টাঙ্গাইলে এবার সৎ বাবার ধর্ষণের শিকার হয়ে নয় মাসের অন্ত:স্বত্ত্বা হয়ে পড়েছে ১৬ বছরের এক কিশোরী। ঘটনাটি জেলার ঘাটাইল উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার ফুলমালিরচালা গ্রামের।
শুরুর দিকে মেয়েটির মা স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বিচার চেয়ে ব্যর্থ হন। এরপর ঘাটাইল থানায় মামলা করতে গেলে ঘাটাইল থানা পুলিশ মামলা নেয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে গত ২৪ জুলাই সৎ বাবা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন তিনি।
তবে মামলা দায়ের হলেও অভিযুক্ত লম্পট পিতাকে এখনও আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ। এর ফলে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে মেয়েটির পরিবার।
ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী জানায়, গত সাত বছর আগে তার মায়ের সঙ্গে বাবার বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তারা ফুলমালীরচালায় নানার বাড়ীতে চলে আসে। এসময় তাকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়। এর কিছুদিন পর তার মায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় একই এলাকার কামরুল ইসলামের সাথে। প্রথমদিকের কয়েক বছর তাদের সংসার ভাল চললেও কিছুদিন পর তার উপর কামরুলের কু-দৃষ্টি পড়ে। আর এ বিষয়টি তার মা টের পেয়ে তাকে নানা বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
‘এ নিয়ে মায়ের সাথে মনোমালিন্যসহ পাশবিক নির্যাতন চালাতো কামরুল। নয়মাস আগে হঠাৎ একদিন মাকে দেখতে সৎ বাবার বাড়ী যাই। রাতে বাড়ীর সবার সাথে ঘুমিয়ে পড়ি। মা পাশের একটি মুরগীর খামারে প্রতিদিনের মতো ভোর রাতে মুরগীকে খাবার দিতে গেলে সৎ বাবা কামরুল অতর্কিতভাবে মুখ চেপে ধরে জোর করে ধর্ষণ করে। এছাড়া ঘটনাটি কাউকে জানালে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।’
মৃত্যু ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখে কিশোরী। এর কিছুদিন পর অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। এসময় চিকিৎসকরা তাকে গর্ভবতী বলে সনাক্ত করে। প্রথমে বিষয়টি গোপন থাকলেও পরে মাদ্রাসার সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানাজানি হয়ে যায়। এখন অনাগত সন্তানের ভবিষৎ আর নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে নিয়ে বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অসহায় মেয়েটির মা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷