শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০১৯

টাঙ্গাইলে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষণ, আটক ৫

 টাঙ্গাইলে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনা পাঁচজনকে আটকও করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনা ঘটে। কালিহাতী উপজেলায় ধর্ষিতার বাবার বাড়ি ও স্বামীর বাড়ি সখিপুর উপজেলায়। বর্তমানে ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ধর্ষিতা ওই নারী জানান, গতরাতে তার স্বামীকে নিয়ে টাঙ্গাইল পৌরশহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসলে কয়েকজন যুবক তাদের ধরে নিয়ে ডিসি লেকে নিয়ে যায়। পরে স্বামীর সামনে তিনজন যুবক ওই নারীকে ধর্ষণ করে।

পরে তার স্বামী ছুটে গিয়ে ডিসি লেকের অদূরে সদর পুলিশ ফাড়ির কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যকে জানালে পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে ।

টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সায়েদুর রহমান বলেন, রাতে সংবাদ পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিন ধর্ষক ও ধর্ষণের কাজে সহযোগিতা করায় আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্তাবধায়ক নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, ভোর ৫ টায় ওই ভিকটিমকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণের আলামত পাওয়া যাওয়ার সম্ভবনা আছে।

শুক্রবার, এপ্রিল ১২, ২০১৯

দৈনিক শিক্ষায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঘাটাইল জিবিজি কলেজের অধ্যক্ষ

দৈনিক শিক্ষা ডটকম এ প্রকাশিত ‘অবৈধ অধ্যক্ষ, আটকে যাচ্ছে জি.বি.জি. কলেজের পদসৃজন’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটির প্রতিবাদ জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল জি.বি.জি. কলেজ (সদ্য সরকারিকরণকৃত) এর অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শামছুল আলম।

লিখিত এ প্রতিবাদে তিনি বলেন, আমাকে জড়িয়ে দৈনিক শিক্ষায় যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

লিখিত প্রতিবাদে তিনি জানান, আমার বয়স ৬০ বছর পূর্তি হওয়ার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক কলেজ পরিচালনা পরিষদের ১৯৭ নং অধিবশনে প্রথম বার এবং ২০৪ নং অধিবেশনের সাধারণ সভায় দ্বিতীয় বার দুই বছরের জন্য পুনঃনিয়োগের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর।

তিনি জানান, দ্বিতীয় বার ১০/০৭/২০২১৮ খ্রিঃ তারিখ থেকে ৩০/০৬/২০২০ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত পুনঃনিয়োগ প্রদান করেন। যার স্মারক নং- ০৭ (ঢ-১৯২) জাতী: বি:/ক:প: /কোড- ৫৩০৮/৩৯৫৩৭ মোতাবেক অদ্যাবধি বৈধভাবেই দায়িত্ব পালন করে আসছি।

ঘাটাইল প্রেস ক্লাবে পাঠানো প্রতিবাদ লিপিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারিকরণকৃত ২০/২২ টি কলেজের অধ্যক্ষগণও আমার মত দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সার্বিক নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।

ঘাটাইল সরকারি জি.বি.জি. কলেজের অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শামছুল আলম জানান, জি.বি.জি. কলেজের উপাধ্যক্ষ জনাব মোঃ মতিয়ার রহমান মিঞা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতা পাওয়ার হীন উদ্দেশ্য বশীভূত হয়ে দায়িত্ব অর্পনের আবেদন করেছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রনালয়, শিক্ষা অধিদপ্তর বা বোর্ডে কর্তৃক প্রেরিত কোন প্রকার চিঠি পাইনি। উপাধ্যক্ষ সাহেব ব্যক্তিগতভাবে বোর্ডের একটি চিঠি দিলে আমি উক্ত পত্রের জবাব দিয়েছি।

ইলিশের বাজারে আগুন, চড়া মাংস-সবজিও

আর একদিন পরেই পয়লা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষকে ঘিরে বাজারে ইলিশ কেনার ধুম পড়েছে। সেই অনুপাতে বেড়ে গেছে ইলিশের দামও। ১ কেজির কিছু বেশি ওজনের একটি ইলিশের দাম বিক্রেতারা দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা হাঁকছে, যা সপ্তাহখানেক আগেও দেড় হাজার টাকার কাছাকাছি ছিল।

বেশ কিছুদিন ধরে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হওয়া পাকা টমেটো, কাঁচা পেঁপে ও শসার দাম হঠাৎ করেই বেড়েছে। টানা দুই সপ্তাহ বেড়ে এ তিনটি পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিপরীতে দু-একটির দাম কিছুটা কমলেও বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেশ চড়া।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, শান্তিনগর, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ী-ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় বাজারে ক্রেতা সমাগম বেশি। ইলিশের উপস্থিতি ও বিক্রি দুটোই বেড়েছে। ইলিশের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। বাজারে ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশের দাম দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। এই ওজনের ইলিশ কিছুদিন আগেও এক হাজার থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া নদীর ৯০০ থেকে ১ কেজি ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ তিন হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে।

এছাড়া গত সপ্তাহের মতো সব থেকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে তেলাপিয়া মাছ, দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। পাঙাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, রুই ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি, টেংরা কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, বোয়াল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি, চিতল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৮৮০ টাকা। আর বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। আর কক মুরগির দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে কেজি ৩০০ টাকায় পৌঁছে গেছে। এখন বাজারভেদে কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। পাকা টমেটো মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ২০-২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০-৭০ টাকা।

পেঁপে, শসা ও পাকা টমেটোর এমন দাম বাড়ার বিষয়ে শান্তিনগরের ব্যবসায়ী মো. মুজিবর বলেন, প্রতিবছরই রোজার সময় পেঁপে, শসা ও পাকা টমেটোর দাম বাড়ে। কারণ রোজার সময় পণ্যগুলোর চাহিদা অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। রোজার শুরু হতে আর এক মাসও বাকি নেই তাই এখন এসব পণ্যের দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। আমাদের ধারণা রোজায় শসা ও পেঁপের দাম খুব একটা বাড়বে না, তবে পাকা টমেটোর দাম বাড়তে পারে।

রামপুরার বাসিন্দা মামুন বলেন, রোজা আসতে এখনও প্রায় একমাস সময় বাকি। অথচ এখনই রোজায় যেসব পণ্যের চাহিদা থাকে সেগুলোর দাম বেড়ে গেছে। আসলে বাজারে কার্যকরি মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা এভাবে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এজন্য ভুগতে হচ্ছে সাধারণ জনগণের।

তিনি বলেন, অনেকদিন ধরেই বাজারে সব ধরনের সবজির দাম চড়া। এর মধ্যে কিছুটা হলেও কম দামে পাওয়া যাচ্ছিল পেঁপে ও পাকা টমেটো। কিন্তু রোজা কাছাকাছি চলে আসায় এখন পেঁপে ও টমেটোর দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। বাজারে পেঁপে, টমেটোর সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই, তারপরও এভাবে দাম বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে এ দাম বাড়াচ্ছে।

এদিকে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ব্যাপক চড়া দামে বিক্রি হওয়া পটল ও সজনে ডাটার দাম কিছুটা কমেছে। বাজার ভেদে পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৮০ টাকা কেজি। আর সজনে ডাটা পাওয়া যাচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজির মধ্যে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০-১০০ টাকা।

চড়া দামের পটল ও সজনে ডাটার দাম কিছুটা কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে বরবটি, কচুর লতি, শিম, লাউ, ধুন্দুল ও বেগুনের দাম। বরবটি গত সপ্তাহের মতো ৭০-৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়স, কচুর লতি ও করলা।

শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি। লাউ ৭০-৮০ টাকা, ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা পিস। আর ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত থাকা গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সাইদুর বলেন, রোজা কেন্দ্রিক পণ্যের দাম যা বাড়ার তা বেড়ে গেছে, রোজার মধ্যে নতুন করে পণ্যের দাম খুব একটা বাড়বে বলে মনে হয় না। তবে শসা, বেগুন, টমেটো, পেঁয়াজ, পেঁপের দাম বাড়তে পারে। বাকি সবগুলোর দাম বাড়ার খুব একটা সম্ভাবনা নেই বরং বরবটি, পটলসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম কমবে।

ছেলের বিয়েতে যা করলেন চিত্রনায়ক রুবেল

এক সময়ের ঢাকাই সিনেমার সুপার হিট নায়ক রুবেল শুক্রবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে নিজের ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে প্রাণ খুলে নেচে চলেছেন তিনি। একা নয় তার সঙ্গে নাচছে আরও অনেকে। ভিডিওটির ক্যাপশনে রুবেল লিখেছেন ‘নিলয়ের বিয়েতে মাস্তি’।

নায়ক রুবেল ১৯৮৫ সালের ১০ মার্চ সুলতানা পারভেজ নীলার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ছেলে নীলয় পারভেজ নীলয়। ছেলের বিয়েতে উদ্দাম নাচে মেতেছেন রুবেল। এর আগে ছেলের গায়ে হলুদের ছবিও পোস্ট করেছিলেন রুবেল।

সম্প্রতি ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনের লেডিস ক্লাবে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রুবেলের বড় ভাই চিত্রনায়ক সোহেল রানা, জনপ্রিয় কণ্ঠ শিল্পী এস আই টুটুলসহ আত্মীয়-স্বজনরা।

নায়ক রুবেল অতিথিদের মনোরঞ্জন করতে কার্পণ্য করেননি একটুও, সবাইকে হাসি মুখে অভ্যর্থনা হতে শুরু করে খাবার তদারকি আবার স্টেজের অনুষ্ঠান পরিচালনাসহ নিজে পারফর্ম করা সব কিছুই ছিল তার আগত অতিথিদের আনন্দ দেওয়ার জন্য।

নুসরাতকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যকারী মামুনের এখন ভিন্ন সুর!

ফেনীর আগুনে পুড়িয়ে দেয়া ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মামুন বিল্লাহ নামে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো বিব্রত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ। আর শিক্ষার্থীর দাবি তার আইডি হ্যাক হয়েছে। অভিযুক্ত মামুন বিল্লাহ সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৭ সালে অনার্স কমপ্লিট করেছে। মাস্টার্স এখনও করেনি বলে জানা গেছে। এর আগে নুসরাতকে নিয়ে করা মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় শুরু হয়। তোপের মুখে এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী তার ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাকটিভ করে রেখেছেন। অনেকেই ওই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।



জানা যায়, একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সেই মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে নিয়ে নিউজ করা হলে সেখানে রাবির ছাত্র মামুন বিল্লাহ একটি অশ্লীল কমেন্ট করেন। মামুনের এমন আপত্তিকর মন্তব্য অনেকেই তাকে ভবিষ্যৎ ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করে তার শাস্তির দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন। মইনুল ইসলাম নামে এক ছাত্র তার ফেসবুকে লিখেছেন, এমন মানসিকতার একটি ছেলে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে? তাকে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি।

মর্তুজা বশির নামে এক ছাত্র মামুন বিল্লাহকে ভবিষ্যৎ ধর্ষক উল্লেখ করে লিখেন, আরেকটি অঘটন ঘটার আগেই সম্ভাব্য এই ধর্ষককে শাস্তি দেয়া হোক। ফুয়াদ নাসের লিখেছেন, মেনে নিতে কষ্ট হয়, এই ছেলেটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, মামুন বিল্লাহ এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে জানান।

এ বিষয়ে মামুন বিল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। এ নিয়ে তিনি একটি জিডি করেছেন। তবে কোন থানায় এবং কখন জিডি করেছেন সেই বিষয়েও কিছু জানাতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয়বার ফোন দিলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।



বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান জানান, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া রাফিকে নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এমন মন্তব্য করে থাকে তাহলে ঘৃণিত জঘন্য অপরাধ করেছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ ঘটনার তদন্তে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, মাদরাসা প্রিন্সিপালের যৌন হয়রানির ঘটনা প্রকাশ করায় সোনাগাজীতে নুসরাত জাহান রাফির শরীরে আগুন দেয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার সাড়ে নয় টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয় রাফির।

ঘাটাইলে নামমাত্র মূল্যে সরকারী দোকান বরাদ্দ

দীর্ঘদিন পাকুটিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সরকারি জায়গায় নামমাত্র মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে দখলে রেখে অবৈধভাবে ভাড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, ঘাটাইলের পাকুটিয়া বাসস্ট্যান্ডে স্থানীয় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পুকুর পাড়ের পূর্ব ও দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত দোকানঘর ১৯৯৭-০৩ অর্থবছরের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করে আদেশ জারি করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। ওই আদেশে নামমাত্র মূল্যে ভাড়া নির্ধারণ করে দোকান হস্তান্তর করা হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর পাকুটিয়া বাসস্ট্যান্ড চত্বরটি ঘাটাইল গোপালপুর ও মধুপুর থানার অনেকটাই কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত এক ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র। এখানে দোকানের চাহিদা অনেক। ফলে এখানে কোনোমতে টিনের একটি দোকানঘরের ভাড়াও ৩-৫ হাজার টাকার কম নয়। অথচ পাকুটিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সরকারি জায়গায় প্রতিষ্ঠিত ২১টি দোকানের প্রতিটিতে মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪ টাকা থেকে ৩৪২ টাকার মধ্যে। এতে ২১টি দোকানের সবকটি থেকে প্রতি মাসে ভাড়া আদায় হচ্ছে ৩৪৫৯ টাকা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন ওই ২১টি দোকান থেকে বছরে কমপক্ষে ১০-১২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা।


স্থানীয়রা জানিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকায় সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করে নামমাত্র মূল্যে ভাড়া নিয়ে যুগ যুগ ধরে দখলে রেখেছেন মহলটি। আর তারা অন্যের কাছে অধিক ভাড়া দিয়ে কালো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

পক্ষান্তরে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা রাজস্ব থেকে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান  বলেন, এ বিষয়ে আমার তেমন জানা নেই। এটা সিভিল সার্জন অফিস থেকে করা হয়। সেখান থেকেই টেন্ডার প্রক্রিয়া করে থাকে। বিষয়টি পাকুটিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকেও আমাকে জানানো হয়েছে। আমি সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী টেন্ডার ব্যবস্থা কিভাবে করা যায় তার ব্যবস্থা নেব।

তথ্যসূত্র : যুগান্তর।

নুসরাতকে নিয়ে রাবি ছাত্রের বিকৃত মন্তব্যে তোলপাড়!

মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নিয়ে বিকৃত মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মামুন বিল্লাহ। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ঝড় শুরু হয়েছে।

তোপের মুখে ওই ছাত্র তার ফেইসবুক আইডি ডিঅ্যাকটিভ করে রেখেছেন। অনেকেই ওই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন।

জানা গেছে, একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সেই মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে নিয়ে নিউজ করা হলে সেখানে রাবি ছাত্র মামুন বিল্লাহ কমেন্ট করেন- ‘মেয়েটা কিন্ত জোস ছিল, মালটা ধর্ষণ করার মতোই ছিল’

রাবি ছাত্রের এমন বিকৃত মন্তব্যে অনেকেই তাকে ভবিষ্যৎ ধর্ষক হিসেবে চিহ্নি করে পোস্ট দিচ্ছেন। এমন মানসিকতার জন্য তাকে রীতিমতো তুলোধনা করা হচ্ছে।

মইনুল ইসলাম নামে এক ছাত্র তার ফেইসবুকে লিখেছেন, এমন মানসিকতার একটি ছেলে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে? তাকে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি।

মর্তুজা বশির নামে এক ছাত্র মামুন বিল্লাহকে ভবিষ্যৎ ধর্ষক উল্লেখ করে লিখেন, আরেকটি অঘটন ঘটার আগেই সম্ভাব্য এই ধর্ষককে শাস্তি দেয়া হোক! ফুয়াদ নাসের লিখেছেন, মেনে নিতে কষ্ট হয় এই ছেলেটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে!

ইফতেখার হোসেন লিখেছেন, লজ্জা লাগছে আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে এমন নিচু মনমানসিকতা কি করে হয়!

এমন নানা কমেন্টে রাবি ছাত্র মামুনকে তুলোধনা করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

নুর উদ্দিন গ্রেফতার

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে আগুন দেয়া সন্দেহভাজন মুখোশধারী নুর উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে নুসরাত জাহান রাফির দেহে আগুন দেয়া মুখোশধারীদের মধ্যে নুর উদ্দিন নামে একজন ছিলেন বলে সন্দেহের কথা জানান এলাকাবাসী। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা মুক্তি পরিষদের নেতৃত্ব দেয়া এই যুবক, স্থানীয়দের কাছে কেরোসিন তেলের বোতল ও ম্যাচ বাক্স উদ্ধারের দাবি করেছিলেন।

এলাকাবাসীদের একজন বলেন, ‘নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করলাম তুই তো আছিলিস ওখানে। নুর উদ্দিন বলছে আমি ছিলাম। কেরাসিন আর ম্যাচ ছাদ থেকে আনছি’।

প্রসঙ্গত, মেয়েকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন নুসরাতের মা। এ মামলায় গত ২৭ মার্চ গ্রেফতার হয় অধ্যক্ষ সিরাজ। পরদিনই নুর উদ্দিন নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয় সিরাজ উদ দৌলা মুক্তি পরিষদ। একই দিন দুপুরে করা হয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ। সেখানে নুসরাতের পক্ষে অবস্থান নেয়াদের হুমকি দিয়েছিলেন নুর।

নুসরাতের ভাইয়ের দাবি, নুর উদ্দিনই তার বোনের প্রধান হত্যাকারী।

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১১, ২০১৯

‘নুসরাত তুমি নও, বিবেক এখন লাইফ সাপোর্টে’

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশেই শায়িত হলো অধ্যক্ষের যৌন নিপীড়নের বিচার চেয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার শিকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে সোনাগাজী মো. সাবের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় নামাজের জানাজা। জানাজা পড়ান নুসরাতের বাবা মাওলানা মুসা।


জানাজাতে উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার মানুষ। লাশ পৌঁছানোর পরে নুসরাতের বাড়িতে মানুষের ঢল নামে। এদিন শোক স্তব্ধ ছিল নুসরাতের বাড়ির উঠানটি। উপস্থিত মানুষের চোখে-মুখে ছিল শোকের ছায়া।

এদিকে টানা কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে থেকে নুসরাতের মৃত্যুর পর আজ সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তারানা হালিম নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়ে সমাজের কিছু মানুষের অমানবিকতার রূপ তুলে ধরেছেন।

আগুনে পুড়ে যাওয়া নুসরোতের পায়ের ‍অংশের একটি ছবি দিয়ে ‘নুসরাত তুমি নও, বিবেক এখন লাইফ সাপোর্টে’- শিরোনামে ফেসবুকে লিখেছেন তারানা হালিম।


তিনি লিখেছেন, নুসরাত, তোমার অগ্নিদগ্ধ শরীর, অসীম সাহসিকতার সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, ব্যান্ডেজে বাঁধা শরীরের মাঝে বেরিয়ে থাকা ফুটফুটে সুন্দর মুখ আর পা-জোড়া, তোমার ‘ডায়িং ডিক্লারেশন’- এর দৃপ্ত উচ্চারণ- ‘এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো’- আবারও এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করলো যে, সমাজের বিবেক এখন লাইফ সাপোর্টে, তুমি নও। তুমি বরং লাইফ সাপোর্ট থেকে এই অচল সমাজের অমানবিকতাকে প্রতিবাদ করতে বলে শান্তির জগতে চলে গেছো।

‘নারী-শিশু ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির ঘটনা এখন সড়ক দুর্ঘটনার মতোই কেবল সংখ্যা হয়ে যাচ্ছে। এটি হতে দেওয়া যাবে না। মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির প্রচেষ্টার অভিযোগ করার জন্য তোমার ভাষ্যমতে, মিথ্যা কথা বলে কয়েকজন নারী তোমাকে ছাদে নিয়ে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিলে, তুমি তাতে রাজি না হয়ে ‘এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো’ বললে, তোমার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তুমি তাদের ‘নারী কন্ঠে’র কথা বলেছো।’

তারানা হালিম বলেছেন, দুঃখ এটাই, কাকের মাঝে ‘নারী কাক’ বা ‘পুরুষ কাক’- এমন লিঙ্গ বিভাজন করি না আমরা, কিন্তু মানুষ বিভাজিত হয়ে যায় নারী ও পুরুষে। একটি কাক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে, মারা গেলে অনেক কাক কোথা থেকে যে এসে জড়ো হয়! তাড়স্বরে আওয়াজ করে। ওরা কী চিৎকার করে, না কাঁদে, জানি না। কিন্তু কিছু একটা করে। আর আমরা? যখন তোমার ডায়িং ডিক্লারেশনে, কয়েকজন নারী তোমার গায়ে আগুন দিয়েছে বলো, তখন মনে হয় মানুষ কি কাকের মতো হতে পারে না? মানুষ না-ই হোক। কারণ আমরা মানুষতো নই-ই, কাকও নই। তুমি যখন তোমার মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললে, তখন মাদ্রাসার অন্য শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা তোমার পক্ষে লড়ে গেলে, তুমি শক্তি পেতে। কিন্তু তা হয়নি। যখন ফায়ার সার্ভিসের লড়াকু সোহেল জীবন বাঁচাতে জীবন দেয়, জসিম নামে মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া ছেলেটি চারতলার গ্রিল বেয়ে উঠে আগুন থেকে নারীর জীবন বাঁচায়, তখনই একদল মানুষ আরেক নারীর গায়ে আগুন দেয়। এতো ছোট একটি জীবন কেবল মানুষের ভালো করার জন্যই বড় সংক্ষিপ্ত- সেই জীবনে এতো হিংসা, এতো লোভ, এতো প্রতিহিংসা, এতো অমানবিকতা, এতো পাষণ্ডতা!

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতির পরিচয় দিয়ে অ্যাডভোকেট তারানা হালিম আরও লিখেছেন, নুসরাত, তুমি বলেছো- প্রতিবাদ করে যাবে, তোমার কাজ তুমি করেছো। তোমার কাছ থেকে শিখে এবার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আমাদের প্রতিবাদ করার পালা। শেষ থেকে শুরু হোক, নতুন করে পুরানো প্রতিবাদ। এই প্রতিবাদে তোমার সহযাত্রী হবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট।

অবৈধ অধ্যক্ষ: আটকে যাচ্ছ জিবিজি কলেজের পদসৃজন

চাকরির মেয়াদ ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পরও অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার সদ্য সরকারিকৃত জি.বি.জি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামছুল আলম।  দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়,শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কয়েকদফা চিঠি  দেয়া হলেও তিনি তা আমলে নেননি। তাই আটকে যাচ্ছে পদসৃজনের কাজ 

অধ্যক্ষ মো. শামছুল আলমের বয়স এমপিও ডাটাবেজ অনুযায়ী, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুন ৬০ বছর পূর্ণ হয়েছে। জনবল কাঠামো-২১০৮ এর ১১.৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘‘বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান অথবার সহকারী প্রধান,শিক্ষক-কর্মচারীদের কোনা অবস্থাতেই পুন:নিয়োগ কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যাবে না।’’ জনবল কাঠামো অনুযায়ী,  মো. শামছুল আলমের  বয়স ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুন ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ায় অধ্যক্ষ পদে তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই।


জনবল কাঠামো-২০১৮ অনুযায়ী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের পারস্পারিক জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা তাদের সংশ্লিষ্ট পদে প্রথম এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে কার্যকর করা হবে। তবে এমপিওভুক্তি একই তারিখ হলে  জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যোগদানের তারিখ বিবেচনা করা হবে। তবে  কোনো শিক্ষকের নিয়মিতকরণ হলে নিয়মতকরণের তারিখ থেকে  যোগদানের তারিখ হিসেবে গণ্য হবে। যোগদানের তারিখ একই হলে জন্মতারিখের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ হবে।

শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গতবছরের ১২ ডিসেম্বর অধ্যক্ষের দায়িত্বভার উপাধ্যক্ষ বা জেষ্ঠ্য কোনো শিক্ষকের কাছে হস্তান্তরের জন্য মো. শামছুল আলমকে চিঠি দেয়া হয়। অদ্যবধি তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি।

 ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে গত ১৩ ডিসেম্বর অধ্যক্ষ মো. শামছুল আলমকে কারণ দর্শানো নেটিশ দেয়া হয়। ওই নোটিশে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে সঠিক ব্যাখাসহ বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকের দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়। ওই সময়ের মধ্যে শোকজের জবাব না দেয়ায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়,কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব না পাওয়ায় কেন প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির অনুমোদন বাতিল করা হবে না তার সঠিক ব্যাখাসহ ৩ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অধ্যক্ষ মো. শামছুল আলম বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে পুন:নিয়োগ দিয়োগ দিয়েছে। অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছিল ঢাকা বোর্ড থেকে। সেটির জবাবও দিয়েছি।

তথ্যসূত্র : দৈনিক শিক্ষা।