জয়পুরহাটে গাইড বইয়ে বাজার সয়লাব, চলছে নিষিদ্ধ নোট ও গাইডের রমরমা ব্যবসা। চলতি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের টার্গেটে রেখে নতুন বছররের শুরুতেই জেলার প্রতিটি উপজেলায় বইয়ের দোকানে অবৈধ নোট গাইডে সয়লাব হয়ে গেছে। এসব বইয়ের দোকানে প্রকাশ্যে চলছে নিষিদ্ধ এসব নোট-বুকের প্যাকেজ ব্যবসা। তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ধারণাপত্র বিক্রি করছেন, যা শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিষয়ে সৃজনশীল ধারণা পেতে সাহায্য করছে ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান যেভাবে তাদের বই দিচ্ছেন তারাও সেই ভাবে বাজারে বই বিক্রি করছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক একজন বই বিক্রেতা।
তিনি আরো বলেন, বাজারে পাঞ্জেরী, অনুপম, যুপিটার, ইন্টারনেট, সংসদসহ অসংখ্যা প্রকাশনার বই রয়েছে। প্রকাশনাভেদে তৃতীয় শ্রেণির নোট-গাইডের মূল্য ৩৩০ থেকে ৫০০, ৪র্থ শ্রেণির ৪১০ থেকে ৫৫০, ৫ম শ্রেণির ৩৮০ থেকে ৫৫০, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ৬৮০ থেকে ৭০০, ৭ম শ্রেণির ৭১০ থেকে ৮৫০, ৮ম শ্রেণির ৯৮০ থেকে ১১শ এবং ৯ম শ্রেণির এক সেট নোট-গাইডের মূল্য ২৯শ থেকে ৩২শ টাকা পর্যন্ত মূল্যে কেনা-বেঁচা চলছে জানান এই বই বিক্রেতা।
সদর উপজেলার অভিভাবক হামিদুল ইসলাম, পাঁচবিবির এমদাদুল, কালাইয়ের নাছিমা আক্তার, ক্ষেতলালের মনিরুল এবং আক্কেলপুর উপজেলার শিক্ষক আবু রায়হান বলেন, প্রশাসনের চোখের সামনে এসব গাইড ও নোট বই কেনা-বেঁচা অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অবৈধ গাইড বই ফায়দা হাসিল করছে শিক্ষক সমিতির নেতারা ও কিছু অসাধু শিক্ষক। নিষিদ্ধ গাইড বই বাজারজাত বন্ধে প্রশাসনিক জরুরি কোনো পদক্ষেপ না থাকায় নির্বিঘ্নে চলছে এসব বই বিক্রি।
জেলার অষ্টম শ্রেণি শিক্ষার্থী রহুল আমিন, নবম শ্রেণি আকলিমা বেগম বলেন, নোট গাইডের কারণে শ্রেণি কক্ষে পাঠ্যবই সম্পর্কে শিক্ষকরা তেমন পাঠদান করেন না। উল্টো পাঠ্য বইয়ের সহায়ক বই হিসেবে নোট-গাইড কিনতে বাধ্য করার স্যারেরা। তাছাড়া অনেক শিক্ষকই বর্তমান পাঠ্যবই সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। পাশাপাশি যে শিক্ষক যে বিষয়ে পাড়ান ঐ বিষয়ে তার কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করান। সব শ্রেণির অবৈধ নোট গাইড নিষিদ্ধ হোক, প্রতিটি শিক্ষক সঠিক পাঠদানে যাতে করে মনোযোগী হয় সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তারা আহবান জানান।
জয়পুরহাটের ডিসি মোহাম্মাদ জাকির হোসেন বলেন, নিষিদ্ধ এ নোট গাইড বিক্রি বন্ধ করতে হলে সর্বপ্রথম উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে রাজধানী ঢাকা শহরের বাংলাবাজারে। যেখানে হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকার বই নিয়ে দোকান সাজিয়ে বসে আছে। কর্তৃপক্ষ সেখানে অভিযান চালায় না কেন? উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, আমি আমার স্থানীয় এলাকার বিষয়টি দেখব এবং ব্যবস্থা নিবো।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার ইউএনও আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকার নোট গাইড নিষিদ্ধ করেছে কোন অবস্থাতেই এটা বিক্রয় নহে। এ বিষয়ে গত ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ সদর উপজেলা হলরুমে মিটিং করা হয়েছে।
একই বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, সরকার নোট গাইড নিষিদ্ধ করেছে এটা বাস্তবায়নের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে চেষ্ঠা অব্যহত রয়েছে। অবৈধ ও নিষিদ্ধ হওয়া নোট গাইড বই বাজারজাত করতে শিক্ষার্থীদের কিনতে ও বুক লিষ্টে লিখতে যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসাধু শিক্ষক, শিক্ষক সমিতির নেতা বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও যে ব্যক্তি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ভাবে দমন করা হবে, এ বিষয়ে গত কয়েকদিন আগে মিটিং করা হয়েছে, মিটিংয়ে জেলা সদরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷