শুক্রবার, আগস্ট ২৬, ২০১৬

ঘাটাইলে জঙ্গিবাদের প্রতিবাদে উদীচীর মানববন্ধন

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল), ২৬ আগস্ট : সারা দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার সকালে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী ঘাটাইল শাখা। ‘আর নয় বিবৃতি, জঙ্গীবাদ রুখবে সংস্কৃতি’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এ মাবনবন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল পৌর সভার নবনির্বাচিত মেয়র মোঃ শহীদুজ্জামান খান (ভিপি শহীদ), খেরাঘর আসরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ড. আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোখলেছুর রহমান, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী টাঙ্গাইল জেলা শাখার সহ-সভাপতি খন্দক্র মোঃ মনিরুজ্জামান, ঘাটাইল উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক অধীর চন্দ্র সাহা, সহ-সভাপতি মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হোসেন শহীদ প্রমুখ।

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৫, ২০১৬

ঘাটাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত

ঘাটাইল সংবাদাতা : বুধবার রাত ৮টায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নে হরিপুর নামক স্থানে সুভাষ (৬০) নামে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারী নিহত হয়েছে। তার বাড়ি কর্ণা গ্রামে।  
পুলিশ জানায়, টাঙ্গাইলের  ঘাটাইল উপজেলার ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে হরিপুর নামক স্থানে ময়মনসিংহ অভিমুখী দ্রুতগামী একটি ট্রাক ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-১৯২৬  সুভাষ চন্দ্র (৬০) রাস্তা পার হওয়ার সময় পিছন দিক থেকে চাপা দিলে ঘটনা স্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ট্রাকটি আটক করে থানায় নিয়ে আসে,চালক পলাতক।এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, আমরা ট্রাকটি আটক করেছি এবং এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।

ঘাটাইলে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা : স্বামী আটক

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল), ২৫ আগস্ট,  : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে যৌতুকের কারনে মর্জিনা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের কামারচালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তার স্বামী সাইফুল ইসলাম (৩৫) কে আটক করেছে। এ ব্যাপারে নিহত গৃহবধূর ভাই বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের আমুয়াবাইদ গ্রামের নুর হোসেনের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (৩০)। ১২/১৩ বছর পূর্বে কামালরচালা গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৩৫) এর সাথে মর্জিনার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে শান্তা(৯) নামে এক কন্যা ও মুহিত(৩) নামে এক ছেলে আছে। সম্প্রতি সাইফুল স্ত্রী মজির্নাকে বাবার বাড়ি থেকে একলক্ষ টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ দেয়। এ নিয়ে ২৪ আগষ্ট বুধবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়।
এ সময় স্ত্রী মজির্না বাড়িতে রান্নার কাজ করছিলেন। ঝগড়ার এক পর্যায়ে সাইফুল তার স্ত্রী মর্জিনাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং বেধরক মারপিট করে। এ সময় গৃহবধূ মর্জিনা মাটিতে লুটিয়ে পরে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং লাশ ময়না তদন্তের জন্য গতকাল বৃহস্প্রতিবার সকালে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে গৃহবধূর ভাই মুন্নাফ বাদী হয়ে চার জনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত কাজ চলছে।  গৃহবধূর স্বামীকে আটক করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট না আসা পর্যন্ত হত্যাকান্ড সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না।

বুধবার, আগস্ট ২৪, ২০১৬

ঘাটাইলে প্রধান শিক্ষক বিরুদ্ধে মানববন্ধন

মোঃ সবুজ সরকার সৌরভ ঘাটাইল
টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলা সাগরদিঘী উচ্চবিদ্যালয় প্রাধান শিক্ষক হুমায়ুন খালিদ এর বিরুদ্ধে মানব বন্ধন করেছে অভিভাবক,এলাকাবাসি।দু­র্নীতি, সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে প্রধান শিক্ষক এর অপসারন দাবীতে এ মানববন্ধন করা হয় । আজ দুপুর ১২ টায় সাগরদিঘী উচ্চবিদ্যালয় প্রধান ফটক এর সামনে এক ঘন্টা ব্যাপি মানববন্ধন করা হয় । মানব বন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে প্রাধান শিক্ষক কে অপসারন করে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহবান জানানো হয় ।

ভূমিহীনদের জমি ঘিরে অনেক প্রশ্নের জবাব মিলছেনা

রবিউল আলম বাদল ঘাটাইল  ঃ 
ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্র ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে দখল মুক্ত করতে ভূমি অফিসের সম্পৃক্ততা নিয়ে রহস্যের জট খুলছেনা। ভূক্তভোগীরা আবেদন করলে সে আবেদন কেন ফাইল বন্দি হয়ে থাকে তার স্পষ্ট জবাব মিলছেনা। ১০বছর আগে ভূমিহীনদের নামে জমি বরাদ্দ দিলেও শুরু থেকেই চলছে নাটকীয়তা। সারাদেশে অবৈধ দখলদারদের হাত থকে খাসজমি উদ্ধারের জন্য ১৩ মাস আগে ভূমি মন্ত্রনালয় আদেশ দিলেও ঘাটাইল ভূমি অফিস সে আদেশ কেন চালু করেন না তারও সদুত্তর মিলছেনা। স্থানীয় এমপি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার লিখিত আদেশ একজন তহশীলদার কিভাবে ফাইলবন্ধী করে রাখে এ প্রশ্নের জবাব নেই। এসিল্যান্ড প্রভাংশু সোমমহান ৮ মাস আগে ঘাটাইল ভূমি অফিসে যোগদান করে জোর দাবী করে প্রতিবেদককে বলেছিলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত করে রিপোর্ট দিন, দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব। দখলদারদের সকল বিষয় পত্রিকার মাধ্যমে তাকে অবগত করলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না সে বিষয়ে তিনি কিছুই বলছে না। জুলাই মাসের ১৭ তারিখে ই্উএনও আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহীন ভূক্তভোগী ১৪ জনের সকল কাগজপত্র জমা নিয়ে আসস্ত করে বলেছিলেন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। এ বিষয়ে ১ মাস পর তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ভূক্ত ভোগীদের সাথে কথা বলতে হবে। ভূক্তভোগী আইয়ুব আলী দাবী করে বলেন, কয়েক দফায় ইউএনও এবং এ্যাসিল্যান্ড স্যারের কাছে গিয়েছি। তারা একেক সময় একেক কথা বলে বিদায় করে দেন। তিনি আরও বলেন এসিল্যান্ড স্যারকে সবকিছু বুঝিয়ে বললে তিনি বলেন, আপনাদের কাজের সকল কাগজপত্র সার্ভেয়ার সেলিম রেজাকে বুঝিয়ে দিয়েছি সেই সব ব্যবস্থা করা দিবে। সার্ভেয়ার সেলিম রেজার নিকট গেলে তিনি বলেন আমি নতুন যোগদান করেছি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা বলে বাবারকে দেখিয়ে দেন। চেইনম্যান বাবরের নিকট গেলে তিনি বলেন এখন আমার আর করার কিছু নাই। চেইনম্যান বাবর আলীর আঙুলের তুরি মারার কথা পিছনে কি কারন তার হিসাব মিলছেনা। 

ভূক্তভোগীরা ভূমি অফিসের নয় ছয়ের বিবরন ইউ.এনও মহোদয়কে বললে তিনি বলেন  নতুন করে আবেদন করতে হবে। অথচ এসিল্যান্ড অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর কয়েক দফায় আবেদন করা হয়েছে। জমির সকল কাগজপত্র তার নিকট জমা দেয়া হয়েছে। এর পরেও পুনরায় কেন আবেদনের প্রয়োজন হয় এমন অনেক প্রশ্নের জবাব নাই। 

সন্ধানপুর ইউনিয়নে ১৬ জন ভূমিহীন পরিবার ২০০৭ সালে খাস জমি বরাদ্দ পায়। বরাদ্দের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও দখলদারদের বিরুদ্ধে ভূমি অফিস কেন ব্যবস্থা নেন নাই এমন অনেক প্রশ্নের জবাব মিলছে না। তৃণমূলে সমাজের সবচাইতে অবহেলিত ভূমিহীন পরিবার যাদের কথা বিবেচনা করে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভূমিহীনদের পুনঃবাসন করে আসছে। একই সঙ্গে তাদের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ভূমিহীনদের নামে খাস জমি বরাদ্দ দিয়ে আসছেন। প্রধানমন্ত্রির সেই পুনঃবাসন প্রক্রিয়াকে কলুষিত করতে যারা বছরের পর বছর অবহেলিত পরিবারকে হয়রানি করে ভোগান্তির শেষ ধাপে পৌছে দেয়-প্রকৃত পক্ষে তাদের উদ্দেশ্যে কি হতে পারে এমন অনেক প্রশ্নের জবাব মিলছে না। ভূমিহীনদের জমি ঘিরে এমন হাজারো প্রশ্নের উত্তর অজানাই রয়ে যাচ্ছে ।     

সোমবার, আগস্ট ২২, ২০১৬

প্রাণঢালা অভিনন্দন

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   গতকাল টাঙ্গাইলের ঘাটাইল জি.বি.জি. বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ জাতীয়করনের তালিকা ভূক্ত করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কে ঘাটাইলবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শামসুল আলম মণি, অধ্যাপক মজিবুর রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সাবেক মেয়র হাসান আলী, বিশিষ্ট লেখক গবেষক সাংবাদিক জুলফিকার হায়দার, নবনির্বচিত ঘাটাইল পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান শহীদ, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মিয়া, ঘাটাইল প্রেসকাবের সভাপতি খান ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মিয়া প্রমুখ। 

রবিবার, আগস্ট ২১, ২০১৬

ভিন্নমাত্রার দৈনিক ‘খোলা কাগজ’ ও আশাবাদের কথামালা শায়ির খানদানী

সূর্যকে যেভাবে অস্বীকার করা যায় না, আজকের পৃথিবীতে তেমনি সংবাদপত্রকে অস্বীকার করা চলে না। সূর্য ছাড়া যেভাবে জীবন অচল, তেমনি সংবাদপত্র ছাড়া সভ্য পৃথিবীর অগ্রযাত্রাও অচল হতে বাধ্য। সূর্য যেভাবে গোটা পৃথিবীকে পরিব্যাপ্ত করে নেয় আপন আলোয়, তেমনি সংবাদপত্রও নিজের বলয়কে ছায়াচ্ছন্ন করে রেখেছে। তামাম পৃথিবী আজ আকর্ষিত, আন্দোলিত ও কল্লোলিত হচ্ছে কোনো না কোনো সংবাদের প্রভাবে। পৃথিবীকে আজ শাসন করছে কোন শক্তি? এ প্রশ্নের জবাব অনেকেই অনেকভাবে দিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতার গভীরে গেলে স্বীকার করতে হয় যে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুনিয়া শাসন করছে যে শক্তি, তার নাম সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যম।
সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যম শাসন করবে তামাম পৃথিবীকে- এ স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিলো বিংশ শতাব্দীর গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের। উইলবার শ্রাম, ডেভিট কে বার্লো, শ্যানন উয়েভার, মার্শাল ম্যাকলুহান প্রমুখ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সংবাদমাধ্যমের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যে সকল গবেষণা করে গেছেন, সে সব গবেষণায় উঠে আসা ভবিষ্যৎবাণীর সার্থক প্রতিফলনই ঘটছে মূলত আজকের বিশ্বে। অতএব আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রে সংবাদপত্র অপরিহার্য। সেখানে এমন এক পরিবেশ থাকবে, যাতে সাংবাদিকরা তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে পেশাদারিত্ব চালিয়ে যেতে পারেন। রাষ্ট্র, গোষ্ঠী, কায়েমি শক্তি বা কোনো হীনস্বার্থের আক্রমণ কিংবা চোখ রাঙানি এ স্বাধীনতাকে পারবে না ব্যাহত করতে। 
সাংবাদিকরা সংবাদপত্রে অনবরত লিখবেন। তবে তা হতে হবে- জনগণের স্বার্থের পক্ষে, দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও প্রগতির পক্ষে, সত্য ও ন্যায়নীতির পক্ষে, মননশীলতার পক্ষে, সমাজ বিকাশ বা সমাজ রূপান্তরের পক্ষে, অর্থনৈতিক সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদের পক্ষে, শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির পক্ষে, গণমানুষের কর্মসংস্থানের পক্ষে, সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতার পক্ষে, রাষ্ট্রের মৌল চেতনা ও আদর্শের পক্ষে, জনমত গঠনের লক্ষ্যে, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে, সভ্যতার অগ্রগতির পক্ষে, মানুষের মৌলিক চাহিদা ও অধিকারের পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের পক্ষে, আইনের শাসনের পক্ষে, সর্বোপরি শুভশক্তির পক্ষে। এ সবের পক্ষে লেখাই হচ্ছে সাংবাদিকতা। এ সবের বিপক্ষে লেখাই হচ্ছে অপসাংবাদিকতা।
অপসাংবাদিকতা যখন কুয়াশায় আচ্ছন্ন করে দেয় মানুষের দৃষ্টি ও চেতনাকে, তখন বিবেকের আহবানে মানবিক দায়িত্বশীলতার নির্দেশে সোচ্চার হয়ে ওঠে সত্যিকার সাংবাদিকতা। সত্য এবং তথ্যকে অবলম্বন করে সেই সাংবাদিকতা বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে সৃষ্টি সুখের জয়োল্লাসে হয় নিমগ্ন। স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংবাদপত্র যখন সত্যকে উদ্ভাসিত করে, তখন জীবনের আকাশ থেকে পালাতে থাকে অন্ধকার। তখন তাতে জীবনের নিঃশ্বাস, ঘাম, রক্ত, যন্ত্রণা ও সংগ্রাম বাক্সময় হয়ে ওঠে। তখন ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও সমাজের দৃষ্টি হয় পরিচ্ছন্ন। পরিচ্ছন্ন আয়নায় তখন জীবনের স্বরূপকে আবিষ্কার করা যায়। 
সংবাদপত্র যখন একটি জাতির পরিচ্ছন্ন আয়না হয়ে ওঠে, তখন এরচে বড় সার্থকতা আর হতে পারে না। সেই সার্থকতার আকাশকে স্পর্শ করবে বলেই তো এ দেশের সব ক’টি গণমাধ্যমের আত্মপ্রকাশ। ভিন্নমাত্রার দৈনিক ‘খোলা কাগজ’ও এর বিপরীতে নয়। আদর্শের এ দিক থেকে অন্য যে কোনো দশটি দৈনিকের চে পত্রিকাটি পিছিয়ে তো নয়ই বরং এগিয়ে আছে বহুভাবে। লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের পুণ্যবৃষ্টিতে সিক্ত এ দেশের উর্বর মাটিতে শিল্প, সাহিত্য, মননচর্চা ও সৃজনশীলতার নদী চিরকালই দ্রুত গতিতে বহমান। প্রাকৃতিক সজীবতার অনন্য এ উদ্যানে বৈষয়িক সমৃদ্ধির সুবাতাস যেমন বয়ে চলছে নিজস্ব গতিতে, ঠিক তেমনি সৃজনশীল জীবনসংগ্রামে মুখরিত এ মানচিত্র থেকে শিল্প, সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় গৌরবময় কৃতিত্বের সুগন্ধি দশদিকে ছড়িছে এ জনপদ। অতীতের সেই ধারাবাহিকতায় আজও এখানে শিল্প-সাংবাদিকতার সুনিপুণ চাষাবাদ অব্যাহত। সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠতার কিছু চাষি বাঙালির আত্মার শব্দাবলিকে কালের জমিনে জীবন্ত করে তুলতে অবিশ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন কলম সাধনা। সেই সাধনার প্রাণশক্তি কী? সন্দেহ নেই মানুষ ও মাতৃভূমির প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা, দায়িত্ববোধের তাগিদ আর গৌরবময় ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বুকে ধারণ করার সততা ও ঐকান্তিকতা নিয়েই তো ‘খোলা কাগজ’-এর অভ্যুদয় হয়েছিলো বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে। আজ থেকে সতেরো বছর পূর্বে পত্রিকাটি যাত্রা শুরু করলেও গরিয়ান ঐতিহ্যের ধারক এ দেশের সাংবাদিকতা একুশ শতকের ক্যানভাসে যে উজ্জ্বল অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, ‘খোলা কাগজ’ সেখানে নাক্ষত্রিক সংযোজন হিসেবে সত্য, তথ্য ও বস্তুনিষ্ঠতাকে পুঁজি করে সংবাদপত্র জগতে দৃষ্টান্ত স্থাপন শেষে নিরন্তর এগিয়ে যাবে- এমন আশা করতেই পারেন দেশের সব প্রগতিশীল বিবেক। 
বর্তমানে বহু সংবাদপত্র সাংবাদিকতার নামে ভদ্রতার খোলসে কল্পনাপ্রসূত, মিথ্যা, বানোয়াট, অবাস্তব, অদ্ভুত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে সাংবাদিকতা পেশাকে কলুষিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ‘খোলা কাগজ’ তার বিপরীতে দায়িত্বশীলতা, সত্যনিষ্ঠতা, দেশপ্রেম ও মানবিকতার পতাকাকে সমুন্নত করবে- এ প্রত্যাশা অমূলক নয় মোটেও।

ভিন্নমাত্রার দৈনিক ‘খোলা কাগজ’ ও আশাবাদের কথামালা শায়ির খানদানী

সূর্যকে যেভাবে অস্বীকার করা যায় না, আজকের পৃথিবীতে তেমনি সংবাদপত্রকে অস্বীকার করা চলে না। সূর্য ছাড়া যেভাবে জীবন অচল, তেমনি সংবাদপত্র ছাড়া সভ্য পৃথিবীর অগ্রযাত্রাও অচল হতে বাধ্য। সূর্য যেভাবে গোটা পৃথিবীকে পরিব্যাপ্ত করে নেয় আপন আলোয়, তেমনি সংবাদপত্রও নিজের বলয়কে ছায়াচ্ছন্ন করে রেখেছে। তামাম পৃথিবী আজ আকর্ষিত, আন্দোলিত ও কল্লোলিত হচ্ছে কোনো না কোনো সংবাদের প্রভাবে। পৃথিবীকে আজ শাসন করছে কোন শক্তি? এ প্রশ্নের জবাব অনেকেই অনেকভাবে দিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতার গভীরে গেলে স্বীকার করতে হয় যে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুনিয়া শাসন করছে যে শক্তি, তার নাম সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যম।
সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যম শাসন করবে তামাম পৃথিবীকে- এ স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিলো বিংশ শতাব্দীর গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের। উইলবার শ্রাম, ডেভিট কে বার্লো, শ্যানন উয়েভার, মার্শাল ম্যাকলুহান প্রমুখ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সংবাদমাধ্যমের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যে সকল গবেষণা করে গেছেন, সে সব গবেষণায় উঠে আসা ভবিষ্যৎবাণীর সার্থক প্রতিফলনই ঘটছে মূলত আজকের বিশ্বে। অতএব আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রে সংবাদপত্র অপরিহার্য। সেখানে এমন এক পরিবেশ থাকবে, যাতে সাংবাদিকরা তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে পেশাদারিত্ব চালিয়ে যেতে পারেন। রাষ্ট্র, গোষ্ঠী, কায়েমি শক্তি বা কোনো হীনস্বার্থের আক্রমণ কিংবা চোখ রাঙানি এ স্বাধীনতাকে পারবে না ব্যাহত করতে। 
সাংবাদিকরা সংবাদপত্রে অনবরত লিখবেন। তবে তা হতে হবে- জনগণের স্বার্থের পক্ষে, দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও প্রগতির পক্ষে, সত্য ও ন্যায়নীতির পক্ষে, মননশীলতার পক্ষে, সমাজ বিকাশ বা সমাজ রূপান্তরের পক্ষে, অর্থনৈতিক সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদের পক্ষে, শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির পক্ষে, গণমানুষের কর্মসংস্থানের পক্ষে, সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতার পক্ষে, রাষ্ট্রের মৌল চেতনা ও আদর্শের পক্ষে, জনমত গঠনের লক্ষ্যে, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে, সভ্যতার অগ্রগতির পক্ষে, মানুষের মৌলিক চাহিদা ও অধিকারের পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের পক্ষে, আইনের শাসনের পক্ষে, সর্বোপরি শুভশক্তির পক্ষে। এ সবের পক্ষে লেখাই হচ্ছে সাংবাদিকতা। এ সবের বিপক্ষে লেখাই হচ্ছে অপসাংবাদিকতা।
অপসাংবাদিকতা যখন কুয়াশায় আচ্ছন্ন করে দেয় মানুষের দৃষ্টি ও চেতনাকে, তখন বিবেকের আহবানে মানবিক দায়িত্বশীলতার নির্দেশে সোচ্চার হয়ে ওঠে সত্যিকার সাংবাদিকতা। সত্য এবং তথ্যকে অবলম্বন করে সেই সাংবাদিকতা বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে সৃষ্টি সুখের জয়োল্লাসে হয় নিমগ্ন। স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংবাদপত্র যখন সত্যকে উদ্ভাসিত করে, তখন জীবনের আকাশ থেকে পালাতে থাকে অন্ধকার। তখন তাতে জীবনের নিঃশ্বাস, ঘাম, রক্ত, যন্ত্রণা ও সংগ্রাম বাক্সময় হয়ে ওঠে। তখন ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও সমাজের দৃষ্টি হয় পরিচ্ছন্ন। পরিচ্ছন্ন আয়নায় তখন জীবনের স্বরূপকে আবিষ্কার করা যায়। 
সংবাদপত্র যখন একটি জাতির পরিচ্ছন্ন আয়না হয়ে ওঠে, তখন এরচে বড় সার্থকতা আর হতে পারে না। সেই সার্থকতার আকাশকে স্পর্শ করবে বলেই তো এ দেশের সব ক’টি গণমাধ্যমের আত্মপ্রকাশ। ভিন্নমাত্রার দৈনিক ‘খোলা কাগজ’ও এর বিপরীতে নয়। আদর্শের এ দিক থেকে অন্য যে কোনো দশটি দৈনিকের চে পত্রিকাটি পিছিয়ে তো নয়ই বরং এগিয়ে আছে বহুভাবে। লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের পুণ্যবৃষ্টিতে সিক্ত এ দেশের উর্বর মাটিতে শিল্প, সাহিত্য, মননচর্চা ও সৃজনশীলতার নদী চিরকালই দ্রুত গতিতে বহমান। প্রাকৃতিক সজীবতার অনন্য এ উদ্যানে বৈষয়িক সমৃদ্ধির সুবাতাস যেমন বয়ে চলছে নিজস্ব গতিতে, ঠিক তেমনি সৃজনশীল জীবনসংগ্রামে মুখরিত এ মানচিত্র থেকে শিল্প, সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় গৌরবময় কৃতিত্বের সুগন্ধি দশদিকে ছড়িছে এ জনপদ। অতীতের সেই ধারাবাহিকতায় আজও এখানে শিল্প-সাংবাদিকতার সুনিপুণ চাষাবাদ অব্যাহত। সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠতার কিছু চাষি বাঙালির আত্মার শব্দাবলিকে কালের জমিনে জীবন্ত করে তুলতে অবিশ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন কলম সাধনা। সেই সাধনার প্রাণশক্তি কী? সন্দেহ নেই মানুষ ও মাতৃভূমির প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা, দায়িত্ববোধের তাগিদ আর গৌরবময় ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বুকে ধারণ করার সততা ও ঐকান্তিকতা নিয়েই তো ‘খোলা কাগজ’-এর অভ্যুদয় হয়েছিলো বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে। আজ থেকে সতেরো বছর পূর্বে পত্রিকাটি যাত্রা শুরু করলেও গরিয়ান ঐতিহ্যের ধারক এ দেশের সাংবাদিকতা একুশ শতকের ক্যানভাসে যে উজ্জ্বল অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, ‘খোলা কাগজ’ সেখানে নাক্ষত্রিক সংযোজন হিসেবে সত্য, তথ্য ও বস্তুনিষ্ঠতাকে পুঁজি করে সংবাদপত্র জগতে দৃষ্টান্ত স্থাপন শেষে নিরন্তর এগিয়ে যাবে- এমন আশা করতেই পারেন দেশের সব প্রগতিশীল বিবেক। 
বর্তমানে বহু সংবাদপত্র সাংবাদিকতার নামে ভদ্রতার খোলসে কল্পনাপ্রসূত, মিথ্যা, বানোয়াট, অবাস্তব, অদ্ভুত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে সাংবাদিকতা পেশাকে কলুষিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ‘খোলা কাগজ’ তার বিপরীতে দায়িত্বশীলতা, সত্যনিষ্ঠতা, দেশপ্রেম ও মানবিকতার পতাকাকে সমুন্নত করবে- এ প্রত্যাশা অমূলক নয় মোটেও।

শনিবার, আগস্ট ২০, ২০১৬

সাংঘাতিক ও সাংবাদিক হওয়ার অনুভূতি

২০০৯ সালের কথা। প্রথমবারের মত একজন সাংবাদিক দেখেছিলাম, তখন দেখেছি তাঁকে মানুষ অনেক সম্মান করছে। সে সম্মান দেখে লোভ আর সামলাতে পারলাম না। শুরু করলাম সাংবাদিক হওয়ার যুদ্ধ। ঠিক অদ্ভুত একটা নেশা কাজ করেছিল আমার মধ্য।নেশার টানে শুধু সাংবাদিক হওয়ার পিছনে ছুটলাম। অনেক কিছু ভাবতে গিয়ে মনে প্রশ্ন আসে, আমি যা জানি ও বুঝি তাতে কি আমি সাংবাদিক হতে পারবো? আসলে তখনও জানতাম না আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মফস্বল সাংবাদিক হতে হলে কোন যোগ্যতা এমনকি এসএসসি পাসেরও দরকার হয় না। হঠাৎ একদিন চাকরির খবর পত্রিকায় দেখলাম মাসিক বিশ্ববার্তা নামের একটি পত্রিকায় প্রতিটি জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। কি আর করা মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! জীবনের বিস্তারিত লিখে এক খানা পত্র পাঠালাম। গুনে গুনে ছয় দিন পরেই আমার নামে ডাকযোগে একটি চিঠি চলে এল। অনুভুতিটা বোঝাতে পারবো কিনা জানি না। জীবনের প্রথম আমার নামে কেউ চিঠি পাঠালো, তাও আবার সাংবাদিক হওয়ার চিঠি। চিঠিটা ফ্রি পেলাম। খামের ভিতরের চিঠিটা পড়ে জানলাম আমার জন্য পরিচয় পত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া একই খামে সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ বিষয়ে একটি বই পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বইটি পেতে হলে ৫৮০ টাকা পাঠাতে হবে তাদের কাছে। নইলে বইটি আবার ফেরত যাবে আর পরিচয় পত্র যাবে ভেস্তে। সাথে সাথে টাকা দিয়ে বইটি আমার করে নিলাম, আর অপেক্ষা করতে শুরু করলাম কবে পাবো পরিচয় পত্র। নিজেকে কখন মনে করবো আমি একজন সাংবাদিক। ঠিক আট দিন পর পরিচয় পত্র পেলাম। তখন কি যে আনন্দ, সব কিছু যেন আমার মনে হচ্ছে। সকল ক্ষমতা যেন বলে উঠলো তারা শুধুই আমার, আর কারো নয়। ঘুমাতে গেলে, খেতে গেলে, ঘুরতে গেলে, সব

জায়গাতেই বসে এক নজর দেখতে থাকি পরিচয় পত্রটি। এবারতো সাংবাদিক হলাম। এর মধ্যে কেটে গেলো এক বছর। অবাকও হলাম কোন দিন সংবাদ পাঠাতেও বলেনি তাঁরা। তবে সংবাদ না পাঠানোর ফলে একদিকে ভালই ছিলাম। এবার আবার সখ হলো দৈনিক পত্রিকার বড় সাংবাদিক হবো। কিন্তু বড় সাংবাদিক হতে হলে সংবাদ লিখতে হয়। অনেক কিছু জানতে হয়। এবার মিশতে শুরু করলাম জেলার অন্যান্য সাংবাদিকদের সাথে। তাঁদের সাথে মিশে বিপদ যেন বেড়েই চলছে। তাঁদের সাথে মিশে সাংবাদিকতা বিষয়ে যতো জানছি আমার ক্ষমতাও যেন ততো কমে আসছে। ঠিক তার কয়েকদিন আগেই ইউপি নির্বাচনে আমার পরিচয় পত্রটি পকেটে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে ঢুকে পড়লাম। সেদিন ভাগ্য ভাল ছিল কোন ম্যাজিস্ট্রেট আমার সামনে পড়েনি। পড়লে হয়তো সাংবাদিক হওয়ার

মজাটা হাড়ে হাড়ে টের পেতাম। কিন্তু পরে জানলাম সাংবাদিকতার পরিচয় পত্র দিয়ে নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করা যায় না, তার সাথে আরো কিছু লাগে। প্রথমেই বলছিলাম আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মফস্বল সাংবাদিক হতে এসএসসি পাসেরও দরকার হয় না।
আসলে সাংবাদিকতা কি তা একটু আধটু জেনে ও বুঝে মানলাম আমি সাংবাদিক হতে পারিনি, সাংবাদিক জাতির জন্য আমি একটা সাংঘাতিক বিপদ তৈরি হয়েছি। জেলার অনেক সাংবাদিকদের সাথে মিশে আরো একটু জানলাম এ দলে শুধু আমি একা না আমার
দলে অনেক সদস্য আছে। যাঁদের মধ্যে অনেকেই আবার ফকিরাপুল সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। কেউ না বুঝে থাকলে বুঝিয়ে বলছি,
ফকিরাপুল সাংবাদিক কাকে বলে। তার আগে জেনে নিই ফকিরাপুল সাংবাদিকদের আয় বাণিজ্যের কথা। তাঁরা যে কোন কাজে গেলে বেশ কয়েকজনকে সাথে নিয়ে যান। যে কোন সমস্যা সমাধান করতে দিন মজুরদের মত তাঁরা মানুষ চুক্তিতে নিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে বাল্য বিয়ে বন্ধ করতেও তাঁরা ছুটে যান ঘটনাস্থলে। পরে জানতে পারলাম সেখানেও নাকি তাদের বাণিজ্য আছে। যাই হোক এ সব সাংবাদিকদেরও বা দোষ কি বলেন, তাঁদের অনেকের অফিসেও নাকি এ আয়ের কিছু অংশ দিতে হয়। নইলে সাংবাদিকতার লাইসেন্স
থাকে না! এবার জানবো ফকিরাপুল সাংবাদিক: যাঁরা রাজধানী ঢাকার পল্টন ফকিরাপুল গেছেন তাঁদের হয়ত অনেকেই দেখেছেন, অলি-গলির মধ্যে শত শত পত্রিকার বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়। আমিও গেছিলাম সেখানে, দেখেই বুঝে ফেলেছি এই বাণিজ্যই


তাহলে চলছে আমার জেলায়। কিন্তু ওই সব পত্রিকার অফিসে কখনো উঠিনি বিধায় সেখানের কার্যক্রম সম্পর্কে বলতে পারছি না। তবে শুনেছি মানিব্যাগ নিয়ে সেখানে উঠলেই নাকি সাংবাদিক হওয়া যায়। দুঃখের বিষয় হলো এখন ২০১৬ সাল। এখনো পরিবর্তন হয়নি মফস্বল সাংবাদিকদের চরিত্র। পরিবর্তন হয়নি ফকিরাপুল সহ বহু আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা কর্তৃপক্ষের। যদি মফস্বল সাংবাদিকদের বেতন ভাতাই দিতে না পারেন তবে পত্রিকা বন্ধ করে দেন না কেন?। যদি চান্দাবাজি আর ধান্দাবাজি করে জীবনটা চালাতে হয়

তবে এ পেশায় আসবেনই বা কেন? লেখাটি পড়ার পর কেউ কেউ হয়তো আমার প্রতি রাগ করবেন, হয়তো কেউ আবার গালিও দিবেন। তাঁদের কাছ থেকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে ইচ্ছে করছে, এত পেশা থাকতে সাংবাদিক হতে এলেন কেন? যদি এসেই পড়েছেন, তবে কেনই বা ব্যবহার হচ্ছেন ওই সব আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা কর্তৃপক্ষের হাতে? আসলে এ সবকিছুর মূলে দোষটা কার? উত্তরগুলো পাওয়ার আশায় রইলাম। আর অপেক্ষায় রইলাম, এমন একদিন আসবে যেদিন মফস্বল সাংবাদিকরা তাঁদের ন্যায্য
পাওনা বুঝে নিবে আর ওইসব আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মৃত্যু ঘটবে।
লেখক: মোঃ খায়রুল ইসলাম

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
দৈনিক খোলা কাগজ

ই-মেইল: khyrulislam2@gmail.com

ধর্ষণ: নাবালককে সাবালক ধরে বিচার