ইমরুল হাসান বাবু, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌর এলাকায় অবস্থিত ঘাটাইল গণ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সরকারী নীতিমালা উপেক্ষা করে স্কুলের আত্নসাতকৃত কোটি টাকা হালাল করতে স্কুলের অভ্যন্তরে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কতিপয় সদস্যদের সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ের নিয়ম বহির্ভূত এ ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছেন।
সরেজমিনে ঘটনার বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ে গেলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে প্রধান শিক্ষক কৌশলে পালিয়ে যায়। মুঠো ফোনে বারবার ফোন করেও কোন সদুত্তর মেলেনি। এ সময় বিদ্যালয় পরিচালক কমিটির সদস্য আমিনুর রহমান বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যালয়ের উত্তর পূর্ব পাশের ভবনটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় এবং বিদ্যালয়ের বেশ কিছু টাকা গচ্ছিত থাকায় ওই টাকা দিয়ে আমরা একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে ওই ভবন নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছি। স্কুল জাতীয়করণ হবার পর এটি সরকারি বিধি-বিধান পরিপন্থি বলেও তিনি স্বীকার করেন। এছাড়াও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শহীদুল ইসলাম ও বাবুল জানান, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং জানতে চাইলে তাদের এ বিষয়ে চুপ থাকতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহীদুজ্জামান খান শহীদ বলেন, পৌরসভার অভ্যন্তরে কোন পাকা ভবন তৈরি করতে প্লান পাশ পূর্বক পূর্বোনুমতি নেয়ার বিধান থাকলেও রহস্যজনক কারণে তারা কোন অনুমতি ছাড়াই গোপনে নির্মার্ণ কাজ শুরু করেছেন। অদ্যবধি অনুমতি নেয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের মোটা অংকের অর্থ লোপাট করতে তারা এ অবৈধ পন্থা অবলম্বন করেছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহীদুল ইসলাম লেবু বলেন, সরকারী বিধি বিধান মেনেই আমরা ওই ভবনটি মেরামত করেছি। আমরা কোন নতুন ভবন তৈরি করিনি।
অপরদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সদস্য বলেন, প্রধান শিক্ষক একজন লম্পট, নারী লোভী। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ওই ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম শামছুল হক বলেন, বিদ্যালয় সরকারিকরন হওয়ার পর বিধি মোতাবেক কোন নতুন ভবন নির্মাণের নিয়ম নেই। যদি কোন প্রতিষ্ঠান এরূপ করে থাকে তবে তা আইন বহির্ভূত।
