আমাদের ঘাটাইল ডটকমের। একটা আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। পাঠকের ভালোবাসায় আজ আমরা আকাশ ছুঁয়েছি। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের বলিষ্ঠ অবস্থানের কারণেই। অন্যায়কে আমরা অন্যায় বলতে পারি।

প্রিয় পাঠক, আপনারা জানেন, মিডিয়া চালানো এখন এক কঠিন সংগ্রাম। আমাদের এই প্রয়াস কতটা সফল তার মূল্যায়ন আপনাদের। তবে শেষ চেষ্টাটুকু আমরা করছি। প্রতিনিয়ত মামলা ভয়, ভীতি আছে। কথায় কথায় প্রভাবশালীদের রক্তচক্ষু। মামলা আর গ্রেফতারি পরোয়ানা। তাদের ভাবখানা প্রভাবশালী এমপি অনিয়ম করবেন, কিন্তু তা লেখা যাবে না। লিখলেই মামলা হবে। শুধু এমপি নন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও এখন লেখা কঠিন। কারণ তারাও মামলা করে! অনেক সময় আদালত এসব মামলায় সমনও জারি করে। আবার কখনো ওয়ারেন্টও ইস্যু হয়। হয়রানির এই অবস্থাকে জয় করে সামনে এগিয়ে চলার নামই চ্যালেঞ্জ। আমরা চেষ্টা করছি এই চ্যালেঞ্জ জয় করতে। সব কিছু সম্ভব হবে শুধু পাঠকদের ভালোবাসা অব্যাহত থাকলে।

অন‌্যরকম সূচনায় ৪ বছরে পা রাখল আমাদের ঘাটাইল


আমাদেরঘাটাইল ডট কম’র ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ৪র্থ বর্ষে পদাপর্ণ উপলক্ষ্যে আমাদের ঘাটাইল ডট কম’র পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা।

সংবাদ উপস্থাপনায় ও পাঠক প্রিয়তার মেলবন্ধনের যে যাত্রাপথ শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর, তা আজ ৪র্থ বছরে পদার্পন করেছে আমাদের ঘাটাইল ডট কম।

সকলের আস্থার পাটফর্ম স্থানীয় সাংবাদিকতা ভিত্তিক ঘাটাইলের প্রথম অনলাইন পত্রিকা  আমাদের ঘাটাইল এর ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ। 

আমাদের ঘাটাইল, ঘাটাইল উপজেলা সহ উত্তর টাঙ্গাইলের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা হিসেবে ঘাটাইল বাসীর জন্য শুভেচ্ছার বার্তা নিয়ে এসেছিল। দীর্ঘ এই সময়ে পাঠক সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি বেড়েছে এই পত্রিকার গ্রহণযোগ্যতা।

বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮

শরিকদের ৭৫ অাসন ছেড়ে দেবে অাওয়ামী লীগ

অাওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মহাজোটের শরিকদের ৭৫টি অাসন ছেড়ে দেয়া হবে। জাতীয় পার্টিসহ মহাজোটের শরিকদের তালিকা অনেক অাগেই পেয়েছি। অামাদের দলের তালিকা চূড়ান্ত করছি। এরপর শরিকদের সঙ্গে বসবো।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অাওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


অারেক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, শরিকদের প্রত্যাশা অনেক। অ্যালায়েন্স'র (জোট) বিষয়টি অামরা মাথায় রেখেছি। অল্পদিনের মধ্যেই তাদের সঙ্গে বসে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।

অারেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কপোর্রেশনের পদে থেকে যারা অাবেদন করেছেন তারা মনোনয়ন পাবেন না। বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া দল তাদের মনোনয়ন দেবে না।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কথা উল্লেখ করে অাওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশ এক অদ্ভুত দেশ। এখানে যেমন বিজয়গাথা অাছে, তেমনি বেইমানও কম নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিশ্বাস করলেও অনেকে অাজ সে বিশ্বাস থেকে দূরে সরে গেছে। অনেকে সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে মিশে গেছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে ব্রডগেজ ট্রেন সার্ভিস চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে টাঙ্গাইলবাসীর স্বপ্ন পূরণ হয় গত চলতি মাসের ৮ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)। সেদিন ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু রুটে কমিউটার ট্রেন সার্ভিস উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়।

ঢাকা এবং বঙ্গবন্ধু সেতু (পূর্ব) রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে টাঙ্গাইল কমিউটার-১ ও ২ নামে ১০টি কোচ নিয়ে একজোড়া ট্রেন চলাচলের কথা থাকলেও উদ্বোধনের এক সপ্তাহ না যেতেই কমিউটার ফরমেটের পরির্বতে ৬ কোচের ব্রডগেজ র‌্যাক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এ সার্ভিস।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) থেকে এই সার্ভিসের পরিবর্তন আনা হয়। এ ছাড়া বর্তমানে যে কমিউটার ট্রেনটি রয়েছে তা আজ বুধবার সকাল থেকে ‘তুরাগ এক্সপ্রেস’ তার নিজের র‌্যাক নিয়ে তুরাগ ১, ২, ৩, ৪ হিসাবে পুনরায় ঢাকা-জয়দেবপুর-ঢাকা চলাচল করছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ৬ কোচের ব্রডগেজ ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে ৯টা ৩০ মিনিটে।

আবার ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ছেড়ে আসবে এবং বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব রেলস্টেশনে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে পৌঁছবে।

টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেল স্টেশন মাস্টার মো. জালাল উদ্দিন জানান, ব্রডগেজ ট্রেনটি টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা, মির্জাপুর, কালিয়াকৈর, জয়দেবপুর, বিমানবন্দর ও কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে স্টপেজ দেবে।

এ ছাড়া এ ট্রেনে শোভন দুটি, শোভন চেয়ার একটি, ফার্স্টক্লাস একটি, পাওয়ার কার একটি এবং লাগেজ ভ্যান প্লাস গার্ড ব্রেক একটি র‌্যাক থাকবে।

ব্রডগেজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রুটের ভাড়াও বেড়েছে বলেও জানান মাস্টার মো. জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব স্টেশন থেকে শোভন কোচ এর ভাড়া ১১৫ টাকা, শোভন চেয়ার ১৩৫ এবং ফার্স্টক্লাসে ১৮০ টাকা, ঘারিন্দা রেলস্টেশন থেকে শোভন কোচের ভাড়া ৯৫ টাকা, শোভন চেয়ার ১১৫ এবং ফার্স্টক্লাসে ১৫৫ টাকা এবং মির্জাপুর থেকে শোভন কোচের ভাড়া ৭০ টাকা, শোভন চেয়ার ৮৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, এই ট্রেন সার্ভিস চালুর মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলবাসীর একটি স্বপ্ন পূরণ হলো। এজন্য আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। টাঙ্গাইলবাসীর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

টাঙ্গাইলে ৪৭ টি চুলার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

টাঙ্গাইল ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪ টি বাসার ৪৭টি চুলার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া ও কোদালিয়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান এবং সুচি রানী সাহা নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।



এ ব্যাপারে আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সাবালিয়া এলাকার ছানোয়ারা বেগম ও কোদালিয়া এলাকার শাহজাহান মিয়া, জাহেদা খাতুন, মেহের আফরনের বাসায় অভিযান চালিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ৪৭টি অবৈধ গ্যাসের চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ ধরনের অভিযান আমাদের অব্যাহত থাকবে।

এ সময় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড টাঙ্গাইলের সহকারি ব্যবস্থাপক (রাজস্ব) তৌফিকুর রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পল্টনের ঘটনা পরিকল্পিত, সরকারের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘পল্টনের ঘটনা সরকারের পরিকল্পিত। সরকারের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে।’

দুপুরে সংঘর্ষের পর বুধবার (১৪ নভেম্বর) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

একই সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারের নির্দেশে বিনা উসকানিতে পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ করেছে।

রিজভী বলেন, ‘আমরা শান্তির পক্ষে। সরকারের নির্দেশে পুলিশ বিনা উসকানিতে এই আক্রমণ করেছে। তারপরও আমরা অশান্তির পথে হাঁটব না। সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দেব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপনাদের শান্ত হতে বলেছেন। আপনারা রাস্তা ছেড়ে ফুটপাতে বসে পড়ুন। এটা তারেক রহমানের নির্দেশ। সরকারের কোনো উসকানিতে পা দেবেন না। আপনারা শান্ত হোন।’

দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। পুলিশের গুলি, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও লাঠিপেটায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নেতাকর্মীদের পাল্টা হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। দুপুর ১টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। পুরো নয়াপল্টন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। নেতাকর্মীরা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা বর্তমানে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে আছে। মাঝেমধ্যে তারা স্লোগান দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। পুলিশ জোনাকি সিনেমা হলের সামনে ও দৈনিক বাংলা মোড়ে অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে, সংঘর্ষের কারণে নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। ঝাড়ু হাতে নিয়ে মিছিল করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।