মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯

ঘাটাইলে ‘হামিদপুর আমাদের বাংলা যুব সংঘ’র উদ্যোগে ওয়াজ মাহফিল

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ‘হামিদপুর আমাদের বাংলা যুব সংঘ’র উদ্যোগে প্রথম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার হামিদপুর ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গনে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

হাফেজ হযরত মাওলানা আব্দুস সালাম সাহেবের সভাপতিত্বে মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে ওয়াজ করেন হযরত মাওলানা মুফতি সাইফুল ইসলাম (সুনামগঞ্জ)। এ সময় বিশেষ বক্তা হিসেবে ওয়াজ করেন, হযরত মাওলানা মুফতি মইনুল ইসলাম (সিরাজগজ্ঞ), হযরত মাওলানা মো. তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন, ঘাটাইল উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুল ইসলাম জনি প্রমুখ।

অভিযানের সুফল, মাপ সঠিক হচ্ছে ইটভাটায়

পরিমাপে কারচুপি করে ভোক্তা ঠকানো ইটভাটা মালিকদের নিয়মিত কাজ। এ অপকর্ম বন্ধে মাঠে নামে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। সারাদেশে একযোগে চলে অভিযান। জরিমানার কবলে পড়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠান। বছর না যেতেই এ সুফল আসতে শুরু করেছে। বদলে যাচ্ছে ইটভাটা। সঠিক হচ্ছে পরিমাপ। এর প্রমাণ মিলেছে অধিদফতরের অভিযানে।

সোমবার ঢাকার অদূরে আমিনবাজার এলাকায় ১৪টি ইটভাটায় অভিযান পরিচলনা করা হয়। এ সময় বেশিরভাগ ভাটায় নিয়মনীতি মেনে সঠিক পরিমাপে ইট তৈরির প্রমাণ পায় অধিদফতর। অভিযান পরিচালনা করেন অধিদফতরের ঢাকা জেলা অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল ও ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রজবী নাহার রজনী।


অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল  বলেন, ইটভাটার পরিমাপের কারচুপি বন্ধে গত এক বছর ধরে অভিযান পরিচালনা করছে অধিদফতর। এর সুফল মিলতে শুরু করেছে। সোমবার আমিনবাজারে ১৪টি ইটভাটায় অভিযান পরিচলনা করা হয়। এ সময় ১১টি ভাটায় সঠিক পরিমাপে ইট তৈরি করতে দেখা যায়। এটি ইতিবাচক দিক। কারণ এক বছর আগেও বেশিরভাগ ভাটায় ইট তৈরিতে কারচুপি করছে দেখা যেত। এখন ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে।

তিনি বলেন, ভাটাগুলো নিয়মনীতি মেনে ইট তৈরি করছে। ভোক্তাদের ন্যায্য পরিমাপে ইট দিচ্ছে। এটিই আমাদের সফলতা। এভাবে প্রতিটি সেক্টরে পরিবর্তন প্রয়োজন। পরিবর্তন হচ্ছে। এ রকম সব খাতে পরিবর্তন আসুক এটাই আমারা চাই। ভোক্তার ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই আমাদের কাজ। তাই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সবাই মেনে ব্যবসা করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সোমবারের অভিযানে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটির নামফলকে ত্রুটিসহ কিছু সমস্যা পাওয়া যায়। এসব অভিযোগে তিন প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আগামীতে এসব সমস্যা সংশোধন করা হবে মর্মে- তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে সারাদেশে প্রায় পাঁচ শতাধিক ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রায় দুই কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

ইট তৈরির জন্য পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সঠিক পরিমাপ নির্ধারণ করেছে। সংস্থা‌টির পরিমাপ অনুযায়ী, প্রতিটির ইটের দৈর্ঘ্য ২৪ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ১১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার ও উচ্চতা ৭ সেন্টিমিটার। কিন্ত‌ু প্র‌তিষ্ঠানগু‌লো ইট তৈরি‌তে স‌ঠিক প‌রিমাপে ইট তৈরি না করায় অভিযানে নামে ভোক্তা অধিদফতর।

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

ঘাটাইলে ৩৭ ইটভাটার নাই অনুমোদন, উজার হচ্ছে বন ও গিলে খাচ্ছে ফসলী জমি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় রয়েছে ৬০টির বেশি ইটভাটা, যার মধ্যে ৩৭টি ভাটার নাই অনুমোদন। এর অধিকাংশ ভাটাই গড়ে উঠেছে তিন ফসলী জমিতে।

কৃষি অধিদপ্তরের ছড়পত্রে তিন ফসলী জমি হয়ে হচ্ছে অনাবাদী। আর এজন্য প্রশাসনের উপরের মহলে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মালিক পক্ষ হরহামেশাই স্থাপন করে যাচ্ছে নতুন ইটের ভাটা। ফলে ফসলী জমি ও ইট তৈরির কাজে ব্যবহৃত জমির উপরের অংশের মাটি গিলে খাচ্ছে এসব ভাটা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইলে আবাদি জমির পরিমাণ ৩০ হাজার ১৫০ হেক্টর। বিভিন্ন স্থানে ইটভাটা স্থাপনে চলে গেছে কমপক্ষে ৪০০ একর আবাদি জমি

 উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৬০টি ভাটার মধ্যে ২৩টির অনুমোদন রয়েছে। বাকী ৩৭টি ভাটা ইট পোড়াচ্ছে অনুমোদনহীন এবং অবৈধভাবে। অবৈধ ভাটার কেউ কেউ উচ্চ আদালতে রিট করে বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছে। বৈধ ভাটাগুলোর লাইসেন্সও দেওয়া হয়নি ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলা এমন অনিয়ম পরিনত হয়েছে নিয়মে। নূন্যতম ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না বন ও পরিবেশ বা উপজেলা প্রশাসনকে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, তিন ফসলী জমি, বনের ভেতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এবং আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব ভাটা। ধলাপাড়া ইউনিয়নে বনের ভেতর গড়ে উঠেছে ১০টি, রসুলপুর ইউনিয়নে ১১টি, দেউলাবাড়ী ইউনিয়নে ১০টি, ঘাটাইল সদর ইউনিয়নে দুটি, জামুরিয়া ইউনিয়নে আবাসিক এলাকা, তিন ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন ১৬টি ভাটা রয়েছে।

এ ছাড়া লোকেরপাড়া, আনেহলা, দিগড়, দেওপাড়া ও দিঘলকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দুই ও তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা গড়ে উঠেছে। অথচ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনে বলা আছে, বন বিভাগের তিন কিলোমিটার, বসতভিটা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে, তিন ফসলি জমিতে এবং পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো স্থানে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। ভাটার গ্রাম নামে খ্যাত উপজেলার চানতারা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এক গ্রামেই গড়ে উঠেছে আটটি ভাটা। এ গ্রামের প্রায় সব আবাদি জমিই চলে গেছে ভাটার পেটে। অন্যদিকে ভাটায় মাটির যোগান দিতে যা জমি অবশিষ্ট্য ছিল সেগুলো পরিণত হয়েছে ছোট ছোট ডোবা এবং দিঘীতে। ফসলি জমির পাশাপাশি ভাটার কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাব পরছে ফসলের উপর। ফসলের সাথে নষ্ট হচ্ছে মৌসুমি ফল। উর্বরতা হারাচ্ছে অবশিষ্ট্য থাকা ভূমি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শাহপুর গ্রামের কৃষক বোরো ধান লাগাচ্ছেন সচল ইটভাটা সংলগ্ন জমিতে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘আগের মত জমিতে ফসল হয় না।

ভাটার ধোঁয়ায় ফসলের অনেক ক্ষতি হয়। ভাটায় যেভাবে আবাদি জমির মাটি চলে যাচ্ছে তাতে করে আগামী পাঁচ বছরে আবাদ করার মত কোন জমি থাকবে না। জমির একজন মালিক মাটি বিক্রি করলে সেই জমি থেকে এমনভাবে মাটি কাটা হয় যেন পাশের জমির মালিক বাধ্য হয়ে মাটি বিক্রি করে।’ বেলদহ গ্রামের রানা ব্রিক্স, খিলগাতি গ্রামের এমআরবি ব্রিক্স ও মাকড়াই গ্রামের কেআরবি ব্রিক্স এদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই তবুও চলছে কার্যক্রম। বেলদহ গ্রামের রানা ব্রিক্সটি বন্ধের দাবিতে সম্প্রতি এলাকায় মানববন্ধনও করেছে এলাকাবাসী। ইটভাটা তিনটি স্থাপিত হওয়ায় এলাকার কৃষিজমির ক্ষতিসহ পরিবেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে হবে বলে জানায় এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভাটার মালিক জানান, টাকা দিলেই ইটভাটা করার জন্য কৃষি অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়া যায়। জমি তিন ফসলী না অনাবাদী তা জানা বা দেখার প্রয়োজন হয় না। তিন ফসলি জমিতে ইটভাটার অনুমতি ও জমির উপরিভাগের মাটি ভাটায় চলে যাওয়া প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, ‘ইটভাটার অনুমোদন দেওয়ার বিষয় কৃষি বিভাগের না। কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক আমরা শুধু প্রতিবেদন দাখিল করে থাকি। জমির ওপরিভাগের মাটি যে ভাটায় চলে যাচ্ছে, এর ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়েছি।’

এ বিষয়ে ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা বলেন, ‘অনেকের লাইসেন্স না থাকলেও ইটভাটা বৈধ। কারণ যেহেতু সবাই উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে এবং অনুমতি চেয়ে আবেদন করে ভাটা পরিচালনা করছে।’ ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ বলেন, অবৈধভাবে স্থাপন করা এবং লাইসেন্সবিহীন ভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমতি না থাকায় নতুন স্থাপিত দুটি ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯

ঘাটাইলে প্রশ্ন ফাঁসে প্রধান শিক্ষকের কারাদণ্ড

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগেই কেন্দ্রের বাইরে ফটোষ্ট্যাটের দোকানে মিলল প্রশ্নপত্র। এ ঘটনায় কোচিং সেন্টারের মালিক, সাগরদীঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়টির ঝাড়ুদারকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আল মামুন। শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গণিত পরীক্ষার দিনে উপজেলার সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃত সাজাপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- উপজেলার সাগরদিঘী গ্রামের সঞ্জিত সাহার ছেলে কোচিং মাষ্টার শ্যামল বাবু (৪৫), সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হুমায়ূন খালিদ ভূইয়া ও বিদ্যালয়টির ঝাড়ুদার আব্দুর রহমান (৫৫)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইল জেলা থেকে পরীক্ষা পরিদর্শনে আসা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আল মামুন কেন্দ্রের পাশে রাকিব লাইব্রেরী থেকে প্রশ্নপত্রসহ হাতে নাতে কোচিং মাষ্টার শ্যামল বাবু (৪৫), সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের ঝাড়ুদার আব্দুর রহমানকে আটক করেন। পরে সাগরদীঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হুমায়ূন খালিদ ভূইয়াকেও আটক করা হয়। তাদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আল মামুন এক মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন।

আটক সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের ঝাড়ুদার আব্দুর রহমান বলেন, পরীক্ষা শুরুর ১৫-২০ মিনিট আগে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীর আমার হাতে প্রশ্নপত্র দিয়ে কেন্দ্রের বাহিরে রাকিব লাইব্রেরীতে নিয়ে যেতে বলেন। আমি তার কথামতো দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা কোচিং মাষ্টার শ্যামল বাবুর কাছে প্রশ্নপত্রটি দেই। আমি তার (প্রধান শিক্ষক) অধীনে চাকরি করি। তিনি যা বলবেন আমারতো তাই করতে হয়। এ ঘটনায় আমার কোন দোষ নেই।

নোট-গাইডের প্যাকেজ ব্যবসা

জয়পুরহাটে গাইড বইয়ে বাজার সয়লাব, চলছে নিষিদ্ধ নোট ও গাইডের রমরমা ব্যবসা। চলতি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের টার্গেটে রেখে নতুন বছররের শুরুতেই জেলার প্রতিটি উপজেলায় বইয়ের দোকানে অবৈধ নোট গাইডে সয়লাব হয়ে গেছে। এসব বইয়ের দোকানে প্রকাশ্যে চলছে নিষিদ্ধ এসব নোট-বুকের প্যাকেজ ব্যবসা। তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ধারণাপত্র বিক্রি করছেন, যা শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিষয়ে সৃজনশীল ধারণা পেতে সাহায্য করছে ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান যেভাবে তাদের বই দিচ্ছেন তারাও সেই ভাবে বাজারে বই বিক্রি করছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক একজন বই বিক্রেতা। 

তিনি আরো বলেন, বাজারে পাঞ্জেরী, অনুপম, যুপিটার, ইন্টারনেট, সংসদসহ অসংখ্যা প্রকাশনার বই রয়েছে। প্রকাশনাভেদে তৃতীয় শ্রেণির নোট-গাইডের মূল্য ৩৩০ থেকে ৫০০, ৪র্থ শ্রেণির ৪১০ থেকে ৫৫০, ৫ম শ্রেণির ৩৮০ থেকে ৫৫০, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ৬৮০ থেকে ৭০০, ৭ম শ্রেণির ৭১০ থেকে ৮৫০, ৮ম শ্রেণির ৯৮০ থেকে ১১শ এবং ৯ম শ্রেণির এক সেট নোট-গাইডের মূল্য ২৯শ থেকে ৩২শ টাকা পর্যন্ত মূল্যে কেনা-বেঁচা চলছে জানান এই বই বিক্রেতা।

সদর উপজেলার অভিভাবক হামিদুল ইসলাম, পাঁচবিবির এমদাদুল, কালাইয়ের নাছিমা আক্তার, ক্ষেতলালের মনিরুল এবং আক্কেলপুর উপজেলার শিক্ষক আবু রায়হান বলেন, প্রশাসনের চোখের সামনে এসব গাইড ও নোট বই কেনা-বেঁচা অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অবৈধ গাইড বই ফায়দা হাসিল করছে শিক্ষক সমিতির নেতারা ও কিছু অসাধু শিক্ষক। নিষিদ্ধ গাইড বই বাজারজাত বন্ধে প্রশাসনিক জরুরি কোনো পদক্ষেপ না থাকায় নির্বিঘ্নে চলছে এসব বই বিক্রি। 



জেলার অষ্টম শ্রেণি শিক্ষার্থী রহুল আমিন, নবম শ্রেণি আকলিমা বেগম বলেন, নোট গাইডের কারণে শ্রেণি কক্ষে পাঠ্যবই সম্পর্কে শিক্ষকরা তেমন পাঠদান করেন না। উল্টো পাঠ্য বইয়ের সহায়ক বই হিসেবে নোট-গাইড কিনতে বাধ্য করার স্যারেরা। তাছাড়া অনেক শিক্ষকই বর্তমান পাঠ্যবই সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। পাশাপাশি যে শিক্ষক যে বিষয়ে পাড়ান ঐ বিষয়ে তার কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করান। সব শ্রেণির অবৈধ নোট গাইড নিষিদ্ধ হোক, প্রতিটি শিক্ষক সঠিক পাঠদানে যাতে করে মনোযোগী হয় সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তারা আহবান জানান। 

জয়পুরহাটের ডিসি মোহাম্মাদ জাকির হোসেন বলেন, নিষিদ্ধ এ নোট গাইড বিক্রি বন্ধ করতে হলে সর্বপ্রথম উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে রাজধানী ঢাকা শহরের বাংলাবাজারে। যেখানে হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকার বই নিয়ে দোকান সাজিয়ে বসে আছে। কর্তৃপক্ষ সেখানে অভিযান চালায় না কেন? উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, আমি আমার স্থানীয় এলাকার বিষয়টি দেখব এবং ব্যবস্থা নিবো। 

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ইউএনও আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকার নোট গাইড নিষিদ্ধ করেছে কোন অবস্থাতেই এটা বিক্রয় নহে। এ বিষয়ে গত ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ সদর উপজেলা হলরুমে মিটিং করা হয়েছে। 



একই বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, সরকার নোট গাইড নিষিদ্ধ করেছে এটা বাস্তবায়নের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে চেষ্ঠা অব্যহত রয়েছে। অবৈধ ও নিষিদ্ধ হওয়া নোট গাইড বই বাজারজাত করতে শিক্ষার্থীদের কিনতে ও বুক লিষ্টে লিখতে যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসাধু শিক্ষক, শিক্ষক সমিতির নেতা বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও যে ব্যক্তি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ভাবে দমন করা হবে, এ বিষয়ে গত কয়েকদিন আগে মিটিং করা হয়েছে, মিটিংয়ে জেলা সদরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। 

শনিবার, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৯

ঘাটাইলে এসএসসির প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টায় ধরা দুই

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এসএসসি পরীক্ষায় গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁসের চেষ্টার অভিযোগে আটক দুই জনকে এক বছরের দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় নাম আসা একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কারাগারে যাওয়া একজন জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাকে পরীক্ষার আগে একটি প্রশ্ন দিয়ে কেন্দ্রের বাইরে লাইব্রেরিতে দিয়ে আসতে বলেছিলেন। তিনি কথামতো কাজ করে ধরা পড়েছেন।

আটক দুই জনের একজন স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারের মালিক। আর অন্যজন একটি স্কুলের কর্মচারী।

পুলিশ জানায়, শনিবার ঘাটাইল থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে একটি লাইব্রেরি থেকে  ফটোস্ট্যাটের দোকানে প্রশ্নসহ আটক হন দুই জন। তখনও পরীক্ষা শুরু হতে ২০ মিনিট বাকি ছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে টাঙ্গাইলের নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট আল মামুন ধরে ফেলেন সাগরদিঘী গ্রামের কোচিং মাস্টার শ্যামল বাবু ও সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের ঝাড়ুদার আব্দুর রহমানকে।

সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফুল ইসলাম জানান, পরীক্ষা শুরুর আগেই কেন্দ্রের বাইরে আটক দুই জনের কাছে গণিত পরীক্ষার নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের প্রশ্নপত্রসহ হাতে-নাতে আটক করে।

আটক আব্দুর রহমান বলেন, পরীক্ষা শুরুর ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীর প্রশ্নপত্র দিয়ে রাকিব লাইব্রেরিতে নিয়ে যেতে বলেন। তিনি তার কথামতো প্রশ্নটি কোচিং মাস্টার শ্যামল বাবুর কাছে পৌঁছে দেন।

পরে দুই জনকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহম্মেদের কাছে নিয়ে যায় পুলিশ। আর সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্তদের এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ওই প্রধান শিক্ষককে কিছু করা হয়নি। আর এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৯

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আতাউর রহমান

একাদশ জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান। বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে চিফ হুইপ নূর-ই আলম  চৌধুরী এই কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের নাম প্রস্তাব করেন এবং তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এ ছাড়া এই দিনে আটটি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়। কমিটিগুলো হচ্ছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

কমিটিগুলোর মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম, সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, হাজী সেলিম, আতিউর রহমান আতিক, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, আব্দুল হাই, আয়েন উদ্দিন, আতাউর রহমান খান।

অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সদস্য আব্দুস শহীদ, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, নাজমুল হাসান পাপন, কাজী নাবিল আহমেদ, আহমেদ ফিরোজ কবির, বেগম সেলিমা আহমদ, রানা মো. শৈয়ব।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছেন তোফায়েল আহমেদ, সদস্য আকম বাহাউদ্দিন, মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, হাসান ইমাম খান, তাহজিব আলম সিদ্দিকী, সেলিম আলতাফ জর্জ, লিয়াকত হোসেন খোকা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সদস্য মুরাদ হাসান, আফম রুহুল হক, মহিবুর রহমান মানিক, একরামুল করিম চৌধুরী, ইউনুস আলী সরকার, মো. মনছুর রহমান, আব্দুল আজিজ।

শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু, সদস্য এ কে এম ফজলুল হক, হাবিবুর রহমান মোল্লা, এ কে এম শামীম ওসমান, আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী (ডিউক), আবু রেজা মো, নেজামউদ্দীন নদভি, মো. শাহিদুজ্জামান, কাজিম উদ্দিন আহমেদ।

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মতিয়া চৌধুরী, সদস্য ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, মোসলেম উদ্দিন, ওমর ফারুক চৌধুরী, আব্দুল মান্নান, মামুনুর রশিদ কিরণ, আনোয়ারুল আবেদিন খান, জয়া সেনগুপ্ত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, আব্দুল মজিদ খান, ডা. হাবিবে মিল্লাত, নাহিম রাজ্জাক, কাজী নাবিল আহমেদ, নিমাজউদ্দিন জলিল জন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গা, শেখ আফিল উদ্দিন, রেবেকা মোমেন, রাজী মো. ফখরুল, মো. শাহে আলম, ছানোয়ার হোসেন, আব্দুস সালাম মুর্শেদী।

এদিকে আতাউর রহমান খানকে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত করায় তার নির্বাচনী এলাকা ঘাটাইলে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও ভক্ত সাধারণ মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।

আতাউর রহমান খান এ বিষয়ে  বলেন, ঘাটাইলের সর্বস্তরের জনগণ ভালবেসে ভোট দিয়ে আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আমি দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করে ভোটের মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করবো। এছাড়া ঘাটাইলের সার্বিক উন্নয়ন ও সকল প্রকারের সন্ত্রাস অরাজগতা নির্মূলে কাজ করে যাবো।

(সূত্র:  ঘাটাইল ডটকম)

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৯

ঘাটাইলে ছাত্রলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘাটাইল সরকারি জিবিজি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এই অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঘাটাইল সরকারি জিবিজি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে ঘাটাইলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে জিবিজি কলেজের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পতাকা, ঢোল বাদ্যযন্ত্র, ব্যানার ফেস্টুন সহকারে অংশ নেয়। পরে র‍্যালিটি আবারও কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়।


আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জিবিজি কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম মনি, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি খলিলুর রহমান তালুকদার, জিবিজি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কবির হোসেন জাহিদ, সহ সভাপতি সালেহ আহমেদ সোহাগ, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি অপু চন্দ্র ঘোষ, সাধারন সম্পাদক হায়দার তালুকদার প্রমুখ।

মির্জাপুরে স্ত্রী বিসিএস ক্যাডার, বেকার স্বামীর ‘আত্মহত্যা’

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় স্ত্রীর বাসার একটি কক্ষ থেকে মনিরুল ইসলাম (৩২) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়।   

মনিরুলের স্ত্রী আইভি আক্তার টাঙ্গাইলের সরকারি সাদত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। আর মনিরুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই দম্পতির মুসা নামের পাঁচ বছরের ছেলে ও আরিশা নামের ছয়মাস বয়সী এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।

আইভির পরিবার সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর সদরের বংশাই রোডের বাড়িতে আইভি তার স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। মনিরুলের বাড়ি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামে হলেও নিজের চাকরি না থাকায় ও স্ত্রীর চাকরির সুবাদে শ্বশুরবাড়ি থাকতেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে বেশ কয়েকবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মনিরুল। সর্বশেষ প্রিলিতে অংশগ্রহণ করারও কথা ছিল তার। কিন্তু ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় সেই পরীক্ষা দিতে পারেননি তিনি।

আইভির পরিবারের সদস্যরা জানান, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ মনিরুল নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় মনিরুলের স্ত্রী ও শাশুড়ি তা দেখে ফেলেন। পরে তারা দরজায় অনেক্ষণ ধাক্কাধাক্কি করলেও মনিরুল দরজা খোলেননি।

পরে তারা চিৎকার শুরু করলে বাড়ির নিচ থেকে কয়েকজন উপরে উঠে আসেন। এরপর তারা দরজা ভেঙে মনিরুলের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তারা। পরে মির্জাপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, হতাশার কারণে মনিরুল আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার পর বাকি তথ্য জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চান জাহালম

বিনা অপরাধে তিন বছর কারাভোগের পর হাইকোর্টের নির্দেশে জাহালম নামে পাটকল শ্রমিক এক যুবক গত রোববার রাতে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার ভুল কিংবা গাফিলতির কারণেই এমনটা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগেও বিনা অপরাধে কারাভোগের কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা কতটুকু সচেতন বা দায়িত্বশীল হয়েছেন তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন থেকেই যায়।

তদন্তকারী কর্মকর্তার ভুলে মুন্সীগঞ্জের এক ব্যক্তি ১৭ বছর কারা ভোগ করার পর আদালতে প্রমাণিত হন তিনি নির্দোষ এবং খালাস পান। আর সাতক্ষীরায় এক ব্যক্তি ১৩ বছর কারাভোগ করে, কারাগারেই মারা যান। এরপর প্রমাণিত হয় তিনি নির্দোষ ছিলেন এবং খালাস পান। বিনা বিচারে কারাগারে বছরের পর বছর থাকার পর যদি প্রমাণিত হয় যে আটক ব্যক্তি নির্দোষ-তাহলে এর দায় কার। এ অপূরণীয় ক্ষতি তিনি কীভাবে পূরণ করবেন। 

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) চেয়ারম্যান ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, সংবিধানে বলা আছে, বিনা বিচারে কাউকে আটক রাখা যাবে না। কিন্তু আমাদের দেশে যে কারাগারগুলো আছে, সেখানে দুই-তৃতীয়াংশ বন্দি বিনা বিচারে আটক রয়েছে। এমনিতে আমাদের কারাগারগুলোয় ধারণক্ষমতার তিন-চার গুণ বেশি বন্দি রয়েছে।
জানা গেছে, বিনা অপরাধে জাহালম তিন বছর কারাভোগ করেছেন দুদকের একটি মামলায়। দুদকের তদন্ত কর্তকর্তার ভুল কিংবা গাফিলতির কারণেই এমনটা হয়েছে বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন। ঘটনা তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি কমিটি গঠন করেছে। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ গতকাল জানিয়েছেন, জাহালমের ঘটনায় দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের যদি কোনো গাফিলতি থেকে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা জজ পদমর্যাদার দুদকের একজন পরিচালককে প্রধান করে কমিটি করা হয়েছে। গত রোববার রাত ১টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুরের কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে মুক্তি পান জাহালম। সোনালী ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির ২৬টি মামলা থেকে জাহালমকে এক দিনের মধ্যেই অব্যাহতি দিয়ে গত রোববার সকালে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। মূল আসামি আবু সালেকের বদলে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়। রাতে মুক্তি পাওয়ার পর বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকের জাহালম বলেন, ‘আমাকে বিনা বিচারে আটকে রেখেছে। আমি দুদকের বিচার চাই। আমি রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চাই।’ যাদের জন্য বিনা বিচারে জেলে আটকে ছিলেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান তিনি।
জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৪ সালে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। এর পর সালেককে তলব করে দুদক চিঠি দিলে সেই চিঠি পৌঁছায় জাহালমের টাঙ্গাইলের বাড়ির ঠিকানায়। নরসিংদীর ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুটমিলের শ্রমিক জাহালম তখন দুদকে গিয়ে বলেন, তিনি আবু সালেক নন, সোনালী ব্যাংকে তার কোনো অ্যাকাউন্টও নেই। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবু সালেকের যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে সেটিও তার নয়। কিন্তু দুদকে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা সেদিন জাহালমকেই ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোড়াশাল থেকে জাহালমকে গ্রেপ্তার করে দুদক।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, দুদকের মামলায় বিনাদোষে তিন বছর কারাভোগ করেছেন জাহালম। তবে, দুদক তো রাষ্ট্রের অংশ। যেকোনো ফৌজদারি মামলায় সব সময় বাদী হয় রাষ্ট্র। তো সর্বোপরি এ মামলাটি রাষ্ট্র বনাম জাহালমের মধ্যে বিদ্যমান। এখানে রাষ্ট্রের পক্ষ হয়ে দুদক মামলা করেছে। সুতরাং এখানে রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের ফলে জাহালমের ক্ষতি হয়েছে এবং রাষ্ট্রের পক্ষে ভুল স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।

অতএব, এখানে প্রথমেই জাহালমের আইনজীবীদের উচিত ছিল- যে হাইকোর্ট বেঞ্চ জাহালমের জামিনের আদেশ দিয়েছেন, সেই আদালতের কাছে জাহালমের আপাতত পুনর্বাসনের জন্য অন্তত ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া।  জাহালমের আইনজীবী আদালতে ক্ষতিপূরণের আবেদন না করলে আদালত তা দেবেন না। কেননা আদালতে কাজ বিচার করা। যেখানে দুটি পক্ষ থাকবে।  
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া জাহালমের ক্ষতিপূরণ বিষয়ে বলেন, হাইকোর্টে যে রুলটা জারি হয়েছে সে রুলটিই ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত। রুলটা তো তাকে খালাস দিতে বলেছে কিন্তু রুলটা তো নিষ্পত্তি হয়নি। এখন কেউ যদি ইন্টারভেনার হয়ে দরখাস্ত দেয় বা যিনি বিষয়টি আদালতের নজরে এনেছেন তিনি যদি দরখাস্ত দেন তাহলে বিষয়টি ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে সহজ হবে। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগে শুনানির মধ্যে দরখাস্ত করতে হবে।

জানা গেছে, এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মধ্যপাড়া করারবাগ এলাকার বাবুল বিনা অপরাধে ১৭ বছর কারাভোগের পর খালাস পান। ১৯৯৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর মীরহাজিরবাগে খুন হন মোখলেসুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। ডেমরা থানার মামলা নম্বর-১৫৩(১২)৯৮। এ মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ১৯৯৯ সালের ১৮ জানুয়ারি বাবুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যার বিশেষ দায়রা মামলা নম্বর-৫৫৪/১৬। এ মামলার আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ে বাবুল নির্দোষ প্রমাণিত হন এবং মুক্তি পান। 

নির্দোষ ওবায়দুরের কারাগারেই মৃত্যু
নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর খালাসের আদেশ কারাগারে পৌঁছার আগেই মারা যান সাতক্ষীরার ওবায়দুর রহমান ওরফে অবেদ আলী (৬৫)। সাতক্ষীরার জোড়া পুলিশ হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ওবায়দুর রহমান পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন গত বছর। তার কারামুক্তির আইনগত কাজ শেষ হওয়ার আগেই ১৩ বছর জেলে থাকার পর মৃত্যুবরণ করেন তিনি।