খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল : গাইড বই বাণিজ্যের টাকায় আনন্দ ভ্রমণে গেলেন ঘাটাইলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীর মাঝে নিষিদ্ধ ঘোষিত গাইড বই পাঠ্যতালিকায় বাধ্যতামূলক করার বিনিময়ে একটি প্রকাশনি সংস্থার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ বাণিজ্য করেন ঘাটাইল শাখার বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা।
সেই টাকায় আনন্দ ভ্রমণে বেরুলেন তারা। মঙ্গলবার সকালে জাঁকজমকভাবে শিক্ষক সমিতি আনন্দ ভ্রমণের নামে সফিপুরে যান বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ‘জুপিটার’ নামে একটি প্রকাশনী সংস্থার গাইড বই ঘাটাইলের ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিতে সাড়ে সাত লাখ টাকা নেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। এর মধ্যে ছয় লাখ টাকার কথা জানানো হয় শিক্ষকদের।
বাকি অর্থ সমিতির কয়েক কর্মকর্তা ভোগ করছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন। নিষিদ্ধ গাইড বই জোর করে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেয়ায় অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি আখতারুজ্জামান বলেন, এটা মিথ্যা কথা। আমরা কোনো প্রকাশনী সংস্থার সঙ্গে কোনো চুক্তি করিনি। এমনকি কোনো শিক্ষার্থীকে জুপিটার গাইড কিনতে বলিনি। যার যেটা ইচ্ছা কিনছে। লাইব্রেরিতে গাইড বই কিনতে আসা জাকির হোসেন নামে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, অনিচ্ছা সত্ত্বেও গাইড বই কিনতে হচ্ছে।
অথচ বিভিন্ন লাইব্রেরিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ঘাটাইলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীই ‘জুপিটার’ নামে গাইড বইটি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। ঘাটাইল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমার কাছে এ নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগও করেনি। তবে নাম প্রকাশ না করে খোদ শিক্ষকদের তরফ থেকেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷