সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮

শহীদ তিতুমীরের ১৮৭ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করি

ইংরজদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা এক যোদ্ধা বীর তিতুমীর। তার আসল নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর। আজ সেই বীর শহীদ তিতুমীরের ১৮৭ তম শাহাদাত বার্ষিকী। সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীরের আজ ১৮৭ তম শাহাদাত বার্ষিকী। তাঁর মৃত্যুদিনে রুহের মাগফেরাত কামনা করি। আসুন জেনে নিই তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচয়


তিতুমীরের জন্ম ১৭৮২ সালের ২৭শে জানুয়ারী।উঃ চব্বিশ পরগণা জেলার বশিরহাট মহকুমার অন্তর্গত চাঁদপুর গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মীর হাসান আলী। মায়ের নাম আবেদা রোকাইয়া খাতুন। তিতুমীররা চার ভাই-বোন। তিতুমীরের পড়াশুনার হাতেখড়ি পরিবারে, বাবার কাছে। ১৭৮৬ সালে তিতুমীরের বয়স যখন ৪ বছর তখন বাবা মীর হাসান আলী তাঁর হাতে তখতী দিয়ে হাতেখড়ি দেন। হাতেখড়ির পর তিনি গ্রামের ওস্তাদের কাছে উর্দূ, আরবী, ফারসী, বাংলা ভাষা ও ধারাপাত (অংক) শেখেন।

এরপর গ্রামের মাদ্রাসায় তিতুমীর ২ বছর শরীয়তী ও তরীকতী পড়াশুনা করার পর ১৭৯৮ সালে শিক্ষাবিদ হাফিজ নিয়ামত উল্লাহ’র সাথে বিহারে যান। ৬ মাস শিক্ষা সফর শেষে ওস্তাদ-সাগরেদ
মিলে চাঁদপুরের হায়দারপুর গ্রামে ফিরে আসেন।১৮০১ সালে ১৮ বছর বয়সে তিতুমীর কোরানে হাফেজ হন এবং হাদিস বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। সেইসাথে তিনি বাংলা, আরবি ও ফারসি ভাষা, দর্শন ও কাব্যশাস্ত্রে সমান দক্ষতা অর্জন করেন।

তিতুমীর মায়মূনা খাতুনকে বিয়ে করেন। মায়মূনা খাতুন ছিলেন চব্বিশ পরগনার বাদুড়িয়ার অন্তর্গত খালপুর গ্রামের হযরত শাহ সূফী মুহম্মদ রহীম উল্লাহ সিদ্দিকীর মেয়ে।

খুব সম্ভবত ১৮০৮-১৮১০ সালের কোনো এক সময়ে তিনি ভাগ্যন্বেষণে কলকাতা শহরে যান। এখানেও তিনি কুস্তি লড়াইয়ের প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিতেন। তিনি একবার কলকাতায় কুস্তি লড়াইয়ে প্রথম হয়েছিলেন। এরপর থেকে তিতুমীরের নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই কারণে তিনি জমিদার মির্জা গোলাম আম্বিয়ার সুনজরে পড়েন এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেন। তিতুমীর এখানে বসে যুদ্ধ জয়ের সামরিক কৌশল আয়ত্ব করেন। মির্জা গোলাম আম্বিয়া ছিলেন কলকাতার মির্জাপুর এলাকার জমিদার। তিতুমীর যেখানে যেতেন সেখানেই নানা বিষয় শেখার চেষ্টা করতেন ফলে কর্মজীবনে তিনি কোথাও স্থায়ী হতে পারেনি।

তিনি ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর শহীদ হন উইলিয়াম বেন্টিং এর নেতৃত্তাধীন সৈন্যদের গোলার আঘাতে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷