শুক্রবার, মার্চ ০৩, ২০১৭

হারিয়ে যাচ্ছে পলাশ গাছ

এক সময়ের সকলের চির চেনা ও পরিচিত পলাশ গাছ ও পলাশ ফুল এখন অত্বিত্ব সংকটে। শুধু ঘাটাইল নয় দেশের কোথাও এখন পলাশ গাছ খোঁজে পাওয়া দুস্কর। কিন্তু এক সময়ে বন জঙ্গলের দিকে তাকালেই দেখা মিলত চির পরিচিত পলাশ ফুলের। তাই পলাশকে বলা হত বনের অগ্নিশিখা। নতুন করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ না নেয়ায় পুরনো গাছ সংরক্ষণ ও পরিচর্যা না করায় এ গাছটি এখন বিলুপ্তির পথে।
আমার এক বন্ধুকে নিয়ে বেড়াতে গিয়ে ঘাটাইল পৌর এলাকার সিতেশ চন্দ্র চক্রবর্তীর বাড়ির চারপাশে দেখা মেলল ছোট বড় ২২ টি পলাশ গাছের। ৮/১০টি গাছ বড় অন্যগুল ছোট আকারের। জানা যায়, পলাশ বসন্তের প্রতীক। রঙভরা বসন্তে পলাশের বিশাল দখলদারিত্ব। পলাশ ফুটলেই বোঝা যায় ফাগুন এসেছে। টিয়া পাখির ঠোঁটের সঙ্গে পলাশ ফুলের দারুণ মিল। সে জন্যই বুঝি পলাশ গাছে টিয়ার মেলা। আর একই কারণে পলাশের প্রচলিত ইংরেজি নাম প্যারোট ট্রি। আবার পলাশ দেখতে অনেকটা বক ফুলের মতো। সবকিছু মিলিয়ে পলাশ ফুল অসাধারণ। কিন্তু ফুলে গন্ধ নেই!
পলাশ মাঝারি আকারের পর্ণমোচী বৃক্ষ। শীতে গাছের পাতা ঝরে যায়। বসন্তে গাছ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। পলাশ ফুলের রং আগুন লাল। আবার হলুদ ও লালচে কমলা রংঙ্গের পলাশ ফুলও আমরা দেখে থাকি। পলাশ গাছের বাকল ধূসর। শাখা-প্রশাখা আঁকাবাঁকা। 
নতুন পাতা রেশমের মতো সূক্ষ্ম। গাঢ় সবুজ পাতা ত্রিপত্রী। হিন্দু স¤প্রদায়ের অনেকের মত পলাশের গাঢ় সবুজ ত্রিপত্রী হিন্দু দেবতা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের প্রতীক। বৌদ্ধ স¤প্রদায়ের কেউ কেউ মনে করেন পলাশ গাছের নিচে ভগবান গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়েছিল। সংস্কৃতিতে পলাশ হচ্ছে কিংসুক। 
বাংলা ও হিন্দি নাম পলাশ। মণিপুরি ভাষায় পলাশ হচ্ছে পাঙ গোঙ। আদি নিবাস ভারত উপমহাদেশ। নতুন করে গাছ লাগিয়ে এ গাছের প্রজাতি রক্ষা এবং বন জঙ্গলসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটে থাকা গাছ গুলি সংরক্ষণের দাবী পরিবেশবাদীদের।
 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷