বুধবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮

নৌকাকে বিজয়ী করতে ঘাটাইল আ.লীগ এখন অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ

আবারো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা৷ এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় জেল হাজতে থাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা ও অভ্যন্তরীন কোন্দল দেখা দেয়৷ ফলে প্রায় ডজন খানেক নেতা এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে মনোনয়ন পান কারান্তরিন এমপি রানার পিতা আতাউর রহমান। পরে এখন সকল দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে একযোগে কাজ করে চলছেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে ১২ জন প্রার্থী নৌকার জন্য মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেন৷ তারা হলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমানুর রহমান খান (রানা), রানার পিতা আতাউর রহমান খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু, বিএসএমএমসিবি’র সাবেক ভিসি ডাঃ কামরুল হাসান খান, সদ্য দলে আসা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ তুহীন আব্দুল্লাহ, ঘাটাইলের প্রয়াত সংসদ সদস্যর ছেলে তানভীর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিয়য়ক সম্পাদক এস আকবর খান, সোনালী ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ডঃ নুরুল ইসলাম, সুপ্রীমকোর্টের সহকারি এ্যার্টনী জেনারেল শহিদুল ইসলাম, তেজগাঁও সরকারি কলেজের বাংলা প্রভাষক ডঃ অধীর চন্দ্র সরকার, জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মোঃ শরিফ হোসেন প্রমুখ৷

তবে সরকার ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংস্থার তথ্য ও জরিপে সবার থেকে অনেক এগিয়ে থাকেন বর্তমান সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা৷ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত ২০ নভেম্বর (মঙ্গলবার) বলেন, “টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আমানুর রহমান খান রানা মনোনয়ন পাচ্ছেন না, পাচ্ছেন আতাউর রহমান খান। টাঙ্গাইলের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা একাধিক জরিপে এগিয়ে। আপনারা চাইলে আমি জরিপের ফল দেখাতে পারি। তবু কনট্রভার্সি (বিতর্ক) এড়াতে আমরা এবার তাকে মনোনয়ন দিচ্ছি না। যদিও তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ তার ভাইদের বিরুদ্ধে।”

পরবর্তীতে মনোনয়ন বোর্ড ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে মনোনয়ন দেয়া হয় এমপি রানার আতাউর রহমান খানকে৷

তারপর থেকেই ঘাটাইল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আতাউর রহমান খানকে সমর্থন দিতে থাকেন৷ শেষ পর্যন্ত এমপি রানার বিরোধী শিবিরের উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু সকল দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে নৌকার মাঝি আতাউর রহমান খানকে সমর্থন জানিয়ে দীর্ঘ ১০ বছরের অভ্যন্তরীন কোন্দলের ইতি টানেন এবং ঘাটাইলে একযোগে নৌকার পক্ষে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন৷

এই দীর্ঘ সময়ের অভ্যন্তরীণ কোন্দল দৃশ্যত নিরসনের ফলে স্বস্তিতে রয়েছেন এই আসনের আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মি ও সমর্থকরা৷

এ বিষয়ে নৌকার মনোনীত প্রার্থী আতাউর রহমান বলেন, জননেত্রী আমাকে বৃদ্ধ বয়সে নৌকার মাঝি করে পাঠিয়েছেন, তাই আমি এই বয়সে সকল ভেদাভেদ ভুলে সকলে মিলেমিশে নৌকাকে বিজয়ী করে শেখ হাসিনাকে আসনটি উপহার দিতে চাই৷

উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, জননেত্রী যাকে নৌকার মাঝি মনোনীত করেছেন সকলে মিলে তার পক্ষে কাজ করে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে চাই৷


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷