আব্দুল্লাহ মাসুদঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভা নির্বাচন জমে উঠেছে। এখন রীতিমত ভোটজ্বরে আক্রান্ত পাড়া-মহল্লা আর চা’র স্টলগুলো। সবখানেই বাজছে ভোটের ‘গান’। নির্বাচন এলাকার রাজপথ থেকে মেঠোপথ ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের সাদা-কালো বাহারি সাইজের পোস্টারে। ঘাটাইল পৌরসভার সবখানে এখন একই দৃশ্য। তবে নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ও ভোটাররা আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে। ত্রিমুখী এ নির্বাচনে তারা সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন। কয়েকটি কেন্দ্রে কারচুপির আশঙ্কা করছেন বিএনপি প্রার্থী এবং এমপি আমানুর রহমান খান রানার সমর্থিত প্রার্থী। অপরদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অভিযোগ টেলিফোনে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে।
রোববার (৭ আগষ্ট) ঘাটাইল পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিগত ’৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঘাটাইল পৌরসভায় এটি চতুর্থ নির্বাচন। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী (নৌকা) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শহিদুজ্জামান খান ভিপি শহিদ, বিএনপি থেকে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা (ধানের শীষ) এবং উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) হিসেবে অংশ নিয়েছেন রফিকুল ইসলাম (নারিকেল গাছ)। এছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে ২৬জন সাধারণ কাউন্সিল প্রার্থী এবং ৭জন সংরক্ষিত মহিলা প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রার্থী ও প্রার্থীর সমর্থকরা হাতে হাতে লিফলেট নিয়ে ভোটের মাঠে সবশক্তি নিয়ে নেমে পড়েছেন। ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি প্রার্থীরা দিচ্ছেন নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। এবার পৌরসভা নির্বাচনে ভোটাররা অজানা আতঙ্কে রয়েছেন। এর কারণ হলো- বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শহিদুজ্জামান খান ভিপি শহীদ। আর স্থানীয় এমপি আমানুর রহমান খান রানা সমর্থিত উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন ধরে এমপি আমানুর রহমান খান রানা আত্মগোপনে রয়েছেন। কিন্তু তার সমর্থিতরা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন না করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। এতে করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিপাকে পড়েছেন। ঘাটাইল পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে ’৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। সে নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় তাদের কোন প্রার্থী ছিল না। পরবর্তীতে ২০০৪ ও ২০১১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জয়লাভ করেন। বিএনপি তার বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে তৎপর। এলাকার সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদসহ সব নেতারাই দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কোন্দলের মধ্যে থেকেও ফারুক হোসেন ধলা (ধানের শীষ) নিয়ে নির্বাচন করছেন। বিএনপি সমর্থিতরা সঙ্কিত সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন নিয়ে।
নির্বাচনে পাঁচটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির আশঙ্কা করছেন বিএনপি প্রার্থী ফারুক হোসেন ধলা। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খায়েরপাড়া দাখিলি মাদ্রাসা, ঘাটাইল উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বানিয়াপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং ঝড়কা এমএ সাত্তার হাই স্কুল। ফারুক হোসেন ধলা জানান, কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রির্টানিং অফিসারকে জানিয়েছেন। এমপি রানা সমর্থিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জানান, কয়েকটি কেন্দ্রে কারচুপি হতে পারে। তাই বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি দাবি জানান। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ভিপি শহীদ জানান, নির্বাচনে তাদের পক্ষ থেকে কারচুপি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে গতকয়েক দিন ধরে মুঠো ফোনে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার জন্য একটি মহল এ কাজ করছেন বলে তিনি জানান। হুমকির ব্যাপারে তিনি বৃহস্পতিবার ঘাটাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, নির্বাচন পূর্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। নির্বাচনও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের সকল ব্যবস্থা তারা নিয়েছেন।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, প্রতিটি কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ করতে যা যা করা দরকার তা সবই করা হবে।
ঘাটাইল পৌরসভায় এবার নির্বাচনে তিনজন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও নয়টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৬জন এবং তিনটি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ওয়ার্ডে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ পৌরসভায় ১৯ হাজার ৮৫৩জন ভোটার রয়েছেন।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
অামাদের ঘাটাইল সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷