চলছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। আর কয়েকদিন পর মহান ১৬ই ডিসেম্বর। জাতি উদযাপন করবে তাদের অর্জিত বিজয়ের আরেকটি দিবস। এবার এই মাসে জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত থাকায় বিজয় উৎসব ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। বাঙ্গালীর এই বিজয় উৎসবকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার নানান জায়গায় দেখা যাচ্ছে ফেরি করে জাতীয় পতাকা বিক্রির ধুম। জনগণ তাদের চাহিদা মোতাবেক কিনে নিচ্ছেন বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা। আবার কেউ দর্জি দিয়ে বানিয়েও নিচ্ছেন প্রাণের পতাকা।
ঘাটাইল পৌর এলাকার কলেজ মোড়ে দেখা মেলে পতাকা বিক্রেতা মোঃ কামাল হোসেনের। সে ঢাকার গাজীপুর থেকে পতাকা পাইকারি মূল্যে কিনে এনে ঘাটাইলের আনাচে কানাচে ঘুরে ঘুরে সেগুলো বিক্রি করছেন। এতে করে জনগণ সহজেই তাদের চাহিদার যোগান দিতে পারছেন। আর এসব পতাকা সঠিক মাপ ও রঙের থাকায় সবাই স্বস্তি বোধ করছেন।
আসন্ন বিজয় দিবস উদযাপনের উন্মাদনা শুধু ঘাটাইল পৌর এলাকাতেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলাটির প্রতিটা ইউনিয়ন থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত। এই উম্মাদনা দোলা দিয়ে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা এবং গোটা দেশটাকেই। সাথে নির্বাচনী গরম বাতাস স্বাধীনতাপ্রেমীদের মনে বিশেষ দোলা দিয়ে যাচ্ছে।
১৬ই ডিসেম্বরের দিন-তারিখ কাছেই চলে আসায় এখন জমে উঠেছে পতাকা বিক্রির মৌসুমি ব্যবসার রমরমা বাজার। কামাল হোসেনকে দেখা যায় একটা বাঁশে (স্ট্যান্ড) করে বাংলাদেশের নানা মাপের পতাকা সাজিয়ে হেঁটে হেঁটে বিক্রি করে চলছেন ঘাটাইলের অলিগলিতে। এছাড়া উপজেলার ছোট-বড় বিপণিবিতানও ছেয়ে গেছে বাংলাদেশের পতাকায়। সঙ্গে রয়েছে হাতের ব্যান্ড, মাথার ব্যান্ড সহ বাহারি সব পণ্য। ক্রেতাদের সরব উপস্থিতিতে ইতোমধ্যে জমে উঠেছে বেচাকেনা।
প্রতি বছর এই ডিসেম্বরে এমনই ক্ষুদ্র বাণিজ্যের সূচনা হয়। ব্যতিক্রম নয়। ঢাকার গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, শ্যামপুর, সদরঘাট, মিরপুর, গাবতলী, গাজীপুর, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
পতাকা বিক্রেতা কামালের কাছে পাওয়া যাচ্ছে ছোট আকারের বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। অনেকেই সেটি ১০ টাকায় কিনে তাদের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলে লাগিয়ে রাখছেন। মোটরগুলো ছুটে চলার সময় বাতাসে পতাকার দোল খাওয়ার দৃশ্য দেখতে খারাপ লাগে না। অনেক সিএনজি, বাস, ট্রাকেও এখন দেখা মিলছে এই ছোট আকারের পতাকার। প্রাণের বাংলাদেশের পতাকা টাঙিয়ে মানুষের আত্মতৃপ্তি লাভের এই বিষয়টি সার্বজনীন, নিঃস্বার্থ ও পবিত্র।
পতাকা বিক্রেতা কামালের সাথে কথা বলে জানা যায়, ডিসেম্বর মাস শুরু থেকেই চলে বেচাবিক্রি। যতই দিন যাবে, ততই বিক্রি বাড়বে। তার কাছে ১০ টাকার থেকে শুরু করে দুইশত টাকায় বিক্রি করার মতো পতাকা রয়েছে বলে তিনি জানান। বিশেষ করে ১৬ই ডিসেম্বর ও এর দুই/এক দিন আগে বিক্রি ভালো হয়।
মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার শামছু শিকদারের ছেলে পতাকা বিক্রেতা কামাল আরও জানান, বছরের অন্যান্য দিন অন্য কাজ করি। সামনে বিজয় দিবস, তাই বাড়তি আয়ের আশায় গাজীপুর থেকে পতাকা কিনে এনে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করছি। শুধু ঘাটাইলেই নয়, আশেপাশের অন্যান্য এলাকাতেও যাবো পতাকা বিক্রির জন্য।
পতাকা কেমন বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে কামাল বলেন, বেচাকেনা শুরু হয়েছে। অনেকে দাম জানতে চাইছেন। দামে মিললে কিনেও নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত (১২ ডিসেম্বর, ২০১৮) এক হাজার টাকার পতাকা বিক্রি করেছি। তবে এখন কেবল শুরু হয়েছে, সামনে বিক্রি আরও বাড়বে। এই চালানে প্রায় ১০ হাজার টাকার পতাকা এনেছেন বিক্রি করার জন্য বলে তিনি জানান।
পতাকা কিনতে আসা সাদিক খান নামে এক ছাত্রের সঙ্গে কথা হলে তিনি ঘাটাইলডটকমকে বলেন, এই পতাকার জন্য বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন। আর এই পতাকা কেনার ফলে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি।
পতাকা তৈরির জন্য কাজের ফুরসত নেই পোশাকের কারিগর দর্জির দোকানগুলোতে। সব এলাকায় কমবেশি সব দর্জি পতাকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পতাকার এ চাহিদায় মৌসুমি ব্যবসা করছেন কয়েক হাজার মানুষ।
সূত্র: ঘাটাইলডটকম

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷