রবিবার, আগস্ট ১৯, ২০১৮

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে সেপ্টেম্বরে

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট ২০০৪ সালের এই দিনে ব্যক্তি আক্রোশে নারকীয় হামলা চালায়। উদ্দেশ্য হাসিলের এই ঘৃণ্যতম অপরাধে জড়িতদের বিচার এখন সময়ের দাবি। আর সে লক্ষ্যে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে দ্রুতগতিতে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই মামলার চূড়ান্ত রায় পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। সমাবেশের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে একটি ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে তিনি ২০ মিনিটের বক্তৃতা শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দেন। বক্তৃতা শেষে মঞ্চ থেকে নিচে নামার মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন এবং পরে হাসপাতালে আরও ১২ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ৩০০ জন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নারীনেত্রী ও বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী মিসেস আইভী রহমান। সৌভাগ্যবশত নেতাকর্মীদের মানবপ্রাচীরের কারণে শেখ হাসিনা প্রণে বেঁচে যান।

২১ আগস্টের ওই নৃশংস হামলার ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। এতে মোট ৫২ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ৩ আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরসহ ২২ জন কারাগারে রয়েছেন। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী এবং মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা-সিআইডির সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডির সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট ৮ জন জামিনে রয়েছেন। এছাড়া তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৮ জন এখনো পলাতক।

তৎকালীন বিএনপি শাসনামলে এই মামলাটিতে স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি এবং ভুয়া তদন্ত করে জজ মিয়া নাটক সাজানো হয়েছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের আওতায় এই মামলার স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ায় দ্রুতগতিতে অগ্রসরমান। ফলে অচিরেই মূল দোষী তারেক রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই প্রত্যাশা সকলের।

দেশের জনগণ যখন উন্নততর জীবনের দিকে ক্রমেই অগ্রসরমান তখন কলঙ্কের ভারমুক্ত হয়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে এমন ঘৃণিত ইতিহাসের হাত থেকে মুক্তি পেতে চায়। তারা চায় অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক মৃত্যুদণ্ড।

খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে সরকারের পদক্ষেপ

বাংলাদেশের নারী যেমন ঘর সাজানো, চাকরি সামলানো, শিক্ষাঙ্গনে সফল তেমনি সফলতার ছাপ রেখেছেন ক্রীড়াঙ্গনেও। নারী ক্রীড়াবিদদের হাত ধরে কম সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। জোবেরা রহমান লিনু গিনেস বুকে বারবার নাম তুলে ইতিহাসই তৈরি করেছেন। তিনি ১৬ বার জাতীয় টেবিল টেনিসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশকে ভালোভাবেই তুলে ধরছেন সালমা খাতুনেরা। দৌড়ে দ্রুততম মানবী নাজমুন্নাহার বিউটি। দক্ষিণ এশিয়ান ১২তম এসএ গেমসে সীমান্ত এবং শীলা স্বর্ণ জিতে ইতিহাস রচনা করেছেন। খেলার ঝুলিতে এরকম অসংখ্য সাফল্য রয়েছে এখন বাংলাদেশের নারীদের।

কিছুদিন আগে নারী এশিয়া কাপ টি২০ চ্যাম্পিয়ন হয়ে টাইগ্রেসবাহিনী তাক লাগিয়েছে সারা বিশ্বকে। তাদের আরো উৎসাহিত করতে ২ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে যেখানে প্রত্যেক নারী খেলোয়াড় পায় ১০ লক্ষ টাকা করে।

“সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ-২০১৭”-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা জাতীয় দল। চলতি বছরের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপেও সাফল্যের পতাকা বহন করেছে বাংলার মেয়েরা।

ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, হ্যান্ডবল, আর্চারি, ফুটবলসহ সব ধরণের খেলায় বেড়েছে নারী অংশগ্রহীতা। যার মূলে রয়েছে নারীদের খেলায় আগ্রহী করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ। নারী খেলোয়াড়দের এগিয়ে নিতে ক্রীড়া অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে ২টি কর্মশালা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নারীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে নারীদের জন্য স্থানীয় খেলার মাঠে নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের সাফল্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো সফলতার স্বাক্ষর রাখতে আন্তর্জাতিক মানের কোচ, ফিজিও রাখাসহ তাদের উন্নত নিউট্রেশন ব্যবস্থা এবং জিমনেশিয়াম ব্যবহারের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এছাড়া নারী খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তাদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নারী খেলোয়াড়দের অনুশীলনের সুযোগ বাড়াতে বিদেশী প্রতিযেগিতায় অংশগ্রহণের পূর্বে তাদের ক্যাম্পিং-এর সময় বাড়ানো এবং তাদের সাথে নারী কর্মকর্তাদের রাখার সুব্যবস্থা  করেছে সরকার।

সরকারের সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে পঞ্চগড়

পঞ্চগড় বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের সীমান্তঘেষা জেলা।বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে সরকারি সহায়তায় কৃষি ভিত্তিক অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশে সমতলভূমিতে বানিজ্যিক ভিত্তিতে কেবল মাত্র এই জেলাতেই চা চাষ হচ্ছে। ইতিমধ্যে চা চাষ জেলার কৃষিতে একটি বড় জায়গা করে নিয়েছে। সরকারি সহায়তায় পঞ্চগড়ে অনেকগুলো চা বাগান গড়ে উঠেছে। পঞ্চগড় জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে চা শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পঞ্চগড়ের চা চাষ যেমন দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তেমনি প্রভাব ফেলেছে রসালো ফল কমলার চাষ। রং, আকার ও স্বাদে ভারতীয় কমলার চেয়েও উন্নত পঞ্চগড়ের কমলা। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে কমলা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়।
 এ প্রকল্পের আওতায় জেলার পাঁচ উপজেলায় কমলার গ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে পাঁচ হাজার পরিবারের মধ্যে দুই লাখ চারা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৩৫ হাজার চারা রোপণের মাধ্যমে ৪০০টি কমলা বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যে চারা, সার ও কীটনাশক বিতরণের মাধ্যমে কমলা চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ৪৪৬ বিঘা জমিতে বাগান আকারে কমলা চাষ করা হয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পঞ্চগড়ের কৃষকরা হয়ে উঠছেন আর্থিকভাবে সচ্ছল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের সাথে ভারতের ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। ২০১৫ সালের ১ আগস্ট দু’দেশের ভেতরে থাকা ১৬২টি ছিটমহল বিলুপ্ত হয়। এর মধ্যে পঞ্চগড় জেলায় ছিল ৩৬টি। এর মাধ্যমে ছিটমহলবাসীর ৬৮ বছরের বন্দি জীবনের অবসান হয়। ৪১ হাজার ৪৪৯ জন মানুষ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়। 
বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয় ১১১টি ছিটমহল । এই বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশ পায় ১৭ হাজার ২৫৮ একর জমি। ছিটবাসীর জীবনমান উন্নয়নে রাস্তা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সরকারের নেওয়া নানা কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়। ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলার তিনটি সীমান্ত নদী মহানন্দা, করতোয়া এবং নাগর নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে বিজিবির সীমান্ত টহল সড়ক, কয়েকটি সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি), পুলিশের থানা ভবন, ঈদগাহ এবং কয়েক হাজার একর আবাদি জমি নদীর ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। জেলার চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নেয়া হয়েছে অসংখ্য প্রকল্প। সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে একসময়ের পঞ্চগড় অচিরেই একটি উন্নত জেলায় রুপান্তরিত হবে।
ভিডিও লিংক এখানেঃ

সমাজসেবক শাহআলম চৌধুরীর ইন্তেকাল

নিজেস্ব প্রতিবেদক :  ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী শাহআলম চৌধুরী (৭৫) দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে  গত ১৯ আগস্ট সকালে ইন্তেতাল করেছেন (ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)। 
তাঁর মৃত্যুতে এলাকার শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৪ ছেলে, ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুনোগ্রাহী রেখে গেছেন। গতকাল বাদ আসর টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া নিজ গ্রামে ঈদগাঁ মাঠে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে এক বেদনা বিধুর পরিবেশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সে সময় সুধী জনের পক্ষ থেকে বলা হয় সমাজসেবা ও শিক্ষা সম্প্রসারনে শাহআলম চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সিংগুরিয়া লোকেরপাড়া স্যার আব্দুল হালিম গজনবী উচ্চ বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে আন্তরিক ভাবে কাজ করেছেন।

শাহআলম চৌধুরীর ইন্তেকালে গোভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ, সাবেক এমপি খাদিজা এমদাদ লতা, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি সভাপতি কৃষিবিদ সামছুল আলম তোফা। তারা শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজন ও এলাকাবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মরহুমের রূহের মাহফেরাত কামনা করেন। উল্লেখ্য শাহআলম চৌধুরী সাবেক ইউনিয়ন বোর্ড প্রেসিডেন্ট ইয়াকুব আলী চৌধুরীর পুত্র ও সাবেক আনেহলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই।  

ঘাটাইলে মোটরসাইকেল চুরি করে সেটি ফেলে পালিয়েছে চোর

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে একটি বাসা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে অদূরে নিয়ে গিয়ে সেটি চালু করতে না পেরে ফেলে রেখে পালিয়েছে চোরের দল। গত ১৫ আগস্ট (বুধবার) দুপুরে পৌরসভার খরাবর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

মোটরসাইকেলটির মালিক খোকন জানান, ঘাটাইলে (খরাবর) ভাড়া বাসা থেকে আমার টিভিএস ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল চুরি হয়। সেদিন দুপুরে খেয়ে একটু ঘুমিয়ে পরেছিলাম। সেই সুযোগে বাসার কলাপসিবল গেটের ভিতরে রাখা আমার মোটরসাইকেলটি চোরেরা বের করে ঠেলে পার্শ্ববর্তী বিলপাড় পর্যন্ত নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়েও সেটি চালু না করতে পেরে সেখানেই ফেলে রেখে চম্পট দেয় দুর্বৃত্তরা।

তিনি আরও জানান, মোটরসাইকেলটির অন্যান্য লকের সাথে প্লাগকেবলটাও খুলে রেখেছিলাম, তাই হয়তো চুরি যাওয়া মোটর সাইকেল ওরা নিতে পারেনি।

খোকন জানান, একই বাসা থেকে গতবছর আমার হিরো ব্র্যান্ডের অন্য আরেকটি মোটর সাইকেল চোরে নিয়ে যায়। সেটি আর পরবর্তীতে উদ্ধার হয়নি।

এদিকে খরাবর এলাকার ব্যবসায়ী খালিদ হাসানের বাসভবনে লাগানো সিসি ক্যামেরায় চুরি ঘটনার কিছু অংশ (সড়কের) ধারণ করা রয়েছে। প্রশাসন একটু পদক্ষেপ নিলে চোর সনাক্ত করা সম্ভব বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে মোটরসাইকেল মালিক খোকন ঘাটাইল থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ তার থেকে চুরি সম্পর্কিত তথ্য রেখে মোটরসাইকেল উদ্ধারের আশ্বাস প্রদান করেন। সে সময় তিনি একটি সাধারণ ডায়রি করতে চাইলে পুলিশের আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি আর সেটি করেননি।

তাছাড়া ঘাটাইলে প্রায়শই মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। প্রকাশ্য দিবালোকে এবং রাতের আঁধারে সমতালেই চলে এই চুরির ঘটনা। মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ঘাটাইলের সুশীল সমাজের লোকজন।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার প্রশিক্ষণ দেবে সরকার

ইন্টারনেটের ব্যবহার দৈনন্দিন কাজগুলোকে সহজ করে দিয়েছে। পারস্পরিক যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান, কেনাকাটার মতো কাজগুলো ইন্টারনেটের বদৌলতে আগের তুলনায় অনেক কম সময়ে করা সম্ভব হচ্ছে। আমাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ, কেনাকাটা ও টাকা পয়সার লেনদেন এর মতো দৈনন্দিন কাজ গুলো যখন অনলাইনের হাতে চলে গেছে তখন অনলাইনে নিরাপদ থাকাটা এখন বেশি জরুরী হয়ে পড়েছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা যাতে অনলাইনে নিরাপদ থাকতে পারেন সেজন্য প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে ব্যবহার করলে নিরাপদ থাকা যাবে, অন্যকে নিরাপদ থাকতে কীভাবে উৎসাহিত করা যাবে এসব বিষয়ে কৌশল শেখানো হবে প্রশিক্ষণে।

দেশে যত মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের বড় একটা অংশই এখনও প্রযুক্তি সম্পর্কে ততোটা জ্ঞান রাখে না। বিভিন্ন সময় প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক সময় বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টির কারণে শাস্তির মুখেও পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। অন্যদিকে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের প্রযুক্তি জ্ঞান কম থাকায় অন্যরা সেই সুযোগ নিয়ে টার্গেট ব্যক্তিকে বিপদে ফেলছে। এসব সমস্যা দূর করতে অনলাইন নিরাপদ থাকার প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় অনলাইনে বিশেষ করে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অস্থির হয়ে ওঠে। এই মাধ্যমকে কেন্দ্র করে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। জনগণকে উত্তেজিত করতে উসকানি দেওয়া ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। এসব ঘটনা যেন আর না ঘটে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে যাতে কেউ কারও অনিষ্ট করতে না পারে এই প্রশিক্ষণে সেসব বিষয়ে শেখানো হবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অপব্যবহারের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্যও এই প্রশিক্ষণ বড় একটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

প্রযুক্তি ও ফেসবুক ‘সাক্ষরতার’ এই বিষয়টিকে সময়ের চাহিদা হিসেবে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘মানুষ অনলাইন ব্যবহারে একদমই সচেতন নন। অনলাইনে কী করা উচিত, কী করা উচিত নয়, অনলাইনকে কীভাবে জঞ্জালমুক্ত রাখা যায় এসব বিষয়ে একদমই সচেতন নন তারা। আমাদের কাজটি মূলত সচেতনতা তৈরির।’ মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘শুধু সচেতন করলেই হবে না, তাদের প্রযুক্তিতে সাক্ষর করে তুলতে হবে। এজন্যই বই তৈরি করা হয়েছে। নির্দেশনা মেনে চললে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র নিরাপদ থাকবে।’

সরকারের আইসিটি বিভাগে সব সময়ই কোন না কোন প্রশিক্ষণ চলছে। প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণ, কল সেন্টার কর্মী ও উদ্যোক্তা তৈরির মতো অসংখ্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আইসিটি বিভাগ। এসব প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এখন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার এবং সেই সঙ্গে এর সতর্কতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইসিটি বিভাগ এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল হিসেবে একটি পুস্তিকা তৈরি করেছে। ওই পুস্তিকায় প্রশিক্ষণের যাবতীয় বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। অনলাইন ব্রাউজিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহারের সময় যাতে কোনও ধরনের বিব্রতকর অবস্থা তৈরি না হয় সেজন্য আগাম সতর্কতা হিসেবে এই বই গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের আইসিটি বিভাগে যেকোনও প্রশিক্ষণের সময়ও দেওয়া হবে বইটি।

ঈদে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরবে মানুষ

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ-উল-আযহা। ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সাজ সাজ রব। উৎসব মুখর আমেজ বিরাজ করছে দেশের আনাচে কানাচে। কোরবানির পশু সেই আনন্দ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এই ঈদে কোরবানির পশু থাকে মূল কেন্দ্র বিন্দুতে। বিভিন্ন এলাকার পশুর হাট থেকে ভেসে আসে মাইকিং।

প্রতি বছরের মতো এবারও দূরে থাকা প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য রাজধানী ছেড়ে নিজের শিকড়ের কাছে ছুটে যাচ্ছে মানুষ। সাধারণ মানুষের ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে ছাড়া হয়েছে বাস ও ট্রেনের অগ্রিম টিকেট। কাজের জন্য পরিবার থেকে দূরে থাকা মানুষ গুলো নাড়ির টানে ছুটে যায় বিশেষ দিনটি আরও স্মরণীয় করে রাখার জন্য। যাপিত জীবনের সকল সমস্যা উপেক্ষা করে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ করতে তারা কুন্ঠা বোধ করেনা। কারণ প্রিয়জনের হাসির মূল্য যে এর থেকে অনেক বেশি মূল্যবান। বাস ট্রেনের অগ্রিম টিকেট সংগ্রহে ভোগান্তি কমাতে অনলাইনেও টিকেট বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

টিকেট সংগ্রহ শেষে এবার তাড়া থাকে বাড়ি ফেরার। কর্মচঞ্চল ঢাকাকে অলস করে নাড়ির টানে ছুটে যায় সকল মানুষ। এই যাত্রাকে আরো নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুত মহাসড়কের ট্রাফিক পুলিশ। সাধারণত কোরবানি ঈদে সড়কের উপর চাপ একটু বেশি থাকে। কারণ বাড়ি ফেরা মানুষের সাথে যোগ হয় পশু আনা নেয়ার গাড়ি। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সড়ক ও নৌ পথে কোরবানির পশু আনা নেয়ার কাজে ব্যস্ত থাকে বেপারী ও খামারিরা। সেজন্য মহাসড়কে গাড়ির সংখ্যা বেশি থাকবে কিন্তু কোনো জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে না বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশ। যাত্রীদের ঈদের সময় দীর্ঘক্ষণ যানজটে যেন বসে থাকতে না হয় এই জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাইওয়েকে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। এর ফলে যানজট নিরসনে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে চার লেন হাইওয়ে।

ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করছে নিরাপত্তা বাহিনী, সড়ক ও পরিবহন অধিদফতর। ঠিক সময়ে বাড়ি গিয়ে ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করবে সকলে। এটি নিশ্চিত করতে সচেষ্ট রয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

শনিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৮

ঘাটাইলের কৃষক আনিসুরের শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমানের বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই কৃষকের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জানা যায়, কুতুবপুর গ্রামের ওমর আলী মাস্টারের ৫ একর জমি দুই বছর মেয়াদে লীজ নিয়ে ঘাটাইল উপজেলার ফুলমালির চালা গ্রামের আনিসুর রহমান ৬ হাজার অমৃতসাগর জাতের কলার চাষ করেন। আর মাত্র কয়েকদিন পরই ওইসব কলাগাছে কলার ছড়ি ধরবে (ফলন হবে)।

শুক্রবার রাতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কুতুবপুর গ্রামের শাজাহান মিয়া (৫০), তার ছেলে লিটন মিয়া (২৮), মেয়ের জামাতা মজনু মিয়া (৩৫) এবং একই গ্রামের ফজলু মিয়া (৪০) মিলে ওই বাগানের শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলে।

বাগানে কর্মরত শ্রমিক মরিয়ম বেগম (৪৫) জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা বাগান পরিচর্যা করে বাড়ি চলে যাই। পরদিন শনিবার সকালে এসেই গাছগুলো কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি।

কলাবাগান মালিক আনিসুর রহমান কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ধারদেনা করে অন্যের জমি লীজ নিয়ে কলার বাগান করেছি । শাজাহান ও তার লোকজন মিলে রাতের আধারে আমার কলাগাছগুলো কেটে ফেলেছে।

ঘাটাইলে প্রতিবন্ধীদের মাঝে ইউএনও’র ঈদ সামগ্রী বিতরণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ইউএনও’র ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা আহম্মেদ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের ১০জন প্রতিবন্ধীর মাঝে সেমাই, চিনি, তৈল ও লুডুস বিতরণ করেন। তিনি বিকেলে প্রতিবন্ধীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন।
এসময় স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মেছের আলী, মহিলা কাউন্সিলর রাশেদা বেগম ও আনন্দ টিভি ও দৈনিক আমার সংবাদ প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইল পৌরসভার ভিজিএফ এর চাল বিতরণ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে ঘাটাইল পৌরসভার উদ্যোগে দুঃস্থ্য, অসহায় ও হতদরিদ্র ৪ হাজার ৬শত ৩২ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০ টায় পৌরসভা প্রাঙ্গণে ঘাটাইল পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান ভিপি শহীদ এ চাল বিরতণের উদ্বোধন করেন।

চাল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল পৌর সভার প্যানেল মেয়র লিটন সরকার, কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম, মহিলা কাউন্সিলর মোসা. রাশিদা বেগম প্রমুখ।