সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮

ঘাটাইলে ৫৪ দিন ধরে খোলা আকাশের নীচে ২৫ পরিবার

খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘীতে ৫৪ দিন ধরে খোলা আকাশের নীচে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন ২৫টি পরিবার । কোন নোটিশ ছাড়াই বিধিবহির্ভুতভাবে উচ্ছেদের নামে ঘর-দড়জা ভেঙ্গে দেয়া হলে এ দুর্দশায় পড়তে হয় তাদের। তিন দফায় উচ্ছেদ অভিযানের ফলে তাদের ঠিকানা এখন খোলা আকাশের নীচে। বাস্তহারা এ মানুষের বুকফাটা কাঁন্না আর আহাজারিতে সাগরদিঘী বাজারের বাতাস ভারী হয়ে ওঠছে। প্রতিবেশীদের কোন শান্তনাই যেন তাদের কান্না থামছে না। এ ঘটনায় নির্বাক হয়ে পড়েছে এক বৃদ্ধা কুবজান বেওয়া।

জানা যায়, ঘাটাইল সদর থেকে পূর্বদিকে ৩০ কি.মি পেরিয়ে সাগরদিঘী বাজার। এ বাজারে উচ্ছেদ করা ভুমির জমিদারী পত্তন মুলে মালিক মোহাম্মদ আলী বেপারী। সিএস ও আরএসএ রের্কডও তার নামেই রয়েছে। বর্তমানে জমির ভূমি উন্নয়ন কর দেয়া ছাড়াও ২০০৪ সালে হাল জরিপে তার ছেলে মোক্তার আলীর নামে রেকর্ড হয়েছে। আর স্বত্বদখলীয় এ জায়গাটিতে বংশ পরমপরায় বাবার ওয়ারিশ সুত্রে যুগ যুগ ধরে বসবাস করছেন মোহাম্মদ আলী বেপারির ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান- ২৬ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রথম উচ্ছেদ অভিযানে নামেন ঘাটাইলের বিদায়ী সহকারি কমিশনার (ভূমি )আম্বিয়া সুলতানা। এতে ভেঙ্গে দেয়া হয় বিধবা কুবজানের ঘর। সাথে তার ৫ মেয়ে ৪ ছেলের ঘরও ভেঙ্গে চুরমার করা হয়। উচ্ছেদের পরদিনই বদলি জনিত কারণে তিনি অন্যত্র চলে যান। রোববার বেলা দেড়টায়এ ব্যাপারে জানতে তার সেল ফোনে (০১৭১৭ ১৯৮৭১৫) যোগাযোগ করলে রিং বাজলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে ৭ অক্টোবর তারিখে দ্বিতীয় দফায় উচ্ছেদ করতে যান ইউএনও দিলরুবা আহমেদ। এতে স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউএনও‘র উপর চড়াও হয়ে ধাওয়া করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি গাড়ীতে ওঠে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে যান।



অভিযোগ রয়েছে স্থানিয় কতিপয় কুচক্রিমহল প্রশাসনের সাথে যোগসাজস করে উচ্ছেদের নামে জায়গা অবমুক্ত করেন। আর এ জন্য ৫৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সুত্র জানিয়েছেন।

এ দিকে ঘটনাস্থলে গেলে ত্রিশোর্ধ নারগিস নামের এক নারী বিলাপ করে বলছিলেন, ‘ভাত পাক করছি ভাত খাওনের ভাগ্য আমাগো অয় নাই। রান্দা (রান্না) ভাত সব ফালাইয়া দিছে, খাওয়া নাই দাওয়া নাই, উপোস রইছি’। খোলা আকাশের নীচে শিশু বাচ্চা কোলে এভাবেই প্রতিবেদকের কাছে কথা গুলো বলছিলেন আর কান্নায় বুক ভাসাচ্ছিলেন। সাথে তার আরও ৪ বোন সহ শিশু বাচ্চাদের কান্নায় এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ঘাটাইলডটকমকে বলেন, ভূমিহীনদের ঘর ভেঙ্গে অবমুক্ত করার পর পরই প্রভাবশালীরা লাইসেন্স নিয়ে রাতারাতি দোকান ঘর নির্মান করেছেন।

তৃতীয় দফায় উচ্ছেদ করেন জেলা প্রশাসকের নিযুক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ ঘাটাইলডটকমকে বলেন, ওখানে কোন উচ্ছেদ অভিযান চালাইনি এমনকি কোন ঘটনাও ঘটেনি। তাহলে মামলা করলেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মামলা করিনি। মামলা করেছে তহশিলদার। এ নিয়ে কোন প্রকার লেখা লেখি করলে প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকী দেন।

জানতে চাইলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবি ও সরকারী কৌশলী এ্যডভোকেট এস আকবর খান ঘাটাইলডটকমকে বলেন, যে কোন উচ্ছেদ করতে গেলে আদালতের অনুমতি লাগবে। আর যাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে তাদেরকে আগেই নোটিশ করতে হবে, কোন ঘরবাড়ি স্থাপনা থাকলে তা সরিয়ে নেয়ার জন্য।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷