রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) ঃ
জ্যাইকা কোম্পানীর অর্থায়নে সেন্টাল জোন প্রকল্পের নাম দিয়ে বাংলাদেশ বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড(পি.ডি.বি) আলাদা প্রকল্প করে টাঙ্গাইল জেলা সহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার বিদ্যুত বিভাগের উন্নতির জন্য টোটাল মেন্টেস এর কাজ করার কথা। কিন্তু প্রকল্পের দায়িত্বরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকাল কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে মেন্টেসের কাজ না করে যেখানে টাকা- সেখানেই প্রজেক্টের কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, পি.ডি.বি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বিদ্যুত বিভাগের উন্নতির জন্য সেন্টাল জোন নাম দিয়ে আলাদা প্রকল্প করে ঠিকাদারে মাধ্যমে মেন্টেজ করা দায়িত্ব দেয়। উক্ত সেন্টাল জোন প্রকল্পে ঘাটাইল উপজেলায় সাজু এন্টারপ্রাইজের নামে ১ কোটি টাকার কার্যাদেশ প্রদান করে। অর্থাৎ উপজেলার পৌর এলাকায় যেসব জায়গায় ১০০ ফিটের উর্ধ্বে সার্ভিশ তার আছে অথবা যেসব জায়গায় ফাটাতার কিংম্বা বাশের খুটি দিয়ে লাইন টানানো আছে ঐসব জায়গায় নতুন করে এলটি লাইন স্থাপন করার কথা। সেই সাথে ওভার লোড এলাকায় নিরসন কল্পে ট্রান্সমিটার স্থাপন করা সেন্টাল জোন প্রকল্পের মুল কাজ। কিন্তু প্রকল্পের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ঘাটাইল বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পালের যোগসাজশে পৌর এলাকায় মেন্টেজের কাজ না করে বাহিল এলাকায় যেখানে মোট অংকের টাকা সেখানেই প্রজেক্টের কাজ করা হচ্ছে। এভাবে প্রকল্পের মেয়াদ ৩ বছর অতিক্রম করে কাগজে কলমে কাজের সমাপ্তি দিলেও সুরেশ চন্দ্র পালের দূনীতির কারণে পৌর এলাকায় সংস্কারে কাজ না করায় গ্রাহকদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌর এলাকার ফতের পাড়া,বানিয়া পাড়া, চতিলা, ঘাটাইল পশ্চিম পাড়া, খরাবার, চাঁন্দশী, ঝড়কা ও জয়নাবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিনের টেম্বার বিহীন পুরাতন তার কোথাও কোথাও ফাটা তার ও বাশের খুটি দিয়ে গ্রাহকদের বিদ্যুত সেবার কার্যক্রম চলছে। এই সব ফাটা তারের টেম্বার না থাকায় ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই মাঝে মধ্যে তার ছিড়ে পড়ে কয়েকবার দূর্ঘটনা ঘটে বলে জানাযায়। গত ৩রা জুলাই রাতে খরাবর মসজিদের পাশে এগার হাজারের লাইন (কোন কারন ছাড়াই) রাস্তার উপর ছিড়ে পড়ে। ২রা জুলই খরাবার ব্রিজ পাড়ে রাস্তার উপর তার ছিড়ে পড়ায় এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। গত বছর ৯ জুলাই রাতে বীর ঘাটাইল খোরশেদ মিয়ার পুকুর পাড়ে রাস্তার উপর তার ছিড়ে পড়ে। ৫ আগস্ট সন্ধা ৭ ঘটিকায় খরাবর খলিলের বাড়ির উত্তর পার্শ্বে কোন প্রকার প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকলে ১১ হাজার লাইন রাস্তার উপর ছিড়ে পড়ে। এভাবে ঝড়কা, জয়নাবাড়ি, চাঁন্দশী, খরাবর এলাকায় টেম্বারবিহীন তার দীর্ঘদিন যাবৎ ওভারলোড নিয়ে চলায় মাঝে মধ্যেই এম দূর্ঘটনা ঘটছে। পৌর এলাকার সবুজবাগ, কাজীরোড ও খরাবার এলাকায় বিদ্যুত এর চাহিদা অনুযায়ী পুরাতান তারের ত্রুটির কারনে ভোল্টেজ না পাওয়ায় এলাকার গ্রাহকরা দীর্ঘ দিন যাবৎ নো ভেল্টেজ এ ভোগছে। সন্ধার পর আলোর অভাবে ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করতে পারে না। এমনকি অনেক সময় ভোল্টেজের অভাবে টিভি, ফ্রিজও চলে না। এলাকাবাসী ওভারলোড নিরসনে ট্রান্সমিটার স্থাপন করতে বারবার তাগিত দিলেও নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পাল গ্রাহকদের সেবার কথা বিবেচনা না করে সংস্কারের কাজ বাদ দিয়ে জামুরিয়া ইউনিয়নের কোনাবাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার ১১ হাজার কেভি নিন্ম মানের লাইন ও ১০০ কেভি ট্রান্সমিটার স্থাপন করে গ্রাহকদের কাছে থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এভাবে একই এলাকার জামুরিয়া থেকে পুংলি পর্যন্ত এক কিলোমিটার লাইন ও ট্রন্সমিটার স্থাপন করে ৩ লাখ টাকা, সন্ধানপুর ইউনিয়নে দেওজানা থেকে ফকিরচালা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার ১১ হাজার কেভি লাইন ও ২০০ কেভি ট্রন্সমিটার স্থাপন করে ৪ লাখ টাকা, দেওজানা হতে গ্রামীন টাওয়ার পর্যন্ত এক কিলোমিটার ১১ হাজার কেভি লাইন ও ১০০ কেভি ট্রান্সমিটার স্থাপন করে ০৩ লাখ টাকা। চাঁনতারা ও দিগর গ্রামে নতুন সংযোগ দিয়ে তার ও খুটি বাবদ হাতিয়ে নেয় ১৬ লক্ষ টাকা। লাউয়াগ্রামে নতুন সংযোগ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় সাড়ে ৩ লাখ টাকা, খুপিবাড়ী ২০০ কেভি ট্রান্সমিটার বসাইয়া নেয় দেড় লাখ টাকা, ছামানের বাজার থেকে গানজানা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার নতুন সংযোগ স্থাপন করে নেয় ৩ লাখ টাকা, ঘোড়ার টিকরি নতুন সংযোগ ও ট্রান্সমিটার বসাইয়া নেয় তিন লাখ টাকা, বাসাবাইদ নতুন সংযোগ ও ট্রান্সমিটার বসাইয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এই সব তার, খুটি ও ট্রান্সমিটার জ্যাইকা কোম্পানীর অর্থায়নে উপজেলার পৌর এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে কাজ করে পরে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পুরাতন লাইন সংস্কার করার কথা ছিল। কিন্তু সুরেশ চন্দ্র পাল গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা না করে সংস্কারের কাজ বাদ দিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে বাহির এলাকায় বর্ধিত লাইন স্থাপন করে লাখ লাখ টাকা ভাগাভাগি করে নেয়। এরপরেও পৌর এলাকার গ্রাহকদের পদে পদে ভোগান্তি থাকলেও সে সব জায়গায় কাজ না করে হরিপুর নবযোগ, মৌ এবং ডিজিটাল ইটভাটায় পল্লী লাইনের সংযোগ থাকতেও ঐসব ইটভাটায় নতুন লাইন ও তিনটি ট্রান্সমিটার স্থাপন করে হাতিয়ে নেয় সাড়ে ৯ লাখ টাকা। রসুলপুর ইউনিয়নের লাল মাটি এলাকায় দুটি ইটভাটায় নতুন লাইন ও ট্রান্সমিটার স্থাপন করে হাতিয়ে নেয় ১০ লাখ টাকা। এভাবে ঘাটাইল বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পাল ঠিকাদারের সাথে আতাত করে উপজেলায় বিদ্যুত বিভাগের সংস্কারের নাম ভাংগাইয়া প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা ভাগাভাগি করে নেয়।
জ্যাইকা কোম্পানীর অর্থায়নে সেন্টাল জোন প্রকল্পের দুর্নীতি বিষয়ে ঘাটাইল বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পালের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি আপনাকে তথ্য দিতে বাধ্য নই। লিখিত আবেদন করেন ভেবে দেখব।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷