সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮

‌‘স্কাইপ’ বন্ধ করে দিল বিটিআরসি

বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, স্কাইপ এর মাধ্যমে অনলাইনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়ার কারণে বাংলাদেশে এটি বন্ধ করে দিয়েছে 'বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন' (বিটিআরসি)।



বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন) জাকির হোসেন খান সাংবাদিকদের সোমবার রাতে জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সূত্র জানিয়েছে, বিটিআরসির নির্দেশনা পাওয়ার পর তারা স্কাইপ বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে স্কাইপের সব সেবা বন্ধ রয়েছে। তবে শুধুমাত্র স্কাইপে বন্ধ করা হলেও ভিডিও কনফারেন্স করার মতো অন্যান্য অনলাইন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো চালু রয়েছে। গ্রাহকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

জানা যায়, রবিবার রাত থেকে দেশে সব ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল অপারেটরদের স্কাইপে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমদ সাংবাদিকদের সোমবার বলেন, তারেক রহমান স্কাইপ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সে কারণে স্কাইপ বন্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সরকার আরো বেপরোয়া হয়ে গেছে। তবে আগামী ভোটে জনগণ এইসব অপকর্মের জবাব দিবে।

শহীদ তিতুমীরের ১৮৭ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করি

ইংরজদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা এক যোদ্ধা বীর তিতুমীর। তার আসল নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর। আজ সেই বীর শহীদ তিতুমীরের ১৮৭ তম শাহাদাত বার্ষিকী। সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীরের আজ ১৮৭ তম শাহাদাত বার্ষিকী। তাঁর মৃত্যুদিনে রুহের মাগফেরাত কামনা করি। আসুন জেনে নিই তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচয়


তিতুমীরের জন্ম ১৭৮২ সালের ২৭শে জানুয়ারী।উঃ চব্বিশ পরগণা জেলার বশিরহাট মহকুমার অন্তর্গত চাঁদপুর গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মীর হাসান আলী। মায়ের নাম আবেদা রোকাইয়া খাতুন। তিতুমীররা চার ভাই-বোন। তিতুমীরের পড়াশুনার হাতেখড়ি পরিবারে, বাবার কাছে। ১৭৮৬ সালে তিতুমীরের বয়স যখন ৪ বছর তখন বাবা মীর হাসান আলী তাঁর হাতে তখতী দিয়ে হাতেখড়ি দেন। হাতেখড়ির পর তিনি গ্রামের ওস্তাদের কাছে উর্দূ, আরবী, ফারসী, বাংলা ভাষা ও ধারাপাত (অংক) শেখেন।

এরপর গ্রামের মাদ্রাসায় তিতুমীর ২ বছর শরীয়তী ও তরীকতী পড়াশুনা করার পর ১৭৯৮ সালে শিক্ষাবিদ হাফিজ নিয়ামত উল্লাহ’র সাথে বিহারে যান। ৬ মাস শিক্ষা সফর শেষে ওস্তাদ-সাগরেদ
মিলে চাঁদপুরের হায়দারপুর গ্রামে ফিরে আসেন।১৮০১ সালে ১৮ বছর বয়সে তিতুমীর কোরানে হাফেজ হন এবং হাদিস বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। সেইসাথে তিনি বাংলা, আরবি ও ফারসি ভাষা, দর্শন ও কাব্যশাস্ত্রে সমান দক্ষতা অর্জন করেন।

তিতুমীর মায়মূনা খাতুনকে বিয়ে করেন। মায়মূনা খাতুন ছিলেন চব্বিশ পরগনার বাদুড়িয়ার অন্তর্গত খালপুর গ্রামের হযরত শাহ সূফী মুহম্মদ রহীম উল্লাহ সিদ্দিকীর মেয়ে।

খুব সম্ভবত ১৮০৮-১৮১০ সালের কোনো এক সময়ে তিনি ভাগ্যন্বেষণে কলকাতা শহরে যান। এখানেও তিনি কুস্তি লড়াইয়ের প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিতেন। তিনি একবার কলকাতায় কুস্তি লড়াইয়ে প্রথম হয়েছিলেন। এরপর থেকে তিতুমীরের নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই কারণে তিনি জমিদার মির্জা গোলাম আম্বিয়ার সুনজরে পড়েন এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেন। তিতুমীর এখানে বসে যুদ্ধ জয়ের সামরিক কৌশল আয়ত্ব করেন। মির্জা গোলাম আম্বিয়া ছিলেন কলকাতার মির্জাপুর এলাকার জমিদার। তিতুমীর যেখানে যেতেন সেখানেই নানা বিষয় শেখার চেষ্টা করতেন ফলে কর্মজীবনে তিনি কোথাও স্থায়ী হতে পারেনি।

তিনি ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর শহীদ হন উইলিয়াম বেন্টিং এর নেতৃত্তাধীন সৈন্যদের গোলার আঘাতে।

আ’লীগের প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন, বাদের খাতায় অন্তত ১৩ এমপি

শাহেদ চৌধুরী: জাতীয় পার্টি, বিকল্পধারা ও ১৪ দলের শরিকদের জন্য নির্ধারিত আসন খালি রেখে ২৩২টিতে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। বাকি ৬৮টি আসনে দলীয় প্রার্থী তালিকা তৈরি করেনি সরকারি দল। দ্রুতই তিনশ' আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও মহাজোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য গতকাল রোববার  জানিয়েছেন, বেশিরভাগ আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হলেও দলের কেন্দ্রীয় দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমানের আসনে মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে, অর্থাৎ ঢাকা-১৩ ও ফরিদপুর-১ আসনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। এ দুই নেতা বর্তমান সংসদের সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

ভাগ্য বিপর্যয় ঘটেছে দুই কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক এবং আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের। বর্তমান সংসদের সদস্য এ দুই নেতা দলের মনোনয়ন পাননি। শরীয়তপুর-১ আসনে বি এম মোজাম্মেল হকের পরিবর্তে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ইকবাল হোসেন অপু ও মাদারীপুর-৩ আসনে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের বদলে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সংসদের কমপক্ষে আরও ১১ এমপি এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় স্থান পাননি। তাদের বিভিন্নজনের বিরুদ্ধে নানা কারণে বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। কারও কারও জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও আছে কারও কারও বিরুদ্ধে। দুর্নীতি, মাদক ও বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত এমপিদেরও দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

বাদ পড়া এমপিদের মধ্যে রয়েছেন- মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আবদুল ওয়াহহাব (মাগুরা-১), খন্দকার আসাদুজ্জামান (টাঙ্গাইল-২), আমানুর রহমান রানা (টাঙ্গাইল-৩), সোহরাব উদ্দিন (কিশোরগঞ্জ-২), সুকুমার রঞ্জন ঘোষ (মুন্সীগঞ্জ-১), ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু (নেত্রকোনা-৩), আবদুর রহমান বদি (কক্সবাজার-৪), আবদুল ওয়াদুদ দারা (রাজশাহী-৫), কর্নেল (অব.) শওকত আলী (শরীয়তপুর-২), অধ্যাপক ডা. আমান উল্লাহ (ময়মনসিংহ-১১) ও অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির (যশোর-২)।

বেশ কয়েকজন নতুন মুখ রয়েছেন আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী তালিকায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম (শরীয়তপুর-২), কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল (নেত্রকোনা-৩), প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর (মাগুরা-১), পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ (কিশোরগঞ্জ-২) ও আবদুর রহমান বদি এমপির স্ত্রী শাহীন চৌধুরী (কক্সবাজার-৪)।

আওয়ামী লীগ সংসদীয় বোর্ডের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, সর্বশেষ গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হলেও এতে পরিবর্তন ও সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। সংসদীয় বোর্ডের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে এই ক্ষমতা দিয়েছেন। প্রার্থী তালিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে সংসদীয় বোর্ডের কোনো সদস্যই মুখ খুলতে চাননি। তবে গতকাল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, এমন কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম জানা গেছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন (পঞ্চগড়-২), রমেশ চন্দ্র সেন (ঠাকুরগাঁও-১), দবিরুল ইসলাম (ঠাকুরগাঁও-২), মনোরঞ্জন শীল গোপাল (দিনাজপুর-১), খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (দিনাজপুর-২), ইকবালুর রহিম বাবু (দিনাজপুর-৩), আবুল হাসান মাহমুদ আলী (দিনাজপুর-৪), অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার (দিনাজপুর-৫), আসাদুজ্জামান নূর (নীলফামারী-২), মোতাহার হোসেন (লালমনিরহাট-১), নুরুজ্জামান আহমেদ (লালমনিরহাট-২), টিপু মুনশি (রংপুর-৪), এইচ এন আশিকুর রহমান (রংপুর-৫), ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী (রংপুর-৬), মাহাবুব আরা বেগম গিনি (গাইবান্ধা-২), ডা. ইউনুস আলী সরকার (গাইবান্ধা-৩), অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া (গাইবান্ধা-৫), শামসুল আলম দুদু (জয়পুরহাট-১), আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন (জয়পুরহাট-২), আবদুল মান্নান (বগুড়া-১), হাবিবুর রহমান (বগুড়া-৫), সাধন চন্দ্র মজুমদার (নওগাঁ-১), শহীদুজ্জামান সরকার (নওগাঁ-২), ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক (নওগাঁ-৪), আবদুল মালেক (নওগাঁ-৫), ইসরাফিল আলম (নওগাঁ-৬), ওমর ফারুক চৌধুরী (রাজশাহী-১), আয়েন উদ্দিন (রাজশাহী-৩), প্রকৌশলী এনামুল হক (রাজশাহী-৪), শাহরিয়ার আলম (রাজশাহী-৬), অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক (নাটোর-৩), মোহাম্মদ নাসিম (সিরাজগঞ্জ-১), ডা. হাবিবে মিল্লাত (সিরাজগঞ্জ-২), আবদুল মজিদ মণ্ডল (সিরাজগঞ্জ-৫), হাসিবুর রহমান স্বপন (সিরাজগঞ্জ-৬), মকবুল হোসেন (পাবনা-৩), শামসুর রহমান শরীফ ডিলু (পাবনা-৪), গোলাম ফারুক প্রিন্স (পাবনা-৫), ফরহাদ হোসেন দোদুল (মেহেরপুর-১), মাহবুবউল আলম হানিফ (কুষ্টিয়া-৩), আবদুর রউফ (কুষ্টিয়া-৪), সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন (চুয়াডাঙ্গা-১), আলী আজগার টগর (চুয়াডাঙ্গা-২), শেখ আফিল উদ্দিন (যশোর-১), কাজী নাবিল আহমেদ (যশোর-৩), রণজিত কুমার রায় (যশোর-৪), স্বপন ভট্টাচার্য্য (যশোর-৫), ইসমাত আরা সাদেক (যশোর-৬), বীরেন শিকদার (মাগুরা-২), শেখ হেলাল উদ্দিন (বাগেরহাট-১), হাবিবুন্নাহার (বাগেরহাট-৩), পঞ্চানন বিশ্বাস (খুলনা-১), মন্নুজান সুফিয়ান (খুলনা-৩), আবদুস সালাম মুর্শেদী (খুলনা-৪), নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (খুলনা-৫), অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক (সাতক্ষীরা-৩), অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভু (বরগুনা-১), শওকত হাচানুর রহমান রিমন (বরগুনা-২), আ স ম ফিরোজ (পটুয়াখালী-২), আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন (পটুয়াখালী-৩), তোফায়েল আহমেদ (ভোলা-১), নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন (ভোলা-৩), আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব (ভোলা-৪), আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ (বরিশাল-১), অ্যাডভোকেট তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস (বরিশাল-২), পংকজ দেবনাথ (বরিশাল-৪), জেবুন্নেছা আফরোজ (বরিশাল-৫), বজলুল হক হারুন (ঝালকাঠি-১), আমির হোসেন আমু (ঝালকাঠি-২), ড. আবদুর রাজ্জাক (টাঙ্গাইল-১), হাসান ইমাম খান (টাঙ্গাইল-৪), ছানোয়ার হোসেন (টাঙ্গাইল-৫), খন্দকার আবদুল বাতেন (টাঙ্গাইল-৬), একাব্বর হোসেন (টাঙ্গাইল-৭), সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ-১), রেজুওয়ান আহমেদ তৌফিক (কিশোরগঞ্জ-৪), আফজাল হোসেন (কিশোরগঞ্জ-৫), নাজমুল হাসান পাপন (কিশোরগঞ্জ-৬), এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় (মানিকগঞ্জ-১), জাহিদ মালেক স্বপন (মানিকগঞ্জ-৩), সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি (মুন্সীগঞ্জ-২), অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস (মুন্সীগঞ্জ-৩), অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম (ঢাকা-২), নসরুল হামিদ বিপু (ঢাকা-৩), হাবিবুর রহমান মোল্লা (ঢাকা-৫), হাজি মোহাম্মদ সেলিম (ঢাকা-৭), সাবের হোসেন চৌধুরী (ঢাকা-৯), ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস (ঢাকা-১০), এ কে এম রহমতুল্লাহ (ঢাকা-১১), আসাদুজ্জামান খান কামাল (ঢাকা-১২), আসলামুল হক আসলাম (ঢাকা-১৪), কামাল আহমেদ মজুমদার (ঢাকা-১৫), ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ (ঢাকা-১৬), ডা. এনামুর রহমান (ঢাকা-১৯), আ ক ম মোজাম্মেল হক (গাজীপুর-১), জাহিদ আহসান রাসেল (গাজীপুর-২), সিমিন হোসেন রিমি (গাজীপুর-৪), মেহের আফরোজ চুমকি (গাজীপুর-৫), লে. কর্নেল (অব.) নজরুল ইসলাম হিরু বীরপ্রতীক (নরসিংদী-১), ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ (নরসিংদী-২), সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (নরসিংদী-৩), অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন (নরসিংদী-৪), রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজু (নরসিংদী-৫), নজরুল ইসলাম বাবু (নারায়ণগঞ্জ-২), এ কে এম শামীম ওসমান (নারায়ণগঞ্জ-৪), কাজী কেরামত আলী (রাজবাড়ী-১), ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন (ফরিদপুর-৩), কাজী জাফর উল্লাহ (ফরিদপুর-৪), লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান (গোপালগঞ্জ-১), শেখ ফজলুল করিম সেলিম (গোপালগঞ্জ-২), শেখ হাসিনা (গোপালগঞ্জ-৩), নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন (মাদারীপুর-১), শাজাহান খান (মাদারীপুর-২), নাহিম রাজ্জাক (শরীয়তপুর-৩), মির্জা আজম (জামালপুর-৩), রেজাউল করিম হিরা (জামালপুর-৫), আতিউর রহমান আতিক (শেরপুর-১), মতিয়া চৌধুরী (শেরপুর-২), এ কে এম ফজলুল হক চান (শেরপুর-৩), জুয়েল আরেং (ময়মনসিংহ-১), অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন (ময়মনসিংহ-৬), ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল (ময়মনসিংহ-১০), আরিফ খান জয় (নেত্রকোনা-২), রেবেকা মমিন (নেত্রকোনা-৪), ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন (সুনামগঞ্জ-১), জয়া সেনগুপ্তা (সুনামগঞ্জ-২), এম এ মান্নান (সুনামগঞ্জ-৩), মুহিবুর রহমান মানিক (সুনামগঞ্জ-৫), আবুল মাল আবদুল মুহিত (সিলেট-১), মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস (সিলেট-৩), ইমরান আহমদ (সিলেট-৪), নুরুল ইসলাম নাহিদ (সিলেট-৬), শাহাব উদ্দিন (মৌলভীবাজার-১), সৈয়দা সায়রা মহসিন (মৌলভীবাজার-৩), উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ (মৌলভীবাজার-৪), মাহবুব আলী (হবিগঞ্জ-৪), অ্যাডভোকেট আনিসুল হক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪), ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া (কুমিল্লা-১), অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু (কুমিল্লা-৫), আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার (কুমিল্লা-৬), অধ্যাপক আলী আশরাফ (কুমিল্লা-৭), আ হ ম মুস্তফা কামাল লোটাস (কুমিল্লা-১০), মুজিবুল হক (কুমিল্লা-১১), মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম (চাঁদপুর-২), ডা. দীপু মনি (চাঁদপুর-৩), এইচ এম ইব্রাহিম (নোয়াখালী-১), একরামুল করিম চৌধুরী (নোয়াখালী-৪), ওবায়দুল কাদের (নোয়াখালী-৫), এ কে এম শাহজাহান কামাল (লক্ষ্মীপুর-৩), ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন (চট্টগ্রাম-১), মাহফুজুর রহমান মিতা (চট্টগ্রাম-৩), এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬), ড. হাছান মাহমুদ (চট্টগ্রাম-৭), ডা. আফছারুল আমীন (চট্টগ্রাম-১০), সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (চট্টগ্রাম-১৩), সাইমুম সরওয়ার কমল (কক্সবাজার-৩), কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি) ও বীর বাহাদুর উশৈ সিং (বান্দরবান)। সূত্র: সমকাল।

এমপি রানার বাবা’র মনোনয়ন প্রাপ্তিতে উত্তাল ঘাটাইল

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন না পেলেও আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন তার বাবা আতাউর রহমান খান। এমন বিভ্রান্তিমূলক সংবাদে পুরো ঘাটাইল জুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এতে উজ্জীবিত এমপি রানার সমর্থকরা। তবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার বিরোধীরা।

এমপি রানার বাবা আতাউর রহমান খান সোনালী ব্যাংকের সাবেক উপ মহাব্যবস্থাপক। চাকুরি থেকে অবসর নেয়ার পর রাজনীতিতে নামেন। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

এমপি আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় ২৬ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। তার বাবা এমপি রানার বাবা আতাউর রহমান খানের মনোনয়ন পাওয়ার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফারুক আহমেদ হত্যার বিচারের দাবিতে সক্রিয় থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী জানান, ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে এমপি রানা ও তার ভাইয়েরা চার বছর ধরে টাঙ্গাইল ছাড়া হয়েছেন। এক সময় টাঙ্গাইলে তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল। সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য, টেন্ডার সব নিয়ন্ত্রণ করতো রানার ‘খান পরিবার’। এই মনোনয়ন পাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের আবার টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনার সৃষ্টি হল।

এ ব্যাপারে নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক নাহার আহমেদ কোন মন্তব্য করেননি।

ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও মনোনয়ন প্রত্যাশী শহিদুল ইসলাম জানান, আতাউর রহমান খানের মনোনয়নের সিদ্ধান্ত যদি হয়ে থাকে, তবে তা সঠিক হয়নি। এতে তৃণমূলের মতামত প্রতিফলিত হয়নি। এ ব্যাপারে তিনি সিদ্ধান্তটি পুনরায় বিবেচনার জন্য দলের প্রতি দাবি জানান। ঘাটাইল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম (ভিপি শহিদ) বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার পক্ষেই কাজ করবো এবং রানা এমপির চেয়ে তার বাবা আতাউর রহমান খানকে মনোনয়ন দেয়ায় সহজেই নৌকার এ আসনে বিজয় হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগ চূড়ান্ত দলীয় প্রার্থীতা ঘোষণার কথা থাকলেও এমন সব  বিভ্রান্তি মূলক সংবাদে পুরো ঘাটাইল জুড়ে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় সাংসদ এমপি আমানুর রহমান খান ও তার ভাইদের নাম বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

এই মামলায় এমপি রানা ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জন আসামি রয়েছে। দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর এমপি রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-১ আছেন। বেশ কয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে আবেদন করেও জামিন পাননি তিনি। বহুল আলোচিত এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে।

ঘাটাইলে ৫৪ দিন ধরে খোলা আকাশের নীচে ২৫ পরিবার

খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘীতে ৫৪ দিন ধরে খোলা আকাশের নীচে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন ২৫টি পরিবার । কোন নোটিশ ছাড়াই বিধিবহির্ভুতভাবে উচ্ছেদের নামে ঘর-দড়জা ভেঙ্গে দেয়া হলে এ দুর্দশায় পড়তে হয় তাদের। তিন দফায় উচ্ছেদ অভিযানের ফলে তাদের ঠিকানা এখন খোলা আকাশের নীচে। বাস্তহারা এ মানুষের বুকফাটা কাঁন্না আর আহাজারিতে সাগরদিঘী বাজারের বাতাস ভারী হয়ে ওঠছে। প্রতিবেশীদের কোন শান্তনাই যেন তাদের কান্না থামছে না। এ ঘটনায় নির্বাক হয়ে পড়েছে এক বৃদ্ধা কুবজান বেওয়া।

জানা যায়, ঘাটাইল সদর থেকে পূর্বদিকে ৩০ কি.মি পেরিয়ে সাগরদিঘী বাজার। এ বাজারে উচ্ছেদ করা ভুমির জমিদারী পত্তন মুলে মালিক মোহাম্মদ আলী বেপারী। সিএস ও আরএসএ রের্কডও তার নামেই রয়েছে। বর্তমানে জমির ভূমি উন্নয়ন কর দেয়া ছাড়াও ২০০৪ সালে হাল জরিপে তার ছেলে মোক্তার আলীর নামে রেকর্ড হয়েছে। আর স্বত্বদখলীয় এ জায়গাটিতে বংশ পরমপরায় বাবার ওয়ারিশ সুত্রে যুগ যুগ ধরে বসবাস করছেন মোহাম্মদ আলী বেপারির ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান- ২৬ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রথম উচ্ছেদ অভিযানে নামেন ঘাটাইলের বিদায়ী সহকারি কমিশনার (ভূমি )আম্বিয়া সুলতানা। এতে ভেঙ্গে দেয়া হয় বিধবা কুবজানের ঘর। সাথে তার ৫ মেয়ে ৪ ছেলের ঘরও ভেঙ্গে চুরমার করা হয়। উচ্ছেদের পরদিনই বদলি জনিত কারণে তিনি অন্যত্র চলে যান। রোববার বেলা দেড়টায়এ ব্যাপারে জানতে তার সেল ফোনে (০১৭১৭ ১৯৮৭১৫) যোগাযোগ করলে রিং বাজলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে ৭ অক্টোবর তারিখে দ্বিতীয় দফায় উচ্ছেদ করতে যান ইউএনও দিলরুবা আহমেদ। এতে স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউএনও‘র উপর চড়াও হয়ে ধাওয়া করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি গাড়ীতে ওঠে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে যান।



অভিযোগ রয়েছে স্থানিয় কতিপয় কুচক্রিমহল প্রশাসনের সাথে যোগসাজস করে উচ্ছেদের নামে জায়গা অবমুক্ত করেন। আর এ জন্য ৫৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সুত্র জানিয়েছেন।

এ দিকে ঘটনাস্থলে গেলে ত্রিশোর্ধ নারগিস নামের এক নারী বিলাপ করে বলছিলেন, ‘ভাত পাক করছি ভাত খাওনের ভাগ্য আমাগো অয় নাই। রান্দা (রান্না) ভাত সব ফালাইয়া দিছে, খাওয়া নাই দাওয়া নাই, উপোস রইছি’। খোলা আকাশের নীচে শিশু বাচ্চা কোলে এভাবেই প্রতিবেদকের কাছে কথা গুলো বলছিলেন আর কান্নায় বুক ভাসাচ্ছিলেন। সাথে তার আরও ৪ বোন সহ শিশু বাচ্চাদের কান্নায় এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ঘাটাইলডটকমকে বলেন, ভূমিহীনদের ঘর ভেঙ্গে অবমুক্ত করার পর পরই প্রভাবশালীরা লাইসেন্স নিয়ে রাতারাতি দোকান ঘর নির্মান করেছেন।

তৃতীয় দফায় উচ্ছেদ করেন জেলা প্রশাসকের নিযুক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ ঘাটাইলডটকমকে বলেন, ওখানে কোন উচ্ছেদ অভিযান চালাইনি এমনকি কোন ঘটনাও ঘটেনি। তাহলে মামলা করলেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মামলা করিনি। মামলা করেছে তহশিলদার। এ নিয়ে কোন প্রকার লেখা লেখি করলে প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকী দেন।

জানতে চাইলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবি ও সরকারী কৌশলী এ্যডভোকেট এস আকবর খান ঘাটাইলডটকমকে বলেন, যে কোন উচ্ছেদ করতে গেলে আদালতের অনুমতি লাগবে। আর যাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে তাদেরকে আগেই নোটিশ করতে হবে, কোন ঘরবাড়ি স্থাপনা থাকলে তা সরিয়ে নেয়ার জন্য।

ঘাটাইল হাসপাতালে বছর হলো নেই কোন শিশু বিশেষজ্ঞ

আসছে শীত। আর শীতে বয়স্কদের তুলনায় ঠান্ডাজনিত রোগে শিশুরাই আক্রান্ত হয় বেশী। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ৫১ শয্যা বিশিষ্ট্য হাসপাতালে নেই কোন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। এ পদটি শূন্য রয়েছে প্রায় বছর হলো। ফলে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাজারো শিশু।

দু-তিন বছর আগেও বেশ সুনাম ছিল এ হাসপাতালের শিশু চিকিৎসা সেবার। সে সময় বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মাহমুদুল হাসান। তিনি ঢাকার পিজি হাসপাতালে বদলি হয়ে যাওয়ায় এখন মুখ থুবরে পরে শিশুদেও চিকিৎসা। এর বেশ কিছদিন পর যোগদান করেন ডাঃ রিফাত। দু মাস থাকার পর উপরের প্রভাবশালী কোন এক মন্ত্রীর আত্মীয় হওয়ায় তিনি বদলি হয়ে চলে যান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতালে। সেই থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত প্রায় বছর হলো নেই কোন শিশু বিশেষজ্ঞ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড়’শ মা ও শিশু রোগী আসেন চিকিৎসা নিতে। আর এদের সাধারণ চিকিৎসা দিয়ে থাকে আইএমসিআই বিভাগ। হাসপতাল কর্তৃপক্ষ জানান, এই বিভাগে শিশুদের জটিল কোন রোগের সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। সরেজমিনে গিয়ে তবুও দেখা যায় শিশুদের কোলে নিয়ে মায়েদের এক লম্বা সারি।

৫ মাস বয়সী কন্যা সন্তানের বাবা পৌরসভার চান্দশী গ্রামের কায়সার বলেন, এখানে শিশু ডাক্তার না থাকায় ১০ কি.মি. দূরে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আমাদের সেবা নিতে হচ্ছে।

কথা হয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ১০ মাস বয়সী শিশু আয়েশা এর মা নারগিস আক্তারের সাথে। তিনি বলেন, সামান্য ঠান্ডা জনিত রোগের চিকিৎসাও সেবাও এখানে পাওয়া যাচ্ছে না।

হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অনেক ভোগান্তী যাচ্ছে মা ও শিশু রোগীদের। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে বার বারএকজন শিশু বিশেষজ্ঞের চাহিদা দিলেও পাওয়া যাচ্ছে না।

নির্বাচনে এবার ফ্যাক্টর নারী ভোটার

দেশে সাড়ে ১০ কোটি ভোটারের অর্ধেকই নারী। বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনগুলোতে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত বেশি হতে দেখা যায়। তাই ফলাফল নির্ধারণে বড় ফ্যাক্টর তারা। প্রার্থী নির্বাচনে তাই নারীদেরও রয়েছে নানান হিসাব-নিকাশ। আবার নারী ভোটারের মধ্যে অনেকেই এবার জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। নতুন এই ভোটারদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভিন্ন মাত্রার। শিক্ষিত ও বয়সে তরুণ এসব নারী ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলক সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। বিষয়টি মাথায় রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও নারী ভোটারদের নির্বাচনে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচনী  ইশতেহারে নারীর উন্নয়নের বিষয়টি পেতে যাচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। অবশ্য ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নারী ভোটারদের গুরুত্ব দিয়েই তাদের প্রাক-নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। জানা যায়, এবারের সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন (নির্বাচন কমিশন কর্তৃক চূড়ান্ত হিসাব)। গত ৩১ জানুয়ারি কমিশন সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের চূড়ান্ত এই তালিকা প্রকাশ করে।

এবার নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৫ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ১০৫ জন। আর নারী ভোটারের সংখ্যা ৫ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৭৬ জন। অর্থাৎ নারী-পুরুষ ভোটারদের সংখ্যার ব্যবধান ৮ লাখ ৮১ হাজার ৮২৯ জন। আর পুরুষ ও নারী ভোটারের অনুপাত ৫০.৪২ : ৪৯.৫৮। আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রের খবর, নারী ভোটারদের ভোট পেতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৫০টি সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি সরাসরি আসনেও নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিচ্ছে। এরই মধ্যে দলটির বহু নতুন-পুরনো নারী কর্মী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এমনকি যেসব আসনে পুরুষ প্রার্থীরা লড়বেন সে আসনগুলোতে সেই পুরুষ প্রার্থীর সঙ্গে তার স্ত্রী নারী ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই বিষয় আমলে নিয়ে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নারীনেত্রীরাও ইতিমধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গত দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে নারীর ক্ষমতায়নে বেশ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। আর নারী ভোটারদের ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রীর সেই ভূমিকা ইতিবাচক ভূমিকা প্রভাব রাখবে বলেও আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীরা মনে করছেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার গতকাল বলেন, ২০০৮ সালে নারী ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকলেও এর পর থেকে ভোটার হালনাগাদ তথ্যে এই সংখ্যা কমতে থাকে। এবার ভোটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ফলাফলে নিশ্চিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। কারণ নারী ভোটাররা সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকলে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যান। এবার নারীদের মধ্যে অনেকেই বয়সে তরুণ ও শিক্ষিত। তারা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সৎ ও জনস্বার্থে যে প্রার্থী কাজ করবেন তাকেই ভোট দেবেন। আর গ্রামীণ নারীদের কেউ কেউ হয়তো পরিবারের পুরুষ সদস্যদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভোট দিতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এবার মোট ১২টি আসনে পাঁচ থেকে সাত লাখের ওপর নারী ভোটার আছেন। এর মধ্যে ঢাকা-১৯ আসনেই সাত লাখের বেশি ভোটার। ভোটারদের হালনাগাদ তথ্য পর্যালোচনা করে আরও দেখা যায়, বাংলাদেশে মোট নারী-পুরুষ ভোটারের অনুপাত কাছাকাছি হলেও সংখ্যায় দেশের ১৮টি জেলায় নারী ভোটাররা পুরুষের তুলনায় এগিয়ে আছেন। বাকি ৪৬ জেলায় পুরুষ ভোটার বেশি। নারী ভোটারের সংখ্যা যেসব জেলায় বেশি সেগুলো হচ্ছে—বরগুনা, বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা, গাইবান্ধা, হবিগঞ্জ, জয়পুরহাট, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, মানিকগঞ্জ, মেহেরপুর, নওগাঁ, নড়াইল, পটুয়াখালী, রাজশাহী, রংপুর, শেরপুর ও টাঙ্গাইল। প্রসঙ্গত, ২০০৮-এ প্রথমবারের মতো ছবিসহ তৈরিকৃত ভোটার তালিকায় পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি ছিল। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিল মোট আট কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার তিনজন। এর মধ্যে নারী ছিল চার কোটি ১২ লাখ ৪৪ হাজার ৮২০ জন এবং পুরুষ ভোটার তিন কোটি ৯৭ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৬ জন। ২০১৩ সালের ভোটার তালিকার হালনাগাদে পুরুষের তুলনায় নারী ভোটার কম নিবন্ধিত হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে মোট ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৬ ভোটারের মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল চার কোটি ৫৮ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৮ ও পুরুষের সংখ্যা ছিল চার কোটি ৬১ লাখ ২২ হাজার ৪৬৯ জন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত

দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন থাকছে না এবার। তবে কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতাসহ মন্ত্রী-এমপি বাদ পড়েছেন। এ তালিকা সর্বোচ্চ ৫০ জনের কমবেশি হতে পারে। এখন চূড়ান্ত করা হচ্ছে জোটের আসনগুলো। চলছে দরকষাকষি। আজ রাতে গণভবনে জোট শরিকদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন মহাজোট প্রধান, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জোটের প্রার্থী তালিকা রাতে চূড়ান্ত করা হলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য সময় নেওয়া হতে পারে। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন দলের সংসদীয় বোর্ডের সদস্যরা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব দুটি জরিপ, দল পরিচালিত একটি এবং তিন সংস্থার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত করা হয়েছে দলের মনোনয়ন তালিকা। বাদ পড়েছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, বর্তমান এমপি ও মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ  বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন জোট শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে বৈঠক হবে।’ কতজন বাদ পড়েছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এবারের দলের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ৫০-৬০ জনের মতো।’ এই তালিকায় কী কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্য রয়েছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুরনোদের বিদায় না করলে কীভাবে নতুনরা স্থান পাবে? বাদ পড়াদের তালিকায় কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্যও আছেন।’

সূত্রমতে, ব্যাপক যাচাই-বাছাই করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হলেও এই মুহূর্তে ঘোষণা করা হচ্ছে না। দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করতে ঐক্যফ্রন্টের দিকে তাকিয়ে ক্ষমতাসীন দলটি। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা দেখে শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় কিছুটা কাটছাঁট হতে পারে। সংসদীয় বোর্ডের একাধিক সদস্য জানান, জরিপে যেসব এমপির অবস্থা খারাপ ছিল তাদের অনেককেই ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। অনেকেই অবস্থার উত্তরণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে জানিয়ে  গতকাল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুুল কাদের বলেন, ‘তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। তবে ফাইনাল ফিনিংশটা বাকি আছে। আমাদের এলায়েন্সের সঙ্গে আলোচনা করে ফাইনাল করা হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা নমিনেশনটা দিয়েছি জরিপ রিপোর্টের ভিত্তিতে। যাদের ছয় মাস আগেও খারাপ ছিল তারা হয়তো এখন ভালো হয়েছে, তাই তাদের নমিনেশন দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে আগে যারা জনপ্রিয় ছিল তাদের মধ্য  থেকে বাদ পড়েছে কম।’ জানা গেছে, গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রীসহ মোট ৫০ জন এমপি মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েন।  এবারও সেই ধারাবাহিকতাই থাকছে। বাদ পড়া এমপি-মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন যারা দলকে নানাভাবে বিতর্কিত করেছেন। নিজেরা নানা সময়ে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন। দলের সংসদীয় বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে পরিবর্তন বেশি হয়েছে। সিলেট ও খুলনাতেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। 

জাপাকে নৌকায় চড়াতে আজ বৈঠক : মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি তাদের নিজস্ব প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে ভোট করতে চায়। কিন্তু জোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগ চায় ‘জাতীয় পার্টির ভোটব্যাংক’ ছাড়া অন্য আসনগুলোয় নৌকা নিয়ে নির্বাচন করুক। বিশেষ করে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে লাঙ্গল করলে আপত্তি থাকবে না আওয়ামী লীগের। বাকি অন্য জেলায় মহাজোটের প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচন করুক। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদীয় বোর্ডের একাধিক প্রভাবশালী সদস্য জানালেন, আজ (সোমবার) রাতে শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় পার্টিকে কিছু আসনে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করার কথা বলা হবে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক একটা ফ্যাক্টর। উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা ছাড়া জাতীয় পার্টির অবস্থান ও নিজস্ব ভোট ব্যাংক কোথাও নেই। জাতীয় পার্টিকে যেসব আসন ছাড় দেওয়া হবে— সেসব আসনে নৌকার প্রার্থী থাকবে না। নৌকার ভোটার অন্য প্রতীকে ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে অনীহা দেখাতে পারেন। সে কারণে নৌকা নিয়ে কিছু আসনে নির্বাচন করতে তাদের বলা হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের শরিকরা নৌকা নিয়ে নির্বাচন করবেন এমন সিদ্ধান্ত আগেই নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। মহাজোটের সঙ্গে যুক্ত হতে দরকষাকষি করছে বিকল্পধারার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। তারাও নৌকা চড়ে সংসদ নির্বাচন করতে চান। আর ১৪ দলের শরিকরা যারা আওয়ামী লীগের নৌকা পেতে চান তারা আজ রাতে যাচ্ছেন গণভবনে। বৈঠক করবেন জোট প্রধান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রাতেই চূড়ান্ত হবে জোট শরিকদের আসন। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে, মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে সর্বোচ্চ ৪৫টি, ওয়ার্কার্স পার্টিকে ৪-৫টি, জাসদ দুই অংশকে সব মিলে ৫টি, তরিকতকে ১টি, জেপিকে সর্বোচ্চ ২টি, যুক্তফ্রন্টকে ৩-৪টি, জাকের পার্টিকে ১টিসহ অন্যান্য দলকে ২টি আসন ছাড় দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। মহাজোট শরিকদের কত আসন দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের নেত্রী যেটা বলেছেন তা হলো ৬৫ থেকে ৭০টি আসন শরিকরা পাবেন। আলোচনা করে যদি মনে হয় উইনিবল প্রার্থী তাদের বেশি তাহলে সেটা বাড়ানো যেতে পারে।

রবিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৮

এমপি রানা নয়, ঘাটাইলে আ’লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন আতাউর রহমান খান

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে হঠাৎ করে আলোচনায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার বাবা আলহাজ আতাউর রহমান খান! তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন আলোচনা এখন ঘাটাইলের টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চুড়ান্ত না হলেও টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আতাউর রহমান খানের মনোনয়ন প্রায় চুড়ান্ত এমন আলোচনায় হঠাৎ সড়গরম হয়ে ওঠেছে নির্বাচনী মাঠ।

আতাউর রহমান খান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন সংবাদটি মুহুর্তের মধ্যে ঘাটাইলে টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে বিভিন্ন স্থান থেকে ফোন আসতে থাকে। রানার বাবা নিশ্চিত মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। বিষয়টি আলোচিত হওয়ায় এমপি রানার অনুসারীদের মধ্যে উৎফুল্ল ভাব লক্ষ্য করা গেছে।

আতাউর রহমান খানের মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও জামুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস বলেন, এটা সম্পূনই দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে আমরা আশা করছি জনসমর্থন বিবেচনা করে জননেত্রী শেখ হাসিনা তার হাতেই নৌকা প্রতীক তুলে দিবেন।

দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদের সাথে কথা বললে তারাও আতাউর রহমান খানের মনোনয়ন মোটামোটি নিশ্চিত মত প্রকাশ করলেও চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না বলে জানান।

আতাউর রহমান খান অবসরপ্রাপ্ত একজন ব্যাংকার। তাঁর বড় ভাই প্রয়াত এডভোকেট শামসুর রহমান খান শাহজাহান এ আসন থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদকও ছিলেন।

আলহাজ আতাউর রহমান খানের ছেলে আমানুর রহমান খান রানা ২০১২ সালে উপ নির্বাচনে এমপি এবং ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় এমপি হন। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইলের আলোচিত আওয়ামীলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামী হয়ে কাশিমপুর কারাগারে অন্তরীন রয়েছেন।

গত শনিবার (১০ নভেম্বর) সকালে আমানুর রহমান খান রানার পক্ষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিং ও সংসদ সদস্যর এপিএস আসিফ সিদ্দিকী। এসময় উপস্থিত ছিলেন আতোয়ার রহমান খান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ রাজীব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুনসহ সমর্থকরা।

বিএনপির কাছে পঞ্চাশ আসন চায় জামায়াত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে মনোনয়নের প্রত্যাশায় ৫০ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা বিএনপির হাতে তুলে দিয়েছে জামায়াত।

শনিবার (১৭ নভেম্বর) জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বদানকারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানের কাছে তালিকা পৌঁছে দেয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারাদেশে ৬০টি আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থিতার জন্য মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন জামায়াতের প্রার্থীরা। এই ৬০ জনের তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই করে ৫০ জনের নামের তালিকা দলের পক্ষ থেকে বিএনপিকে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ প্রার্থী তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে।

 তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৬০টি আসন থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন প্রার্থীরা। এই তালিকা ধরেই একটি বাছাই তালিকা বিএনপির কাছে দেওয়ার কথা রয়েছে। আমি নিশ্চিত না, তালিকা দেওয়া হয়েছে কিনা।’
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একটি সূত্র জানায়, ৬০টি আসন থেকে মনোনয়নপত্র তুলেছেন তাদের প্রার্থীরা। এই তালিকা থেকে ৫০টি আসনে নির্বাচনের জন্য বিএনপিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তালিকায় নাম প্রস্তাব ছাড়াও সংশ্লিষ্ট আসনে ভোটের হিসাব, জামায়াতের বিগত দিনে প্রাপ্ত ভোট, সম্ভাবনা, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিএনপির অবস্থানসহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন সদস্য জানান, বিএনপির সিদ্ধান্ত নিতে যেন সুবিধা ও সহজ হয়, সেজন্যই বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। দলের প্রভাবশালী দুই নেতার ভাষ্য, আমাদের প্রাথমিক প্রস্তাব ৫০টি। এরপর যাচাই-বাছাই করে জোটগত মনোনয়ন নিশ্চিত করা হবে। কোন- কোন আসনে বিএনপি জোটগত মনোনয়ন দিতে চায়, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত তালিকায় বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার এই তালিকা দিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা। এরপর তার পরামর্শেই দলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যের কাছে তালিকা হস্তান্তর করেন। মির্জা ফখরুলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জামায়াতের ওই নেতাকে তিনি জানান, জোটগতভাবে মনোনয়নের বিষয়টি সমন্বয় করছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খান।

তবে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতার সঙ্গে কথা বলে স্পষ্ট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির মূল নির্বাচনি জোট থাকায় তাদের এ বছর অনেক ছাড়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিএনপির তরফে অনানুষ্ঠানিকভাবে ১৮-২০টি আসন পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেলেও দরকষাকষি করবে জামায়াত। এক্ষেত্রে দলটির পছন্দ অন্তত ৩০-৩৫টি আসন।

জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র মার্কায় নির্বাচন করতে জামায়াতের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেও বিএনপির পক্ষ থেকে ধানের শীষে নির্বাচন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন জামায়াত করবে কিনা, এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা যেতে পারে। যদিও প্রকাশ্যেই জামায়াতের নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়েই একাদশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে তাদের প্রার্থীরা।

দলটির কেন্দ্রীয় এক নেতা আরও বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমাদের দলীয় ফোরামে বিষয়টি নিয়ে ফের বৈঠক হবে। ওই বৈঠক থেকেই সিদ্ধান্ত হতে পারে ধানের শীষ প্রতীক নেওয়া হবে কিনা। এক্ষেত্রে আরপিও ধারাগুলো আবারও পর্যালোচনা করবে জামায়াত।’

এর আগে ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের ব্যানারে ৩১টি, এরমধ্যে জোটবদ্ধভাবে ৩০টি এবং এককভাবে একটিতে নির্বাচন করে জামায়াত। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩৯টি আসনে জোটগত সমর্থন পেলেও চারটি থেকে দলীয়ভাবে নির্বাচন করেন জামায়াতের প্রার্থীরা। দলটির তৃণমূলের অভিমতের ভিত্তিতে এবার তাদের দাবি ৬২টি। তবে চ‚ড়ান্তভাবে ৩০টি আসনে ন্যূনতম ছাড় চায় জামায়াত।