বুধবার, আগস্ট ২৪, ২০১৬

ভূমিহীনদের জমি ঘিরে অনেক প্রশ্নের জবাব মিলছেনা

রবিউল আলম বাদল ঘাটাইল  ঃ 
ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্র ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে দখল মুক্ত করতে ভূমি অফিসের সম্পৃক্ততা নিয়ে রহস্যের জট খুলছেনা। ভূক্তভোগীরা আবেদন করলে সে আবেদন কেন ফাইল বন্দি হয়ে থাকে তার স্পষ্ট জবাব মিলছেনা। ১০বছর আগে ভূমিহীনদের নামে জমি বরাদ্দ দিলেও শুরু থেকেই চলছে নাটকীয়তা। সারাদেশে অবৈধ দখলদারদের হাত থকে খাসজমি উদ্ধারের জন্য ১৩ মাস আগে ভূমি মন্ত্রনালয় আদেশ দিলেও ঘাটাইল ভূমি অফিস সে আদেশ কেন চালু করেন না তারও সদুত্তর মিলছেনা। স্থানীয় এমপি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার লিখিত আদেশ একজন তহশীলদার কিভাবে ফাইলবন্ধী করে রাখে এ প্রশ্নের জবাব নেই। এসিল্যান্ড প্রভাংশু সোমমহান ৮ মাস আগে ঘাটাইল ভূমি অফিসে যোগদান করে জোর দাবী করে প্রতিবেদককে বলেছিলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত করে রিপোর্ট দিন, দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব। দখলদারদের সকল বিষয় পত্রিকার মাধ্যমে তাকে অবগত করলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না সে বিষয়ে তিনি কিছুই বলছে না। জুলাই মাসের ১৭ তারিখে ই্উএনও আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহীন ভূক্তভোগী ১৪ জনের সকল কাগজপত্র জমা নিয়ে আসস্ত করে বলেছিলেন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। এ বিষয়ে ১ মাস পর তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ভূক্ত ভোগীদের সাথে কথা বলতে হবে। ভূক্তভোগী আইয়ুব আলী দাবী করে বলেন, কয়েক দফায় ইউএনও এবং এ্যাসিল্যান্ড স্যারের কাছে গিয়েছি। তারা একেক সময় একেক কথা বলে বিদায় করে দেন। তিনি আরও বলেন এসিল্যান্ড স্যারকে সবকিছু বুঝিয়ে বললে তিনি বলেন, আপনাদের কাজের সকল কাগজপত্র সার্ভেয়ার সেলিম রেজাকে বুঝিয়ে দিয়েছি সেই সব ব্যবস্থা করা দিবে। সার্ভেয়ার সেলিম রেজার নিকট গেলে তিনি বলেন আমি নতুন যোগদান করেছি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা বলে বাবারকে দেখিয়ে দেন। চেইনম্যান বাবরের নিকট গেলে তিনি বলেন এখন আমার আর করার কিছু নাই। চেইনম্যান বাবর আলীর আঙুলের তুরি মারার কথা পিছনে কি কারন তার হিসাব মিলছেনা। 

ভূক্তভোগীরা ভূমি অফিসের নয় ছয়ের বিবরন ইউ.এনও মহোদয়কে বললে তিনি বলেন  নতুন করে আবেদন করতে হবে। অথচ এসিল্যান্ড অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর কয়েক দফায় আবেদন করা হয়েছে। জমির সকল কাগজপত্র তার নিকট জমা দেয়া হয়েছে। এর পরেও পুনরায় কেন আবেদনের প্রয়োজন হয় এমন অনেক প্রশ্নের জবাব নাই। 

সন্ধানপুর ইউনিয়নে ১৬ জন ভূমিহীন পরিবার ২০০৭ সালে খাস জমি বরাদ্দ পায়। বরাদ্দের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও দখলদারদের বিরুদ্ধে ভূমি অফিস কেন ব্যবস্থা নেন নাই এমন অনেক প্রশ্নের জবাব মিলছে না। তৃণমূলে সমাজের সবচাইতে অবহেলিত ভূমিহীন পরিবার যাদের কথা বিবেচনা করে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভূমিহীনদের পুনঃবাসন করে আসছে। একই সঙ্গে তাদের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ভূমিহীনদের নামে খাস জমি বরাদ্দ দিয়ে আসছেন। প্রধানমন্ত্রির সেই পুনঃবাসন প্রক্রিয়াকে কলুষিত করতে যারা বছরের পর বছর অবহেলিত পরিবারকে হয়রানি করে ভোগান্তির শেষ ধাপে পৌছে দেয়-প্রকৃত পক্ষে তাদের উদ্দেশ্যে কি হতে পারে এমন অনেক প্রশ্নের জবাব মিলছে না। ভূমিহীনদের জমি ঘিরে এমন হাজারো প্রশ্নের উত্তর অজানাই রয়ে যাচ্ছে ।     

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷