উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল : শনিবার (১১ আগস্ট) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের গৌরাঙ্গী গ্রামে হাক্কানী দরগাহ শরীফের পীর আব্দুল হালিম এর ঢাকা মিরপুর ছয় নং রোডের বাসায় ১১ বছরের কাজের ছেলে রাসেল এর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। নিহতের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। লাশের গায়ে, মাথায়, মুখে, দুহাতে পায়ে গলায় ও অন্ডকোষে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।
নিহত রাসেল উপজেলার গৌরাঙ্গী গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে।
নিহতের বাবা ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ঢাকায় বসবাসরত আনেহলা ইউনিয়ের গোরাঙ্গী গ্রামের আব্দুল হালিম পীর একই গ্রামের হত দরিদ্র আব্দুল হামিদকে বাড়ি ঘর তৈরী করে দেবে বলে নানা ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে তার ছোট ছেলে রাসেলকে আট মাস পুর্বে ঢাকা মিরপুরের বাসায় কাজের জন্য নেয়। চলতি আগষ্ট মাসের শুক্রবার (১০ আগস্ট) দিনের বেলায় নির্মমভাবে নির্যাতন করলে রাসেলের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা ধারনা করেন। পীরের পরিবার ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে রাসেল ছয় তলা ছাদ থেকে পড়ে আহত অবস্থায় মিরপুর ১১নম্বর রোডে ডেলটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে রাসেলের বাবা-মাকে জানায়। রাতেই তাদেরকে ছেলের অসুস্থতার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে যায়। হাসপাতালে গিয়ে দেখে ছেলে নিথর দেহ পড়ে আছে।
এসময় রাসেলের বাবা-মা এর কাছ থেকে সাদা কাগজে টিপ সহি দিয়ে লাশ বুঝিয়ে দেয় আব্দুল হালিম এর পরিবার।
শনিবার দুপুরে উলঙ্গ অবস্থায় রাসেলের লাশ গ্রামে পৌছালে এলাকায় শোকের মাতম পড়ে যায়। এ সময় শোকাহত পরিবারকে শান্তনা দেওয়ার জন্য নিহতের বাড়িতে শতশত লোকের ভির জমায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ গ্রামের এক গৃহবধু জানায় পীরের পরিবার নানা রকম সুযোগ সুবিধার কথা বলে ঢাকা বাসায় কাজের জন্য নিলেও সামান্য ভুল করলেই পীরের স্ত্রী ও তার ছেলের স্ত্রী নির্মমভাবে নির্যাতন করে থাকে। অতীতে একই গ্রামে লালুর মেয়ে রুমী এবং চাঁন মিয়ার ছেলে রানা নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ী চলে এসছে।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদুল আলম জানান, লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তথ্যসূত্র : ঘাটাইল ডট কম।
