বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

প্রশাসনকে সহায়তায় থাকবে সেনাবাহিনী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ উপলক্ষ্যে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি একথা জানান। ভাষণটি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়।

সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৭ লাখ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ৬ লক্ষাধিক পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যকে নির্বাচনের আগে ও পরে মোতায়েন করা হবে।’

নূরুল হুদা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। তারা আইনানুগ ও নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে সুদৃঢ় থাকবেন। তাদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও একাগ্রতার উপর বিশেষ দৃষ্টি রাখা হবে।’

দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সিইসির ঘোষিত তফসিল অনুসারে, আগামী ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে। ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিরা মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ নভেম্বর। ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। আর প্রার্থিদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ৩০ নভেম্বর।

ছাত্রলীগের বাধায় ফিরে গেলেন কাদের সিদ্দিকী

টাঙ্গাইল শহরের শহীদ মিনারে একই স্থানে ছাত্রলীগের পাল্টা সভা ডাকায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর পথসভা পণ্ড হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার(৮ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় স্থানীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পথসভা করার কথা ছিল কাদের সিদ্দিকীর। জাতীয় ঐক্যফন্টে যোগ দেয়ার পর টাঙ্গাইলে পথসভার কথা ছিল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এই নেতার। কিন্তু সেটা তিনি করতে পারেনি।
পাল্টা-পাল্টি সভা ডাকার জের ধরে শহরের পৌর উদ্যানসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। ছাত্রলীগের দাবি, তারা কাদের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে কোনো পাল্টা সভা ডাকেনি। ঘটনাস্থলে তাদের পূর্বনির্ধারিত সভা ছিল।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে ফেরার পথে কাদের সিদ্দিকী শহরের শহীদ মিনারে পথসভা করতে চেয়েছিলেন। মির্জাপুরের গোড়াই পাড় হয়ে খবর পাওয়া যায়, শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের লোকজন দখল করেছে। এসময় পুলিশও শহীদ মিনার ও আশপাশে অবস্থান নেয়। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভার জন্য মাইক টানাতে বাধা দেয় ছাত্রলীগের লোকজন। কিন্তু কাদের সিদ্দিকী কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে দিতে চাননি। তাই তিনি সেখানে পথসভা করতে যাননি।
জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানাতে আগে থেকে ছাত্রলীগ একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শহীদ মিনারে। সেখানে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কোনো পথসভা ছিল বলে জানা ছিল না।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক সায়েদুর রহমান বলেন, কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্য দেয়ার মতো পরিবেশ সেখানে ছিল না। এজন্য হয়তো তারা পথসভা করেনি। নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সেখানে মোতায়েন ছিল।

প্রবাসীর লাশ নয়, কফিনে টাকা খোঁজে পরিবার


একটানা ৭ বছর বিদেশ থেকে আজই দেশে পৌঁছাল মরদেহ। বিমানবন্দরে নামানোর পরই খুব যত্ন করে এসি নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাসে করে আমাকে গ্রামের বাড়িতে আনা হলো। তখন প্রায়ই সন্ধ্যা। কান্না-কাটির ভিড় জমেনি। ভাবলাম আমাকে বাড়িতে নিয়ে কাঁদবে।
আগে থেকেই ভাই-বোন, বাবা-মাসহ গ্রামের অনেকেই আমাকে দেখার জন্য বাড়িতে বসে আছে। পাড়া-প্রতিবেশী, মাওলানাও এসে গেছেন। শুধু একজনের আসার বাকি। তার জন্যই সবাই অপেক্ষা করে বসে আছে।
বাহ! কয়েক বছর আগে বেকার বলে ঘৃণা করা মেয়েটাও আজ দেখি আমাকে দেখতে অধীর আগ্রহে বসে আছে। তার সঙ্গে কন্যা সন্তানও আছে। একদম আমার প্রেয়সীর মতই দেখতে। টানা টানা চোখ, তবে মুখটা কেমন জানি ফ্যাকাশে হয়ে আছে, মনে হয় ভয় পেয়ে এমন হয়েছে।
চারদিকে হইচই অবস্থা। তবে একটা জিনিস খেয়াল করলাম, সবাই আমাকে নয় আমার সঙ্গে আসা কফিনের ভেতর কিছু একটা খুঁজছে। খুব আগ্রহ নিয়ে! ভাবছে হয়তোবা মরদেহের সঙ্গে মোটা অংকের কিছু একটা এসেছে। হায়রে মানুষ বড়ই নিষ্ঠুর।
ছোট ভাইটা মনে মনে ভাবছে, যাক এবার ভাইয়ার সঙ্গে আসা বক্সের মধ্যে থাকা টাকাগুলো থেকে কিছু টাকা দিয়ে ভালো ব্যবসা শুরু করা যাবে!
নয়তোবা টাকাগুলো কাজে লাগানো যাবে। মরদেহের তো কোন দাম নেই। যদি মূল্য থাকতো তাহলে আমাকে রেখে দিত। কবর দিতো না।
আমার কষ্টের টাকা দিয়ে বিয়ে দেয়া বোনটাও ভাবছে, কীভাবে আমার সঙ্গে আসা টাকাগুলো থেকে কিছু টাকা দিয়ে স্বামীকে বিদেশ পাঠাতে পারবে। বা তাদের ঘর-বাড়ি দুই তলা থেকে পাঁচতলা হবে। কত চিন্তা আমাকে নয় টাকা নিয়ে।
আর বাবা ভাবছে, ছেলেটা সারাটা জীবন পরিবারের শান্তির জন্য কষ্ট করে গেল। কিন্তু ঠিকমতো পরিবারটা গোছাতে পারলো না। কিছুই হলো না ছেলেটাকে দিয়ে। কি হতভাগা এক ছেলে। কপাল খারাপ হলে যা হয়।
আর ঘরের একটা কোনায় বসে মা ভাবছে, কেউ খুলছে না কেনো এখনো কফিন বাক্সের ঢাকনাটা। কেউ দেখায় না কেন তাকে, আমার থেথলে যাওয়া চেহারাটা। শুধু মা আমার জন্য গুমরে গুমরে কাঁদছে।
আর আমি নিজেকে নিজেই মরা হাতির মত ভাবছি। মরার পর নাকি হাতির মূল্য লাখ টাকা। সবার কাছে এখন আমারও দেখছি তেমনি অবস্থা, কখনো কোথাও মূল্য পাইনি। যখন বিদেশে ছিলাম তখন আমার নাম ছিল কামলা। দেশের মানুষও সম্মান দিত না।
আজ পরিবারও দিলো না। যাক এখন আমি সব চাহিদা কিংবা দায়িত্বের বোঝা থেকে হাজার মাইল দূরে। এখন শুধু ঘুম হবে খুব শান্তির ঘুম।
চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা থেকে প্রতীকী লেখাটি দিয়েছেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালু

অবশেষে চালু হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত ঢাকা-টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন সার্ভিস। বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ট্রেন সার্ভিস চালু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (8 নভেম্বর) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে রেলমন্ত্রী মজিবুল হক ঢাকা-টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন সার্ভিসের উদ্বোধন করেন। প্রতিক্ষিত ট্রেনটি রাত সোয়া ৮ টার সময় টাঙ্গাইল ঘারিন্দা স্টেশনে এসে পৌছায়। এ সময় উৎফুল্ল জনতা স্টেশন এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্লোগান দেন সর্বস্তরের জনগণ।
এ সময় স্বাগত জানায়, টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি ছানোয়ার হোসেন, রেল মন্ত্রণালয়ের জেডিজি অপারেশন মুরাদ হোসেন, খুলনা-মোংলা প্রজেক্টের পিডি আফজাল হোসেন, পাকশীর ডিসিও আনোয়ার হোসেন, পাকশীর এসিও নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, সরাসরি ঢাকা-টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালু না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তো হতো জেলাবাসীকে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িতে থেকেও টিকিট মিললেও সিট পাওয়া যেতে না। এ কারণে চরম ভোগান্তিতে পোহাতে হতো যাত্রীদেরকে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত ঢাকা-টাঙ্গাইল সরাসরি ট্রেন সার্ভিস চালুর দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল সরাসরি ট্রেন সার্ভিস বাস্তবায়ন কমিটি বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছিল। এ অবস্থায় গত ৬ নভেম্বর রেল মন্ত্রণালয় ট্রেনের বিষয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল সরাসরি ট্রেন সার্ভিস বাস্তবায়ন কমিটিকে জরুরি সভার আহবান করে। পরে সেখানে রেলমন্ত্রী মজিবুল হক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল সরাসরি ট্রেন সার্ভিস বাস্তবায়ন কমিটির নেতৃবৃন্দের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ২০ মিনেটে ঢাকা-টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন সার্ভিস রেলমন্ত্রী উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত হয়।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত ঢাকা-টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন সার্ভিস বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ২০ মিনেটে রেলমন্ত্রী মজিবুল হক উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর টাঙ্গাইলবাসীর প্রত্যাশিত ঢাকা-টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালুর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এতে করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরও একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলো।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব পাড় হতে কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালুর ঘোষণা দেন। এরপর বিগত ২০১৪ সালে (২৩ অক্টোবর) রেলপথ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী রেল পথ মন্ত্রণায়লকে ঢাকা-টাঙ্গাইল সরাসরি কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালু করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু এরপরেও ট্রেন সার্ভিস চালু হয়নি। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল সরাসরি ট্রেন সার্ভিস বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে ট্রেনের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছিল।

যে কারণে আওয়ামী লীগ থেকে কামাল হোসেন বেরিয়ে গিয়েছিলেন

১৯৯১ সালের নির্বাচন। সে নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেল বিএনপি ১৪০ আসনে জয়লাভ করলেও আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছিল ৮৮ আসনে।

নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা নির্বাচনে `সূক্ষ্ম কারচুপির' অভিযোগ এনছিলেন। সে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন।

শেখ হাসিনা নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ আনলেও ড. কামাল হোসেন তখন বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। ড. কামাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তার আত্মজীবনী বিপুলা পৃথিবী বইতে লিখেছেন, এর জের ধরে ড. কামাল হোসেনের গাড়ি আক্রান্ত হয় এবং তিনি কটুকাটব্যের শিকার হন।

দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেয়া এক চিঠিতে ড. হোসেন নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে দলীয় কোন্দল এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন।

এর ফলে তার এবং শেখ হাসিনার মধ্যকার দূরত্ব অনেকটা প্রকাশ্য হয়ে উঠে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে ড. কামাল হোসেনের পক্ষে তখন আওয়ামী লীগে টিকে থাকা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল।

দলীয় বিভিন্ন ফোরামে তিনি ক্রমাগত তোপের মুখে পড়ছিলেন। সে সময়ের পত্র-পত্রিকা দেখলে এ ধারণাই পাওয়া যায়।

সে সময় আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে আকস্মিকভাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সবগুলো জেলার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দেন। সে চিঠিতে তিনি দলের ভেতর ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে সজাগ থাকার জন্য সতর্ক করে দেন।

শেখ হাসিনা সে চিঠিতে লেখেন, `একটি মুখোশ-ধারী চক্র দলে ফাটল ধরাবার চেষ্টা করছে।... নানা কৌশলে, সস্তা, সেন্টিমেন্টমূলক বক্তব্য দিয়ে প্রকাশ্যে -অপ্রকাশ্যে আজ আমার ও আওয়ামী লীগের ইমেজকে খাটো করা হচ্ছে।'

সে চিঠিতে কারো নাম উল্লেখ না করা হলেও, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ধরে নিয়েছিলেন যে ড. কামাল হোসেন সে চিঠির লক্ষ্যবস্তু।

১৯৯২ সালের মার্চ মাসের প্রথম দিকে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে বর্ধিত সভায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ড. কামাল হোসেন।

ড. হোসেন হয়তো বুঝতে পারছিলেন তাকে ভিন্ন পথ দেখতে হবে। সেজন্য তিনি নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি মঞ্চ তৈরির চিন্তা-ভাবনা করতে থাকেন। সূত্র: নয়া দিগন্ত

ধনবাড়ীতে সাজেশন দিতে ডেকে নিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গণধর্ষণ

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গণধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। পরীক্ষার সাজেশন দেয়ার প্রলোভনে ধনবাড়ী নওয়াববাড়ী লিচু বাগান ছাত্রাবাসের ১১ শিক্ষার্থী ওই ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় গণধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে ধনবাড়ী থানায় মামলাটি করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


ধনবাড়ী থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানান, গত ২৭ অক্টোবর মোবাইলে ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার সাজেশন দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নেয় ধনবাড়ী নওয়াববাড়ী লিচু বাগান ছাত্রাবাসের ওই শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ওই শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা।

পরদিন সকালে মেয়েটিকে ধর্ষণের এ ঘটনা কাউকে না বলার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এমনকি এ ঘটনা কাউকে জানালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধর্ষণের দৃশ্য ছেড়ে দেয়ারও হুমকি দেয় তারা। পরে মেয়েটি বাসায় গিয়ে বাবা-মায়ের কাছে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।

পরবর্তীতে ওই আসামিরা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দিয়েও ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এদের মধ্যে ৭ জন ধনবাড়ী সরকারি নওয়াব ইনস্টিটিউশন উচ্চ বিদ্যালয় ও ৩ জন ধনবাড়ী কলেজিয়েট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এবং ১ জন ধনবাড়ী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী বলেও জানায় পুলিশ। তবে গ্রেফতার স্বার্থে ওই শিক্ষার্থীদের পরিচয় জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে থানা পুলিশ।

ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফেসবুকে ভিডিও পোষ্ট করে আয়ের সুযোগ

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য আয়ের সুযোগ উন্মোচিত করেছে। এখন থেকে ফেসবুক পেজে মানসম্মত ভিডিও পোস্ট করে অর্থ আয় করতে পারবেন ব্যবহারকারী ও সৃজনশীল নির্মাতারা।

গতকাল বুধবার ফেসবুকের নিজস্ব সাইটে এক ব্লগ পোস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সুবিধা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। মূলত ফেসবুক পেজে ভিডিও পোস্টে বিজ্ঞাপন দেখানোর ফিচার 'অ্যাড ব্রেকস' চালুর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আয়ের সুযোগ পাবেন। যেসব ভিডিও ফেসবুকের শর্ত পূরণ করতে পারবে, শুধু ওইসব ভিডিওতে অ্যাড ব্রেকস ফিচার যোগ করা যাবে। অ্যাড ব্রেকস চালু হলে ইউটিউব ও গুগলের মতোই ভিডিও চলাকালে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হবে। আর এ বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে ফেসবুকের আয়ের একটি অংশ পাবেন সংশ্নিষ্ট ব্যবহারকারী। 

তবে ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নয়; কেবল পেজ থেকে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। ফেসবুক পেজ থেকে আয়ের যোগ্য হতে হলে নূ্যনতম ১০ হাজার ফলোয়ার থাকতে হবে। পেজে বিগত ৬০ দিনে নূ্যনতম তিন মিনিট দৈর্ঘ্যের এমন একটি ভিডিও থাকতে হবে, যা কমপক্ষে ৩০ হাজার ভিউ হয়েছে এবং প্রত্যেকে অন্তত এক মিনিট সময় নিয়ে ভিডিওটি দেখেছেন। এসব শর্ত পূরণ হলেই কেবল ভিডিওটিতে বিজ্ঞাপন বসিয়ে আয় করা যাবে। 

বাংলার পাশাপাশি বিশ্বের আরও নয়টি ভাষায় সুবিধাটি চালু করেছে তারা। ভাষাগুলো হচ্ছে- আরবি, ইংরেজি, ফ্রেন্স, জার্মান, মালয়, পর্তুগিজ, স্প্যানিশ, তাগালগ ও থাই। ফেসবুক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৩২টি দেশ প্রাথমিকভাবে এ সুবিধার আওতায় এসেছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরও কয়েকটি দেশে এ সুবিধা চালু হবে। 

ফেসবুক জানিয়েছে, বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। প্রকাশক ও নির্মাতারা যখন অ্যাড ব্রেকসের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, সেই মুহূর্তেই তাদের আপলোড করা ভিডিওতে অ্যাড চালু করা যাবে। এ ছাড়াও যোগ্য হওয়ার পর ফেসবুক পেজগুলোতে একসঙ্গে একাধিক ভিডিও আপলোড করে ভিউ বাড়িয়ে বেশি আয় করতে পারবেন। 

'অ্যাড ব্রেকস' যোগ্যতা অর্জন ও ব্যবস্থাপনা এবং ন্যায্য অর্থ উপার্জন নির্ভর করবে কনটেন্টের ওপর। অ্যাড ব্রেকস সুবিধা যাচাই করতে এই ঠিকানায় fb.me/joinadbreaks, Creator Studio ঢুঁ মারতে পারেন। এখানে রয়েছে ফেসবুকের যোগ্য প্রকাশক ও নির্মাতাদের অ্যাড ব্রেকের মাধ্যমে আয় নিশ্চিত করতে প্রাথমিক গাইডলাইন। 

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ভাষা হিসেবে বাংলাভাষীদের জন্য নতুন এ ফিচার চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ফেসবুক ব্যবহারকারী ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এ সম্পর্কে সফল ফ্রিল্যান্সার ও ইন্টারনেট মার্কেটার আল আমীন কবির সমকালকে বলেন, বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল ভিডিও নির্মাতাদের আয়ের উৎস ছিল ইউটিউব। লাখো তরুণ ইউটিউবের জন্য ভিডিও তৈরি করেই আয় করছেন হাজার হাজার ডলার। ফেসবুক ভিডিও মোনেটাইজেশন চালু করায় এসব নির্মাতার জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশে ইউটিউবের চেয়ে ফেসবুকের ব্যবহারকারী বেশি হওয়ায় আমাদের সৃজনশীল নির্মাতারা এখন আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হবেন।

ঘাটাইলে উচ্ছেদ অভিযান ভূমিহীনদের কান্না

ছবি: প্রতিকী
মো. মাসুম মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক :  ভালোই চলছিল বিধবা কুবজান বেওয়ার (৬৫)-র সংসার। কয়েক বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর পুত্র সন্তানহীন তিন মেয়ে, কলেজ পড়ুয়া নাতনি আর মেয়ের জামাই নিয়ে তার সংসার। কিন্তু হঠাৎ করেই বিধিবহির্ভূতভাবে ভূমি অবমুক্ত করার নামে বিনা নোটিশে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো কুপজান বেওয়ার। নেই কোনো নিজস্ব এক খণ্ড জমি। বংশ পরমপরায় সরকারের পেরিফেরি ভুক্ত জায়গায় প্রায় শত বছর ধরে তাদের বাস। কষ্টের অনুভূতির কথা বলছিলেন কুপজান, যেদিন উচ্ছেদ অভিযানে ঘর বাড়ি ভাঙা হলো মনে হয়েছিল বুকের পাঁজরের হাড়গুলো ভাঙা হচ্ছে। কোথায় থাকবো, কি করবো, মাথা গোঁজার ঠাঁই যে আমার নাই।

আমার সহায় সম্বল আর কিছুই নাই, ঘর ভেঙে ফেলায় কলেজ পড়ুয়া নাতনিসহ অন্যদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছি। কথাগুলো বলছিলেন আর চামড়ায় কুঁচ ধরা গাল বেয়ে বাঁধ ভাঙা চোখের জল গড়িয়ে পড়ছিল। তিনি সরকারের কাছে দাবি করেন লিজ যদি দিতেই হয় তবে আমাদের দেয়া হোক। বসতঘর উচ্ছেদ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা ২৬টি পরিবার তাদের ভিটে এখনো আঁকড়ে ধরে আছে।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী বাজারে (চৌরাস্তার মোড়ে) সরকারের পেরিফেরি ভুক্ত জায়গা রয়েছে কমপক্ষে ২৬ একর। আর এর পুরোটাই রয়েছে বেদখলে। গত ২৬শে সেপ্টেম্বর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আম্বিয়া সুলতানার নেতৃত্বে এ বাজারে একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। তিনি বদলি হয়ে যাওয়ায় গত ৭ই অক্টোবর পুলিশ নিয়ে ফের দ্বিতীয় দফা উচ্ছেদ অভিযানে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ। এ সময় স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তার ওপর চড়াও হয়ে ধাওয়া করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গাড়িতে ওঠে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তিনি। পরে এ ঘটনায় ধলাপাড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগে ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন। এতে আসামি করা হয় অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১২ জনকে। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসন কোনো প্রকার আদালতের অনুমতি ছাড়াই বিনা নোটিশে উচ্ছেদের নামে ভূমি অবমুক্ত করার অভিযান পরিচালনা করে। কথা হয় লিজ গ্রহীতা আকবর আলী ও আঃ ছামাদের সঙ্গে তারা বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই লিজ নেয়া হয়েছে এখানে অর্থের কোনো লেনদেন হয়নি।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ বলেন, ওখানে কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালাইনি এমনকি কোনো ঘটনাও ঘটেনি। তাহলে মামলা করলেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মামলা করিনি। মামলা করেছে তহশিলদার। এ নিয়ে কোনো প্রকার লেখালেখি করলে প্রতিবেদককে মামলা করার ভয় দেখান। উচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে কথা হয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবী ও টাঙ্গাইল জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট এস আকবর খানের সঙ্গে।

তিনি বলেন, যে কোনো উচ্ছেদ অভিযানে আদালতের অনুমতি লাগবে। আর যাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে তাদের আগেই নোটিশ করতে হবে কোনো স্থাপনা থাকলে তা সরিয়ে নেয়ার জন্য। এ ঘটনায় কুবজান বেওয়া বাদী হয়ে  ঘাটাইল আমলি আদালতে একটি স্বত্ব বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেছেন। 

সাইফউদ্দিন-আরিফুলে কাটবে পেস অলরাউন্ডারের ঘাটতি?

বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত সফল অলরাউন্ডারদের সবাই স্পিনার।  সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ্‌ রিয়াদ, নাসির হোসেন বা বর্তমানে মেহেদী হাসান মিরাজ সবাই ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ঘূর্ণি জাদুতে বধ করছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের। ফরহাদ রেজা পরবর্তী পেস অলরাউন্ডার জাতীয় দলে তেমন দেখা যায় নি। বিশ্বের প্রতিটি বড় দলেই এক বা একের অধিক পেস অলরাউন্ডার একাদশে খেলে থাকেন নিয়মিত। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাইফউদ্দিন ও আরিফুল হকের পারফরম্যান্স এই অভাব পুরন করবে বলে আশা করা যায়।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫ সদস্যের টেস্ট স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিলেন ৪ ক্রিকেটার। তবে সিলেটে প্রথম টেস্টে অভিষেক হয়েছিল দুই জনের। স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুর সঙ্গে সিলেটে প্রথম টেস্টে মাঠে নামেন পেস অলরাউন্ডার আরিফুল হক। আরিফুল হক বল হাতে সুযোগ না পেলেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন ব্যাট হাতে।  প্রথম ইনিংসে দলের বিপর্যয়ের মধ্যে আরিফুল সাত নম্বরে নেমেছিলেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ইনিংস খেলতে। ৯৬ বল খেলে তিনটি চারের সাহায্যে ৪১ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসেও  ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে ক্রিজে নামেন আরিফুল। ৩৭ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন।  পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে মাঠে নামলেও মাত্র চার ওভার বল করেছেন তিনি, সেটিও জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন আরেক পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। প্রথম ওয়ানডে দলের বিপর্যয়ে ক্রিজে নেমে খেলেন ৫০ রানের ইনিংস। পাশাপাশি ইমরুল কায়েসের সঙ্গে গড়েছিলেন দুর্দান্ত এক জুটি। যদিও সে ম্যাচে কোন উইকেটের দেখা পান নি তিনি।দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৪৫ রানের বিনিময়ে তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে  ১০ ওভার  বল করে ৫১ রানের বিনিময়ে ২ মেডেনসমেত তুলে নিয়েছেন ১ উইকেট। সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে নামার সুযোগ মেলে নি সাইফউদ্দিনের।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে না থাকা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই অনুশীলন শুরু করে দিয়েছেন। এই সিরিজে নিজেকে পুরোপুরি ভাবে মেলে ধরতে চান তরুণ এই অলরাউন্ডার, তাইতো ব্যক্তিগত প্রস্তুতি শুরু করেছেন নিজের মতো করে।
ক্যারিবীয়দের খেলার ফুটেজ দেখে সেখান থেকে দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন সাইফউদ্দিন।
বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাটেই বেশ কার্যকরী হওয়ার সম্ভাবনা আছে এই দুই পেস অলরাউন্ডারের। বিশেষ করে আগামী বছর ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপে টাইগারদের একাদশে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে সাইফউদ্দিন ও আরিফুল ।

টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা

মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪২তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।ভাসানী স্মৃতি সংসদ,সন্তোষ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আজ বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল সন্তোষ রক্ষিত বেলতা,খেজুরতলা তালুকদার বাড়ী প্রাঙ্গনে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল(৩)ঘাটাইল আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান খান মোহন,প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় দর্শন বিভাগের প্রফেসর ড.আনিসুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাসানী স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা বীমাবিদ শফিকুল ইসলাম কানন ,স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি থিওসোফিস্ট  অধ্যাপক এস.এম শাহজাহান সিরাজ তালুকদার,কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক মো.নাজিম উদ্দিন পাঠান,ডা. ওয়াদিওর রহমান বাবলু। সন্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ও কালিহাতি প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহআলম,যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক রেজাউল করিম খান রাজু প্রমুখ। সভায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন। 
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক এনায়েত কারিম ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শামছুন নাহার ছন্ধা।