শনিবার, অক্টোবর ০৬, ২০১৮

কোথায় পাবেন একটুখানি সাহায্য ঘাটাইলের নিঃসন্তান ফাতেমা

টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলার নবগঠিত লক্ষিন্দর ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ডের মুরাইদ (চাকপাড়া) গ্রামের মৃতঃ একাব্বর আলীর স্ত্রী মোছাঃ ফাতেমা (৫১) দীর্ঘ ৩৫ বৎসর সংসার করেও নিঃসন্তান রয়ে গেছেন। বছর তিনেক আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর দু’কূলে কেউ নেই তার ভালোমন্দে। বাবা মা মারা গেছেন বহু আগেই। এখন যেন তার আর কোন ভরসা নাই। কাজ করে খাওয়ার মত শক্তি সামর্থ না থাকলেও লজ্জায় ভিক্ষাবৃত্তি করতে পারেন না। এতো কষ্টে থাকার পরেও এখনো কোন প্রকার সরকারী সহায়তা পাননি ফাতেমা।

জানা যায়, ফাতেমার স্বামীর রেখে যাওয়া পুরাতন ভিটাই তার এখন থাকার একমাত্র স্থান। প্রায় দিনই ক্ষুধার জ্বালায় একা ঘরেই কেঁদে দিন কাটিয়ে দেন ফাতেমা। সূর্যের আলো শেষে রাত নামলেই ক্ষুধার জ্বালার সাথে যোগ হয় আরও বেশ কিছু। একা বাড়িতে নাই কোন টিউবয়েল বা টয়লেটের ব্যবস্থা, নাই বৈদ্যুতিক সংযোগ বা কুপি জ্বালানোর তেল, নাই থাকার উপযোগী বাসস্থল ও ঘুমানোর উপকরণ। বৃষ্টি এলে সারা রাত ঘরের ভিতর ভাঙা একখানা ছাতা মাথায় দিয়ে ফাতেমা মাটির তৈরি ঘরের এক কোনেই কাটিয়ে দেন রাত।

সরেজমিনে ফাতেমার ঘরে গিয়ে দেখা যায়, স্বামীর রেখে যাওয়া মাটির দেয়ালের দু’চালা পুরাতন টিনের ঘরে উপর দিকে তাকালেই আসমান দেখা যায়। টিনগুলো একেবারেই মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

ফাতেমা জানান, কাজ করে খাওয়ার মত শক্তি সামর্থ নেই। লজ্জায় ভিক্ষাবৃত্তি করতে পারেন না। এতো কষ্টে থাকার পরেও এখনো পাওয়া যায়নি কোন প্রকার সরকারী সহায়তা। পাননি বিধবা কার্ড, মিলেনি বয়স্ক ভাতা কার্ড, নেই বিজিএফ-বিজিডি’র কার্ড, কোন বিত্তবান সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেননি।

নির্বাচন এলেই নানা প্রতিশ্রুতিতে আশায় বুক বাধেন ফাতেমা। এখন তার আশা নিভু নিভু। তার করুন আর্তনাদ ধ্বনি পৌছায় না সরকার দলীয় কোন নেতা-কর্মী, স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার বা কোন সমাজ সেবকের কাছে। বহু নেতা কর্মীর হাতে পায়ে ধরেও কোন লাভ হয়নি। তাই এখন ক্ষুধার জ্বালায় অন্ধকার ঘরই তার নিত্য দিনের সাথী।

এমতাবস্থায় কার কাছে, কোথায় গেলে পাবে সাহায্য- এমনটাই প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা ফাতেমার।