বুধবার, আগস্ট ২৪, ২০১৬

ভূমিহীনদের জমি ঘিরে অনেক প্রশ্নের জবাব মিলছেনা

রবিউল আলম বাদল ঘাটাইল  ঃ 
ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্র ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে দখল মুক্ত করতে ভূমি অফিসের সম্পৃক্ততা নিয়ে রহস্যের জট খুলছেনা। ভূক্তভোগীরা আবেদন করলে সে আবেদন কেন ফাইল বন্দি হয়ে থাকে তার স্পষ্ট জবাব মিলছেনা। ১০বছর আগে ভূমিহীনদের নামে জমি বরাদ্দ দিলেও শুরু থেকেই চলছে নাটকীয়তা। সারাদেশে অবৈধ দখলদারদের হাত থকে খাসজমি উদ্ধারের জন্য ১৩ মাস আগে ভূমি মন্ত্রনালয় আদেশ দিলেও ঘাটাইল ভূমি অফিস সে আদেশ কেন চালু করেন না তারও সদুত্তর মিলছেনা। স্থানীয় এমপি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার লিখিত আদেশ একজন তহশীলদার কিভাবে ফাইলবন্ধী করে রাখে এ প্রশ্নের জবাব নেই। এসিল্যান্ড প্রভাংশু সোমমহান ৮ মাস আগে ঘাটাইল ভূমি অফিসে যোগদান করে জোর দাবী করে প্রতিবেদককে বলেছিলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত করে রিপোর্ট দিন, দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব। দখলদারদের সকল বিষয় পত্রিকার মাধ্যমে তাকে অবগত করলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না সে বিষয়ে তিনি কিছুই বলছে না। জুলাই মাসের ১৭ তারিখে ই্উএনও আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহীন ভূক্তভোগী ১৪ জনের সকল কাগজপত্র জমা নিয়ে আসস্ত করে বলেছিলেন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। এ বিষয়ে ১ মাস পর তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ভূক্ত ভোগীদের সাথে কথা বলতে হবে। ভূক্তভোগী আইয়ুব আলী দাবী করে বলেন, কয়েক দফায় ইউএনও এবং এ্যাসিল্যান্ড স্যারের কাছে গিয়েছি। তারা একেক সময় একেক কথা বলে বিদায় করে দেন। তিনি আরও বলেন এসিল্যান্ড স্যারকে সবকিছু বুঝিয়ে বললে তিনি বলেন, আপনাদের কাজের সকল কাগজপত্র সার্ভেয়ার সেলিম রেজাকে বুঝিয়ে দিয়েছি সেই সব ব্যবস্থা করা দিবে। সার্ভেয়ার সেলিম রেজার নিকট গেলে তিনি বলেন আমি নতুন যোগদান করেছি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা বলে বাবারকে দেখিয়ে দেন। চেইনম্যান বাবরের নিকট গেলে তিনি বলেন এখন আমার আর করার কিছু নাই। চেইনম্যান বাবর আলীর আঙুলের তুরি মারার কথা পিছনে কি কারন তার হিসাব মিলছেনা। 

ভূক্তভোগীরা ভূমি অফিসের নয় ছয়ের বিবরন ইউ.এনও মহোদয়কে বললে তিনি বলেন  নতুন করে আবেদন করতে হবে। অথচ এসিল্যান্ড অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর কয়েক দফায় আবেদন করা হয়েছে। জমির সকল কাগজপত্র তার নিকট জমা দেয়া হয়েছে। এর পরেও পুনরায় কেন আবেদনের প্রয়োজন হয় এমন অনেক প্রশ্নের জবাব নাই। 

সন্ধানপুর ইউনিয়নে ১৬ জন ভূমিহীন পরিবার ২০০৭ সালে খাস জমি বরাদ্দ পায়। বরাদ্দের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও দখলদারদের বিরুদ্ধে ভূমি অফিস কেন ব্যবস্থা নেন নাই এমন অনেক প্রশ্নের জবাব মিলছে না। তৃণমূলে সমাজের সবচাইতে অবহেলিত ভূমিহীন পরিবার যাদের কথা বিবেচনা করে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভূমিহীনদের পুনঃবাসন করে আসছে। একই সঙ্গে তাদের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ভূমিহীনদের নামে খাস জমি বরাদ্দ দিয়ে আসছেন। প্রধানমন্ত্রির সেই পুনঃবাসন প্রক্রিয়াকে কলুষিত করতে যারা বছরের পর বছর অবহেলিত পরিবারকে হয়রানি করে ভোগান্তির শেষ ধাপে পৌছে দেয়-প্রকৃত পক্ষে তাদের উদ্দেশ্যে কি হতে পারে এমন অনেক প্রশ্নের জবাব মিলছে না। ভূমিহীনদের জমি ঘিরে এমন হাজারো প্রশ্নের উত্তর অজানাই রয়ে যাচ্ছে ।     

সোমবার, আগস্ট ২২, ২০১৬

প্রাণঢালা অভিনন্দন

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   গতকাল টাঙ্গাইলের ঘাটাইল জি.বি.জি. বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ জাতীয়করনের তালিকা ভূক্ত করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কে ঘাটাইলবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শামসুল আলম মণি, অধ্যাপক মজিবুর রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সাবেক মেয়র হাসান আলী, বিশিষ্ট লেখক গবেষক সাংবাদিক জুলফিকার হায়দার, নবনির্বচিত ঘাটাইল পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান শহীদ, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মিয়া, ঘাটাইল প্রেসকাবের সভাপতি খান ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মিয়া প্রমুখ। 

রবিবার, আগস্ট ২১, ২০১৬

ভিন্নমাত্রার দৈনিক ‘খোলা কাগজ’ ও আশাবাদের কথামালা শায়ির খানদানী

সূর্যকে যেভাবে অস্বীকার করা যায় না, আজকের পৃথিবীতে তেমনি সংবাদপত্রকে অস্বীকার করা চলে না। সূর্য ছাড়া যেভাবে জীবন অচল, তেমনি সংবাদপত্র ছাড়া সভ্য পৃথিবীর অগ্রযাত্রাও অচল হতে বাধ্য। সূর্য যেভাবে গোটা পৃথিবীকে পরিব্যাপ্ত করে নেয় আপন আলোয়, তেমনি সংবাদপত্রও নিজের বলয়কে ছায়াচ্ছন্ন করে রেখেছে। তামাম পৃথিবী আজ আকর্ষিত, আন্দোলিত ও কল্লোলিত হচ্ছে কোনো না কোনো সংবাদের প্রভাবে। পৃথিবীকে আজ শাসন করছে কোন শক্তি? এ প্রশ্নের জবাব অনেকেই অনেকভাবে দিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতার গভীরে গেলে স্বীকার করতে হয় যে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুনিয়া শাসন করছে যে শক্তি, তার নাম সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যম।
সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যম শাসন করবে তামাম পৃথিবীকে- এ স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিলো বিংশ শতাব্দীর গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের। উইলবার শ্রাম, ডেভিট কে বার্লো, শ্যানন উয়েভার, মার্শাল ম্যাকলুহান প্রমুখ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সংবাদমাধ্যমের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যে সকল গবেষণা করে গেছেন, সে সব গবেষণায় উঠে আসা ভবিষ্যৎবাণীর সার্থক প্রতিফলনই ঘটছে মূলত আজকের বিশ্বে। অতএব আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রে সংবাদপত্র অপরিহার্য। সেখানে এমন এক পরিবেশ থাকবে, যাতে সাংবাদিকরা তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে পেশাদারিত্ব চালিয়ে যেতে পারেন। রাষ্ট্র, গোষ্ঠী, কায়েমি শক্তি বা কোনো হীনস্বার্থের আক্রমণ কিংবা চোখ রাঙানি এ স্বাধীনতাকে পারবে না ব্যাহত করতে। 
সাংবাদিকরা সংবাদপত্রে অনবরত লিখবেন। তবে তা হতে হবে- জনগণের স্বার্থের পক্ষে, দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও প্রগতির পক্ষে, সত্য ও ন্যায়নীতির পক্ষে, মননশীলতার পক্ষে, সমাজ বিকাশ বা সমাজ রূপান্তরের পক্ষে, অর্থনৈতিক সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদের পক্ষে, শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির পক্ষে, গণমানুষের কর্মসংস্থানের পক্ষে, সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতার পক্ষে, রাষ্ট্রের মৌল চেতনা ও আদর্শের পক্ষে, জনমত গঠনের লক্ষ্যে, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে, সভ্যতার অগ্রগতির পক্ষে, মানুষের মৌলিক চাহিদা ও অধিকারের পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের পক্ষে, আইনের শাসনের পক্ষে, সর্বোপরি শুভশক্তির পক্ষে। এ সবের পক্ষে লেখাই হচ্ছে সাংবাদিকতা। এ সবের বিপক্ষে লেখাই হচ্ছে অপসাংবাদিকতা।
অপসাংবাদিকতা যখন কুয়াশায় আচ্ছন্ন করে দেয় মানুষের দৃষ্টি ও চেতনাকে, তখন বিবেকের আহবানে মানবিক দায়িত্বশীলতার নির্দেশে সোচ্চার হয়ে ওঠে সত্যিকার সাংবাদিকতা। সত্য এবং তথ্যকে অবলম্বন করে সেই সাংবাদিকতা বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে সৃষ্টি সুখের জয়োল্লাসে হয় নিমগ্ন। স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংবাদপত্র যখন সত্যকে উদ্ভাসিত করে, তখন জীবনের আকাশ থেকে পালাতে থাকে অন্ধকার। তখন তাতে জীবনের নিঃশ্বাস, ঘাম, রক্ত, যন্ত্রণা ও সংগ্রাম বাক্সময় হয়ে ওঠে। তখন ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও সমাজের দৃষ্টি হয় পরিচ্ছন্ন। পরিচ্ছন্ন আয়নায় তখন জীবনের স্বরূপকে আবিষ্কার করা যায়। 
সংবাদপত্র যখন একটি জাতির পরিচ্ছন্ন আয়না হয়ে ওঠে, তখন এরচে বড় সার্থকতা আর হতে পারে না। সেই সার্থকতার আকাশকে স্পর্শ করবে বলেই তো এ দেশের সব ক’টি গণমাধ্যমের আত্মপ্রকাশ। ভিন্নমাত্রার দৈনিক ‘খোলা কাগজ’ও এর বিপরীতে নয়। আদর্শের এ দিক থেকে অন্য যে কোনো দশটি দৈনিকের চে পত্রিকাটি পিছিয়ে তো নয়ই বরং এগিয়ে আছে বহুভাবে। লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের পুণ্যবৃষ্টিতে সিক্ত এ দেশের উর্বর মাটিতে শিল্প, সাহিত্য, মননচর্চা ও সৃজনশীলতার নদী চিরকালই দ্রুত গতিতে বহমান। প্রাকৃতিক সজীবতার অনন্য এ উদ্যানে বৈষয়িক সমৃদ্ধির সুবাতাস যেমন বয়ে চলছে নিজস্ব গতিতে, ঠিক তেমনি সৃজনশীল জীবনসংগ্রামে মুখরিত এ মানচিত্র থেকে শিল্প, সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় গৌরবময় কৃতিত্বের সুগন্ধি দশদিকে ছড়িছে এ জনপদ। অতীতের সেই ধারাবাহিকতায় আজও এখানে শিল্প-সাংবাদিকতার সুনিপুণ চাষাবাদ অব্যাহত। সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠতার কিছু চাষি বাঙালির আত্মার শব্দাবলিকে কালের জমিনে জীবন্ত করে তুলতে অবিশ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন কলম সাধনা। সেই সাধনার প্রাণশক্তি কী? সন্দেহ নেই মানুষ ও মাতৃভূমির প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা, দায়িত্ববোধের তাগিদ আর গৌরবময় ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বুকে ধারণ করার সততা ও ঐকান্তিকতা নিয়েই তো ‘খোলা কাগজ’-এর অভ্যুদয় হয়েছিলো বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে। আজ থেকে সতেরো বছর পূর্বে পত্রিকাটি যাত্রা শুরু করলেও গরিয়ান ঐতিহ্যের ধারক এ দেশের সাংবাদিকতা একুশ শতকের ক্যানভাসে যে উজ্জ্বল অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, ‘খোলা কাগজ’ সেখানে নাক্ষত্রিক সংযোজন হিসেবে সত্য, তথ্য ও বস্তুনিষ্ঠতাকে পুঁজি করে সংবাদপত্র জগতে দৃষ্টান্ত স্থাপন শেষে নিরন্তর এগিয়ে যাবে- এমন আশা করতেই পারেন দেশের সব প্রগতিশীল বিবেক। 
বর্তমানে বহু সংবাদপত্র সাংবাদিকতার নামে ভদ্রতার খোলসে কল্পনাপ্রসূত, মিথ্যা, বানোয়াট, অবাস্তব, অদ্ভুত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে সাংবাদিকতা পেশাকে কলুষিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ‘খোলা কাগজ’ তার বিপরীতে দায়িত্বশীলতা, সত্যনিষ্ঠতা, দেশপ্রেম ও মানবিকতার পতাকাকে সমুন্নত করবে- এ প্রত্যাশা অমূলক নয় মোটেও।

ভিন্নমাত্রার দৈনিক ‘খোলা কাগজ’ ও আশাবাদের কথামালা শায়ির খানদানী

সূর্যকে যেভাবে অস্বীকার করা যায় না, আজকের পৃথিবীতে তেমনি সংবাদপত্রকে অস্বীকার করা চলে না। সূর্য ছাড়া যেভাবে জীবন অচল, তেমনি সংবাদপত্র ছাড়া সভ্য পৃথিবীর অগ্রযাত্রাও অচল হতে বাধ্য। সূর্য যেভাবে গোটা পৃথিবীকে পরিব্যাপ্ত করে নেয় আপন আলোয়, তেমনি সংবাদপত্রও নিজের বলয়কে ছায়াচ্ছন্ন করে রেখেছে। তামাম পৃথিবী আজ আকর্ষিত, আন্দোলিত ও কল্লোলিত হচ্ছে কোনো না কোনো সংবাদের প্রভাবে। পৃথিবীকে আজ শাসন করছে কোন শক্তি? এ প্রশ্নের জবাব অনেকেই অনেকভাবে দিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতার গভীরে গেলে স্বীকার করতে হয় যে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুনিয়া শাসন করছে যে শক্তি, তার নাম সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যম।
সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যম শাসন করবে তামাম পৃথিবীকে- এ স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিলো বিংশ শতাব্দীর গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের। উইলবার শ্রাম, ডেভিট কে বার্লো, শ্যানন উয়েভার, মার্শাল ম্যাকলুহান প্রমুখ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সংবাদমাধ্যমের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যে সকল গবেষণা করে গেছেন, সে সব গবেষণায় উঠে আসা ভবিষ্যৎবাণীর সার্থক প্রতিফলনই ঘটছে মূলত আজকের বিশ্বে। অতএব আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রে সংবাদপত্র অপরিহার্য। সেখানে এমন এক পরিবেশ থাকবে, যাতে সাংবাদিকরা তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে পেশাদারিত্ব চালিয়ে যেতে পারেন। রাষ্ট্র, গোষ্ঠী, কায়েমি শক্তি বা কোনো হীনস্বার্থের আক্রমণ কিংবা চোখ রাঙানি এ স্বাধীনতাকে পারবে না ব্যাহত করতে। 
সাংবাদিকরা সংবাদপত্রে অনবরত লিখবেন। তবে তা হতে হবে- জনগণের স্বার্থের পক্ষে, দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও প্রগতির পক্ষে, সত্য ও ন্যায়নীতির পক্ষে, মননশীলতার পক্ষে, সমাজ বিকাশ বা সমাজ রূপান্তরের পক্ষে, অর্থনৈতিক সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদের পক্ষে, শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির পক্ষে, গণমানুষের কর্মসংস্থানের পক্ষে, সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতার পক্ষে, রাষ্ট্রের মৌল চেতনা ও আদর্শের পক্ষে, জনমত গঠনের লক্ষ্যে, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে, সভ্যতার অগ্রগতির পক্ষে, মানুষের মৌলিক চাহিদা ও অধিকারের পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের পক্ষে, আইনের শাসনের পক্ষে, সর্বোপরি শুভশক্তির পক্ষে। এ সবের পক্ষে লেখাই হচ্ছে সাংবাদিকতা। এ সবের বিপক্ষে লেখাই হচ্ছে অপসাংবাদিকতা।
অপসাংবাদিকতা যখন কুয়াশায় আচ্ছন্ন করে দেয় মানুষের দৃষ্টি ও চেতনাকে, তখন বিবেকের আহবানে মানবিক দায়িত্বশীলতার নির্দেশে সোচ্চার হয়ে ওঠে সত্যিকার সাংবাদিকতা। সত্য এবং তথ্যকে অবলম্বন করে সেই সাংবাদিকতা বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে সৃষ্টি সুখের জয়োল্লাসে হয় নিমগ্ন। স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংবাদপত্র যখন সত্যকে উদ্ভাসিত করে, তখন জীবনের আকাশ থেকে পালাতে থাকে অন্ধকার। তখন তাতে জীবনের নিঃশ্বাস, ঘাম, রক্ত, যন্ত্রণা ও সংগ্রাম বাক্সময় হয়ে ওঠে। তখন ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও সমাজের দৃষ্টি হয় পরিচ্ছন্ন। পরিচ্ছন্ন আয়নায় তখন জীবনের স্বরূপকে আবিষ্কার করা যায়। 
সংবাদপত্র যখন একটি জাতির পরিচ্ছন্ন আয়না হয়ে ওঠে, তখন এরচে বড় সার্থকতা আর হতে পারে না। সেই সার্থকতার আকাশকে স্পর্শ করবে বলেই তো এ দেশের সব ক’টি গণমাধ্যমের আত্মপ্রকাশ। ভিন্নমাত্রার দৈনিক ‘খোলা কাগজ’ও এর বিপরীতে নয়। আদর্শের এ দিক থেকে অন্য যে কোনো দশটি দৈনিকের চে পত্রিকাটি পিছিয়ে তো নয়ই বরং এগিয়ে আছে বহুভাবে। লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের পুণ্যবৃষ্টিতে সিক্ত এ দেশের উর্বর মাটিতে শিল্প, সাহিত্য, মননচর্চা ও সৃজনশীলতার নদী চিরকালই দ্রুত গতিতে বহমান। প্রাকৃতিক সজীবতার অনন্য এ উদ্যানে বৈষয়িক সমৃদ্ধির সুবাতাস যেমন বয়ে চলছে নিজস্ব গতিতে, ঠিক তেমনি সৃজনশীল জীবনসংগ্রামে মুখরিত এ মানচিত্র থেকে শিল্প, সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় গৌরবময় কৃতিত্বের সুগন্ধি দশদিকে ছড়িছে এ জনপদ। অতীতের সেই ধারাবাহিকতায় আজও এখানে শিল্প-সাংবাদিকতার সুনিপুণ চাষাবাদ অব্যাহত। সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠতার কিছু চাষি বাঙালির আত্মার শব্দাবলিকে কালের জমিনে জীবন্ত করে তুলতে অবিশ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন কলম সাধনা। সেই সাধনার প্রাণশক্তি কী? সন্দেহ নেই মানুষ ও মাতৃভূমির প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা, দায়িত্ববোধের তাগিদ আর গৌরবময় ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বুকে ধারণ করার সততা ও ঐকান্তিকতা নিয়েই তো ‘খোলা কাগজ’-এর অভ্যুদয় হয়েছিলো বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে। আজ থেকে সতেরো বছর পূর্বে পত্রিকাটি যাত্রা শুরু করলেও গরিয়ান ঐতিহ্যের ধারক এ দেশের সাংবাদিকতা একুশ শতকের ক্যানভাসে যে উজ্জ্বল অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, ‘খোলা কাগজ’ সেখানে নাক্ষত্রিক সংযোজন হিসেবে সত্য, তথ্য ও বস্তুনিষ্ঠতাকে পুঁজি করে সংবাদপত্র জগতে দৃষ্টান্ত স্থাপন শেষে নিরন্তর এগিয়ে যাবে- এমন আশা করতেই পারেন দেশের সব প্রগতিশীল বিবেক। 
বর্তমানে বহু সংবাদপত্র সাংবাদিকতার নামে ভদ্রতার খোলসে কল্পনাপ্রসূত, মিথ্যা, বানোয়াট, অবাস্তব, অদ্ভুত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে সাংবাদিকতা পেশাকে কলুষিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ‘খোলা কাগজ’ তার বিপরীতে দায়িত্বশীলতা, সত্যনিষ্ঠতা, দেশপ্রেম ও মানবিকতার পতাকাকে সমুন্নত করবে- এ প্রত্যাশা অমূলক নয় মোটেও।

শনিবার, আগস্ট ২০, ২০১৬

সাংঘাতিক ও সাংবাদিক হওয়ার অনুভূতি

২০০৯ সালের কথা। প্রথমবারের মত একজন সাংবাদিক দেখেছিলাম, তখন দেখেছি তাঁকে মানুষ অনেক সম্মান করছে। সে সম্মান দেখে লোভ আর সামলাতে পারলাম না। শুরু করলাম সাংবাদিক হওয়ার যুদ্ধ। ঠিক অদ্ভুত একটা নেশা কাজ করেছিল আমার মধ্য।নেশার টানে শুধু সাংবাদিক হওয়ার পিছনে ছুটলাম। অনেক কিছু ভাবতে গিয়ে মনে প্রশ্ন আসে, আমি যা জানি ও বুঝি তাতে কি আমি সাংবাদিক হতে পারবো? আসলে তখনও জানতাম না আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মফস্বল সাংবাদিক হতে হলে কোন যোগ্যতা এমনকি এসএসসি পাসেরও দরকার হয় না। হঠাৎ একদিন চাকরির খবর পত্রিকায় দেখলাম মাসিক বিশ্ববার্তা নামের একটি পত্রিকায় প্রতিটি জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। কি আর করা মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! জীবনের বিস্তারিত লিখে এক খানা পত্র পাঠালাম। গুনে গুনে ছয় দিন পরেই আমার নামে ডাকযোগে একটি চিঠি চলে এল। অনুভুতিটা বোঝাতে পারবো কিনা জানি না। জীবনের প্রথম আমার নামে কেউ চিঠি পাঠালো, তাও আবার সাংবাদিক হওয়ার চিঠি। চিঠিটা ফ্রি পেলাম। খামের ভিতরের চিঠিটা পড়ে জানলাম আমার জন্য পরিচয় পত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া একই খামে সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ বিষয়ে একটি বই পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বইটি পেতে হলে ৫৮০ টাকা পাঠাতে হবে তাদের কাছে। নইলে বইটি আবার ফেরত যাবে আর পরিচয় পত্র যাবে ভেস্তে। সাথে সাথে টাকা দিয়ে বইটি আমার করে নিলাম, আর অপেক্ষা করতে শুরু করলাম কবে পাবো পরিচয় পত্র। নিজেকে কখন মনে করবো আমি একজন সাংবাদিক। ঠিক আট দিন পর পরিচয় পত্র পেলাম। তখন কি যে আনন্দ, সব কিছু যেন আমার মনে হচ্ছে। সকল ক্ষমতা যেন বলে উঠলো তারা শুধুই আমার, আর কারো নয়। ঘুমাতে গেলে, খেতে গেলে, ঘুরতে গেলে, সব

জায়গাতেই বসে এক নজর দেখতে থাকি পরিচয় পত্রটি। এবারতো সাংবাদিক হলাম। এর মধ্যে কেটে গেলো এক বছর। অবাকও হলাম কোন দিন সংবাদ পাঠাতেও বলেনি তাঁরা। তবে সংবাদ না পাঠানোর ফলে একদিকে ভালই ছিলাম। এবার আবার সখ হলো দৈনিক পত্রিকার বড় সাংবাদিক হবো। কিন্তু বড় সাংবাদিক হতে হলে সংবাদ লিখতে হয়। অনেক কিছু জানতে হয়। এবার মিশতে শুরু করলাম জেলার অন্যান্য সাংবাদিকদের সাথে। তাঁদের সাথে মিশে বিপদ যেন বেড়েই চলছে। তাঁদের সাথে মিশে সাংবাদিকতা বিষয়ে যতো জানছি আমার ক্ষমতাও যেন ততো কমে আসছে। ঠিক তার কয়েকদিন আগেই ইউপি নির্বাচনে আমার পরিচয় পত্রটি পকেটে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে ঢুকে পড়লাম। সেদিন ভাগ্য ভাল ছিল কোন ম্যাজিস্ট্রেট আমার সামনে পড়েনি। পড়লে হয়তো সাংবাদিক হওয়ার

মজাটা হাড়ে হাড়ে টের পেতাম। কিন্তু পরে জানলাম সাংবাদিকতার পরিচয় পত্র দিয়ে নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করা যায় না, তার সাথে আরো কিছু লাগে। প্রথমেই বলছিলাম আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মফস্বল সাংবাদিক হতে এসএসসি পাসেরও দরকার হয় না।
আসলে সাংবাদিকতা কি তা একটু আধটু জেনে ও বুঝে মানলাম আমি সাংবাদিক হতে পারিনি, সাংবাদিক জাতির জন্য আমি একটা সাংঘাতিক বিপদ তৈরি হয়েছি। জেলার অনেক সাংবাদিকদের সাথে মিশে আরো একটু জানলাম এ দলে শুধু আমি একা না আমার
দলে অনেক সদস্য আছে। যাঁদের মধ্যে অনেকেই আবার ফকিরাপুল সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। কেউ না বুঝে থাকলে বুঝিয়ে বলছি,
ফকিরাপুল সাংবাদিক কাকে বলে। তার আগে জেনে নিই ফকিরাপুল সাংবাদিকদের আয় বাণিজ্যের কথা। তাঁরা যে কোন কাজে গেলে বেশ কয়েকজনকে সাথে নিয়ে যান। যে কোন সমস্যা সমাধান করতে দিন মজুরদের মত তাঁরা মানুষ চুক্তিতে নিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে বাল্য বিয়ে বন্ধ করতেও তাঁরা ছুটে যান ঘটনাস্থলে। পরে জানতে পারলাম সেখানেও নাকি তাদের বাণিজ্য আছে। যাই হোক এ সব সাংবাদিকদেরও বা দোষ কি বলেন, তাঁদের অনেকের অফিসেও নাকি এ আয়ের কিছু অংশ দিতে হয়। নইলে সাংবাদিকতার লাইসেন্স
থাকে না! এবার জানবো ফকিরাপুল সাংবাদিক: যাঁরা রাজধানী ঢাকার পল্টন ফকিরাপুল গেছেন তাঁদের হয়ত অনেকেই দেখেছেন, অলি-গলির মধ্যে শত শত পত্রিকার বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়। আমিও গেছিলাম সেখানে, দেখেই বুঝে ফেলেছি এই বাণিজ্যই


তাহলে চলছে আমার জেলায়। কিন্তু ওই সব পত্রিকার অফিসে কখনো উঠিনি বিধায় সেখানের কার্যক্রম সম্পর্কে বলতে পারছি না। তবে শুনেছি মানিব্যাগ নিয়ে সেখানে উঠলেই নাকি সাংবাদিক হওয়া যায়। দুঃখের বিষয় হলো এখন ২০১৬ সাল। এখনো পরিবর্তন হয়নি মফস্বল সাংবাদিকদের চরিত্র। পরিবর্তন হয়নি ফকিরাপুল সহ বহু আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা কর্তৃপক্ষের। যদি মফস্বল সাংবাদিকদের বেতন ভাতাই দিতে না পারেন তবে পত্রিকা বন্ধ করে দেন না কেন?। যদি চান্দাবাজি আর ধান্দাবাজি করে জীবনটা চালাতে হয়

তবে এ পেশায় আসবেনই বা কেন? লেখাটি পড়ার পর কেউ কেউ হয়তো আমার প্রতি রাগ করবেন, হয়তো কেউ আবার গালিও দিবেন। তাঁদের কাছ থেকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে ইচ্ছে করছে, এত পেশা থাকতে সাংবাদিক হতে এলেন কেন? যদি এসেই পড়েছেন, তবে কেনই বা ব্যবহার হচ্ছেন ওই সব আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা কর্তৃপক্ষের হাতে? আসলে এ সবকিছুর মূলে দোষটা কার? উত্তরগুলো পাওয়ার আশায় রইলাম। আর অপেক্ষায় রইলাম, এমন একদিন আসবে যেদিন মফস্বল সাংবাদিকরা তাঁদের ন্যায্য
পাওনা বুঝে নিবে আর ওইসব আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মৃত্যু ঘটবে।
লেখক: মোঃ খায়রুল ইসলাম

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
দৈনিক খোলা কাগজ

ই-মেইল: khyrulislam2@gmail.com

ধর্ষণ: নাবালককে সাবালক ধরে বিচার


ধর্ষণ: নাবালককে সাবালক ধরে বিচার


শ্রদ্ধাঞ্জলি স্মৃতিতে ভাস্বর শামসুল হক চিশতি

আনোয়ার হোসেন বকুল
 শামসুল হক চিশতি বললে কেউ চিনবেন না তাঁকে। যদিও তরিকত প্রেমীরা তাঁকে ঠিকই চিনেন। আবার শামসু মুন্সি বললে যারা চিনেন তারা জানেন না তিনি পীর ছিলেন। শামসুল হক চিশতি ময়মনসিংহের প্রক্ষ্যাত পীর আনোয়ার হোসেন চিশতি (র:) নিকট বায়াত গ্রহণ করে সুদীর্ঘকাল এলমে তাছাউফ বা সুফিবাদ অনুশিলন করেছেন। আমরা এমন গুনিদের কদর দিতে জানি না। তাঁদের স্বরণ করি না। এ কারণে নিরবে নিঃশব্দে কেটে যায় তাদের জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী। ১৯৫৩ সালের ৩১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া গ্রামে একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন শামসুল হক চিশতি। তাঁর পিতার নাম মরহুম জুব্বার আলী শেখ, মাতা মরহুমা আম্বিয়া খাতুন। তারা উভয় ছিলেন অত্যান্ত আদর্শবান ধর্মানুরাগী মানুষ। শামসুল হক চিশতি ছোট বেলা থেকেই সুন্দর মনের মানুষ ছিলেন। সে কথা বলতেন নম্র, ভদ্র মার্জিত ভাষায়। তাঁর মতো উন্নতমনের মানুষ সমাজে খুব কমই পাওয়া যায়। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে ছাত্র জীবনে তাঁকে অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। তবুও দৃঢ়তার সহিত জীবন সংগ্রামে নানা চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে এগিয়ে গেছেন। গুণী এ মানুষটি ২০১০ সালের ২০ আগষ্ট বাংলা ৫ ভাদ্র ১৪১৭ বঙ্গাদ্ধে সুখ-দুঃখ ভরা পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। কাগমারিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শামসুল হকের পড়া লেখার হাতে খড়ি। এরপর লোকেরপাড়া মাদ্রাসা ও দুর্গাপুর মাদ্রাসায় অধ্যায়ন করে ভর্তি হন সিংগুরিয়া লোকেরপাড়া স্যার আব্দুল হালিম গজনবী উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে তিনটি লেটারসহ প্রথম শ্রেণীতে এসএসসি পাস করেন। এ সফলতার জন্য কর্তৃপক্ষ তাকে স্বর্ণপদক প্রদান করেন। তিনি হলেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রথম স্বর্ণপদক জয়ী ছাত্র। এর পর ইব্রাহীম খাঁ কলেজ থেকে সফলতার সাথে আইকম ও বিকম পাস করলেও পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে এখানেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি টানেন। উত্তরা ব্যাংকে চাকুরির মাধ্যমে শুরু করেন কর্ম জীবন। কর্মজীবনে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। সফল ভাবে দায়িত্ব পালনে স্বীকৃতি স্বরূপ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে টানা ছয় মাসের ছুটি ও পদন্নতি প্রদান করেন। শামসুল হক চিশতির অনুসারি গ্রামবাসি ও শুভাকাংক্ষীদের নিকট থেকে জানা যায়, তিনি কৈশরকাল থেকেই মেধাবি ছাত্র ছিলেন। তাঁর হিংসা ছিল না। তিনি বড়দের শ্রদ্ধা ও ছোটদের স্নেহ করতে শিখাতেন। সকল ব্যাথিতের ব্যাথায়, সকল অসহায়ের অশ্রুজলে নিজেকে অনুভব করতেন। সমাজের প্রতিটি মানুষকে ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধার চেষ্টা করতেন। কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে তরিকত ও সুফিবাদ বুঝাতেন। তিনি সব সময় বলতেন মানব ধর্ম শ্রেষ্ঠ ধর্ম। তার মন প্রাণ সেকালেই গ্রাস করেছিল সুফিবাদ ও এলমে তাছাউফ। এমন কি কলেজ জীবনেও তরিকত প্রেমীদের নিকট ছুঁটে বেড়িয়েছেন। কর্ম জীবনে চাকুরির পাশা পাশি এলমে তাছাউফ ও সুফিজম নিয়ে গবেষণা করেছেন। গবেষণার সুবিধার্থে সনাতন ধর্মসহ অন্যান্য ধর্ম বিষয়েও জ্ঞাণ অর্জন করেছেন। লিখেছেন “ধর্মই মানবতা মানবতাই ধর্ম” নামে একটি গবেষণালব্দ গ্রন্থ। রচনা করেছেন তরিকত ও ভক্তিমুলক তিন শতাধীক গান। শেষ পযর্ন্ত সে নিজেকে পীর হিসেবে আত্নপ্রকাশ করা তার কৈশর, যৌবন ও কর্মজীবনের অর্জিত জ্ঞানরই ফল। শামসুল হক চিশতির ধ্যান, জ্ঞাণ ছিল সমাজে সঠিক সুফিবাদ প্রতিষ্ঠা করা। এলমে তাছাউফ বা সুফিবাদের নামে ভন্ডামি মানতেন না। এলমে তাছাউফ বা সুফিবাদের নামে ভন্ডামি দেখলেই দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ করেছেন। এ কারণে ভন্ড তরিকত পন্থীদের নিন্দার কাঁটা তাকে সহ্য করতে হয়েছে। তরিকত বিরোধীদের কেউ তিনি কাছে টেনেছেন। ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধার চেষ্ঠা করেছেন। প্রমাণ করতে চেয়েছেন মানবতার উপর কোন ধর্ম নাই। মানব ধর্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। শাহআলম চৌধুরী, জামাল হোসেন, লুৎফর রহমান তালুকদার মিন্টু, শাহজাহান মিয়া, জুলহাস উদ্দিন, রবি শেখ, আব্দুস সাত্তার আকন্দ, নূরুল ইসলাম ও হুরমুজ আলীসহ এলাকার তরিকত প্রেমীরা শামসুল হক চিশতির এলমে তাছাউফ ও সুফিবাদের জ্ঞাণলব্দ আলোচনার মুগ্ধ শ্রোতা ছিলেন। শামসুল হত চিশতি চাকুরি থেকে বাড়ী এলে তার সান্নিধ্য লাভে এলাকার তরিকত প্রেমীরা ছুঁটে আসতেন। তারা তরিকত জগতের নানা বিষয় শামসুল হকের নিকট থেকে জানার চেষ্টা করতেন। তাদের জীবনের সুখ-দুঃখ, কান্না, ব্যাথা-বঞ্চনা ও দীর্ঘশ্বাস রোমন্থন করতেন। তিনি যে কয়েকদিন বাড়ীতে থাকতেন সব রাতেই তারা এসে জরো হতো। কখনোও সেখানে নেচে গেয়ে আনন্দের হিল্লোল জাগাতো। আবার কখনোও বেদনার তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ছড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তো। দুনিয়ার চাওয়া পাওয়া ভুলে সকলে একাকার হয়ে পরপারের চিন্তায় মগ্ন হতো। শামসুল হক চিশতির বেলায়েতের প্রধান আব্দুল মজিদ। তিনি তার পীরকে মূল্যায়ন করেন এভাবে- “শামসুল হক চিশতি জীবন ও জগতের বিভিন্ন দিক নিয়ে চিন্তা করেছেন। ইসলামের সাথে সংগতি রেখে গভীর ভাবে চিন্তা করে এসব বিষয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দিতেন। উত্তম জীবন কীভাবে লাভ করা যায় ইসলামী দর্শন দিয়ে তা বুঝাতেন। তিনি বলতেন ইসলামী দর্শনের জ্ঞাণ ছাড়া সার্থক, সুন্দর জীবন যাপনের সুযোগ নেই। তিনি গভীর ভাবে সুফিবাদ অনুস্বরণ করে এর একটি পূর্ণাঙ্গরূপ তার জীবনে প্রষ্পুঠিত করার তফশারত ছিলেন। বলতেন চিন্তার অসুস্থতা বিবেককে বিকৃত করে। বিকৃত বিবেক নিয়ে স্বপ্ন দেখা নিরর্থক। ব্যার্থতার সুমদ্রে সাঁতার কাটা মাত্র।” একই পাড়ায় বাড়ী হলেও শামসুল হক চিশতির সাথে আমার খুব একটা মেশার সুযোগ হয়নি। সম্ভবত ১৯৯৫সাল । তখন আমি ইব্রাহীম খাঁ কলেজের ছাত্র। বড় ভাই হুরমুজ আলী এক দিন রাতে আমাকে শামসুল হক চিশতির সান্নিধ্যে নিয়ে যান। এলাকার তরিকত প্রেমীদের নিয়ে আলোচনারত আছেন তিনি। অনেকক্ষণ ধরে আলোচনা চলছে। নিরবে হুরমুজ ভাইয়ের পাশে বসে তা শুনলাম। তরিকতের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হলো। কথাগুলো শুনছিলাম আর ভাবছিলাম, এই মানুষটির নিকট আমাদের কিছু জানার আছে, শেখার আছে। পীর ফকিরদের অনেক কর্মকান্ডই আমি পছন্দ করি না। এরপরও শামসুল হক চিশতির নিকট তরিকত বিষয়ে জানার ইচ্ছা প্রকাশ না করে পারলাম না। বিনয়ের সঙ্গে বললাম তরিকত নিয়ে সমাজে নানা অপবাদ আছে। এবিষয়ে জানতে চাই ? উত্তরে তিনি বলনেন, “তরিকতের অনেক বিষয় আছে, সব কিছু সবার নিকট বলা যায় না। এমন কিছু আছে যা সবাই বুঝেও না । হ্যাঁ ঠিক বলেছেন, আপনার বক্তব্য সবাই নাও বুঝতে পারে। তবে সত্যিকারের জ্ঞাণীরাতো কখনো মুখ দেখে বক্তব্য দেয় না, সাহস করে বললাম আমি। উৎফুল্লচিত্তে আমাকে বললেন, তোমার জানার আগ্রহ আছে, খুশি হলাম। আগামী সপ্তাহে বাড়ী এসে তোমাকে নিয়ে বসবো। পরের সপ্তাহে হুরমুজ ভাই ও ছোহরাব কাকাকে সাথে নিয়ে হাজির হলাম শামসুল হক চিশতির নিকট। তিনি আলোচনা শুরু করলেন জিকির দিয়ে। কিছু মানুষ বিদ্রুপ করে বলে, ফকিরেরা জিকির করে, বেড়া ভাইঙ্গা বাইড়ে পড়ে। জিকির না করে, জিকিরের মাহফিলে না গিয়ে, জাকেরিনদের সুহবতে না বসে শুধু শুধু জিকির নিয়ে মন্তব্য ঠিক নয়। জিকির আল্লাহর পছন্দনীয় একটি ইবাদত। জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহকে বেশি স্বরণ করা যায়। চাই জিকির সম্মিলিত হোক, একাকি হোক, উচ্চস্বরে হোক বা নিচুস্বরে হোক। তিনি বলেন, প্রিয়ার দিদারে ধন্য যারা, তাদের কাছে বসতে হবে। তাদের মুখ থেকে শুনতে হবে, তার সৌন্দর্যের আলোচনা, মহিমার আলোচনা, কুদরতের আলোচনা ও করুনার আলোচনা। প্রেমীকদের সান্নিধ্যে বসলে তার অন্তরেও জ্বলে উঠবে প্রেমের আগুন। আগুন যায় ঘরে থেকে ঘরে, প্রেম যায় অন্তর থেকে অন্তরে। তাই এমন ব্যক্তিদের সান্নিধ্য গ্রহণ করতে হবে যাদের অন্তরে হরদম জ্বলে প্রেমের আগুন। শামসুল হক চিশতি এলাকার তরিকত প্রেমীদের এক প্লাটফর্মে আনার জন্য বহু চেষ্টা করেছেন। তিনি মনে করতেন নিজেদের মধ্যে বিভেদ ও বিভাজন তরিকতকে দুর্ভল করে ফেলেছে। বিভেদ ও বিভাজনের হাত থেকে তরিকত প্রেমীদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারলে সুন্দর মনের মানুষ সৃষ্টি হবে। কুলষিত দুর করে সমাজে সঠিক এলমেতাছাউফ ও সুফিবাদের জাগরণ সৃষ্টি করা যাবে। করা যাবে তরিকতের উপর চাপিয়ে দেওয়া কলঙ্ক মোচন। তরিকত প্রেমীদের নিকট শামসুল হক চিশতির স্মৃতি ও অবদান চির অম্লান হয়ে থাকবে। তার ষষ্ঠ ওফাত বার্ষিকীতে আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ঘাটাইলে জঙ্গিবাদ বিরোধী মানববন্ধন

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
“সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ ও নুাশকতার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াও বাংলাদেশ” এই শ্লোগান নিয়ে গতকাল শনিবার সকালে ঘাটাইল প্রেস ক্লাব’র উদ্যেগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন- ঘাটাইল প্রেস ক্লাব’র সভাপতি খান মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান, বিশিষ্ঠ লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক জুলফিকার হায়দার, এবিএম আতিকুর রহমান, আল-আমিন হোসেন বিপ্লব, আব্দুল লতিফ। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  শিক্ষক ও পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন.

বুধবার, আগস্ট ১৭, ২০১৬

ঘাটাইলে জেএসসি পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়

ঘাটাইলে অর্ধশতাধিক স্কুল ও মাদ্রাসায় জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘাটাইলের ৫৯টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ৩২টি দাখিল মাদ্রাসার মধ্যে অধিকাংশেই ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। বেশির ভাগ বিদ্যালয়েই সরকারের বিধিমালা মানছে না।
জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত বোর্ড ফি ধরা হয়েছে ২৫০ টাকা। ১৪শ’ থেকে ২৪শ’ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনো স্কুলে সাড়ে ৪ হাজার টাকাও নেয়া হয়। সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে এমনটাই জানা গেল শিক্ষার্থীদের কাছে। ঘাটাইলে কুশারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার্থী মৌসুমী জানায়, তার কাছ থেকে ১৪শ’ টাকা নেয়া হয়েছে। তবে কোনো রশিদ দেয়া হয়নি। একই ভাবে রুমি, রোকন, জসিম, মামুন ও রানার কাছ থেকেও ১৪শ’ টাকা করে নেয়া হয়েছে। তবে কাউকেই টাকা নেয়ার রশিদ দেয়া হয়নি। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন জানান, বিভিন্ন খরচাদিসহ এই টাকা নেয়া হয়েছে। রশিদ দেয়া হয়নি কেন জানতে চাওয়া হলে বলেন, কেরানী সময় পান না, ক্লাস টিচার ফরম পূরণের টাকার রশিদ কাটবে। সে একটু ব্যস্ততার মধ্যে থাকায় রশিদ কাটতে পারছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত দিনে কোনো পরীক্ষার ফরম পূরণেই রশিদ দেয়া হয়নি। অতিরিক্ত এ টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কোনো উন্নয়ন কাজও করা হয় না। জানতে চাওয়া হলে ঘাটাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম শামসুল হক বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ২৫০ টাকা বোর্ড ফি’র বেশি নেয়ার কথা না। এ বিষয় নিয়ে গত বৎসর শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এরকম সিদ্ধান্ত হয়। তারপরও কেউ বেশি নেয় কিনা জানি না অভিযোগ পেলে দেখব। মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি তাহাজ্জত হোসেন বলেন, কারো বকেয়া বেতনসহ আদায় করা হয়। আবার কোনো কোনো স্কুলে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বেতন নিচ্ছে। ফলে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্তও নেয়া হয় বলে তিনি জানান।