বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০১, ২০১৬

ঘাটাইলে বিপ্লব হত্যা নিয়ে রহস্য

মেহেদী হাসান, নিজস্ব প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল ঃ:
 টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিপ্লব সরকার (৩২) নামের যুবককে হত্যার ঘটনা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশের এস আই মো. কবির উদ্দিন বাদী হয়ে ৫০/৭০ জনকে আসামী করে ঘাটাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। গত ৪ অক্টোবর ঘাটাইল থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলা নম্বর-০৫। ডাকাতি করার সময় উক্ত যুবক জনতার পিটুনীেিত খুন হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ডাকাতির সময় জনতার হাতে ধৃত পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোর্পদ করেছে। গত ৩ অক্টোবর বিপ্লবের খুনের ঘটনা ঘটলে ৪ অক্টোবর তাকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে পুলিশ। বিপ্লবের বাড়ি ঘাটাইল থানা সদরের পাশ্ববর্তী ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা গ্রামে। দূরত্ব আনুমানিক ২০/২৫ কিলোমিটার। বিপ্লবের পরিবার ও তার গ্রামের লোকজন জানিয়েছে, ‘‘পুলিশ বিপ্লবের পরিচয় জেনেও রহস্যজনক কারনে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছে।’’
নিহত বিপ্লবের গ্রামের বাড়ি ভূঞাপুরের নিকলা গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে একই গ্রামের শাকিল নামের এক যুবকের সাথে চাকুরীর উদ্দেশ্যে ঢাকা যাওয়ার কথা বলে বাড়ী থেকে বেরিয়ে আসে বিপ্লব। পুলিশের ভাষ্য অনুসারে, গত ২ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টায় ডাকাতিকালে অজ্ঞাতনামা যুবক (৩২) বিক্ষুব্ধ জনতার মারপিটে মারা যায়। পুলিশ জনতার হাতে ধৃত আরো ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। গ্রেফতারকৃতদেরসহ আরো ৮/১০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামী করে জনৈক ফরিদ ড্রাইভার গত ৩ অক্টোবর ঘাটাইল থানায় ডাকাতি মামলা রুজু করে। মামলা নাম্বার ০৪। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো- চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানার বাটনিখোলা গ্রামের মো. আলী মিয়ার পুত্র দেলোয়ার (২৭), ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প বি ব্লকের বিহাীর কলোনীর জাকির হোসেন খানের পুত্র সুমন হোসেন খান (৩৪), টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার বিলকাচিনা গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে নাহিদ (১৯), টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর উপজেলার বেড়বাড়ি খন্দকার পাড়ার আ. মালেক ড্রাইভারের ছেলে মো. রুবেল মিয়া (৩২), বদর উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন মিয়া (৩২), ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার নবাবগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ডের আমতলীর কাদের মোল্লা (৪৭)। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কালিহাতী উপজেলার বিলকাচিনা প্রকাশ সোনাকান্দর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে নাহিদ (১৯) এর বাড়ি নিহত বিপ্লব সরকারের গ্রাম নিকলা গোপালের দূরত্ব পৌনে এক কিলোমিটার। পুলিশ গ্রেফতারকৃত নাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নিহত বিপ্লব সরকারের নাম ঠিকানা নিতে পারতো বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। যদি বিপ্লব সরকার উক্ত ডাকাত দলের সদস্য হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই বিপ্লবের নাম ঠিকানা ঐ গ্রেফতারকৃতদের কাছে থাকার কথা। কিন্তু গত ৩ অক্টোবর খুন হওয়া লাশ ৪ অক্টোবরই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা নিয়ে রহস্যের জট বেঁধেছে সচেতন মহলে। একটি নির্ভরশীল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ঐ ডাকাতদের দলে থাকা নিহত বিপ্লবের গ্রামের রইজ উদ্দিনের ছেলে ওয়ায়েজ ক্বুরনী পালিয়ে এসে জনসম্মুখে পরদিন সকালে বিপ্লবের মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে ওয়ায়েজ ক্বুরনীসহ ঐ এলাকার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৫/৭ জন ডাকাত সদস্য গত ২ অক্টোবর দিবাগত গভীর রাতের ডাকাতির ঘটনা থেকে পালিয়ে এলেও পুলিশ তাদের নাম এজাহারভুক্ত করেনি। পিতা মহিরউদ্দিন সন্তানের লাশ ফিরে না পেয়ে নির্বাক এবং পালিয়ে আসা ডাকাতদের ভয়ে মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানিয়েছেন, ‘‘ডাকাতি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে অজ্ঞাতনামা (৩২) ঐ যুবকের মৃত্যু হয়েছে।’’ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘ডাকাতরা অনেক সময় ছদ্মনাম ব্যবহার করে।’’
বিপ্লব হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আবুল কাসেম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘‘বিপ্লব সরকারের পরিচয় পাওয়া গেছে। সে গনপিটুনিতে মারা গেছে।’’ ডাকাতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মো. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘‘গ্রেফতারকৃতরা নিহত বিপ্লব সরকারকে চেনেনা বলে জানানোতে আমরা ঠিকানা সনাক্ত করতে পারি নাই।’’ বিপ্লব সরকার ও গ্রেফতারকৃত আসামী নাহিদের বাড়ী পাশাপাশি থাকলেও সনাক্ত করতে না পারার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘নাহিদ বলেছে-সে বিপ্লব সরকারকে চেনে না।’’ নাহিদ ও বিপ্লব সরকারের এলাকায় পালিয়ে থাকা ডাকাতদের গ্রেফতারে অভিযান সম্পর্কে এস আই কামাল জানান, ‘‘অচিরেই ঐ অঞ্চলের ডাকাতদের গ্রেফতারে অভিযান চলবে।’’

সূত্র ঃ নিউজ ৭১ অনলাইন ডটকম।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷