বৃহস্পতিবার, মে ০২, ২০১৯

গরমে হঠাৎ সর্দি-কাশি হলে করণীয়

প্রচণ্ড গরমে আবহাওয়ার আকস্মিক ও দ্রুত পরিবর্তন, ঘাম ও রোদের তাপ সব কিছু মিলিয়ে সকলের উঠছে নাভিশ্বাস। গরমের এই সময়ে সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। প্রথমে শুরু হচ্ছে নাক দিয়ে ক্রমাগত পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাঁচি-কাশি, মাথাব্যথা অথবা হালকা জ্বর দিয়ে।

এছাড়া যাদের এলার্জি, হাঁপানি বা ফুসফুসে সমস্যা থাকে তাদের ক্ষেত্রে নানান জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। সাধারণত এসব সর্দি কাশি ভাইরাস জনিত কারণে হয়ে থাকে। তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ভাইরাসের দ্রুত বংশ বৃদ্ধি হয় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাস হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে নাক-মুখ থেকে ছড়ায়।

আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে পাশাপাশি অবস্থানের কারণে কিংবা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র থেকেও সহজেই সংক্রামণ হতে পারে। তবে এই ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি ভালো হয় ৭-১০ দিনের মধ্যেই। জ্বর কিংবা শারীরিক অবসন্নতার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ সেবন করা যেতে পারে।

চলুন দেখে নিই গরমে হঠাৎ সর্দি-কাশি হলে করণীয়গুলো কি কি –

আদার সাথে নুন বা তুলসী খাওয়া

একটি আদার টুকরোকে ছোট ছোট করে কেটে তার সাথে নুন মেশাতে হবে। তারপর ওই নুন মেশানো আদা মুখে নিয়ে কিছুক্ষন চিবোতে হবে। এই পদ্ধতিটি আমাদের সর্দি কাশি দূর করতে খুবই কার্যকরী। আবার আদা এবং তার সাথে তুলসী পাতা থেঁতো করে মধু মিশিয়ে আর একটি মিশ্রণ তৈরি করা যায়। এই মিশ্রনটি প্রচন্ড কার্যকরী সর্দি কাশি দূর করার জন্য। আদার সাথে তুলসী এবং মধু মিশিয়ে খেলে সর্দি কাশি দূর হওয়ার সাথে সাথে আমাদের গলা ব্যাথ্যাও দূর হয় এবং আমরা গলায় আরাম অনুভব করি।

তুলসী পাতা:

জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথা, ব্রঙ্কাইটিস, ম্যালেরিয়া এবং আরও অনেক রোগের উপশমকারী উপাদান হিসেবে তুলসী পাতার রস বেশ উপকারী। এতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিবায়োটিক এবং আরও অনেক উপাদান রয়েছে। ৮ থেকে ১০টি তুলসী পাতা ভালো করে জলে ধুয়ে নিন। তারপর গরম জলে বেশ কিছুক্ষণ ধরে পাতাগুলো ফোটান। সেই ফোটানো জল এক কাপ করে রোজ খান।

গরম দুধের মধ্যে হলুদ মিশিয়ে খেলে

দুধকে গরম করে তার মধ্যে হলুদ মেশাতে হবে। এই হলুদ দেওয়া দুধ আমাদের সর্দি কাশি দূর করতে সাংঘাতিক ভাবে উপকার করে। এই মিশ্রণটি খেলে খুব তাড়াতাড়ি আমরা সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারি। কাশি দূর করতেও এই হলুদ সহ দুধ খাওয়া খুব উপকারী। গরম দুধ আমাদের গলায় আরাম এনে দেয় এবং হলুদ আমাদের সর্দি কাশি দূর করে।

দারুচিনি:

গলা ব্যথা, ঠাণ্ডা লাগা, কফ সারাতে দারুচিনি খুবই উপকারী। এতে অ্যান্টি ফাংগাল, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ভাইরাল উপাদান রয়েছে। এক চামচ দারুচিনির গুঁড়ো মধুর সঙ্গে মিশিয়ে তিন দিন দুই থেকে তিন বার খান।

স্টিম নিলেও সর্দি কাশি দূর হয়

আমাদের সর্দি সারানোর একটি চট জলদি উপায় হল স্টিম নেওয়া। স্টিম নেওয়ার জন্য একটি পাত্রে গরম জল নিতে হবে এবং তার মধ্যে চা গাছের তেল বা ট্রি অয়েল মেশাতে হবে। এরপর আমাদের মুখটি ওই গরম জলের উপর রেখে মাথার উপরে তোয়াল দিয়ে ঢাকা দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যে হিটপ্রুফ বাটি নেওয়া হয় যাতে গরম বাটি আমাদের ত্বকে না লাগে। খুব বেশি গরম লাগলে কিছুক্ষনের জন্য তোয়ালের থেকে বেরোনো যেতে পারে। এই পদ্ধতিটি দিনে ২-৩ বার ১৫-২০ মিনিট করলেই আমরা আমাদের সর্দি কাশি দূর করতে পারি খুব তাড়াতাড়ি।

গরম জলের সাথে মধুর এবং লেবুর রস মিশ্রিত সিরাপ

একটি পাত্রে গরম জল নিতে হবে। সেই গরম জলে ১ চামচ লেবুর রস এবং ২ চামচ মধু মেশাতে হবে। এই সিরাপটি বানিয়ে দিনে অন্তত একবার খেতে হবে। এর ফলে আমাদের ঠান্ডা লাগা কমে যায় এবং তার সাথে সর্দি কাশি, মাথা ব্যাথাও দূর হয়। এই মিশ্রণটি আমাদের হজম করার শক্তিও বাড়ায়। তাহলে ঠান্ডা লাগলে এই সিরাপটি খেয়ে একবার তার গুণের পরীক্ষা করে নেওয়া করা উচিত।

ধনে বীজ:

বিভিন্ন রান্নায় আমরা ধনে বীজ হামেশাই ব্যবহার করে থাকি। যে কোনও রান্নায় আলাদা স্বাদ যোগ করে এটি। শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ানোই নয়, ভাইরাল ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে এটি খুবই উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এটি সাহায্য করে।

রসুন:

এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা সর্দি-কাশি দূর করতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়া, অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিফাংগাল উপাদান রয়েছে, যা সংক্রমণ রুখতে পারে। চাইলে চার-পাঁচ কোয়া রসুন ঘিয়ে নেড়ে নিয়ে গরম থাকতে থাকতে খেয়ে নিন। ঘিয়ে ভাজা রসুন স্যুপের সঙ্গে মিশিয়ে খেলেও আরাম পাবেন।

উল্লেখিত সব কটি উপায়ই কিন্তু খুবই কার্যকরী। তা ছাড়াও আরো কয়েকটি উপায় আছে যা ঠান্ডা লাগলে তার চিকিৎসা জন্য করা যেতে পারে যেমন প্রচুর পরিমানে পানি খাওয়া, গরম চা, কফি বা দুধ খাওয়া, নাক পরিষ্কার করা ইত্যাদি। এই কয়েকটি পদ্ধতি মেনে চলার পরও বহু দিন ধরেও যদি সর্দি কাশি না কমে তাহলে আমাদের অবশ্যই উচিত ডাক্তার দেখানো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷