মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৬

ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের ইতিকথা

চির পুরাতন সূর্যটা প্রতিদিনি চির নতুন হয়ে জন্ম নেয় পৃথিবীতে। ঘোষনা করে প্রতিদিন চির নতুন সংবাদ। পৃথিবীর প্রতি তার অমোঘ ভালবাসার কারণেই আবার ফিরে আসতে হয় তাকে। মানুষও এর ব্যাতিক্রম নহে। মানুষের ভালোবাসা হচ্ছে অনাদি-অনন্ত হৃদয় থেকে হৃদয়ের খবর জানার অশান্ত মানবমন চির ব্যাকুল। আর এই ব্যাকুলতা থেকেই সৃষ্টি হয় এক নতুন অধ্যায়ের।
কোন সৃষ্টিই দিন-ক্ষণ মাস মেনে চলে না, চলতে পারে না। আজ যে শিশুটির জন্ম হলো, সৃষ্টি রহস্যের সন্ধানে আরও দশ মাস এগিয়ে যেতে হবে। তারপরও সঠিক জবাব সুকঠিন। আর হ্যাঁ ঘাটাইল প্রেস ক্লাব সর্ম্পকেও এ কথাটি ব্যাতিক্রম নহে, কেননা জন্মের আগেরও একটি ঐতিহাসিক পটভূমি থাকে এবং থাকবে। অনুরুপ প্রেক্ষাপটে আজকের ঘাটাইল প্রেস ক্লাব জন্মের পটভূমিতে যতদূর আচঁ করা যায় তা হচ্ছে- ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের চিন্তা চেতনার উন্মোস ঘটে ঊনিশ’শ আশি শতকের দিকে খুব কম সংখ্যক সাংবাদিক থাকলেও সাহিত্যিক, কবি ও বুদ্ধিজীবির খুব একটা অভাব ছিল না। মূলত ঃ অভাব ছিল সংগঠকের এবং সংগঠনের। ষাটের দশকের “জাগরণী সাহিত্য চক্র” নামে একটি সাহিত্য সংগঠন ছিল। অনেক পরে ‘বংশাই’ তারও পরে ‘অরুপ সাহিত্য গোষ্ঠী’ নামে সংগঠনের জন্ম হয়্ কিন্তু প্রেস ক্লাব সম্পর্কে ভাববার অবকাম তখনও সৃষ্টি হয়নি। আশির দশকে সর্বপ্রথম মুহাম্মদ মতিয়ূর রহমান ঘাটাইলে একটি প্রেস স্থাপন করেন। প্রেস এবং প্রেস ক্লাব গভীর সম্পর্ক যুক্ত শব্দ দু’টি এক সময় একাত্মতা ঘোষনা করেন। এই প্রেস ঘরে বসেই সর্বপ্রথম ঘাটাইলের উঠতি সাংবাদিকগণ বসার এবং কিছু বলার সুযোগ লাভ করে। এই সময় মতিয়ূর রহমান, জিন্না-বিন জয়েন উদ্দিন, এম এ লতিফ, সাংবাদিক হায়দার রহমান, নৃপেন বিশ্বাস, রঞ্জন কুমার সাথী, সংগঠক আশরাফুল ইসলাম মুকুল। এরা প্রথমত ঃ সাহিত্য, কবিতা ও সাংবাদিকতা নিয়ে বৈঠকী আলোচনার সূত্রপাত করে। এই সময় মূলত ঃ ঘাটাইলের সাংবাদিকদের মনে একটি প্রেস ক্লাব জন্ম দেবার তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করে এবং উন্নয়নশীল ঘাটাইলে বহুমুখী প্রতিযোগিতা মূলক ঃ উন্নয়নের প্রতি লক্ষ্য করে এর একটা দারুন অভাব অনুভূত হয়।
১৯৮৪ সালে এদেশের বরণীয় মজলুম জননেতা মাও আঃ হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যু দিবসে তার স্মরণ সভায় (লিলি প্রেসের সামনে) অধ্যাপক সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনা শেষে প্রথম ঘাটাইলে প্রেস ক্লাবের কাঠামো গত প্রক্রিয়া সূচীত হয়।
       এর আগে ঘাটাইলে এমন চিন্তার প্রকাশ ঘটেনি। যদিও ঐতিহাসিক এবং গুপ্তবৃন্দাবন, দক্ষিণে ফটিকজানী, উত্তরে মধুবনের বংশাই দ্বারা এ ভূÑখন্ড। বহু লেখক, কবি, সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবির এ অঞ্চল। কথা সাহিত্যিক ইব্রাহীমা খাঁ, কবি মোফাখখারুল ইসলাম, সনেটর রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী, ভাষা সৈনিক শামছুল আলম এবং তৎকালীন ‘দি ডেইলী মর্নিং নিউজ’ পত্রিকার একজন সাংবাদিকও এখানে ছিলেন। অথচ জানা মতে বা ইতিহাসের গোড়ার কোন অংশে প্রেস ক্লাবের উদ্ভাবনের নজির পাওয়া যায় নি। 
অতঃপর একদিন বদনাম আর রইল না। দীর্ঘ প্রতিক্ষিত প্রহর কেটে গেল। ১৯৮৫ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘাটাইলে প্রেস ক্লাবের পত্তন নামা প্রস্তুত যল। যারা এতদিন প্রয়োজন অনুভব করে আসতে ছিলেন তারা হলেন, জনাব হায়দার রহমান, শ্রী নৃপেন বিশ্বাস, শ্রী রঞ্জন কুমার সাথী, এম এ লতিফ, রফিকুল ইসলাম ও আতা খন্দকার।অধ্যাপক মুতিয়ূর রহমান খান, এডভোকেট মাহবুবুল বাচিত চাঁন মিয়া প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ নিয়ে এগিয়ে আসেন।
সভাপতি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন( দৈনিক ইত্তেফাক)সাধারণ সম্পাদক হায়দার রহমান সমন্বয়ে ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের প্রথম কমিটি গঠিত হয়।এই সময় একটি সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল হায়দার রহমানকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাহা সর্ম্পূনতা লাভ করেনি।১৯৮৭ সালে সভাপতি হায়দার রহমান সম্পাদক নৃপেন বিশ্বাস।১৯৮৮ সালে সভাপতি এস আকবর খান সম্পাদক সেলিম জাহাঙ্গীর।এই ক্লাবের সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয় ১৯৯০ সালে। সভাপতি নৃপেন বিশ্বাস সম্পাদক আতা খন্দকার। এই সময় থেকেই ঘাটাইল প্রেস ক্লাব ভাটার টানে ধীরে বহে মেঘনা এই গতিতে এগিয়ে চললেও এক সময় থেমে যায় এর গতি। তবে যতক্ষণ এ ধারা প্রবাহমান ছিল ততক্ষণ এর গর্জন সিংহের মতই ছিল। এই সময় ‘দেশ কাল সাংবাদিকতা শীর্ষক’ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বহু খ্যাতনাম সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলোচক ছিলেন। প্রধান অতিথি ছিলেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জনাব সফি উদ্দিন আহম্মেদ। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে অগ্রসর পৃথিবীর এক কোনে এসে যায় এর প্রজ্জ¦লিত আলোর মশাল। 
প্রায় চার-পাঁচ বছর পর অর্থাৎ ১৯৯৪ সালের দিকে নতুন প্রজন্মের তৎকালের বেশ কয়েক জন উঠতি সাংবাদিক এস আকবর খান, শেখ জয়েন উদ্দিন, সাইয়্যিফ মোহাম্মাদ হামিদুল্লাহ, নজরুল ইসলাম, নূরুজ্জামান মিঞা, খন্দকার শাহীন কাদির ও ফজলুর রহমান এদের দ্বারা ধীরে ধীরে নব উদ্যোমে জ্বলে উঠতে শুরু করে। কিছুদিন পরে মাঝ পথে থেমে যায় এর গতি। 
অবশেষে ২০০২ সালে এসে ঘাটাইলের একঝাক টগবগে তরুণ সাংবাদিক বুকে-মুখে অসীম সাহসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসে। সংকল্প একটাই-“ঘাটাইল প্রেস ক্লাব চাই”।যারা মরণপণ বদ্ধপরিকর হলেন তাদের মধ্যে সাংবাদিক সাইয়্যিফ মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ (দিনকাল), নজরুল ইসলাম (মানবজমিন), নূরুজ্জামান মিঞা (ইত্তেফাক), স্বাধীন আজম (প্রবাসী), আব্দুল্লাহ আল মাসুদ (নয়াদিগন্ত), সাজ্জাদুর রহমান (পূর্বাকাশ), শফিকুল ইসলাম ( দেশ জনতা), নাসির উদ্দিন (একুশের বানী), সফিকুর রহমান (বাংলার জমিন)। এরা বুক ভরা সাহস নিয়ে নব উদ্যোমে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়ে এক সাধারণ সভার মাধ্যমে ঘাটাইলের সুধীজনের সাহায্য প্রার্থী হন। তাদের আহবানে সারা দিয়ে যারা এগিয়ে আসেন তারা হলেন, অধ্যাপক এস. এম মজিবুর রহমান, অধ্যাপক এস. এম খলিলুর রহমান, অধ্যাপক মতিয়ূর রহমান খান।
এ পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া নিয়ে এগিয়ে আসেন মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ জিল্লুর রহমান জুলহাস, প্রবীণ সাহিত্যিক জনাব মুজাফ্ফর আলী তালুকদার, আমিনুল ইসলাম। এদের সকলের সম্মিলিত পচেষ্টায় নিরন্তর স্বাক্ষী বর্তমান ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের বাস্তবতা।
সাংবাদিক এবং সূধীজনের সমন্বয়ে সভায় ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের অতীত পটভূমি পর্যালোচনা শেষে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং একই সাথে সুধীজনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের নিমিত্তে একটি আহবায়ক কমিটি ও সংবিধান প্রনয়ন কমিটি গঠিত হয়। কোন ক্রমেই যাতে অতীত ব্যর্থতার জের পুনরাভিত্তি না ঘটে তার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রেখে কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সংবিধান প্রনয়নে মোঃ কামাল হোসেন, অধ্যাপক এস. এম মজিবুর রহমান, অধ্যাপক মতিয়ুর রহমান, অধ্যাপক খলিলুর রহমান, জিল্লুর রহমান জুলহাস, নজরুল ইসলাম, মোঃ নূরুজ্জামান মিঞা, বিশেষ আবেদন রাখেন। 


সংগৃহীত- ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের সংবিধান হতে।


রবিবার, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৬

ঘাটাইলে ইউএনও’র বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ

প্রশাসন সহ বিভিন্ন মহল, সিনিয়র সাংবাদিকদের অনুরোধের জন্য এই লিংকের নিউজটি এখান থেকে সড়িয়ে নেয়া হয়েছে। পত্রিকা প্রকাশে যাতে কোন বাধা না আসে তাই কাজটা করা হয়েছে। সদা সত্য, আপডেট সহ আজ সকালে ঢাকা টাইমস এ প্রকাশিত নিউজটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন.........

ঘাটাইল আওয়ামীলীগের সম্মেলন স্থগিত



মো ঃ খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ 

টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন কেন্দ্রের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। প্রায় ১৪ বছর পর রোববার (০৪ ডিসেম্বর) এই সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা আমাদের ঘাটাইল ডটকম কে বলছেন, সাংসদ আমানুর রহমান খান কারাগারে থাকায় ষড়যন্ত্র করে সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। আবার কেউ বলছেন, সম্মেলন স্থগিত করার কারণ জেলা পরিষদ নির্বাচন।উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন ২০০২ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে আজমল হোসেনকে সভাপতি ও শহিদুল ইসলামকে (লেবু) সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০০৫ সালে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি শামসুর রহমান খানের সঙ্গে উপজেলা কমিটির বিরোধ শুরু হয়। তখন উপজেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন খানকে আহ্বায়ক করে কমিটি করা হয়। সেই কমিটি তিন বছরেও সম্মেলন করতে পারেনি। এ জন্য ২০০৮ সালে এ কমিটি ভেঙে শহিদুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। অন্যদিকে শামসুর রহমানের অনুসারীরা নজরুল ইসলাম খানকে (সামু) আহ্বায়ক করে পাল্টা কমিটি করেন। শহিদুলের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে স্থানীয় সাংসদ মতিউর রহমান এবং নজরুলের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে শামসুর রহমান সমর্থন করতেন। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে শামসুর রহমান মারা যান। একই বছর সাংসদ মতিউর রহমানও মারা যান। পরে শূন্য আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান শহিদুল ইসলাম লেবু। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শামসুর রহমানের ভাতিজা জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমানুর রহমান খান (রানা) বিদ্রোহী প্রার্থী হন। এ জন্য আমানুর ও তাঁর অনুসারীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু আমানুর বিজয়ী হওয়ার পর তাঁদের আবার দলে নেওয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় নাম এলে ২০১৪ সালে সাংসদ আমানুর আত্মগোপনে চলে যান। তখন উভয় পক্ষের সমন্বয়ে ২০১৪ সালে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। এ কমিটিতে আমানুরের সমর্থক নজরুল ইসলাম (সামু) কে আহ্বায়ক ও শহিদুল ইসলামকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। কিন্তু তাঁরাও সম্মেলন করতে পারেননি। গত ৭ সেপ্টেম্বর এ কমিটি ভেঙে শহিদুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে ৪১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।শহিদুল ইসলাম লেবু আমাদের ঘাটাইল ডটকম কে বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের রোববার (আজ ০৪ ডিসেম্বর) সম্মেলন অনুষ্ঠানের সব পস্তুতি শেষ হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার রাতে হঠাৎ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সম্মেলন স্থগিত করতে বলেন।জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম আমাদের ঘাটাইল ডটকম কে বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে। তাই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে সম্মেলন হবে।

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০১, ২০১৬

ঘাটাইলে স্বপন ও ভূট্টোর জমজমাট মাদক ব্যবসার মেলা

আঃ রশিদ তালুকদার, সিনিয়র প্রতিবেদক ঃ ঘাটাইল উপজেলার পশ্চিম সীমান্তবর্তী সিংগুরিয়ার স্বপন ও পাঁচটিকড়ী গ্রামের ভূট্টোর জমজমাট মাদক ব্যবসার মেলা জমে উঠেছে। জানা গেছে, সিংগুরিয়া গ্রামের মুজাফফর খলিফার ছেলে মো: স্বপন (৪২) ও পাঁচটিকড়ী গ্রামের মো: মতিয়ার রহমানের ছেলে মো: ভূট্টো (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা, হিরোইন ও গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশা দ্রব্য একটি প্রভাবশালী মহলের শক্তিতে বিক্রয় করে যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ধাপিত করছে। এলাকা সূত্রে জানা যায়, লোকেরপাড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো: শরিফ হোসেনের চাচাতো ভাই মো: ভূট্টো ও আনেহলা ইউনিয়নের একজন সরকার দলীয় নেতার শক্তিতে মো: স্বপন তাদের সহযোগিদের নিয়ে অবাধে অবৈধ মাদক দ্রব্য ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। প্রতি ২৪ ঘন্টায় এ দুই ব্যবসায়ী অন্তত ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার মাদক দ্রব্য বিক্রি করছে। স্বপন ও ভূট্টো মাদকসহ একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে। তারা গ্রেফতার হলেও জামিনে এসে পুনরায় মাদক দ্রব্য ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। স্বপন ও ভূট্টোকে ফোন করলে তাদেরকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। এদিকে লোকেরপাড়া ইউনিয়নের লোকেরপাড়া গ্রামের মাদক সম্রাট মিনহাজ উদ্দিন তালুকদার ও তার সহযোগি কয়েকজন ইতোপূর্বে স্থানীয় মাদক প্রতিরোধ কমিটির সহযোগিতায় গ্রেফতার হলেও এখনো লোকেরপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলাম ভূইয়ার ছেলে মো: স্বপন (২৮) জামিন প্রাপ্ত হইয়া আবারও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও একই গ্রামের আরো কয়েজন হিরোইন, ইয়াবা ও গাঁজা আড়ালে বিক্রি করছে। এলাকার গণ্যমান্য ও লোকেরপাড়া মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি এডভোকেট মো: বেলায়েত হোসেন খান কাপাশ প্রশাসনের আইনগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

ঘাটাইলে স্বপন ও ভূট্টোর জমজমাট মাদক ব্যবসার মেলা

আঃ রশিদ তালুকদার, সিনিয়র প্রতিবেদক ঃ ঘাটাইল উপজেলার পশ্চিম সীমান্তবর্তী সিংগুরিয়ার স্বপন ও পাঁচটিকড়ী গ্রামের ভূট্টোর জমজমাট মাদক ব্যবসার মেলা জমে উঠেছে। জানা গেছে, সিংগুরিয়া গ্রামের মুজাফফর খলিফার ছেলে মো: স্বপন (৪২) ও পাঁচটিকড়ী গ্রামের মো: মতিয়ার রহমানের ছেলে মো: ভূট্টো (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা, হিরোইন ও গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশা দ্রব্য একটি প্রভাবশালী মহলের শক্তিতে বিক্রয় করে যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ধাপিত করছে। এলাকা সূত্রে জানা যায়, লোকেরপাড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো: শরিফ হোসেনের চাচাতো ভাই মো: ভূট্টো ও আনেহলা ইউনিয়নের একজন সরকার দলীয় নেতার শক্তিতে মো: স্বপন তাদের সহযোগিদের নিয়ে অবাধে অবৈধ মাদক দ্রব্য ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। প্রতি ২৪ ঘন্টায় এ দুই ব্যবসায়ী অন্তত ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার মাদক দ্রব্য বিক্রি করছে। স্বপন ও ভূট্টো মাদকসহ একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে। তারা গ্রেফতার হলেও জামিনে এসে পুনরায় মাদক দ্রব্য ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। স্বপন ও ভূট্টোকে ফোন করলে তাদেরকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। এদিকে লোকেরপাড়া ইউনিয়নের লোকেরপাড়া গ্রামের মাদক সম্রাট মিনহাজ উদ্দিন তালুকদার ও তার সহযোগি কয়েকজন ইতোপূর্বে স্থানীয় মাদক প্রতিরোধ কমিটির সহযোগিতায় গ্রেফতার হলেও এখনো লোকেরপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলাম ভূইয়ার ছেলে মো: স্বপন (২৮) জামিন প্রাপ্ত হইয়া আবারও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও একই গ্রামের আরো কয়েজন হিরোইন, ইয়াবা ও গাঁজা আড়ালে বিক্রি করছে। এলাকার গণ্যমান্য ও লোকেরপাড়া মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি এডভোকেট মো: বেলায়েত হোসেন খান কাপাশ প্রশাসনের আইনগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

ঘাটাইলে বিপ্লব হত্যা নিয়ে রহস্য

মেহেদী হাসান, নিজস্ব প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল ঃ:
 টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিপ্লব সরকার (৩২) নামের যুবককে হত্যার ঘটনা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশের এস আই মো. কবির উদ্দিন বাদী হয়ে ৫০/৭০ জনকে আসামী করে ঘাটাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। গত ৪ অক্টোবর ঘাটাইল থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলা নম্বর-০৫। ডাকাতি করার সময় উক্ত যুবক জনতার পিটুনীেিত খুন হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ডাকাতির সময় জনতার হাতে ধৃত পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোর্পদ করেছে। গত ৩ অক্টোবর বিপ্লবের খুনের ঘটনা ঘটলে ৪ অক্টোবর তাকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে পুলিশ। বিপ্লবের বাড়ি ঘাটাইল থানা সদরের পাশ্ববর্তী ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা গ্রামে। দূরত্ব আনুমানিক ২০/২৫ কিলোমিটার। বিপ্লবের পরিবার ও তার গ্রামের লোকজন জানিয়েছে, ‘‘পুলিশ বিপ্লবের পরিচয় জেনেও রহস্যজনক কারনে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছে।’’
নিহত বিপ্লবের গ্রামের বাড়ি ভূঞাপুরের নিকলা গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে একই গ্রামের শাকিল নামের এক যুবকের সাথে চাকুরীর উদ্দেশ্যে ঢাকা যাওয়ার কথা বলে বাড়ী থেকে বেরিয়ে আসে বিপ্লব। পুলিশের ভাষ্য অনুসারে, গত ২ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টায় ডাকাতিকালে অজ্ঞাতনামা যুবক (৩২) বিক্ষুব্ধ জনতার মারপিটে মারা যায়। পুলিশ জনতার হাতে ধৃত আরো ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। গ্রেফতারকৃতদেরসহ আরো ৮/১০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামী করে জনৈক ফরিদ ড্রাইভার গত ৩ অক্টোবর ঘাটাইল থানায় ডাকাতি মামলা রুজু করে। মামলা নাম্বার ০৪। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো- চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানার বাটনিখোলা গ্রামের মো. আলী মিয়ার পুত্র দেলোয়ার (২৭), ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প বি ব্লকের বিহাীর কলোনীর জাকির হোসেন খানের পুত্র সুমন হোসেন খান (৩৪), টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার বিলকাচিনা গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে নাহিদ (১৯), টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর উপজেলার বেড়বাড়ি খন্দকার পাড়ার আ. মালেক ড্রাইভারের ছেলে মো. রুবেল মিয়া (৩২), বদর উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন মিয়া (৩২), ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার নবাবগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ডের আমতলীর কাদের মোল্লা (৪৭)। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কালিহাতী উপজেলার বিলকাচিনা প্রকাশ সোনাকান্দর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে নাহিদ (১৯) এর বাড়ি নিহত বিপ্লব সরকারের গ্রাম নিকলা গোপালের দূরত্ব পৌনে এক কিলোমিটার। পুলিশ গ্রেফতারকৃত নাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নিহত বিপ্লব সরকারের নাম ঠিকানা নিতে পারতো বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। যদি বিপ্লব সরকার উক্ত ডাকাত দলের সদস্য হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই বিপ্লবের নাম ঠিকানা ঐ গ্রেফতারকৃতদের কাছে থাকার কথা। কিন্তু গত ৩ অক্টোবর খুন হওয়া লাশ ৪ অক্টোবরই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা নিয়ে রহস্যের জট বেঁধেছে সচেতন মহলে। একটি নির্ভরশীল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ঐ ডাকাতদের দলে থাকা নিহত বিপ্লবের গ্রামের রইজ উদ্দিনের ছেলে ওয়ায়েজ ক্বুরনী পালিয়ে এসে জনসম্মুখে পরদিন সকালে বিপ্লবের মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে ওয়ায়েজ ক্বুরনীসহ ঐ এলাকার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৫/৭ জন ডাকাত সদস্য গত ২ অক্টোবর দিবাগত গভীর রাতের ডাকাতির ঘটনা থেকে পালিয়ে এলেও পুলিশ তাদের নাম এজাহারভুক্ত করেনি। পিতা মহিরউদ্দিন সন্তানের লাশ ফিরে না পেয়ে নির্বাক এবং পালিয়ে আসা ডাকাতদের ভয়ে মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানিয়েছেন, ‘‘ডাকাতি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে অজ্ঞাতনামা (৩২) ঐ যুবকের মৃত্যু হয়েছে।’’ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘ডাকাতরা অনেক সময় ছদ্মনাম ব্যবহার করে।’’
বিপ্লব হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আবুল কাসেম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘‘বিপ্লব সরকারের পরিচয় পাওয়া গেছে। সে গনপিটুনিতে মারা গেছে।’’ ডাকাতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মো. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘‘গ্রেফতারকৃতরা নিহত বিপ্লব সরকারকে চেনেনা বলে জানানোতে আমরা ঠিকানা সনাক্ত করতে পারি নাই।’’ বিপ্লব সরকার ও গ্রেফতারকৃত আসামী নাহিদের বাড়ী পাশাপাশি থাকলেও সনাক্ত করতে না পারার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘নাহিদ বলেছে-সে বিপ্লব সরকারকে চেনে না।’’ নাহিদ ও বিপ্লব সরকারের এলাকায় পালিয়ে থাকা ডাকাতদের গ্রেফতারে অভিযান সম্পর্কে এস আই কামাল জানান, ‘‘অচিরেই ঐ অঞ্চলের ডাকাতদের গ্রেফতারে অভিযান চলবে।’’

সূত্র ঃ নিউজ ৭১ অনলাইন ডটকম।

ঘাটাইলে শিক্ষা অফিসে ঘুষ-দূর্নীতির অভিযোগ

খান ফজলুর রহমান ,সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) ঃ 
দায়িত্বে উদাসীনতা, নিয়মিত অফিসে না আসা ও নানা অনিয়ম আর দূনীতিতে ভেস্তে যেতে বসেছে ঘাটাইল উপজেলা  প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম । নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে এ অফিসটিতে ঘুষ নেয়া অনেকটাই ওপেন সিক্রেটে পরিনত হয়েছে।  এখানে অফিস সহকারী থেকে উপজেলা  শিক্ষা অফিসার পর্যন্ত যার যার দায়িত্যে‘র মার প্যাচে ফেলে  শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন   হাজার হাজার টাকা । জানা গেছে , প্রাইমারী এডুকেশন ডেভেলমেন্ট প্রোগ্রাম (পিইডিপি -৩) নামক একটি প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে স্কুল সংস্কারের নামে ১২টি স্কুলে ১২ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। এ প্রকল্পে অনিয়মকে জায়েজ করার জন্য  অডিটের কথা বলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিমা আখতার প্রতিপ্রকল্প  থেকে ৫ হাজার টাকা করে   নিয়েছেন  বলে জানাযায় ।
বানিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের   প্রধান শিক্ষক সাত্তার জানান ,তার স্কুলের সংস্কারের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়ে কাজও করেছেন। কিন্তুু তার পরও উপজেলা  শিক্ষা অফিসারকে    ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে  । এ ভাবে বাগাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হামিদ ও ইন্দারবাইদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ  থেকে একই ভাবে টাকা নেয়া হয়েছে। অপর দিকে ১৯ হাজার ৫ শ টাকা করে  ঘাটাইলে ৫৭ টি স্কুলে ক্ষুদ্র মেরামত (টয়লেট মেরামত) কাজে বরাদ্দ   ছিল ১১ লখ ১১ হাজার ৫শ টাকা । চেক দেয়ার সময় প্রতি চেকের জন্য দিতে হয়েছে  ৫শ টাকা করে । ক্ষুদ্র মেরামত কাজে ইঞ্জিনিয়ার  অফিস থেকে প্রাক্কলন  তৈরি করে কাজ করা হয় । ইঞ্জিনিয়ার অফিস   সুষ্ঠভাবে কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে প্রত্যয়ন  দেয়ার পর চেক দেয়ার নিয়ম ।  এক্ষেত্রেও প্রত্যয়ন পাওয়ার আগেই উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে চেক ৩০ টি স্কুলে চেক দেয়া হয়েছে । অথচ খুজ নিয়ে দেখা গেছে কাজ না করলেও শিক্ষা অফিস থেকে চেক দেয়া হয়েছে ।  এদিকে স্কুল লেভেল ইমপ্লিমেন্টেশন প্রোগ্রাম ( স্লিপ ) প্রকল্পে ১৬৯ টি স্কুলে প্রতিটিতে ৪০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়।এতে মোট বরাদ্দ দাড়ায়  ৬৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা । এ প্রকল্পের  সামান্য কাজ করে  প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা  শিক্ষা অফিসারের যোগ সাজসে ভুয়া বিল ভাওচার দিয়ে সিংহ ভাগ টাকা অতœাসাৎ করা হয়েছে  বলে জানা যায় । এছাড়াও   নিয়মিত অফিসে না আসা , অফিসে বসে  ভিন্ন ভিন্ন তারিখ লিখে বিদ্যালয়  পরিদর্শন দেখানো , মোবাইলে ভিজিট করে ঘুষ দাবি করা ও প্রতি স্কুলে সিএনজি নিয়ে ভিজিটে গিয়ে প্রত্যেক  স্কুলের  প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ভাড়ার নাম নিয়ে  ৫ শ টাকা করে  নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অপর দিকে  সাবক্লাস্টার প্রশিক্ষনের নামে চলছে মিনি পিকনিক আর অর্থ আতœসাতের মহোৎসব । সরকারী আদেশ অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য প্রশিক্ষন উপকরন বাবদ ৩০ টাকা এবং খাওয়ার জন্য ২৪০ টাকা বরাদ্দ  রয়েছে । সরেজমিনে ঘুরে শিক্ষকদের কাছ থেকে জানা যায় , ৫ টাকার কলম ও ৫ টাকা মুল্যের নি¤œ মানের প্যাড প্রশিক্ষন উপকরন হিসেবে  দেয়া হয়। প্রতি শিক্ষককে ১০০ টাকা নগদ এবং যে বিদ্যালয় রান্নার ব্যবস্থা করে তাদের কে খাওয়া বাবদ  জন প্রতি ১০০ টাকা  দেয়া হয়। এতে জন প্রতি ৬০ টাকা করে কম দিয়ে বছরে কমপক্ষে ২ লাখ ৫০ হাজার  টাকা সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহ আলম ও আয়েশা খাতুনসহ অন্যান্য সহকারী শিক্ষা অফিসারগন  হাতিয়ে নিচ্ছে  । এতে করে শিক্ষকদের দক্ষতা ও পেশাগত  উন্নয়ন কার্যক্রম   দারুন ভাবে  বিঘিœত হচ্ছে। এতে করে  সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পে  লাখ লাখ  টাকা   নষ্ট হচ্ছে ।  উপজেলা  শিক্ষাকমিটির সভাপতি হচ্ছে উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম  ।  তিনি জ্ঞাতসারেও বিষয় গুলো এরিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।  

এদিকে অফিস সহকারীদের বিরুদ্ধেও রয়েছে ঘুষ বানিজ্যের  নানা  অভিযোগ । এ  অফিসের অফিস সহাকারী নজরুল ইসলাম সদ্য জাতীয় বেতন স্কেলের বকেয়া বিল করতে প্রতি শিক্ষকের কাছ থেকে ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা করে নিয়ে থাকেন । একই ভাবে চিকিৎসা ছুটি , মাতৃত্ব ছুটি , শ্রান্তি বিনোদন ছুটি করাতে  ঘুষ দিতে হয় এ অফিসের অপর অফিস সহকারী  মোশারফ ও লতিফুর কে । সার্ভিস বুক খুলতে  টাকা নেয়ার অভিযোগসহ  টাকা ছাড়া বকেয়া বেতন দেয়া হয়না বলেও এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। 
অভিযোগের দায় স্বীকার করে, ঘাটাইল উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিমা আখতার বলেন ,বিভিন্ন ইউনিয়নে সহকারী শিক্ষা অফিসারগন বিদ্যালয়ের প্রকল্পের চাহিদা করে তালিকা করে থাকেন । অনিয়ম গুলো তাদের  মাধ্যমে হয় । অনেকটা অসহায়ত্ত প্রকাশ করে তিনি বলেন , সহকারী শিক্ষা অফিসার ও অফিসটাফ দের অনেক অনিয়ম চোখে পড়লেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না ।  

জানতে চাইলে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন বলেন , বর্তমানে উক্ত প্রকল্প ও শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে । আমার যোগদানে আগের প্রকল্পগুলো সর্ম্পকে আমার তেমন জানা নেই ।  তবে অনিয়ম পেলে ব্যস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি ।

সোমবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৬

এমপি রানার জামিন নাকোচ করে কারাগারে প্রেরণ

খান ফজলুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ 
টাঙ্গাইলের আলোচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামী –ঘাটাইল   আসনের সরকার দলীয় এমপি  আমানুর রহমান খান রানার জামিন আবেদন নাকোচ করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। সোমবার  সৈয়দ মোঃ দস্তগীর ও আতোয়ার রহমান খানের  হাই কোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের  শুনানীতে যুক্তি উপস্থাপন করায় জামিন আবেদন নাকোচ করা হয় । এ নিয়ে  নি¤œ আদালতে চার বার ও হাইকোর্টে দুই বার জামিন আবেদন নাকোচ করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হলো। 
উল্লেখ্য যে ২০১৩ সালে ১৮ জানুয়ারী টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের জনপ্রিয় নেতা ও বঙ্গবন্ধু হত্যার এক মাত্র প্রতিবাদ কারী ফারুক আহমেদ গুলি বিদ্ধ লাশ কলেজ পাড়া তার নিজ বাসার সামনে থেকে উদ্যার করা হয় । ঘটনার ৩ দিন পর ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে  টাঙ্গাইল মডেল থানায় একটি মামলা করেন । মামলার দীর্ঘ তদন্তে ধৃত আসামীদের স্বীকারোক্তি মুলক জবান বন্দিতে এমপি রানাসহ তার ৪ ভাই জড়িত থাকার বিষয় নিশ্চিত হয় পুলিশ ।  

ঘাটাইল বিদ্যুত বিভাগে সংস্কারের নামে ফাঁকি যেখানে টাকা - সেখানেই প্রজেক্টের কাজ


রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) ঃ
জ্যাইকা কোম্পানীর অর্থায়নে সেন্টাল জোন প্রকল্পের নাম দিয়ে বাংলাদেশ বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড(পি.ডি.বি) আলাদা প্রকল্প করে টাঙ্গাইল জেলা সহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার বিদ্যুত বিভাগের উন্নতির জন্য টোটাল মেন্টেস এর কাজ করার কথা। কিন্তু প্রকল্পের দায়িত্বরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকাল কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে মেন্টেসের কাজ না করে যেখানে টাকা- সেখানেই প্রজেক্টের কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, পি.ডি.বি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বিদ্যুত বিভাগের উন্নতির জন্য সেন্টাল জোন নাম দিয়ে আলাদা প্রকল্প করে ঠিকাদারে মাধ্যমে মেন্টেজ করা দায়িত্ব দেয়। উক্ত সেন্টাল জোন প্রকল্পে ঘাটাইল উপজেলায় সাজু এন্টারপ্রাইজের নামে ১ কোটি টাকার কার্যাদেশ প্রদান করে। অর্থাৎ উপজেলার পৌর এলাকায় যেসব জায়গায় ১০০ ফিটের উর্ধ্বে সার্ভিশ তার আছে অথবা যেসব জায়গায় ফাটাতার কিংম্বা বাশের খুটি দিয়ে লাইন টানানো আছে ঐসব জায়গায় নতুন করে এলটি লাইন স্থাপন করার কথা। সেই সাথে ওভার লোড এলাকায় নিরসন কল্পে ট্রান্সমিটার স্থাপন করা সেন্টাল জোন প্রকল্পের মুল কাজ। কিন্তু প্রকল্পের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ঘাটাইল বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পালের যোগসাজশে পৌর এলাকায় মেন্টেজের কাজ না করে বাহিল এলাকায় যেখানে মোট অংকের টাকা সেখানেই প্রজেক্টের কাজ করা হচ্ছে। এভাবে প্রকল্পের মেয়াদ ৩ বছর অতিক্রম করে কাগজে কলমে কাজের সমাপ্তি দিলেও সুরেশ চন্দ্র পালের দূনীতির কারণে পৌর এলাকায় সংস্কারে কাজ না করায় গ্রাহকদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌর এলাকার ফতের পাড়া,বানিয়া পাড়া, চতিলা, ঘাটাইল পশ্চিম পাড়া, খরাবার, চাঁন্দশী, ঝড়কা ও জয়নাবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিনের টেম্বার বিহীন পুরাতন তার কোথাও কোথাও ফাটা তার ও বাশের খুটি দিয়ে গ্রাহকদের বিদ্যুত সেবার কার্যক্রম চলছে। এই সব ফাটা তারের টেম্বার না থাকায় ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই মাঝে মধ্যে তার ছিড়ে পড়ে কয়েকবার দূর্ঘটনা ঘটে বলে জানাযায়। গত ৩রা জুলাই রাতে খরাবর মসজিদের পাশে এগার হাজারের লাইন (কোন কারন ছাড়াই) রাস্তার উপর ছিড়ে পড়ে। ২রা জুলই খরাবার ব্রিজ পাড়ে রাস্তার উপর তার ছিড়ে পড়ায় এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। গত বছর ৯ জুলাই রাতে বীর ঘাটাইল খোরশেদ মিয়ার পুকুর পাড়ে রাস্তার উপর তার ছিড়ে পড়ে। ৫ আগস্ট সন্ধা ৭ ঘটিকায় খরাবর খলিলের বাড়ির উত্তর পার্শ্বে কোন প্রকার প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকলে ১১ হাজার লাইন রাস্তার উপর ছিড়ে পড়ে। এভাবে ঝড়কা, জয়নাবাড়ি, চাঁন্দশী, খরাবর এলাকায় টেম্বারবিহীন তার দীর্ঘদিন যাবৎ ওভারলোড নিয়ে চলায় মাঝে মধ্যেই এম দূর্ঘটনা ঘটছে। পৌর এলাকার সবুজবাগ, কাজীরোড ও খরাবার এলাকায় বিদ্যুত এর চাহিদা অনুযায়ী পুরাতান তারের ত্রুটির কারনে ভোল্টেজ না পাওয়ায় এলাকার গ্রাহকরা দীর্ঘ দিন যাবৎ নো ভেল্টেজ এ ভোগছে। সন্ধার পর আলোর অভাবে ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করতে পারে না। এমনকি অনেক সময় ভোল্টেজের অভাবে টিভি, ফ্রিজও চলে না। এলাকাবাসী ওভারলোড নিরসনে ট্রান্সমিটার স্থাপন করতে বারবার তাগিত দিলেও নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পাল গ্রাহকদের সেবার কথা বিবেচনা না করে সংস্কারের কাজ বাদ দিয়ে জামুরিয়া ইউনিয়নের কোনাবাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার ১১ হাজার কেভি নিন্ম মানের লাইন ও ১০০ কেভি ট্রান্সমিটার স্থাপন করে গ্রাহকদের কাছে থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এভাবে একই এলাকার জামুরিয়া থেকে পুংলি পর্যন্ত এক কিলোমিটার লাইন ও ট্রন্সমিটার স্থাপন করে ৩ লাখ টাকা, সন্ধানপুর ইউনিয়নে দেওজানা থেকে ফকিরচালা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার ১১ হাজার কেভি লাইন ও ২০০ কেভি ট্রন্সমিটার স্থাপন করে ৪ লাখ টাকা, দেওজানা হতে গ্রামীন টাওয়ার পর্যন্ত এক কিলোমিটার ১১ হাজার কেভি লাইন ও ১০০ কেভি ট্রান্সমিটার স্থাপন করে ০৩ লাখ টাকা। চাঁনতারা ও দিগর গ্রামে নতুন সংযোগ দিয়ে তার ও খুটি বাবদ হাতিয়ে নেয় ১৬ লক্ষ টাকা। লাউয়াগ্রামে নতুন সংযোগ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় সাড়ে ৩ লাখ টাকা, খুপিবাড়ী ২০০ কেভি ট্রান্সমিটার বসাইয়া নেয় দেড় লাখ টাকা, ছামানের  বাজার থেকে গানজানা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার নতুন সংযোগ স্থাপন করে নেয় ৩ লাখ টাকা, ঘোড়ার টিকরি নতুন সংযোগ ও ট্রান্সমিটার বসাইয়া নেয় তিন লাখ টাকা, বাসাবাইদ নতুন সংযোগ ও ট্রান্সমিটার বসাইয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এই সব তার, খুটি ও ট্রান্সমিটার জ্যাইকা কোম্পানীর অর্থায়নে উপজেলার পৌর এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে কাজ করে পরে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পুরাতন লাইন সংস্কার করার কথা ছিল। কিন্তু সুরেশ চন্দ্র পাল গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা না করে সংস্কারের কাজ বাদ দিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে বাহির এলাকায় বর্ধিত লাইন স্থাপন করে লাখ লাখ টাকা ভাগাভাগি করে নেয়। এরপরেও পৌর এলাকার গ্রাহকদের পদে পদে ভোগান্তি থাকলেও সে সব জায়গায় কাজ না করে হরিপুর নবযোগ, মৌ এবং ডিজিটাল ইটভাটায় পল্লী লাইনের সংযোগ থাকতেও ঐসব ইটভাটায় নতুন লাইন ও তিনটি ট্রান্সমিটার স্থাপন করে হাতিয়ে নেয় সাড়ে ৯ লাখ টাকা। রসুলপুর ইউনিয়নের লাল মাটি এলাকায় দুটি ইটভাটায় নতুন লাইন ও ট্রান্সমিটার স্থাপন করে হাতিয়ে নেয় ১০ লাখ টাকা। এভাবে ঘাটাইল বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পাল ঠিকাদারের সাথে আতাত করে উপজেলায় বিদ্যুত বিভাগের সংস্কারের নাম ভাংগাইয়া প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা ভাগাভাগি করে নেয়।
জ্যাইকা কোম্পানীর অর্থায়নে সেন্টাল জোন প্রকল্পের দুর্নীতি বিষয়ে ঘাটাইল বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পালের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি আপনাকে তথ্য দিতে বাধ্য নই। লিখিত আবেদন করেন ভেবে দেখব। 

ঘাটাইল বিদ্যুত বিভাগে সংস্কারের নামে ফাঁকি যেখানে টাকা - সেখানেই প্রজেক্টের কাজ


রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) ঃ
জ্যাইকা কোম্পানীর অর্থায়নে সেন্টাল জোন প্রকল্পের নাম দিয়ে বাংলাদেশ বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড(পি.ডি.বি) আলাদা প্রকল্প করে টাঙ্গাইল জেলা সহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার বিদ্যুত বিভাগের উন্নতির জন্য টোটাল মেন্টেস এর কাজ করার কথা। কিন্তু প্রকল্পের দায়িত্বরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকাল কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে মেন্টেসের কাজ না করে যেখানে টাকা- সেখানেই প্রজেক্টের কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, পি.ডি.বি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বিদ্যুত বিভাগের উন্নতির জন্য সেন্টাল জোন নাম দিয়ে আলাদা প্রকল্প করে ঠিকাদারে মাধ্যমে মেন্টেজ করা দায়িত্ব দেয়। উক্ত সেন্টাল জোন প্রকল্পে ঘাটাইল উপজেলায় সাজু এন্টারপ্রাইজের নামে ১ কোটি টাকার কার্যাদেশ প্রদান করে। অর্থাৎ উপজেলার পৌর এলাকায় যেসব জায়গায় ১০০ ফিটের উর্ধ্বে সার্ভিশ তার আছে অথবা যেসব জায়গায় ফাটাতার কিংম্বা বাশের খুটি দিয়ে লাইন টানানো আছে ঐসব জায়গায় নতুন করে এলটি লাইন স্থাপন করার কথা। সেই সাথে ওভার লোড এলাকায় নিরসন কল্পে ট্রান্সমিটার স্থাপন করা সেন্টাল জোন প্রকল্পের মুল কাজ। কিন্তু প্রকল্পের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ঘাটাইল বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পালের যোগসাজশে পৌর এলাকায় মেন্টেজের কাজ না করে বাহিল এলাকায় যেখানে মোট অংকের টাকা সেখানেই প্রজেক্টের কাজ করা হচ্ছে। এভাবে প্রকল্পের মেয়াদ ৩ বছর অতিক্রম করে কাগজে কলমে কাজের সমাপ্তি দিলেও সুরেশ চন্দ্র পালের দূনীতির কারণে পৌর এলাকায় সংস্কারে কাজ না করায় গ্রাহকদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌর এলাকার ফতের পাড়া,বানিয়া পাড়া, চতিলা, ঘাটাইল পশ্চিম পাড়া, খরাবার, চাঁন্দশী, ঝড়কা ও জয়নাবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিনের টেম্বার বিহীন পুরাতন তার কোথাও কোথাও ফাটা তার ও বাশের খুটি দিয়ে গ্রাহকদের বিদ্যুত সেবার কার্যক্রম চলছে। এই সব ফাটা তারের টেম্বার না থাকায় ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই মাঝে মধ্যে তার ছিড়ে পড়ে কয়েকবার দূর্ঘটনা ঘটে বলে জানাযায়। গত ৩রা জুলাই রাতে খরাবর মসজিদের পাশে এগার হাজারের লাইন (কোন কারন ছাড়াই) রাস্তার উপর ছিড়ে পড়ে। ২রা জুলই খরাবার ব্রিজ পাড়ে রাস্তার উপর তার ছিড়ে পড়ায় এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। গত বছর ৯ জুলাই রাতে বীর ঘাটাইল খোরশেদ মিয়ার পুকুর পাড়ে রাস্তার উপর তার ছিড়ে পড়ে। ৫ আগস্ট সন্ধা ৭ ঘটিকায় খরাবর খলিলের বাড়ির উত্তর পার্শ্বে কোন প্রকার প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকলে ১১ হাজার লাইন রাস্তার উপর ছিড়ে পড়ে। এভাবে ঝড়কা, জয়নাবাড়ি, চাঁন্দশী, খরাবর এলাকায় টেম্বারবিহীন তার দীর্ঘদিন যাবৎ ওভারলোড নিয়ে চলায় মাঝে মধ্যেই এম দূর্ঘটনা ঘটছে। পৌর এলাকার সবুজবাগ, কাজীরোড ও খরাবার এলাকায় বিদ্যুত এর চাহিদা অনুযায়ী পুরাতান তারের ত্রুটির কারনে ভোল্টেজ না পাওয়ায় এলাকার গ্রাহকরা দীর্ঘ দিন যাবৎ নো ভেল্টেজ এ ভোগছে। সন্ধার পর আলোর অভাবে ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করতে পারে না। এমনকি অনেক সময় ভোল্টেজের অভাবে টিভি, ফ্রিজও চলে না। এলাকাবাসী ওভারলোড নিরসনে ট্রান্সমিটার স্থাপন করতে বারবার তাগিত দিলেও নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পাল গ্রাহকদের সেবার কথা বিবেচনা না করে সংস্কারের কাজ বাদ দিয়ে জামুরিয়া ইউনিয়নের কোনাবাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার ১১ হাজার কেভি নিন্ম মানের লাইন ও ১০০ কেভি ট্রান্সমিটার স্থাপন করে গ্রাহকদের কাছে থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এভাবে একই এলাকার জামুরিয়া থেকে পুংলি পর্যন্ত এক কিলোমিটার লাইন ও ট্রন্সমিটার স্থাপন করে ৩ লাখ টাকা, সন্ধানপুর ইউনিয়নে দেওজানা থেকে ফকিরচালা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার ১১ হাজার কেভি লাইন ও ২০০ কেভি ট্রন্সমিটার স্থাপন করে ৪ লাখ টাকা, দেওজানা হতে গ্রামীন টাওয়ার পর্যন্ত এক কিলোমিটার ১১ হাজার কেভি লাইন ও ১০০ কেভি ট্রান্সমিটার স্থাপন করে ০৩ লাখ টাকা। চাঁনতারা ও দিগর গ্রামে নতুন সংযোগ দিয়ে তার ও খুটি বাবদ হাতিয়ে নেয় ১৬ লক্ষ টাকা। লাউয়াগ্রামে নতুন সংযোগ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় সাড়ে ৩ লাখ টাকা, খুপিবাড়ী ২০০ কেভি ট্রান্সমিটার বসাইয়া নেয় দেড় লাখ টাকা, ছামানের  বাজার থেকে গানজানা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার নতুন সংযোগ স্থাপন করে নেয় ৩ লাখ টাকা, ঘোড়ার টিকরি নতুন সংযোগ ও ট্রান্সমিটার বসাইয়া নেয় তিন লাখ টাকা, বাসাবাইদ নতুন সংযোগ ও ট্রান্সমিটার বসাইয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এই সব তার, খুটি ও ট্রান্সমিটার জ্যাইকা কোম্পানীর অর্থায়নে উপজেলার পৌর এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে কাজ করে পরে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পুরাতন লাইন সংস্কার করার কথা ছিল। কিন্তু সুরেশ চন্দ্র পাল গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা না করে সংস্কারের কাজ বাদ দিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে বাহির এলাকায় বর্ধিত লাইন স্থাপন করে লাখ লাখ টাকা ভাগাভাগি করে নেয়। এরপরেও পৌর এলাকার গ্রাহকদের পদে পদে ভোগান্তি থাকলেও সে সব জায়গায় কাজ না করে হরিপুর নবযোগ, মৌ এবং ডিজিটাল ইটভাটায় পল্লী লাইনের সংযোগ থাকতেও ঐসব ইটভাটায় নতুন লাইন ও তিনটি ট্রান্সমিটার স্থাপন করে হাতিয়ে নেয় সাড়ে ৯ লাখ টাকা। রসুলপুর ইউনিয়নের লাল মাটি এলাকায় দুটি ইটভাটায় নতুন লাইন ও ট্রান্সমিটার স্থাপন করে হাতিয়ে নেয় ১০ লাখ টাকা। এভাবে ঘাটাইল বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পাল ঠিকাদারের সাথে আতাত করে উপজেলায় বিদ্যুত বিভাগের সংস্কারের নাম ভাংগাইয়া প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা ভাগাভাগি করে নেয়।
জ্যাইকা কোম্পানীর অর্থায়নে সেন্টাল জোন প্রকল্পের দুর্নীতি বিষয়ে ঘাটাইল বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পালের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি আপনাকে তথ্য দিতে বাধ্য নই। লিখিত আবেদন করেন ভেবে দেখব।