শুক্রবার, আগস্ট ১১, ২০১৭

ঘাটাইলে সাবেক বিএনপি সভাপতির দাফন সম্পন্ন

ঘাটাইল উপজেলা সাবেক বিএনপি সভাপতি আলহাজ্ব মহিউদ্দিন মিয়ার দাফন নিজ গ্রাম লাউয়াগ্রাম গোরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে।
সকাল ৯ টায়  উজেলা কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গনে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় । পরে লাউয়াগ্রাম মসজিদ প্রাঙ্গনে ২য় জানাজা শেষে  তার লাশ দাফন করা হয়। 
উল্লেখ্য ১০ আগষ্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, পাঁচ মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের গল্প ; ১১ আগস্ট এবং জাহাজ মারা হাবিব

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে টাঙ্গাইল এলাকায় হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ০২ টি অস্ত্রবোঝাই জাহাজ দখল ও ধ্বংসের ইতিহাস এখনো সেই এলাকার গণমানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়। যুদ্ধের সময়কার প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের ১১টি সেক্টরের বাইরে স্বতন্ত্রভাবে গঠিত কাদেরিয়া বাহিনীর বীরত্বপুর্ণ ও দুঃসাহসী যুদ্ধের কথা বাঙালি জাতি চিরকাল স্মরণ করবে।

জাহাজ আক্রমণে সফল নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে হাবিবুর রহমান ‘জাহাজ মারা হাবিব’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলায়। কাদের সিদ্দিকী’র নিয়ন্ত্রণাধীন ৯৭ কোম্পানী বিশিষ্ট প্রায় ১৫ হাজার যোদ্ধার এক অভিনব বাহিনীতে এই হাবিবুর রহমান ছিলেন অন্যতম একজন কোম্পানী কমান্ডার। স্বাধীনতার পর তাকে ‘বীরবিক্রম’ খেতাবে ভুষিত করা হয়। সেই দিগ্বিজয়ের ইতিহাস সৃষ্টিরও বহু বছর পর অনেকের মতো ঘটনার নায়ক মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান বীরবিক্রম ওরফে ‘জাহাজ মারা হাবিব’ অনেকটা হতদরিদ্র ও নিঃস্ব অবস্থায় অবহেলায় ১৭ ডিসেম্বর ১৯৯৮ মৃত্যুবরণ করেন।

যুদ্ধের সময়কার কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান এনায়েত করিম তখনকার সেই ঘটনা নিয়ে কিছু স্মৃতি বিধৃত করেন। তিনি জানান : তখন আগস্ট মাস। বর্ষাকাল। মুক্তিবাহিনী বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করতে মরিয়া। যেখানে হানাদার বাহিনী সেখানেই আমরা। আমি ছিলাম টাঙ্গাইলের পশ্চিম এলাকার দায়িত্বে। যমুনা নদীর পাড় এলাকার দায়িত্বে ছিল খোরশেদ। আগস্ট মাসের প্রথম দিকের কথা। পাকিস্তানি বাহিনীর অস্ত্রবাহী ০৭টি জাহাজ যাচ্ছিল যমুনা নদী দিয়ে দেশের উত্তর সীমান্ত এলাকায়। উদ্দেশ্য, ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় তাদের শক্তি বৃদ্ধি করা। জাহাজগুলো আসছিল ঢাকা সদরঘাট ইপিআর জেটি থেকে। কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান কাদের সিদ্দিকী জানতে পারেন যমুনা নদী দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর অস্ত্রবাহী জাহাজ আসছে। ওই ০২ জাহাজের নাম ছিল যথাক্রমে ‘এস. ইউ. ইঞ্জিনিয়ারস্ এলসি ৩’ এবং ‘এস টি রজার’।
হাবিবুর রহমানকে জাহাজ আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আগস্টের ১২ তারিখ সকালে (১১ তারিখও বলা হয়ে থাকে) সুযোগ বুঝে জাহাজে আক্রমণ করা হয়।
হাবিবুর রহমান রেজাউল করিমকে (ভারত থেকে এসে কাদেরিয়া বাহিনীতে যোগ দেন) সঙ্গে নিয়ে জাহাজের এলাকা রেকি (পরিদর্শন) করেন।
০২টি জাহাজই যমুনা নদীর চরে আটকে গিয়েছিল বা আটকে দেয়া হয়েছিল। সেখানে নেপথ্যের কৃতিত্বের দাবিদার হিসেবে জাহাজের সারেং ও সুখানীদের কথাও আসে। তারা দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে জাহাজগুলোকে নদীর চড়ায় আটকিয়ে দিয়েছিল।
পরবর্তীতে কোন জায়গা থেকে আক্রমণ করলে জাহাজ ধ্বংস করা যাবে, সে স্থান চিহ্নিত করা হয়।
হাবিবুর রহমান তার কোম্পানী নিয়ে মাটিকাটা গ্রামে নদীর বাঁকে যুৎসই পজিশন নেন এবং সবাই সুযোগ বুঝে তিন ইঞ্চি মর্টার, এলএমজি ও রাইফেল চালিয়ে জাহাজের ইঞ্জিনভাগ ধ্বংস করেন।
হাবিবুর রহমানকে বলা হলো সবগুলি অস্ত্র থেকে এক যোগে ফায়ার করার জন্য যাতে ওরা (পাকিস্তানিরা) মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রের পরিমাণ বা ধরণ সম্পর্কে কোনোকিছু অনুমান করতে না পারে। অবিরাম গোলাগুলি।
অনেক মুক্তিযোদ্ধা এ অপারেশনে অংশ নেন।
গুলিতে জাহাজে থাকা প্রায় অর্ধেক পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। বাকিরা স্পিডবোটে করে পশ্চিমে সিরাজগঞ্জের দিকে পালিয়ে যায়।
পরে সন্ধ্যার দিকে জাহাজে গিয়ে দেখা যায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। টাঙ্গাইল ভূঞাপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক নৌকা ও স্বেচ্ছাসেবক সংগ্রহ করে অস্ত্র, গোলাবারুদ সরানো হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জেলা ওয়েবসাইট থেকে জানা যায় : এসব অস্ত্রশস্ত্রেরর বেশির ভাগই পাশের গ্রাম ভূঞাপুর ফলদার বিভিন্ন গোয়ালঘর ও খড়ের স্তূপ ও মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে জাহাজের লগবুক ও মুভমেন্ট কভারের হিসেব থেকে জানা যায়, জাহাজে ০১ লক্ষ ২০ হাজার বাক্সে ২১ কোটি টাকার অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল।

০২ জাহাজ ভর্তি সেসব অস্ত্র সম্পুর্ণভাবে সরানো সম্ভব না হওয়ায় বাকিগুলোসহ আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় জাহাজে। অস্ত্র, গোলাবারুদ ধ্বংস হওয়ার বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে আশপাশের গ্রামাঞ্চল। সে এক মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠান! কয়েকদিন ধরে জ্বলে জাহাজের আগুন। হাজার হাজার উৎফুল্ল লোকজন সে আগুনের শিখা বহুদূর থেকে প্রত্যক্ষ করে ও আনন্দে ফেটে পড়ে।

এদিকে জাহাজ ধ্বংসের খবরে পাকসেনারা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ১৭ নভেম্বর টাঙ্গাইল ভূঞাপুর সদর থেকে প্রায় ০১ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে ছাবিবশা গ্রামে গণহত্যা চালায়। ওই দিন গ্রামের ৩২ জন নারী পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করে এবং গ্রামের প্রায় ৩৫০টি বাড়ীঘর আগুনে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
পাকিস্তানী হানাদাররা চারদিক থেকে টাঙ্গাইল ভূঞাপুর আক্রমণ করে। তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মুক্তিযোদ্ধারা। গেরিলা কায়দায় তাদের গতিরোধ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পাকিস্তানিদের ভারী অস্ত্রের সামনে টিকতে না পেরে মুক্তিযোদ্ধারা কৌশলে পিছু হটে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। পাকিস্তানিদের চতুর্মুখী আক্রমণে পড়ে ঐতিহাসিক ঘাটাইলের মাকড়াই যুদ্ধে কাদের সিদ্দিকী নিজেও আহত হন এবং চিকিৎসা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ভারতে চলে যান।

কাদেরিয়া বাহিনীর চীফ কমান্ডারের দায়িত্বগ্রহণ করেন বাহিনীর বেসামরিক প্রশাসন প্রধান আনোয়ারুল আলম (শহীদ)।
মুক্তিযোদ্ধারা আরো শক্তিশালী হয়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। শেষপর্যন্ত জয় মুক্তিযোদ্ধাদের হয়।

ভূঞাপুরের সিরাজকান্দি মাটিকাটার জাহাজ ধ্বংস ও অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী গোটা মুক্তিযুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনারা। কাদের সিদ্দিকী যুদ্ধের শেষদিকে ভারতে গিয়ে মিত্রবাহিনীর সেনানায়কদের কাছে সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং তার উপর ভিত্তি করেই অগ্রবর্তী দল হিসেবে টাঙ্গাইলে হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান থেকে হাজার হাজার প্যারাট্রুপার (ছত্রীসেনা) নামানো হয়।

মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান বীরবিক্রম এর ছেলে সাংবাদিক আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান : মুক্তিযুদ্ধের সময় টাঙ্গাইল যমুনা ধলেশ্বরী নদী পথের মাটি কাটা নামক স্থানে নদীর পথে করা নজরদারীর দায়িত্বে ছিলেন হাবিবুর রহমান। তার অত্যন্ত দুরদর্শিতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে জীবনবাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের ০২টি অস্ত্র বোঝাই জাহাজ ধ্বংস করার মাধ্যমে হানাদারদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়া হয়। বাংলাদেশ এতিহাসে দীর্ঘ ৯ মাসে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের সামগ্রীকভাবে অন্য কোথাও মুক্তিবাহীদের হাতে এতবড় ক্ষতি ও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়নি।
পরবর্তীতে যুদ্ধ জাহাজ ও অস্ত্র-শস্ত্র উদ্ধার করার জন্য পাকিস্তানি কমান্ডের লে. জেনারেল আমীন আব্দুল্লা খান নিয়াজী ও বিগ্রেডিয়ার কাদের খানের নেতৃত্বে ৪৭ ব্রিগেড, ৫১ কমান্ডো  ব্রিগেড ও হানাদার বিমানবাহিনী মুক্তিবাহিনীদের উপর চতুর্দিকে আক্রমণ করে। হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বের কাছে পাকিস্তানিবাহীনি পিছু হটতে বাধ্য হয়।
স্বাধীনতা যুদ্ধর প্রেক্ষাপট পরবর্তনকারী অধ্যায়ন হিসেবে গণ্য এই ‘ভূঞাপুর মাটিকাটা যুদ্ধ’য় অসীম বলিষ্ঠ সাহসীকতায় নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘বীরবিক্রম’ এবং ‘জাহাজ মারা হাবিব’ উপাধীতে ভূষিত করে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল ভূঞাপুর উপজেলা কমান্ডার আব্দুল মজিদ মিয়া বলেন : আমরা কয়েকজন হাবিবের নেতৃত্বে জাহাজ ০২টি আক্রমণ করি এবং আক্রমনে আমরা সফলভাবে জয়ী হই। এই জাহাজ দুটি ধ্বংস না করা হলে ৯ মাসেই স্বাধীনতা পেতাম কিনা সন্দেহ। মাটিকাটার যুদ্ধে স্মৃতিস্তম্ভটি সংরক্ষণের এবং সরকারিভাবে এই দিবসটি পালন করা উচিৎ।

মুক্তিযোদ্ধা গবেষক ও লেখক শফি তরফদার আরও জানান : কাদেরিয়া বাহিনী কোম্পানি কমান্ডার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ আগস্ট জাহাজ ০২টি ধ্বংস করে প্রায় ২১ কোটি টাকার অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে। যা মুক্তিযুদ্ধের একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা।

এগিয়ে যাচ্ছে ঘাটাইলের প্রাথমিক শিক্ষা

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রারম্ভিক স্তর প্রাথমিক শিক্ষা। এখানে শিশুর বিস্ময়ের জগৎ নিয়ে ভাবনার অন্ত নেই। অপার বিস্ময় এসব শিশুদের শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, ভাষাগত ও সামাজিক বিকাশের মজবুত ভিত্তি তৈরী করতে সরকার প্রবর্তন করেছে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা।
প্রাথমিক শিক্ষার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রাক প্রাথমিকে শ্রেণিকক্ষ সজ্জিত করন, পাঠদানে আনন্দময় ও শিশু বান্ধব পরিবেশ মানোন্নয়নে ভাবনা গবেষণার শেষ নেই ঘাটাইল উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার জি এম ফুয়াদ মিয়ার। প্রায়ই সরেজমিন গিয়ে তিনি শ্রেনি কক্ষ সজ্জিতকরন, শিশুদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশে শ্রেনি শিক্ষককে সহায়তা করছেন। পাশাপাশি অন্যান্য শ্রেনির শিক্ষার্থীরা সাবলীলভাবে বাংলা পড়তে পারছে কি না তা যাচাই করেন। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে বাংলা পড়ার হার বৃদ্ধির পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারি কাজের দ্বায়বদ্ধতা ছাড়াও তিনি সবুজ পৃথিবী বিনির্মানে স্কুল প্রাঙ্গনে ফলজ বৃক্ষ রোপন করছেন। উপজেলার আনেহোলা ও সন্ধানপুর ক্লাষ্টারে নিয়মিত মা ও অভিভাবক সমাবেশ, বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বয়ং নিজে উপস্থিত থেকে শিশুদের উৎসাহ উদ্দীপনা দিচ্ছেন।
অন্যান্য ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারগণের নির্দেশনা ও সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে ঘাটাইলের প্রাথমিক শিক্ষা।
সূত্র : ঘাটাইল ডটকম।

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১০, ২০১৭

আ. লীগের অর্ধশতাধিক এমপি মনোনয়ন-ঝুঁকিতে

আওয়ামী লীগের ব্যর্থ, বিতর্কিত, জনবিচ্ছিন্ন, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কহীন সংসদ সদস্যদের আগামী নির্বাচনে আবার মনোনয়ন দেওয়া নাও হতে পারে। ওই আসনগুলোয় যাঁরা ভোট টানতে পারবেন, সাধারণ মানুষের কাছে যাঁদের গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি আছে এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। বেশ কিছু আসনে অধিকতর যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দিয়ে দলের বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়াতেও প্রার্থী পরিবর্তন করবে আওয়ামী লীগ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতেই এ পরিবর্তন আনবে ক্ষমতাসীন দলটি নিজস্ব অনুসন্ধান, আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক নেতা, দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র এবং একাধিক সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার সারা দেশে অর্ধশতাধিক সংসদ সদস্য মনোনয়ন-ঝুঁকিতে  পড়ে গেছেন। কোনো কোনো সূত্র বলছে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে  এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে প্রতিটি আসনে প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করছেন। সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিটি আসনেই পাঁচ থেকে সাতজন প্রার্থীর তালিকা পাঠানো হচ্ছে। তিন মাস পর পর এ তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বহু এমপির বিরুদ্ধে অপকর্ম, জন-অসন্তোষ, দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভসহ নানা নেতিবাচক তথ্য উঠে আসছে।
এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করছেন।
তাঁরা বহু এমপির জনপ্রিয়তা না থাকার তথ্য পেয়েছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একাধিক সদস্যও নিজ নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন আসনের তথ্য সংগ্রহ করছেন। তাঁরাও অর্ধশতাধিক আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদল করতে হবে বলে মনে করছেন।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও দলীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক  বলেন, ‘এখন কেউ এমপি আছেন বলে তাঁকেই মনোনয়ন দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। যাঁরা জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা কমে গেছে, তাঁদের বাদ দেওয়া হবে। তবে অনেক সময় তাঁদের বিকল্প প্রার্থীও পাওয়া যায় না। যেখানে ভালো প্রার্থী পাওয়া যাবে তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। আগে একটা বিষয় ছিল যে, কেউ একবার এমপি হলে তাঁকে তিনবার মনোনয়ন দেওয়া হতো। কিন্তু এখন আর সে রকমটা করার উপায় নেই। অনেক এমপি এমনভাবে জনপ্রিয়তা হারান যে তাঁদের পরিবর্তন না করলে ওই আসনগুলোই হারাতে হয়। ’
আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘কিছু আসন টার্গেট করে আমাদের কাজ করতে হবে। একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে যাঁরা জয়লাভ করতে পারবেন, তাঁদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি এমপি আছেন কি নেই, দলে তাঁর কী অবস্থান, সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে না। যাঁর জয়ের সম্ভাবনা ও বাস্তবতা আছে, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আছে তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। ’
সাবেক মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক আরো বলেন, ‘প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমাদের সভাপতি শেখ হাসিনা সুশীলসমাজকে দায়িত্ব দেন; বিভিন্ন সংস্থা থেকে রিপোর্ট নেন; আমাদের তৃণমূল থেকে মনোনয়ন প্রস্তাব আসে— এগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এ ছাড়া এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতারা নিজেরাও বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। সেগুলোও মূল্যায়ন করা হবে। ’
আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘এলাকায় জনপ্রিয়তা ও দলের মধ্যে অবস্থান— এই দুটি বিষয় সমন্বয় করে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। এবার তরুণ মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনেকেই মনোনয়ন পাবেন। আর প্রতি নির্বাচনেই বেশ কিছু প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়ে থাকে। এবারও হবে। যাঁরা এলাকায় জনপ্রিয়তা রক্ষা করতে পারেননি, দলের কাছে যাঁদের গ্রহণযোগ্যতা নেই, তাঁরা এবার মনোনয়ন পাবেন না।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, ‘এর আগে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলেছে, মানুষ ভোট দিয়েছে; ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে, মানুষ ভোট দিয়েছে। এখন মানুষ চায় সুশাসন নিশ্চিত হোক। এবার আওয়ামী লীগকে সুশাসনের ঘোষণা দিতে হবে। এ ঘোষণা বাস্তবায়ন হবে, এমন বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য বিতর্কিত, অপকর্মে যুক্ত, ব্যর্থ সংসদ সদস্যদের বাদ দিয়ে নতুন, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘আমার বিবেচনায় অন্তত ১০০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদল করা প্রয়োজন। ’
মনোনয়ন নাও পেতে পারেন যাঁরা অনুসন্ধান, আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক নেতা, একাধিক সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নানা কারণে অন্তত অর্ধশতাধিক এমপি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হবেন। আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক আহমেদ খুনে অভিযুক্ত টাঙ্গাইল-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, ইয়াবা চোরাচালানে যুক্ত থাকার অভিযোগে দেশব্যাপী সমালোচিত কক্সবাজার-৪ আসনের আবদুর রহমান বদি এবার মনোনয়ন নাও পেতে পারেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে তীব্র দলীয় কোন্দলের কারণে মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন সেখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য ফায়জুর রহমান। আসনটি ১৪ দলের শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করতে পারে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামেই তিনটি আসনের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হওয়া তিন সংসদ সদস্য চট্টগ্রাম-১৪ আসনে নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্বের কারণে বাদ পড়তে পারেন চট্টগ্রাম-৪ আসনে দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম-১১ আসনে এম আব্দুল লতিফ।
সাধারণ ভোটারদের পক্ষে টানতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে কয়েকটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মনোনয়ন নাও পেতে পারেন টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল বাতেন। এ আসনটিতে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনেও প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। এ আসনের সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দিনকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া নাও হতে পারে। এখানে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী।
বয়োবৃদ্ধ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। এসব আসনে তরুণ নেতাদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বয়সের কারণে বাদ পড়তে পারেন বাগেরহাট-৪ আসনে ড. মোজাম্মেল হোসেন, নাটোর-৪ আসনে আবদুল কুদ্দুস, শরীয়তপুর-২ আসনে কর্নেল (অব.) শওকত আলী, নরসিংদী-৫ আসনে রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু।
মনোনয়ন নাও পেতে পারেন মাগুরা-১ আসনে এ টি এম আবদুল ওহাব, দিনাজপুর-১ আসনে মনোরঞ্জন শীল গোপাল, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন, যশোর-২ আসনে মনিরুল ইসলাম, খুলনা-৬ আসনে শেখ মো. নুরুল হক,  বরিশাল-২ আসনে তালুকদার মো. ইউনুস, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, জামালপুর-২ আসনে ফরিদুল হক খান দুলাল, নেত্রকোনা-৩ আসনে ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু, নেত্রকোনা-৪ আসনে রেবেকা মোমিন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে দবিরুল ইসলাম, নড়াইল-১ কবিরুল হক মুক্তি, ঢাকা-৫ আসনে হাবিবুর রহমান মোল্লা, নওগাঁ-৫ আসনে আবদুল মালেক, পিরোজপুর-১ আসনে এ কে এম এ আউয়াল, মেহেরপুর-১ ফরহাদ হোসেন, নীলফামারী-৩ আসনে গোলাম মোস্তফা।
জানা গেছে, বিতর্কিত কয়েকজন মন্ত্রীও আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় নির্বাচনে অংশ নিলে গোপালগঞ্জ ও রংপুরের দুটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তন হবে।
সূত্রগুলো জানায়, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, খুলনা, ঢাকার একাধিক আসনেও প্রার্থী পরিবর্তন করতে পারে আওয়ামী লীগ। যশোর, চাঁদপুর জেলার একাধিক এমপিও মনোনয়ন-ঝুঁকিতে আছেন বলে জানা গেছে।
তাঁদের ভাষ্য : তবে জানতে চাইলে মনোনয়ন-ঝুঁকিতে থাকা অনেক এমপিই নিজের এলাকায় তাদের অবস্থান শক্তিশালী বলে দাবি করেছেন। আগামীতে তাঁরা আবারো দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে জানিয়েছেন।
মনোনয়ন না পাওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘দলে কিছু জামায়াতের নেতাকর্মী ঢুকেছে, তারাই আমার বিরোধিতা করছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মুজিবুর রহমান অনেক বিত্তশালী। তিনিই আমার বিরুদ্ধে এসব ছড়াচ্ছেন। আমার আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হবে না। ইনশাল্লাহ, নেত্রী আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। গতবার তিনি আরেকজনের নাম নিজে কেটে দিয়ে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন, এবারও দেবেন। ’
চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ বলেন, ‘কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই ভালো জানেন। আর কেউ জানে না। আমার বিরুদ্ধে যারা বলে, তাদের কাউকে যদি প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দেন তো তারা এমপি হোক, আমি কিছু বলব না। ’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার আসনে দলীয় কোনো কোন্দল নেই। তবে এখানে অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারেন; সেটাকে আমি দলীয় কোন্দল বলব না, সেটা প্রতিযোগিতা। কিছু টোকাই আমার বিরোধিতা করলেই সেটাকে দলীয় কোন্দল বলা যাবে না। আর যে চেয়ারে বসে, তার দোষ একটু বেশিই ধরা হয়। ’

তিনি আরো বলেন, ‘মনোনয়ন যে পাবে সে-ই নির্বাচন করবে। আমার তরফ থেকে কোনো বাধা নেই। আর আমি নির্বাচন করব কি না সেটাও এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিইনি। ’

সূত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ।

ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন মিয়ার ইন্তেকাল

আজ ১০ আগস্ট টাঙ্গাইল ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন মিয়া ঢাকায় তার মেয়ের বাসায় ইন্তেকাল ফরমাইয়েছেন। (ইন্নাল্লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর । তিনি স্ত্রী, ৫ মেয়ে, আত্বীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মীসহ বহু গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
শুক্রবার সকাল ০৯ ঘটিকায় ঘাটাইল কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা নামাজ শেষে তাকে আগামীকাল শুক্রবার সকালে তার গ্রামের বাড়ি লাউয়াগ্রাম গোরস্থানে দাফন করা হবে।
উপজেলা ও পৌর বিএনপি পৃথক পৃথকভাবে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী নিয়োগে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ২০১৫ সালে দ্বিতীয় ধাপে ৩৪ এবং ২০১৭ সালে তৃতীয় ধাপে ৩৫টি বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগের নামে ব্যাপক অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ কমিটি আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিজনের কাছ থেকে ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে এসব নিয়োগ দেয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এসব অনিয়মের ঘটনায় মাঠ পর্যায়ে নিয়োগ প্রত্যাশীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নিয়ম বর্হিভূত নিয়োগের বিরুদ্ধে শরাতৈল বিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রত্যাশী শ্রী সুকুমার মন্ডল বাদী হয়ে নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীনের বিরুদ্ধে টাংগাইল সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
ঘাটাইল উপজেলা শিক্ষা অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আদেশ বলে ৬৯টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে (৬৯ ) জন দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে ০৬ (ছয়) সদস্য বিশিষ্ট নিয়োগ কমিটি গঠন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহীনকে সভাপতি এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সেলিমা আক্তার কে সেক্রেটারী করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ঘাটাইল আসনে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার প্রতিনিধি হিসেবে তার বিশ্বস্ত সহযোগী লোকেরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীগের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান আরজু এবং ঘাটাইল উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান তারই চাচাত ভাই ঘাটাইল ইউনিয়ন আওয়ামীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর খান ছাড়াও সংশ্লিষ্ট স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকরা নিয়োগ কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছে।
মামলার বিবরণ ভূক্তভোগী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, নিয়োগ কমিটির সভাপতি বিধি অনুযায়ী নিয়োগ না দিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে স্থানীয় নেতা ও স্ব স্ব স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সহযোগীতায় কৌশল করে শিক্ষা অফিসের তদন্ত রিপোর্টের ব্যাখ্যা দিয়ে কখনো প্যানেলের দি¦তীয়, আমার কখনো প্যানেলের ৩য় স্থান অধিকারীকে নিয়োগ প্রদান করছেন।
জানা যায় ২০১৫ সালের দ্বিতীয় ধাপে ঘাটাইল উপজেলার ৩৪টি বিদ্যালয়ে ১জন করে দপ্তরী নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। ঐ সময়ে বিধি অনুযায়ী নিয়োগ প্রত্যাশীদের লিখিত/মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে রেজাল্ট শীটে প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও নিয়োগের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদনের প্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে পড়ে। ২বছর পর ২০১৭ সালে হাইকোর্টের নির্দেশ পেলে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হয়। সে অনুসারে নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বের মনোনীত প্রার্থীর নাম সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নির্ধারিত মাসিক সেবামূল্য ও চুক্তিনামা সাপেক্ষে যোগদানের অনুরোধ জানাইয়া স্ব স্ব বিদ্যালয় নিয়োগপত্র জারী করার কথা। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তা না করে তার একক ক্ষমতা বলে পুনরায় যাচাই বাছাইয়ের নাম করে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম বাদ দিয়ে দ্বিতীয় জনকে নিয়োগ প্রদান করে। জানা যায় ২০১৫ সালে ধলাপাড়া শরাতৈল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় সুকুমার মন্ডল প্রথম স্থান অধিকার করেন। তার জাতীয় পরিচয় পত্র ও স্কুল সার্টিফিকেট সঠিক থাকলেও অফিসের ভুলের কারণে ১৯৮৫ সালে সুকুমারের জন্ম হলেও জন্ম নিব্ধনে তার বয়স ভুলক্রমে ১৯৭৪ সাল লিপিবদ্ধ হয়। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনার বিধি অনুযায়ী তার বয়স সংশোধন করে ইন্টারনেটে প্রকাশ করে। কিন্তু নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনারের সংশোধিত আদেশ ও নীতিমালা অমান্য করে সুকুমারকে নিয়োগ না দিয়ে তার স্থলে ২য় স্থান অধিকারী মাখন চন্দ্র মন্ডল কে নিয়োগ প্রদান করেন। তাছাড়াও আরো একাধিক স্কুলে নিয়োগ প্যানেলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী সুকুর মন্ডল জানান, আমি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করায় আইনগতভাবে আমাকে নিয়োগ দেওয়ার কথা। নিয়োগ কমিটি আমাকে এ বিষেয় আশ্বস্ত করেছিলেন কিন্তু আমি টাকা দিতে না পারায় আমার জন্ম নিবন্ধনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে স্থানীয় নেতা গাংগাইর গ্রামের মুরাইদ সরকার ও তার চাচাতো ভাই শামীম ছাড়াও ধলাপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সেক্রেটারী আঃ বাছেদের সহযোগিতায় সাড়ে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে ইউএনও স্যার মাখন চন্দ্র মন্ডলকে নিয়োগ প্রদান করেন।
ফলে নিয়োগ কমিটির এইসব অনিয়মের ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলায় ৬৯টি বিদ্যালয় দপ্তরী নিয়োগ চলমান থাকাবস্থায় নিয়োগ কমিটির সেক্রেটারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিমা আখতার ১১ জুলাই ২৮দিনের ছুটি নিয়ে বাড়ীতে প্রস্থান করেন। তার স্থলে সহকারী শিক্ষা অফিসার মঞ্জুরুল হক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব পালন করলেও তিনি প্রতিনিধিকে জানান তিনি নিয়োগের বিষয়ে কিছুই জানেন না। উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাজেম উদ্দিন জানান, নিয়োগের বিষয়ে কোন তথ্য তার দপ্তরে নাই। স্থানীয় এমপির প্রতিনিধি নিয়োগ কমিটির সদস্য মশিউর রহমান আরজু জানান, তৃতীয় ধাপের ৩টি নিয়োগ ছাড়া তিনিই কিছুই জানেন না। উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি নিয়োগ কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর খান জানান, ফুলহারা, কোলাহা ও বীরখাগিয়ান স্কুলের ৩টি নিয়োগ ইউএনও সাহেবের ব্যক্তিগত নিয়োগ থাকায় আমরা কোনদিক না ভেবে শুধু স্বাক্ষর দিয়ে দিয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান জানান আমি ইউএনও সাহেবকে ১নম্বর কে নিয়োগ দিতে বলেছিলাম কিন্তু তিনি আমার কথা না নিয়ে গোপনে দুই নম্বরকে নিয়োগ দেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন জানান, নিয়োগের নামে প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার খবর আমার কানেও এসেছে। তাই আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে সকল নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি।

বুধবার, আগস্ট ০৯, ২০১৭

ঘাটাইলে এক অমুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন!


ঘাটাইলে এক অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের। বুধবার বিকেলে উপজেলা দেওপাড়া ইউনিয়নস্থ শরাশাক গ্রামের তার নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার নাম ফজলুল করিম (৭০)। সে মৃত- আব্দুর রহমানের পুত্র।
যুদ্ধ কালিন কমান্ডার (মুক্তি বার্তা নং- ০১১৮০৪০১৪৪) মকবুল হোসেন জানান, সে কখনো মুক্তিযোদ্ধা ছিল না। সে মাইজ বাড়ি গ্রামের মৃত- মীর সামাদ (মুক্তি বার্তা নং- ০১১৮০৪০১৬০) নম্বরে ভাতা উত্তেলন করেছে। এর বিরোদ্ধে প্রাধানমন্ত্রী, মুক্তি যোদ্ধা ম›ন্ত্রনালয়, জামুুকা, ও কেন্দ্রিও কমান্ড কাউনসিলে এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া আছে। তিনি আরো বলেন, মহান মুক্তি যোদ্ধার সময় সে ধলাপাড়া স্কুলের শিক্ষকতা করেছেন। ঐ সময় স্থানীয় পিচ কমিটির সদস্য ছিল বলে জানিয়েছেন। মুক্তি যোদ্ধা শুকুমার সুত্র ধর বলেন, সে মুক্তি যোদ্ধা ছিল না। তবে যোদ্ধাহত মুক্তি যোদ্ধা মনজুর হোসেন তাকে চিনেন না বলে জানান। জানাযায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হলেও সরকারে তরফ থেকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ছাড়া ও পুলিশ সদস্য ছাড়া স্থানীয় কোন মুক্তি যোদ্ধা দাফনে উপস্থিত হন নি। জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এনামুল হক বলেন,তিনি মুক্তিযোদ্ধা কিনা তা আমি সঠিক জানিনা। একেক জনে একেক কথা বলেছেন। তবে লাল মুক্তিবার্তাওপ্রধান মন্ত্রীর স্বাক্ষরিত একটি সনদ দেখেছি। তার ভাতা উত্তোলন বই পুলিশ চেক করেছেন বলে তিনি জানান। এ দিকে একজন অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা প্রেস ক্লাবে এসে নিন্দা, আপত্তি ও প্রতিবাদ জানায়।

পিতার ধর্ষণে মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা: এখনও গ্রেফতার হয়নি বাবা

টাঙ্গাইলে এবার সৎ বাবার ধর্ষণের শিকার হয়ে নয় মাসের অন্ত:স্বত্ত্বা হয়ে পড়েছে ১৬ বছরের এক কিশোরী। ঘটনাটি জেলার ঘাটাইল উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার ফুলমালিরচালা গ্রামের।
শুরুর দিকে মেয়েটির মা স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বিচার চেয়ে ব্যর্থ হন। এরপর ঘাটাইল থানায় মামলা করতে গেলে ঘাটাইল থানা পুলিশ মামলা নেয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে গত ২৪ জুলাই সৎ বাবা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন তিনি।
তবে মামলা দায়ের হলেও অভিযুক্ত লম্পট পিতাকে এখনও আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ। এর ফলে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে মেয়েটির পরিবার।
ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী জানায়, গত সাত বছর আগে তার মায়ের সঙ্গে বাবার বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তারা ফুলমালীরচালায় নানার বাড়ীতে চলে আসে। এসময় তাকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়। এর কিছুদিন পর তার মায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় একই এলাকার কামরুল ইসলামের সাথে। প্রথমদিকের কয়েক বছর তাদের সংসার ভাল চললেও কিছুদিন পর তার উপর কামরুলের কু-দৃষ্টি পড়ে। আর এ বিষয়টি তার মা টের পেয়ে তাকে নানা বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
‘এ নিয়ে মায়ের সাথে মনোমালিন্যসহ পাশবিক নির্যাতন চালাতো কামরুল। নয়মাস আগে হঠাৎ একদিন মাকে দেখতে সৎ বাবার বাড়ী যাই। রাতে বাড়ীর সবার সাথে ঘুমিয়ে পড়ি। মা পাশের একটি মুরগীর খামারে প্রতিদিনের মতো ভোর রাতে মুরগীকে খাবার দিতে গেলে সৎ বাবা কামরুল অতর্কিতভাবে মুখ চেপে ধরে জোর করে ধর্ষণ করে। এছাড়া ঘটনাটি কাউকে জানালে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।’
মৃত্যু ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখে কিশোরী। এর কিছুদিন পর অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। এসময় চিকিৎসকরা তাকে গর্ভবতী বলে সনাক্ত করে। প্রথমে বিষয়টি গোপন থাকলেও পরে মাদ্রাসার সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানাজানি হয়ে যায়। এখন অনাগত সন্তানের ভবিষৎ আর নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে নিয়ে বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অসহায় মেয়েটির মা।

মঙ্গলবার, আগস্ট ০৮, ২০১৭

ঘাটাইলে ব্যবসায়ী খুন

রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) :
 ঘাটাইল উপজেলার সিংগুরিয়াতে আব্দুল হামিদ (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। সে পেশায় একজন কাঠ ব্যাবসায়ী । গত রোববার (৬ আগস্ট) বিকালে বাড়ির পাশে একটি ছোট গাছে ঝুলে থাকাবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করেছে ঘাটাইল থানার পুলিশ। তার গোপণাঙ্গ পায়ের নক থেতলানো ছিল।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়,। হত্যার শিকার আব্দুল হামিদ সিংগুরিয়া বাসস্ট্যান্ড বাজার এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর মেঝ ছেলে। আব্দুল হামিদ একজন বিশিষ্ট কাঠ ব্যবসায়ী । ৫ আগষ্ট শনিবার রাতে কে বা কারা তার পায়ের নক ও গোপনাঙ্গ থেতলে হত্যা করে বিবস্ত্র অবস্থায় বাড়ির পাশে একটি ছোট গাছে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখে। তার এক ছেলে দুই মেয়ে। তারা সকলেই বিবাহিত। একমাত্র ছেলে সোহেল স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকেন। আব্দুল হামিদের চাচাত ভাই আব্দুল বাছেদ জানান, “আমার ছেলে পাট ক্ষেতে পাট কাটতে যায়। পাট ক্ষেত থেকে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে সকলকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে ।
নিহত হামিদের বড় মেয়ে হামিদা খাতুন (৩০) জানান, “মা ও বাবা দুজনে বাড়িতে থাকতেন। ভাইয়ের স্ত্রী’র সন্তান হওয়ায় মা প্রায় ২ মাস যাবৎ ঢাকায় থাকেন। বাবা বাড়িতে একাই থাকত। আমার বাবার কোন শত্রু ছিলনা। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা বুঝতে পাচ্ছিনা।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আমীর হোসেন জানান,তার গোপণাঙ্গ ও পায়ের নক থেতলানো ছিল। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য আজ সোমবার টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে এটাকে পরিকল্পিত হত্যা কান্ড বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়না তদন্তের পর হত্যা কান্ডের সঠিক কারন জানা যাবে। তবে কি কারনে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা পরিস্কার নয়।

সোমবার, আগস্ট ০৭, ২০১৭

ঘাটাইলে জমি নিয়ে বিরোধ, বেদখলের অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে

ঘাটাইলে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দখলী জমি বেদখল দেয়ায় শান্তি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ নূরুল ইসলাম ওরফে কান্দুর বিরুদ্ধে। দীর্ঘ দিনের বিরোধে তারা একে অপরে মিথ্যা মামলায়ও জড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে জানা যায়, ঘাটাইলে সন্ধানপুর ইউনিয়নস্থ এগারকাহনিয়া গ্রামে ইয়ার উদ্দির পূত্র ওমর আলী তার নিজ নামে (কওলা সূত্রে), পৈত্রিক ও ইস্তফা মূলে জমির মালিকানা স্বত্বে দেড় যুগ ধরে ভূমি দখলে রয়েছে। বর্তমান হাল রেকর্ড প্রাপ্ত হয়ে খাজনা খারিজ হয়েছে তার নামেও। অথচ পতিপক্ষ তার সহধর নূরুল ইসলাম কান্দুগংরা কোন স্বত্ব ছাড়াই ঐ জমিেিত ঘর উঠিয়ে বেদখল দেওয়ার পায়তারা করছে বলে জানাগেছে। সরেজমিনে এলাকায় গেলে স্থানীয় মুুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী বলেন- তর্কীত জমিটি গত ১৫/২০ বছর ধরে ওমর আলী ভোগ দখলে রয়েছে। বর্তমানেও ওমর আলী ঐ জমিতে চাষাবাদ করে হলুদ বুনেছে। এদিকে ঐ জমিটি ওমর আলীর দখলে থাকার বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিপক্ষ নূরুল ইসলাম ওরফে কান্দু বলেন-কাগজ পত্রে আমাদের স্বত্ব রয়েছে এ জমিতে। তবে জমির মালিকানা স্বত্বের কোন কাগজ দেখাতে সক্ষম হয়নি তিনি। এলাকাবাসী জানিয়েছেন ঐ জমি নিয়ে গ্রামে একাধিকবার শালিস দরবার হয়েছে। তবে কোন মিমাংশায় আসতে পারে